টুকরো সংবাদ টুকরো ভাবনা
যদে দেওয়ার মতো কোনো সংবাদ থাকে তাহলে সে সংবাদ হলো অনেক দিন পর কিবোর্ড কেনা হলো, কিংবা অন্যভাবে বলা যায় কিবোর্ড কিনতে বাধ্য হলাম। নিতান্ত বাধ্য না হলে কোনো পরিবর্তনে যেতে আগ্রহী না আমি, এতদিন অনেক কৌশলে কাজ চললেও সকালে বন্ধুর সাথে কথা বলার সময় বুঝলাম কিবোর্ডের ম্যাল ফাংশন গুরুতর, এখন 'এম' কাজ করছে না। আমার শব্দভান্ডার সীমিত, সুতরাং 'এম' কিংবা 'ম' নেই এমন শব্দ বাছাই করে দীর্ঘ সময় আলোচনা করা রীতিমতো অসম্ভব, নতুন কিবোর্ডে নতুন লেখা বলা যায় এটা।
[১ ]
আমাদের জাতীয় চরিত্র উপলব্ধিতে হাইকোর্ট যে বিভ্রান্তিতে ছিলো গতকাল সেটা সংশোধন করেছে সুপ্রীম কোর্ট, তারা ফতোয়া বিষয়ে ফতোয়া জারী করেছে, বলেছে ফতোয়া জায়েজ কিন্তু কাউকেই মানসিক কিংবা শাররিক শাস্তি প্রদান করা যাবে না।
আমরা জাতিগত ভাবেই ফতোয়াপ্রিয় জাতী, আমরা বিভিন্ন বিষয়েই বিভিন্ন সময়ে ফতোয়া জারী করি, অন্তর্জালের জামানায় এখন এখানেও ফতোয়া জারি হচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত ভাবনার বিষয়ে বিভিন্ন ফতোয়ার উপস্থিতি আছে, সেটা মৌলবাদী ঘারানার নিয়ন্ত্রনমুখী প্রবনতা হলেও যেহেতু অতীতে ফতোয়া জারী হয়েছিলো সে ফতোয়ার রায়ই বহাল আছে, এটা আমাদের জাতীয় ঐতিহ্যের অংশ, একটা একপাক্ষিক সরলরৈখিক বিশ্লেষণই সম্ভব মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের, সেখানে মাত্র একটাই ভিলেন চরিত্র, সে ফতোয়াঅনুসারীদের বিভিন্ন সময় ঘৃণাবাদের চর্চা করতে দেখলেও সেটা যেহেতু জাতীয় ইতিহাসের প্রতি কাল্পনিক হুমিকিস্বরূপ সুতরাং সেখানে কোনো দ্বিমত প্রকাশ করা সম্ভব নয়, এ বিষয়ে কোনো যুক্তি তর্ক নেই, আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ইশ্বরের মতো মহান এবং এটার যে ইতিহাস বয়ান করা হবে সেটা অন্ধ বিশ্বাসে অনুসরণ করতে হবে, এভাবে কারো ভাবনাকে নিয়ন্ত্রিত করতে চাওয়া কিংবা আমি এ বিষয়ে কোনো যুক্তি মানতা নারাজ বলে ফেলাটা চরম আবলামি হলেও সেটা নিয়ে বিন্দুমাত্র দ্বিধা নেই অনেকের।
একটা ছোটো ঘটনার উল্লেখ করতে চাই, ১৯৭১ এর মে মাসে শৈবাল গুপ্ত নামের একজন প্রাক্তন আইসিএস অফিসার নির্যাতিতদের ভাষ্য সংরক্ষণের উদ্যোগ নিতে চেয়েছিলেন, পরবর্তীতে সে উদ্যোগ আর গৃহীত হয় নি, তখন বাংলাদেশে থেকে যাওয়া আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মীরা দ্বিগুণ উৎসাহে হিন্দুদের সম্পত্তি দখল করছে, নির্যাতিত হিন্দুরা যখন ভারতে আশ্রয় নিয়ে এমন ভাষ্য দেওয়া শুরু করলো তখন একটা কম্যুনাল রাজনীতির জন্ম হওয়ার সম্ভবনা দেখা দিলো আর যেহেতু এখন নির্যাতকদের ভুমিকায় শুধুমাত্র দখলদার পাকিস্তানী সৈন্যরা নেই সুতরাং নির্যাতিতদের ভাষ্য সংরক্ষণ প্রকল্পের উৎসাহে ভাটা পড়লো।
অন্য একটা পরিসংখ্যান দেওয়া যায়, পাকিস্তানের ২৪ বছরের শাসনামলে এদেশে বসবাসকারী হিন্দুদের যে পরিমাণ সম্পদ লুণ্ঠিত হয়েছে তার ১০ গুণের বেশী লুণ্ঠিত হয়েছে স্বাধীনতা পরবর্তীকালীন সময়ে, বিএনপি জামায়াত জাতীয় পার্টি এবং আওয়ামী লীগ, সবাই এমন সম্পত্তি দখলের লড়াইয়ে লিপ্ত ছিলেন, সংখ্যালঘু দমনে কারো উৎসাহই কম না।
[২] ছেলের সাথে যাচ্ছিলাম পুরান ঢাকায়, বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম , দেখলাম তার পাশে মাওলানা ভাসানী স্টেডিয়াম, তারা পাশাপাশি রাজনীতি করেছেন, বঙ্গবন্ধুর প্রিয় খেলা ছিলো ফুটবল, তার ছেলেদের নামে কয়েকটা ফুটবল ক্লাব ধানমন্ডি এলাকায় তৈরি হয়েছে, ভাইয়ে ভাইয়ে লাত্থালাত্থি হয় বাপের নামে দেওয়া স্টেডিয়ামে, বিষয়টা দেখতে খারাপ লাগে না।
বঙ্গবন্ধু শান্তিপূর্ণ রাজনীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন কিন্তু মাওলানা ছিলেন সন্ত্রাসবাদী তাই তার নামে হকি স্টেডিয়াম করতে দুই বার ভাবতে হয় নাই, হকিস্টিক নিয়া তার স্টেডিয়ামে ফাটাফাটি হইলে মাওলানার আত্মা সুখ পায়।
কিন্তু মীরপুরে শের এ বাঙলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামের মাহত্ম্য বুঝা যায় না এতে। ফজলুল হকের নামে উৎসর্গ করা হলো কেনো একটা ক্রিকেট স্টেডিয়াম,
[৩] সাহারা খাতুন পুলিশকে বলেছেন অপরাধী যদি তার ভাই ও হয় তাহলেও তাকে যেনো গ্রেফতার করা হয়, তিনি লক্ষ্য করেছেন প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতাদের কেউ কেউ ব্যক্তিগত ক্ষমতা চর্চা করে অপরাধীদের ছাড়িয়ে নিচ্ছে, তিনি এটা একদম পছন্দ করছেন না, সাহারা রক্স।
[৪] প্রফেসর ইউনুস অবশেষে গ্রামীন ব্যংকের এমডির পদ ছেড়েছেন, তিনি গত সপ্তাহে ডেইলী স্টারে প্রায় কয়েক হাজার শব্দের একটা আর্টিকেল প্রসব করেছিলেন, গ্রামীণের অর্জন এবং তার গ্রামীণে থাকবার আগ্রহ বয়ান করে, যদি কোনো ঋণগ্রহীতা মৃত্যু বরণ করেন তাকে ঋণশোধের দায় থেকে মুক্তি দেওয়া হয়, আর যদি কোনো ঋণগ্রহীতা কিংবা তার স্বামী মৃত্যুবরণ করেন তাহলে গ্রামীণ ব্যংক তার শেশকৃত্যের জন্য সামান্য সহযোগিতা করেন এবং গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের জন্য সে ব্যক্তির দাফনে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। গ্রামীণের কর্মকর্তাদের বেশ বড় একটা সময় জানাযায় দাঁড়িয়ে কাটে হয়তো,
যদিও সেটা পড়ে বুঝি নি তার এমডি থাকবার মাহত্ম্য কি, তিনি গ্রামীণের উপদেষ্টা হলে কি কি কাজ তিনি করতে ব্যর্থ হবেন সেটা তিনি কোথাও বলেন নি,
[৫] সকালে যে সংবাদ পড়ে পায়ের রক্ত মাথায় উঠলো সেটা প্রকাশিত হয়েছিলো প্রথম আলোতে,
জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমির মকবুল আহমাদ বলেছেন, ‘৪০ বছর আগের হাড়গোড় জোগাড় করে টেবিলে আনা হয়। এই হাড্ডি কোনটা কার বাপের, তা কে ঠিক করবে? এগুলো যে নিজামী-মুজাহিদ করেছেন, তা কি হাড্ডির গায়ে লেখা আছে?’
এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা সম্ভব না। অনেকের চোখ এড়িয়ে যেতে পারে, তারা এই ব্লগে যথেচ্ছা গালির সুযোগ গ্রহন করতে পারেন, এই উক্তির জন্য কোনো গালি যথেষ্ট না।





ফতোয়া নিয়া রায়টা ইনটারেসটিং হইছে... বেজায় আমোদ পাইছি
...
আসলে মানুষ ( সেই সূত্রে কোর্ট) ভালো গ্যাড়াকলে পড়ছে ... ণামাজ পড়িনা সেইটা নাহয় মানা গেল, কিন্টু ইসলামিক বিধান মাফিক বিচার টাও যদি না মানি তাইলে আর বাকিটা কি থাকল?? সো চাইলেও কওয়া যায়না যে ফতোয়া নিষিদ্ব করা হোক
.. আদালত-ও পাবলিকের এই গ্যাড়াকলে গ্যাড়াকলিত
..। প্রাপ্তি এইটাই যে, অন্্তত একবার হইলেও কোন একটা বিসয়ে রায় পাবলিকের মনোভাব রে প্রতিফলিত কইরা জন গণের অদিকাররে আপ-হেল্ড করছে 
----
কমেন্ট এইটুক পর্যন্তই থাকুক
লাঠি না ভেঙ্গে সাপ মারার চেষ্টা করলেন ফতোয়ার রায় এর বিচারক। মজা পাইছি অনেক দেখি এখন ভবিষ্যত বলে দিবে কি হয়
আপনি গালি দিতে বলতেছেন!
গালি দেওয়া নিয়া আমার কোনো সংরক্ষণশীলতা আছে এমন মনে পড়তেছে না, গালি দেওয়ার জিনিষ, খাওয়ার জিনিষ, কিন্তু বিবেচনাটা জরুরী কোনটা গালির উপযুক্ত আর কোনটা অহেতুক নোংরামি, এই পার্থক্যটা আমার নিজের নিক্তিতে আমি করি, সেইটা নিয়া অন্যের সাথে মতপার্থক্য থাকতে পারে কিন্তু এই মতদ্বৈততাকে সম্মান করতে শিখাটাও একটা গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা, যেইটা অনেকে এখনও শিখতে পারে নাই।
কী গালি দিমু? কোনটা দিলে মন ভরবে? সেইটাই তো বুঝতাছি না।
গালির ভান্ডার কম, মানে সঙ্গমবিষয়ক গালাগালি তেমন উপযুক্ত না, গালি দিতে বইসা গালি খুইজা না পাওয়াটা বিরক্তিকর
আমার আগের বসের ড্রাইভার একবার নিজের ভুলে গাড়ীর ব্যাপক ক্ষতি করে অফিসে ফিরে রিপোর্ট করলে বস খুবই রেগে ড্রাইভারকে বকতে গিয়ে বলেছিল “তুমি..তুমি..খুব..খুব..ভুল করেছো” । এইটা ছিল ওনার সবচেয়ে রাগান্বিতভাবে বকাবকির লেভেল
~
পোস্টের বিষয় বস্তু নিয়া দেখি কেউ কথা বলে না !
গালা গালি খুব কঠিন কাজ। তবে অনেককে দেখেছি খুব সাবলীল ভাবে গালি দিতে। এমন কি যে আমি ও নিজে অবাক হয়ে জঘন্য ভাষায় গালি খেয়েছি, আমার মনে হয়েছে কি বোকা এই জন।
মন্তব্য করুন