শিরোণামবিহীন শিক্ষাপ্যাচাল
ইংরেজী মিডিয়াম থেকে যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বুয়েটে ভর্তি হচ্ছে তাদের সবার একটা সাধারণ অভিযোগ
কিছুতেই এডাপ্ট করতে পারছি না, পড়াশোনার ধরণ সম্পূর্ন আলাদা, পাতার পর পাতা অর্থহীন মুখস্ত করে যাওয়া, সংজ্ঞা আর ব্যাখ্যা মুখস্ত করে উগড়ে আসা পরীক্ষার খাতায়, মেধা কিংবা প্রজ্ঞা কিংবা উপলব্ধি যাচাইয়ের কোনো প্রক্রিয়া নয় এটি, বরং একটা অর্থহীন প্রতিযোগিতা যেখানে শেষ পর্যন্ত যে ছেলেটা পাতার পর পাতা অবিকল লিখে আসতে পারে সেই প্রথম হয়। আমাদের কারোই এমন পাতার পর পাতা মুখস্ত করবার অভ্যাস নেই, স্বভাবতই আমরা পিছিয়ে পড়ছি, এমন না ক্লাশে যে ছেলেটা টপ করছে সে আমার চেয়ে বেশী বুঝে, কিংবা এমনও না যে আমরা পরিশ্রম করছি না, কিন্তু পরীক্ষার নিয়মের কারণে আমরা পিছিয়ে পড়ছি, চেষ্টা করছি পাতার পাতার বর্ণনাত্মক ধাঁচে মুখস্ত করে যাওয়া, কিন্তু অভ্যাস নেই বলে রেজাল্ট ভালো হচ্ছে না। ফ্রাস্ট্রেশন চলে আসছে।
আমি অভিযোগ শুনি, মাথা নাড়াই, সমবেদনা জানাই, পরীক্ষায় যদি কারো মুখস্তবিদ্যা যাচাই করার প্রতিযোগিতা হয়, ভারতের পরই হবে বাংলাদেশের অবস্থান, এখানে প্রেমিক কয়েক শ কবিতা মুখস্ত করে প্রেমিকাকে মুগ্ধ করতে পারে, ছোটো বেলা থেকেই জেনারেল নলেজের নামে ১৯৫টা দেশের রাজধানী আর মুদ্রার নাম বলে চমকে দিতে পারা ছেলেটাই মেধাবী চিহ্নিত হয়, অনুসন্ধিৎসু বালক বালিকা নষ্টের গোড়া, বিধ্বংসী শিশু হিসেবে চিহ্নিত হয়। আপা ওকে একটা খেলনা কিনে দেন, ঐটা খুব বেশী হইলে ২ দিন টিকবে, এরপর ও ঐটা ভেঙে টুকরা টুকরা করে ফেলবে, তারপর ঐ ভাঙা জিনিষগুলা জোরা দেওয়ার চেষ্টা করবে, এইটাই ওর খেলা, ওর যন্ত্রনায় বাসায় দামি খেলনা কিনতে পারি না,
না বুঝে মুখস্ত করবার ঝোঁক কাটিয়ে উঠতে এখনও কষ্ট করতে হয় আমার। কিন্তু ইংরেজী মাধ্যমের ছেলেরা কখনই এমন ঝাড়া মুখস্তের প্রচলিত পন্থায় অগ্রসর হয় নি, উৎস সহ ব্যাখ্যা করো, ওমুকের সংজ্ঞা লিখো আর প্রমাণ করো অমুক পরিবর্তিত হলে তমুক পরিবর্তিত হবে এবং সেটা শামুকের চতুর্থ সূত্র।
"সবার জন্য মাণসম্মত শিক্ষা চাই" শ্লোগানটা বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্ত্বরে এসে মুখথুবড়ে পরে থাকে, মেধা যাচাইয়ের জন্য আমরা আমাদের পাবলিক পরীক্ষাগুলোর প্রশ্নপত্রের ধরণ বদলেছি, সৃজনশীল প্রশ্নে পরীক্ষা হচ্ছে, পুরোনো মুখস্তবিদ্যা যাচাইয়ের বদলে আমরাও চেষ্টা করছি ছেলেদের মেধা যাচাই করতে, সৃজনশীল প্রশ্নের ধরণটা ভালো, কোনো একটা ঘটনা বর্ণনা করে সেখান থেকে তথ্য খুঁজে নিজের শিক্ষা ব্যবহার করে সেটার উত্তর দেওয়ার প্রক্রিয়াটা গ্রহনযোগ্য, অন্তত বিষয়বস্তু বুঝবার একটা ঝোঁক তৈরি হবে শিক্ষার্থীদের। তারা মুখস্ত করার বদলে বিষয়টা পড়তে উদ্বুদ্ধ হবে,
দুর্নীতি করে যেকোনো প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থাকে কতটা নিপূন ভাবে ধ্বসিয়ে দেওয়া সম্ভব তার একটা উদাহরণ হতে পারে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা, শিক্ষার্থীরা অভ্যাস মতোই জিম্মি হয়ে পড়েছে, কোচিং সেন্টার আর প্রাইভেট টিউটরের সচেতন পরিচর্যায় তারা বড় হয়, বাংলা মাধ্যমের সেরা সেরা প্রাইভেট টিউটর তাদের হাতে সাজেশন ধরিয়ে দেয়, শিওর সাকসেস এবং পপি গাইডের পরিচর্যায় বেড়ে উঠছে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম। আমরাও এভাবেই বেড়ে উঠেছি, এবং আমার আক্ষেপ এটাই।
বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এসে প্রথম শ্রেণী পেতে হলে ভর্তি হওয়ার পরের দিন থেকেই বিগত ৮ বছরের প্রশ্নপত্র যাচাই করে প্রতিটি কোর্সের ১০ থেকে ১৫টা প্রশ্ন মুখস্ত করলেই হয়, এর বাইরে আরও কিছু বাড়তি প্রশ্ন আর ভারতীয় নোট বই ধাঁচের বইগুলো পড়লে একেবারে নিশ্চিত প্রথম শ্রেণী।
সরকার নিয়ম করে কোচিং সেন্টার বন্ধ করতে চেয়েছে, সরকারী শিক্ষকদের কোচিং নিরুৎসাহিত করেছে তারা, তারা পরীক্ষাপদ্ধতির পরিবর্তন করতে চাইছে, শিক্ষানীতি গ্রহন করেছে, এবং গতকাল থেকে তারা দেশের সেরা বিদ্যালয়গুলোর এক একটি ক্লাশরুম লেকচার সরাসরি সম্প্রচার করছে, ভিকারুন্নেসা নুন স্কুলের ইংরেজী ক্লাশ, গর্ভমেন্ট ল্যাবেরটরি স্কুলের গণিতের ক্লাশ, এভাবে তারা সম্প্রচার করতে চাইছে, সারা দেশের মানুষ যেনো একই মাণের শিক্ষা পায় সেটা নিশ্চিত করতে শিক্ষামন্ত্রনালয়ের এই পদক্ষেপ একটা শুভ উদ্যোগ।
আমি অবশ্য এই পদক্ষেপেও ততটা আমোদিত নই, আমার চাওয়া আরও বেশী, গ্রামের স্কুলের শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষকের অভাব হয়তো এখনও তাদের পরীক্ষার ফলাফলে তেমন প্রভাব ফেলছে না, কিন্তু সেটা আদতে আমাদের মেধা যাচাই প্রক্রিয়ার গলদ। তাদের জন্য আলাদা একটা সার্বক্ষণিক শিক্ষা চ্যানেলের দাবি ছিলো আমার। নগন্য মানুষের কোনো পরমার্শই সরকারী পর্যায়ের উচ্চমহলে পাত্তা পায় না। আমার এ দাবি কিংবা পরিকল্পনাও পাত্তা পাবে না।
আমার পরিকল্পনাটা নেহায়েত সাধারণ, অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেনী পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ন এবং আকর্ষণীয় বিষয়গুলো নিয়ে এক একজন বিজ্ঞানী কিংবা গবেষক তার মতো লেকচার দিবেন, সেখানে উদাহরণ হিসেবে বিভিন্ন বিষয় আসতে পারে, কিংবা তারা কোনো একটি ঘটনাকে ব্যাখ্যা করবেন, আমি নিজের পড়াশোনার ক্ষেত্র বিজ্ঞান বলে আমার কাছে বিজ্ঞানের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় কিন্তু অর্থনীতি, ইতিহাস, বাংলা ইংরেজী যেকোনো বিষয়েই চাইলে আকর্ষণীয় ক্লাশ লেকচার কিংবা অন্য যেকোনো কিছু তৈরি করা সম্ভব। নিয়ম করে সেগুলো প্রচারিত হবে, দেশের শিক্ষা বিস্তারে সেটাই ভুমিকা রাখবে।
প্রতিটি স্কুলে সপ্তাহে তিন থেকে চার ঘন্টা এমন লেকচার দেখানো বাধ্যতামূলক হবে, কোনো না কোনো ভাবে এই বিষয়টার সাথে সবাইকে অভ্যস্ত করতে হবে । একই সাথে যেসব বিষয় নিয়ে চমৎকার ডকুমেন্টারী তৈরি হয়েছে, সেসব ডকুমেন্টারী সহজবোধ এবং সাবলীল বাংলায় অনুবাদ করে ডাবিং করে প্রচার করতে হবে।
প্রতিটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হয়তো এখনই পারবে না, কিন্তু সামগ্রীক ভাবে দেশের প্রতিষ্ঠিত ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সবগুলোর জন্য একটা আলাদা টিভি চ্যানেল থাকবে, যেখানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক গবেষণা এবং প্রতিটা বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর আলোচনা চলতে থাকবে, নিয়মিত গবেষণাভিত্তিক সেমিনার হবে, আন্তর্জাতিক কিংবা স্থানীয় পর্যায়ের সেমিনারের সারাংশ প্রচার করা হবে টেলিভিশনে, আগ্রহী মানুষের কমতি নেই, কিন্তু উদ্যোক্তা নেই, বস্তাপচা নাটক আর সিনেমা প্রচারের নামে কোটি টাকার বিজ্ঞাপনের ব্যবসা ধরতে সরকারের কাছে দেন দরবার করছে সরকারের ধামাধরা বুদ্ধিজীবিরা, আমি তেমন একজনকে অনুরোধ করেছিলাম আপনি ঝুঁকি নিয়ে একটা এডুকেশন চ্যানেল করে ফেলেন, সরকার আপনাকে সহযোগিতা করবে, যা যা কাগজপত্র লাগে, যেসব পেপার ফেপার লিখতে হবে, কতটা আন্তরিক ভাবে কতটা গুরুত্বপূর্ণ করে বিষয়টা সরকারের কাছে উপস্থাপন করতে হবে যদি আপনার জানা থাকে তাহলে আমাকে বলেন আমি খেটে কষ্ট করে হলেও সেটা লিখে দিবো, আর যদি আপনি প্রমোট করতে পারেন তাহলে বিজ্ঞাপনের কমতি হবে না। দিন ৮ ঘন্টা প্রচার করেন কিন্তু দেখবেন সেটা মানুষ চোখে আইকা লাগিয়ে দেখবে।
আমার পরামর্শ তেমন পছন্দ হয় নি, দেশের মানুষ টক শো দেখতে হলে কি ধরণের টক শো দেখবে, নাটক আর সিনেমার গানের বদলে তারা কি দেখতে ভালোবাসবে এইসব ফালত কথাবার্তায় আর অংশগ্রহন করা সম্ভব হয় নি। এখনও এই ভাবনাটা কেউ ভেবে ফেলেন নি, কিন্তু এটা প্রচন্ড লাভজনক একটা বিনিয়োগ, এনজিও কইরাও এইটা করা সম্ভব, কিন্তু সেইটাতে গরীবের পাঁজর দেখিয়ে সস্তায় পয়সা উপার্জনের সহজ রাস্তাটা বাদ দিয়ে, প্রায় মুখস্ত 'পেপার সাবমিট' করবার প্রবনতা থেকে বের হয়ে আসতে না পারা এনজিও উদ্যোক্তা এবং কর্মচারিরা এই রাস্তায় হাঁটবে না।
সুতরাং আগের আলাপে ফিরে যাই, বাংলা মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের সাথে ইংরেজী মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের তফাত এবং মানসিকতার পার্থক্য , বাংলা মাধ্যমের ছেলেদের ভেতরে একটা সাধারণ ভাবনা আছে, ইংরেজী মাধ্যমে যারা পড়ে তাদের পরিবার বিপূল বিত্ত বৈভবের মালিক, সুতরাং তাদের এই বিলুল বিত্তের সামান্য অংশ তারা বাংলা মাধ্যমের শিক্সার্থীদের ভেতরে খয়রাত করতেই পারে, সীমিত অর্থে কথাটা সত্যও বটে, এক বছর ইংরেজি মাধ্যমে একজনকে পড়ানোর জন্য যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয় অধিকাংশ বাংলা মাধ্যমের ছেলের সমস্ত শিক্ষা জীবনেও হয়তো ততটা অর্থ ব্যয় করা হয় নি।
কিন্তু পাঠ করবার ধরণে বাংলা মাধ্যমের ছেলেদের সাথে ইংরেজী মাধ্যমের ছেলেদের পার্থক্যটা আকাশ পাতাল। প্রায়োগিক দিক ভেবে যারা পড়া শুরু করে তাদের কাছে কোনো সমীকরণের উৎস খোঁজার বদলে সমীকরণের ব্যবহারের উপযুক্ত পন্থাটা জানাটাই গুরুত্বপূর্ণ , সে কারণেই ইংরেজী মাধ্যমের শিক্ষার্থীরা সব সময়ই চায় তাদের প্রায়োগিক ক্ষেত্রে তাদের পঠিত তত্ত্বগুলো কিভাবে ব্যবহৃত হয় সেসব বিষয়ে প্রশ্ন হবে। তারা প্রশ্নের ভেতর খুঁজবে কোথায় কোন তত্ত্ব ব্যবহার করা প্রয়োজন। বাংলা মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন স্টাকচারাল প্রশ্ন, সেখানে বিবৃতি দেওয়ার সুযোগ থাকবে, প্রমাণ করো এবং দেখাও জাতীয় প্রশ্নে মার্কস বেশী, প্রায়োগিক বিষয়গুলোকে এড়িয়েও যদি তুমি ৪ সেট উত্তর দিয়ে আসতে পারো ঠিক ভাবে ফার্স্ট ক্লাশ কেউ ঠেকাতে পারবে না।
উপযুক্ত শিক্ষক তৈরির জন্য হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্নের ধরণটা বদলানো জরুরী, ইউনিভার্সিট গ্রান্ট কমিশন নামে বদলালেও চরিত্রে কতটুকু বদলাবে? তারা কি নীতিমালা ঠিক করে দিয়ে বলতে পারবে আমরা চাই এমন শিক্ষার্থীরা যারা যেকোনো বিষয়ের প্রায়োগিক দিকটাতেই গুরুত্ব দিবে বেশী। এখান থেকে শিক্ষালাভ করে এদের এক দশমাংশও যদি শিক্ষকতা পেশায় যায়, তারা পূর্বের অভ্যাস মতোই সাজেশন আর উপদেশমূলক পড়াশোনার ধারাটা অব্যহত রাখবে।
আমাকে একজন বললো ' এই শিক্ষাব্যবস্থা গত দশ বছরেও কোনো পরিবর্তনের আলো দেখে নি, আমরা যদি পাশ করে দশ বছর পরেও এখানে ফিরে আসি তাহলেও দেখবো একই ধাঁচে পড়ানো হচ্ছে। সুতরাং আমাদের অভিযোগ না করে এখন মুখস্ত করবার প্রবনতা বাড়াতে হবে। '
আমাদের মানিয়ে নিতে হবে ব্যবস্থার সাথে, ব্যবস্থাটা খারাপ, অগ্রহনযোগ্য এইসব বলে আক্ষেপ করে লাভ নেই, আমাদের সামনে যা আছে, সেটা নিয়েই ভাবতে হবে এখানেই নিজেদের মাধার সাক্ষর রাখতে হবে।
আমি বললাম প্রক্রিয়াটা সহজ, কোনো বড় ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ করে তাদের সব প্রশ্ন সংগ্রহ করে নিয়ে আসো, তারপর ঘরের দরজা বন্ধ করে দাড়ি কমা সমেত মুখস্ত করে পরীক্ষার হলে যাও, সেটা পরবর্তীতে হয়তো সমস্যা করবে কিন্তু ভালো ছাত্র হওয়ার প্রত্যাশাটা পুরণ করতে পারবে।
কিংবা উপর থেকে পরিবর্তনটা চাপিয়ে দিতে হবে, সেটা করবার মতো উপযুক্ত সময় পেরিয়ে যাচ্ছে প্রতিদিনই।





শিক্ষাব্যবস্থার যে বেহাল অবস্থা, ভিকারুন্নিসা থেকে হোক আর গভ ল্যাব থেকে হোক, ঐ ক্লাস থেকে কে কি শিখবে কে জানে! আমি কয়েকদিন ধরে এই নিয়ে একটা আইডিয়া নিয়া চিন্তা করতেছি, কিন্তু লেখার ত্যাল পাচ্ছি না।
ছোটবেলা থেকে এই নিয়ে শুধু শুনে আসছি। কবে যে আক্ষরিক অর্থে কিছু পরিবর্তন দেখতে পাবো কে জানে
"বাংলাদেশে কখনো বিপ্লবিক পরিবরতন হবে না", এ কথাটাই শুনে আসছি বারবার। কিন্তু আপনার লেখা পড়ে এখন মনে হচ্ছে, অনলাইনে যুবসমাজ যেভাবে লেখালেখি করছে, তাতে অন্তত এটুকু সিউর যে দেশের সবগুলো চোখ বন্ধ নয়-হতাশায়। স্বপ্ন সত্যি হবেই, আগামী প্রজন্মকে একটু ভালো কিছু দিয়ে যাবই আমরা- এ প্রতিশ্রুতি নয়, এ হোক আমাদের প্রতিজ্ঞা।
ধন্যবাদ।
আমার বাচ্চা গুলির বেহাল অবস্থা যদিও তারা বাংলা মিডিয়ামে।
আপনার ছেলে মেয়েদের বেহাল অবস্থা যদি শিক্ষাব্যবস্থার কারণে হয় তাহলে শিক্ষাপ্রদানপদ্ধতিকে আকর্ষণীয় করে তুলতে পারেন, আমি যেহেতু জানি না আপনার ছেলে মেয়েরা কোন ক্লাশে পড়ে, ক্লাশরুমে তাদের পরিস্থিতি কেমন তাই কোনো প্রত্যুত্তর দেওয়া কঠিন।
গৌতম অবশ্য আমার চেয়ে ভালো বলতে পারবে এইসব বিষয়ে।
অনেক ভালো লেগেছে ....।চালিয়ে যান ..... আমরা আছি আপনার সাথে
আমার ব্চ্চাদের ভর্তির সময় একটা কথা হাজার বার শুনলাম। আর সেটা হল, স্কুলে তো কিছু পড়ায় না। বাসায় পড়াতে হয়। সুতরাং খুব স্কুল বাছাবাছি করে লাভ নেই।
আমার মেজো ছেলে বাংলা মাধ্যমে সুবিধা করতে পারছিল না। তথাকথিত বিখ্যাত স্কুলেই ছিল। শ্রেণীশিক্ষক আমাকে ডেকে বললেন, আপনার বাচ্চাতো পারছে না। আমি ক্ষোভের সাথেই বললাম, আমার বাচ্চা ঠিকই পারে, আপনারা পারছেন না।
আমি জানতাম, সে পাশ করবে না। তাই রেজাল্ট আনতে যাইনি। বাচ্চা মন খারাপ করলো, বাচ্চার মা আরো মন খারাপতো করলই সেই সাথে তিরস্কার কম করলো না। আমার চিন্তা ওকে আরেক স্কুলে দিতে হবে। তাই করলাম। সেখানেও এক বছর পর একই পরিণতি। আমি ছেলেকে উৎসাহ দিতাম, তুমি পারবে। এভাবে পাঁচ বছরে পাঁচটি স্কুলে পড়ানোর পর তাকে ইংলিশ মিডিয়ামে দিলাম। শিক্ষকদের শর্ত দিলাম, আমাকে ছেলেকে চাপ দিবেন না। রেজাল্ট খারাপ হলে আপনাদের দোষ দেব না।
এভাবে দুবছর গেল। এখন সে ভালো করছে। তার স্বপ্ন, বড় হয়ে সে বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়বে।
চাপ দেওয়ার দরকার ছিলো না, ইংরেজী মাধ্যমে চাপের বিষয়টা প্রায় অনুপস্থিত। আপনার ছেলের আশা পুরণ হোক।
মন্তব্য করুন