এলোমেলো ভাবনাগুলো
পর্ব একঃ
মানুষ যখন থেকে ইতিহাস লেখা শুরু করেছে তারও অনেক আগেই মানুষ বিশেষত সামাজিক মানুষ খাদ্য নিরাপত্তা এবং শাররীক নিরাপত্তার গুরুত্ব অনুধাবন করতে পেরেছিলো, এটা আমার একটা সাধারণ অনুমাণ, ইতিহাস রচিত হওয়ার আগে থেকেই মানুষ স্থানীয় নেতা ও সম্ভবত আদিম গণতান্ত্রিক পন্থায় নিজেদের রাজন্যবর্গও নির্বাচন করতে শুরু করেছিলো, অনুমাণ করে নেওয়া যায় শাররীক দক্ষতা ও শিকারের যোগ্যতা নেতা নির্বাচনে বিশেষ ভুমিকা রাখতো। যুথবদ্ধতার শর্ত মেনেই গোত্রভিত্তিক মূল্যবোধ এবং ক্রমশঃ সংস্কৃতি বিকশিত হচ্ছিলো, এরই কোনো এক পর্যায়ে মানুষ ভাষা আবিস্কার করে এবং তারও পরবর্তী সময়ে ভাষার চিহ্ন আবিস্কার করে ভাষা ও ঐতিহ্যকে লিপিবদ্ধ করতে শুরু করে।
উচ্চারণবোধক চিহ্ন কিংবা শব্দনির্দেশক সংকেত আবিস্কারের পূর্বেই মানুষ ভাষার ব্যবহার শুরু করেছিলো এই অনুমাণের যথার্থতা প্রশ্নাতীত। ভাষার যোগ্যতা ভাষার নমনীয়তা, নতুন নতুন শব্দ উৎপাদনের সাবলীলতা এবং প্রয়োজন অন্য শব্দ আত্মীকরণের দক্ষতা ভাষাকে বলিষ্ট করে। শব্দ নির্মাণ এবং শব্দ আত্মস্যাৎপারঙ্গম ভাষাগুলো টিকে আছে এবং বিকশিত হচ্ছে। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন শব্দসম্ভারে নিজেকে সমৃদ্ধ করছে সেইসব ভাষা।
ভাষা পরবর্তীতে মানুষের ভাবনাকে নিয়ন্ত্রন করতে শুরু করেছে, ভাষা বিকাশের একটা পর্যায়ে ভাষার চিহ্ন এবং ভাষার অর্থবোধক উচ্চারণ ধারণ করা এককগুলো মানুষের ভাবনা নির্মাণ করেছে। নতুন শব্দ, নতুন সংস্কৃতি এবং নতুন পরিস্থিতি ভাষা এবং মানুষের চিন্তাকাঠামোকে বদলে দিয়েছে।
সভ্যতার সূচনা থেকে ভাষা ব্যবহারে অভ্যস্ত মানুষ অনেক সময়ই শব্দসল্পতায় ভুগে, এইসব ক্ষেত্রে হয়তো অভিধানের কোনো শব্দই যথেষ্ট বিবেচিত হবে না। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভাষা সীমাবদ্ধ, নীরাবতাও অসহনীয় এবং অক্ষমতায় নিজের হাতের আঙ্গুল কামড়াতে ইচ্ছা করে মানুষের।
পর্ব দুই
মানুষের সাংস্কৃতিক পরিবর্তন, গোত্রভিত্তিক সমাজের অর্থনৈতিক সম্পর্কের পরিবর্তন, সমাজের ক্ষমতা কাঠামোর পরিবর্তন এবং মানুষের প্রশ্নমুখীনতা সামাজিক অগ্রগতির সূচক চিহ্নিত হয়েছে, অগ্রসর সভ্যতা প্রতিনিয়ত এইসব সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে শিখেছে, নতুন পরিস্থিতিতে নতুন ধরণের অস্ত্র ও সমরকৌশল উদ্ভাবন, খাদ্যনিরাপত্তার প্রশ্ন মীমাংসিত হলে অন্যান্য প্রয়োজনীয়তার দিকে পরিপূর্ণ মনোযোগ প্রদান এবং ক্রমাগত কসমোপলিটন হয়ে উঠতে শেখা সভ্যতা স্থলের প্রতিবন্ধকতা এড়িয়ে জলজযোগাযোগে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিলো কিংবা সুপেয় পানীর নিরাপদ সংস্থান এবং প্রয়োজনীয় সমর নিরাপত্তার প্রয়োজনেই সভ্যতা নদী ও সমুদ্রউপকূল ঘেঁষেই সম্প্রসারিত হচ্ছিলো।
সে সভ্যতাই একটা পর্যায়ে সার্বক্ষণিক সুপেয় পানীর নিরাপত্তা এবং সমুদ্র ও নদী পথে সাম্ভাব্য আগ্রাসন এড়াতে এবং নগরের পানিসঞ্চালন নিশ্চিত করতে পানিপ্রকৌশল ব্যবহার করেছে। আপনশ্রেষ্ঠত্বের বোধ জন্মানো এইসব সভ্যতার সম্রাট এবং ধর্মগুরুদের নিজের মতবাদ এবং মতামত অন্যসব অন্ত্যজজনের ভেতরে ছড়িয়ে দেওয়ার আকাঙ্খা জন্মেছে, শুধুমাত্র খাদ্যনিরাপত্তা কিংবা পানীয় জলের ধারার অধিকার বজায় রাখতে নয় বরং এখন মানুষ, নগর এবং নগর নৃপতির সৈন্যদল অস্ত্রসজ্জিত হয়েছে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের বাসনায়। তারা আগ্রাসন চালিয়েছে, কখন বিজয়ী হয়েছে, কখনও পরাজিত, নগর নির্মিত হয়েছে, নগর ধ্বংস হয়েছে, আগুণের আঁচে ঝলসে গেছে সভ্যতার সব অর্জন, আর নগর নদী আর নারী নিজেদের শরীরে ধারণ করেছে যুদ্ধের অভিশপ্ত ছাপ।
এরপরও হয়তো নারীদের নিজস্ব বক্তব্য গড়ে উঠে নি, কিংবা গড়ে উঠতে পারে নি। নগরনটিনী হয়ে উঠবার প্রশিক্ষণ নিতে আগ্রহী নারীর অভাব হয় নি, ধর্মের খোলসে কিংবা সাম্রাজ্যবাদী মোহে নারীর যৌনতাকে ব্যবহার করেছে সভ্যতা। সভ্যতা নারীক্ষমতাবিবর্জিত ছিলো না, ৫০০০ বছর আগেও পৃথিবীতে নারী শাসকের অস্তিত্ব ছিলো, তার আনুগত্য মেনেছে বলিষ্ঠ যুবারাও, সেনাপতি তার নামেই নিজের রথ পরিচালনা করেছে, প্রতিটি সৈনিক সেই রানীর সন্তুষ্টি অর্জনে প্রয়োজনে যুদ্ধক্ষেত্রে জীবন দিয়েছে। তবে তারা পরিমাণে অল্প ছিলো। যেখানে ৫০০ বছর আগেও মানুষের গড় আয়ু ছিলো মাত্র ৪০ বছর সেখানে কোনো কোনো নৃপতির ৫০ বছরের দোর্দান্ড প্রতাপ শাসন, শতাধিক যুদ্ধে বিজয়ী হয়ে ফিরে আসা এবং সেই সংক্ষিপ্ত জীবনেই কোনো কোনো নারীর নগরীর সৈন্যপরিচালনার দক্ষতা এবং সমরকৌশলে অগ্রসরতা অবশ্যই ব্যতিক্রম।
পর্ব তিন
নারী অর্থ সামাজিক ক্ষমতা বিবেচনা করে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে, পুরোনো সম্পর্ক ভেঙে অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তার প্রয়োজন বিত্তবানের সাথে যৌথজীবনযাপনে আগ্রহী হয় নারী। এমন সামাজিক ধারণার স্তিত্ব এখনো এখানে আছে। সম্পর্ক নির্মাণের ব্যর্থতা স্বীকার করতে অনাগ্রহী মানুষেরা এভাবেই হয়ও সান্তনা খুঁজে। নারী কোনো একটি সম্পর্কে থেকে অন্য কোনো একটি সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র অর্থনৈতিক বিবেচনাকে প্রাধান্য দেয় হয়তো কেউ কেউ কিন্তু সবাই এই একটি প্রেষণায় নিজেদের সম্পর্কগুলো ভেঙে ফেলে কিংবা নতুন কোনো সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে ভাবনাটা অসংগত মনে হয় আমার কাছে।
সামাজিক নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, অতীতেও সামাজিক নিরাপত্তা একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রণোদনা ছিলো, সামাজিক সম্পর্ক তৈরি করতে গিয়ে পরিবার নিশ্চিত করতে চায় তাদের পরিবারের নারী সদস্যরা যেনো নিরাপদে সামাজিক সম্মানের সাথে জীবনযাপন করতে পারে, সে কারণে তারা বেছে মেয়েকে বিয়ে দেয়। সামাজিক কারণেই বিবাহবহির্ভুত সম্পর্কগুলো এখনও বাংলাদেশে ততটা জনপ্রিয় হয়ে উঠে নি। যৌনতা বিশেষতা শাররীক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অনেক অপ্রয়োজনীয় পবিত্রতার ধারণা জুড়ে দেওয়া এই সামাজিক প্রেক্ষাপটে মানুষ যৌনতার উপরে অহেতুক যে বিধি আরোপ করেছে সেটা না থাকলে হয়তো মানুষ অন্যান্য শাররীক প্রয়োজনের মতো এই শাররীক চাহিদাকে পুরণ করতে অভ্যস্ত হতো ।
পর্ব চার
যৌনতা বিষয়ে একটা দার্শণিক অবস্থান তৈরি করতে বাধ্য হয়েছিলেন ছফা, হয়তো তার ব্যক্তিগত ভাবনার জায়গাতেও যৌনসম্পর্কের কোনো গভীর দার্শণিক ব্যাখ্যা ছিলো কিংবা জীবনযাপনের উপলব্ধি তার যৌনসম্পর্কসম্পর্কিত দার্শণিক অবস্থান নির্ধারণ করেছে। গত কয়েকদিন ধরেই আহমেদ ছফার সাক্ষাৎকার পড়ছিলাম, ছফা বিয়ে করেন নি, কিন্তু এই সাক্ষাৎকারগ্রহীতাদের ছফার বিয়ে না করা বিষয়ে যে আগ্রহ তার অন্যকোনো তুলনা নেই। ছফা কেনো হোল কোলে করে বসে থাকলেন সারাজীবন, কেনো মুতনের কাম ছাড়া অন্য কোনো কামে এটাকে নিয়মিত ব্যবহার করলেন না সেটা নিয়ে সবার জীগিষা ছফাকে অনেক সময়ই ব্যাকফুটে ঠেকে দিয়েছে। তাকে বাধ্য হয়েই এইসব অপ্রয়োজনীয় কৌতুহল মেটানোর চেষ্টা করতে হয়েছে, সাক্ষাৎকারগ্রহীতাদের নিয়মিত আশ্বস্ত করতে হয়েছে তার পুরুষাঙ্গ অক্রিয় নয় বরং সক্রিয় এবং সময়ে ও প্রয়োজনে তা উঠে দাঁড়াতে পারে,
ছফার যৌনতা নিয়ে অনাকাঙ্খিত আগ্রহ কিংবা অন্য কারো যৌনজীবনযাপনে সম্পর্কিত অহেতুক আগ্রহের বিষয়টি নিতান্ত অশোভন হলেও সেটাকে কেন্দ্র করে ঘুরতে থাকা সাক্ষাৎকারে ছফার পুরুষতান্ত্রিকতা প্রকট হয়ে উঠে, ছফা স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য হন তার নারীদের আকৃষ্ট করবার ক্ষমতা আছে এবং সেটা তার ছিলো, তার সাথে সম্পর্কিত হওয়ার বাসনা ছিলো অনেকেরই কিন্তু ছফা নিজের প্রয়োজনেই এইসব বাসনার উর্ধ্বে থেকে জীবনযাপন করেছেন, তাকে ধারণ করবার মতো নারীর অস্তিত্বহীনতাই তার অকৃতদার থাকবার প্রধান কারণ।
বাংলাদেশের সামাজিক কাঠামোতে শাররীক সম্পর্কের বিশুদ্ধতার উপরে একটা বাড়তি গুরুত্ব আরোপিত হয়েছে। অন্যান্য শরীরবৃত্তীয় বিষয়াদির যৌনতা বিষয়েও মানুষের স্বাভাবিক চাহিদা আছে এটা মেনে নেওয়া অনেকের জন্য কঠিন।
শাররীক সম্পর্ক স্থাপিত হওয়ার পর ব্যক্তিগত সম্পদের বোধটুকু যদি না জন্মায় তাহলে সেসব সম্পর্কের জাল দীর্ঘস্থায়ী হয় না। মানুষ জমি দখলের মতো যোনী দখলে অভ্যস্ত, নিজের লাঙলের ফলা যতদুর যায় ততদুর আমার জমি এ ধারণাঅভ্যস্ত মানুষ নারীর শরীরিঅস্তিত্ব দখলের লড়াইও করে ।
যেহেতু মানুষ যৌনতার উপরে একটা মহাপবিত্রতার ধারণা আরোপ করতে সক্ষম হয়েছে সে কারণে অন্য কোনো পুরুষের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়বার আগে এই প্রবল সামাজিক জড়তাও নারীকে কিয়দংশে বহন করতে হয়। সনাতন ধর্মপরিবেষ্ঠিত এবং সনাতনধর্মনির্মিত সামাজিক মূল্যবোধে বেড়ে ওঠা এদেশের নওমুসলীম সমাজে বিবাহ চিরস্থায়ী বন্ধন হিসেবে চিহ্নিত হলেও পরবাসী মুসলমান কিংবা যারা শাসকশ্রেণীউদ্ভুত মুসলমান,তাদের ভেতরে বিয়ে এবং বিবাহবিচ্ছেদ বিষয়ে তেমন জড়তা ছিলো না। বিধবাবিবাহ কিংবা বিবাহবিচ্ছেদের ধারণা ইসলামে অপরিচিত না হলেও উপমহাদেশে সকল বিয়েই জন্মজন্মান্তরের বন্ধন হিসেবেই পরিচিত। কিংবা এমন বিশ্বাসের সামাজিক গ্রহনযোগ্যতা আছে। এখানে প্রেমিক প্রেমিকার কাছে সারাজীবন ভালোবাসবার অঙ্গীকার চায়, এখানে প্রেমিকা প্রেমিককে প্রশ্ন করে তুমি আমাকে আজীবন এমন করে ভালোবাসবে তো?
সম্পর্কে বদলাতে থাকে, সম্পর্ক ব্যবহারে জীর্ন হয়, মাঝে মাঝে নিতান্ত অপ্রয়োজনীয় হয়ে উঠতে পারে, শাররীক চাহিদা পুরণের দক্ষতা কিংবা পারঙ্গমতাও হয়তো সম্পর্কের দীর্ঘস্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে পারে না। আর আদালতের কাছেও হয়তো শাররীক তৃপ্তির বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে হয়তো এটা সত্য, কারণ বাংলাদেশের বিবাহবিচ্ছেদের মামলাগুলোর একটা বড় যুক্তি পুরুষ নারীকে পরিপূর্ণ শাররীক তৃপ্তি দিতে অক্ষম। সে কারণে পুরুষকে নারী ছেড়ে আসতে পারে, হয়তো তার তেমন কোন ত্রুটি নেই কিন্তু যখন মানুষ সম্পর্ককে আকড়ে ধরতে চায় তখন এমন সব অভিযোগেই সেসব সম্পর্কের জাল কেটে বেড়িয়ে আসে মানুষ।
সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী করতে বাধ্য করবার বিভিন্ন তরিকা আছে, সমাজস্বীকৃত তরিকা, শাররীক নির্যাতন, হত্যার হুমকি এবং অন্যসব সামাজিক চাপের বাইরে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখবার সহজ সরল সমাধান সন্তান উৎপাদন। স্বামীর সাথে স্ত্রীর বনিবনা নেই, পরিবারের মুরুব্বী এসে বলবেন 'একটা বাচ্চা নিয়ে নাও, যদি বাচ্চার মুখ দেখে তার মতি ফিরে।'
স্ত্রী চঞ্চলা, পরিবারের মুরুব্বী এসে বলবেন একটা বাচ্চা নিয়ে নাও। সোমত্ত মেয়ে একটু আদেখলাপনা করবে একটা বাচ্চা বুকে আসলে পরপুরুষের প্রতি নজর কমে যাবে।
এইসব সামাজিক চাপে জন্ম নেওয়া অনাকাঙ্খিত সন্তানগুলোর ভোগান্তি সবচেয়ে বেশী। তারা সার্বক্ষণিক নিগৃহীত হয়। তারা অবাঞ্ছিত এবং এই অবাঞ্ছিত সন্তানের বোঝা না টেনে কেউ কেউ নতুন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার আগেই এইসব অবাঞ্ছিতদের হত্যা করতে চায়। কেউ কেউ সফল হয়। এইসব বিষন্ন সংবাদ পড়ে মন খারাপ করা যায় শুধু।
যারা একটা সম্পর্ক পেছনে ফেলে অন্য কোনো নতুন সম্পর্কে জড়ায় তারা সবাই অর্থের টানে এইসব সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে এমন না। সম্পর্কে বৈচিত্রহীনতা কিংবা নতুন উত্তেজনার খোঁজেও থাকে কেউ কেউ। একপাক্ষিক ভাবে কোনো একটি নির্ধারিত সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার সুযোগ কম।
যেহেতু সামাজিক পরিস্থিতি মোটামুটি একই কিসিমের, সে কারণে একটা সাধারণ ঐক্য হয়তো থাকতে পারে, একটা আপাতপরিচিত ধারা হয়ও খুজে পাওয়া যেতে পারে, কিন্তু প্রতিটা নষ্ট সম্পর্ক, প্রতিটা ভেঙে যাওয়া সম্পর্কের নেপথ্যে এক্টাই সত্য থাকে, অতীত সম্পর্ক আর উদ্দীপ্ত করতে পারে না, সম্পর্ক টিকিয়ে রাখবার প্রয়োজন না থাকলে কিংবা তেমন বলিষ্ট সামাজিক চাপ না থাকলেও এইসব সম্পর্ক মরে যেতো, হয়তো একই গৃহে মৃত সম্পর্ক বহন করে হাসিমুখদম্পত্তির অভিনয় করতে হতো কাউকে কাউকে, এখন বিশ্বাস ও সামাজিক পরিস্থিতি বদলেছে বলে সেসব আত্মবলিদান এখন কম।
তবে যারা আত্মবলিদানে আগ্রহী নয় তাদের হত্যা করবার উদ্যোগও নেয় মানুষ। আজ যেমন জনৈক প্রকৌশলী তার স্ত্রীকে কামড়ে, আঁচরে, তার চোখ উপড়ে নিয়ে তার উচ্চশিক্ষার আকাঙ্খাকে দমন করলো কিংবা তাকে প্রায় হত্যা করে ফেললো সেটা এই সমাজের প্রচলিত পুরুষতান্ত্রিকতার একটা নিদর্শণ হতে পারে। সমাজ নারীবাদী এমন বলা যাবে না কিন্তু এমন আচরণকে অনেকেই নিন্দনীয় ভেবে অভ্যস্ত। আমাদের সামাজিক পরিবর্তন ঘটছে ধীরে ধীরে, হয়তো এমন বড় মাপের নির্যাতনকে স্বীকৃতি দিতে শেখা সমাজ ধীরে ধীরে অন্যান্য ছোটো মাপের নির্যাতনকেও স্বীকৃতি দিতে অভ্যস্ত হবে।





আজকে সকালে ইউনিভার্সিটির টিচারের নিউজটা পড়ে খুব শকড হলাম। এ কোনদিকে এগোচ্ছি আমরা?
নির্যাতন কে স্বীকৃতি দেয়া যায় না। তা সে ছোট হোক বা বড়। শারিরীক শক্তি বা পেশী শক্তি যার বেশী সে নির্যাতন করে। তা যুগ যুগ থেকে হয়ে আসছে। সভ্যতার পোষাক পরে মানুষ যে সবচেয়ে হিংস্র প্রাণী তা আমরা ভুলে যাই। বিবেক সব প্রানীরই আছে। তাই কাক কাকের মাংস খায় না কিন্তু মানুষ মানুষের মাংস খায়।
আমাদের সংস্কারবাদী গোড়ামীর কারণে নারী-পুরুষের শারীরিক সম্পর্ক খুব বেশি আলোচনার সুযোগ পায় না। রাসেল একটা আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করেছেন, ধন্যবাদ। পুরুষ অক্ষম কি না তা কেবল নারীর সার্টিফিকেট এর মাধ্যমে সিদ্ধ হয়ে যায় না। নারীও কোন পুরুষকে অক্ষম বানিয়ে রাখতে পারে। অপরদিকে পুরুষ নারীকে। এখানে সেরকম কোন কাউন্সিলিঙের সুযোগ নেই। এই বিষয়ে সবার মধ্যে ঢাক-ঢাক গুড়গুড় ভাব। যেন এ নিয়ে কথা বললে জাত যাবে। অথচ সার্টিফিকেট দেবার সময় সব সিদ্ধহস্ত। এই দুই আপাত তুলনাকঠিন জটিল মনস্তত্বের মানুষের শরীর সম্পর্কিত বিষয়টি এত অবদমিত অবস্থায় ধীরে বিকাশ লাভ করে যে এ নিয়ে দূরে বসে মন্তব্য করার কোন উপায় নেই।
আলোচনাটা ভালো লাগলো
মন্তব্য করুন