ভালোবাসা
প্রৌঢ়ের সাদা পাঞ্জাবি মৃদু বাতাসে উড়ছে, পাশে দাঁড়িয়ে আছেন তার উদ্বিগ্ন স্ত্রী, তিনি তার মেয়ের হাত ধরে কথা বলছেন, কথা বলবি না মা? অভিমান হয়েছে?
ঘরের মৃদু ফিসফাসের ভেতরে তার ভারি খসখসে গলার শব্দগুলো মিলিয়ে যায়।
কথা বল মা। এতদিন পর দেখা হলো, একটা কথাও বলবি না তুই? কি এত অভিমান তোর?
উদ্বিগ্ন স্ত্রী হাত বাড়িয়ে প্রৌঢ়ের হাত ধরতে চান
কষ্ট কি আমার ছিলো না মা? আমারও কি অভিমান নেই? এত অভিমান পুষে রাখতে নেই।
প্রৌঢ়ের কণ্ঠস্বর আরও গম্ভীর হয়ে যায়।
প্রত্যেক বাবাই চায় তার মেয়ের প্রেমিক তার মেয়েকে তার চেয়ে বেশী ভালোবাসবে, যেভাবে ছোটোবেলায় বাবার পিঠের দেয়ালের অন্যপাশে মেয়ের ভয়ের পৃথিবী থমকে যায় তেমনভাবেই প্রেমিকের বুকের ভেতরে নিশ্চিত আস্থায় মুখ লুকাবে মেয়ে, আর এ কারণেই বাবারা ভয় পায়, মেয়ের পছন্দে আস্থা রাখতে পারে না, ভাবে এইটুকু বয়েস ওদের, ওরা কি মানুষ চিনতে পারবে ঠিকঠাক? তুই যখন বললি ও তোকে নিজের চেয়ে বেশী ভালোবাসে, আমি প্রমাণ চাই নি, একটু সময় চেয়েছিলাম, বুঝে উঠবার সময়।
ঘরের দেয়াল যতই পুরু হোক না কেনো তার অন্যপাশে একটা সমাজ থাকে, সে সমাজের সাথে বিভিন্নভাবে লড়াই করতে হয় বাবাকে, তোদের বয়েস অল্প তোরা বুঝবি না , সমাজকে চাইলেই ঘরের দরজা বন্ধ করে অন্যপাশে আটকে রাখা যায় না।
কিছু না বলেই চলে গেলি, বুঝলি না তোর ভোর রাতের খুলে রাখা দরজা দিয়ে কিভাবে সমাজের শেকড়বাকর ঘরের চৌহদ্দিতে ঢুকে পরলো, কিভাবে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করলো ঘরের মানুষকে।
বাবারা কষ্ট পায়, অভিমান করে, কিন্তু স্নেহ সব উপেক্ষা করে যায়,ভালোবাসা এতটা পারে না। সব ভুল উপেক্ষা করে নিরন্তর সন্তানের মঙ্গল কামনা করে বাবা ,প্রেমিক পারে না, ভালোবাসা এতটা উদার হতে পারে না। প্রেমিক-প্রেমিকার সম্পর্কে চাওয়া -পাওয়া থাকে, কামনা -প্রত্যাশা থাকে, প্রতিনিয়ত প্রত্যাশা পুরণ করতে হয়। প্রেমিক ঠিকই দেনা-পাওনা বুঝে নেয়। দেখা না হলে ভালোবাসার স্রোত কমে যায় স্নেহের শেকড়ের জল শুকায় না মা।
বাবার চোখ শৈশবের মুখেই আটকে থাকে, বাবা যতবার তাকায়, এখনও সে দেখে অভিমানে ফুলে ওঠা ঠোঁট আর চোখের কোণে আটকে রাখা জলের প্রপাত, তার কানে এখনও লেগে থাকে আধোবোলের বাবা ডাক, সব ভুল, সব অপরাধ ভুলে তাই বাবারা বুকে টেনে নেয় সন্তানকে, প্রেমিক পারে না। ঠিকানা তো ছিলোই একবার ফিরে আসলে কি আর তোকে ফিরিয়ে দিতাম রে মা?
ভুল হলে শুধরে নেওয়ার সুযোগ থাকে, ভুল পথে গেলেও পথ চিনে ফিরে আসতে হয়। তুই তো একবার ভুল করেও বলতে পারতিস, বাবা আমি ভালো নেই, আমার মানুষ চিনতে ভুল হয়েছে।
তুই ভুল করেও ফিরে আসলি না মা-রে, এভাবে চলে যেতে হয়।





অসাধারণ।
(
অসম্ভব মর্মস্পর্শী একটা একটা লেখা।
কোনো ছেলের অনুভূতিতে এমন ভাবনা জড়ো হতে পারে তা দেখে একটু অবাক মানলাম। টাচি একটা টপিক নিয়ে দূর্দান্তভাবে ফিরে আসায়
অসম্ভব ভালো লাগলো লেখাটা।
"দেখা না হলে ভালোবাসার স্রোত কমে যায় স্নেহের শেকড়ের জল শুকায় না মা।"
কত্তদিন পর আপনার লেখা পড়লাম...
মর্মান্তিক
মন্তব্য করুন