গসধ
অনেক আগে সেলিনার মায়ের জন্য সাহায্যের আবেদন জানিয়েছিলাম- আমরাবন্ধুর বন্ধুরা সাধ্যমতো চেষ্টাও করেছিলেন- যদিও শেষ পর্যন্ত আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা তেমন ফলপ্রসু হয় নি, আমাদের সবার প্রত্যাশা ভেঙে দিয়ে তিনি মৃত্যু বরণ করেছিলেন-
দেশের স্বাস্থ্যসেবার সরকারী উদ্যোগ বিভিন্ন শ্রেণীর দালালের হাতে জিম্মি হয়ে আছে, বিভিন্ন সরকারী হাসপাতালে কর্মচারীদের দাপট এবং ঘুষের জন্য বাড়ানো হাত দেখে আমার ধারণা এমনটাই- সরকারী স্বাস্থ্যসেবার খরচ অনেক কম কিন্তু এইসব দালালের খপ্পরে পরে যাওয়া দরিদ্র মানুষেরা সেসব ধারণাও করতে পারেন না, ১৬ কোটি মানুষের একটি দরিদ্র দেশে সরকারী হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা জনগণের সকল চাহিদা পুরণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই বলেই দ্বিতীয়-তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের কাছে জিম্মি হয়ে যায় মানুষ-
সেলিনা হয়তো তার মাকে উপযুক্ত সময়ে চিকিৎসা শুরু করলে বাঁচাতে পারতো- বিভিন্ন শ্রেণীর দালাল, নিজের সীমিত অর্থনৈতিক ক্ষমতা- এইসব দুর্বলতা না থাকলে হয়তো তার মা বেঁচে থাকতো- তা সম্ভব হয় নি। সেলিনা আমরা বন্ধুর বন্ধুদের ডেকেছিলো তার মায়ের কুলখানীতে- আরও অনেককেই ডেকেছিলো, যদিও নিজস্ব নিজস্ব সীমাবদ্ধতায় কেউই আসলে যেতে পারেন নি, সেলিনা তার সীমিত সামর্থ্যে আয়োজনের কমতি রাখে নি, তবে এই অপারগতায় বিব্রত হয়েছিলো নিশ্চিত ভাবেই-
সেলিনার মেয়ে তখন নবম শ্রেণীতে পড়তো- নানীর পাশেই ছিলো হাসপাতালের শেষ কয়েকদিন- সে মেয়েটাই এ বছর এসএসসি পরীক্ষা দিলো- ভালো ফলাফল করেছে- সেলিনার মেয়ের এই সাফল্যের সাথে সাথে সেলিনার সামাজিক মর্যাদাও বদলে গেছে- সাফল্য অনেক ধরণের ব্যবধান ঘুচিয়ে দেয়- আমার সীমিত জীবনে এমন অনুভব বেশ কয়েকবারই হয়েছে- তাই সেলিনার মেয়ের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের বিভিন্ন ধরণের প্রতিক্রিয়া দেখে তেমন আশ্চর্য হই নি-
যদিও মানুষের পারিবারিক অবস্থা- অর্থনৈতিক অবস্থার সাথে মেধার তেমন কোনো সরাসরি যোগাযোগ নেই তারপরও মানুষের এক ধরণের অদ্ভুত ধারণা আছে স্বচ্ছল পরিবারের সন্তানেরা অধিকতর মেধাবী হয় কিংবা তারা ভালো ফলাফল করে- স্বচ্ছল পরিবার মানে যারা ছেলে মেয়ের পড়াশোনার পেছনে ভালো পরিমাণে অর্থ খরচ করবার সামর্থ্য রাখে- যারা দুই তিনটা টিচারের কাছে টিউশনি পড়ে ভালো ফালফল তারাই করে- এই সামাজিক মানসিকতাটুকু একেবারে ভ্রান্ত হলেও এই বদ্ধমূল ধারণা থেকে কেউই মুক্ত নন।
এমন কি দেশের গণমাধ্যমও এদের অদম্য মেধাবী স্বীকৃতি দিয়ে মিথ্যে ধারণাকে প্রশ্রয় দিচ্ছে- সমাজের সকল স্তরেই প্রতিভাবান জন্মায়- এদের অধিকাংশই পৃষ্টপোষকতার অভাবে নিজের মেঢার যথোপযুক্ত প্রয়োগ করতে পারে না, কিন্তু যাদের ভেতরে লড়াকু মানসিকতা আছে তারা সামাজিক প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করে বৈরিতা গুড়িয়ে বন্ধুর পাহাড়ে নিজেই নিজের পথ তৈরি করে নেয়।





মন্তব্য করুন