অলিম্পিক ভাবনা
খেলা বিষয়ে আমার নিজস্ব কিছু পক্ষপাতিত্ব আছে, নৌকা বাইচ, অশ্বচালনা, জিমন্যাস্টিক কিংবা ডাইভিং আমি খেলা মনে করি না, সাঁতারও আমার কাছে ঠিক খেলা মনে হয় না যেমন মনে হয় না রেসিং। বর্শা , জ্যাভলিন, শটপুট, শ্যুটিং, তীরন্দাজী ব্যক্তিগত দক্ষতা, মনোসংযোগ কিংবা মানসিক দৃঢ়তার উদাহরণ হতে পারে কিন্তু সেসবকে আমার খেলা মনে হয় না কখনও।
আমি খেলা বিষয়ে রক্ষণশীল, দলীয় কিংবা ব্যক্তিগত লড়াইয়ের জায়গা থেকে টেবিল টেনিস, লন টেনিস, ফুটবল, বাস্কেটবল, ওয়াটারপোলো, ব্যডমিন্টন, এসবের বাইরে অলিম্পিকে তেমন খেলা হয় না। পৃথিবীর নামি-দামি- বিখ্যাত- বেশি পারিশ্রমিক পাওয়া বাস্কেটবল খেলোয়ারেরা সবাই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র অলিম্পিক বাস্কেটবলে সোনা পায় নি কখনও। একটা পর্যায়ে অবশ্য পেশাদার খেলোয়ারদের অলিম্পিকে অংশগ্রহন করার স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা ছিলো, সে সময়ের পর যখন পেশাদার খেলোয়ারদের জন্য অলিম্পিক উন্মুক্ত হলো সে সময়ের পরেও যুক্তরাষ্ট্রের সেরা খেলোয়ারেরা অলিম্পিকে আসতে নারাজ ছিলো, তারা ব্যক্তিগত অর্জনের জন্যে খেলে দলীয় অর্জন তাদের কাছে খুব বেশী গুরুত্ব পায় না সম্ভবত।
ফুটবলে ৫টা বিশ্বকাপ জেতা ব্রাজিলও অলিম্পিকে সোনা পায় নি, তাদেরও দক্ষতা কিংবা ব্যক্তিগত অর্জনে কমতি নেই কোনোই। কিন্তু অপরাপর দেশগুলোর খেলোয়ারদের ভেতরে সম্ভবত দেশের জাতীয় পতাকার মর্যাদা অন্য রকম। গতকাল দেখছিলাম সুইজারল্যান্ডের সাথে ইসরাইলের টেনিস ম্যাচ, সুইজ্যারল্যান্ডের দলে আছে ফেডেরার, বিশ্বের সম্ভবত সবচেয়ে সেরা খেলোয়ার এ মুহূর্তে- কিন্তু ইজরাইলের অখ্যাত অপরিচিত খেলোয়ার যেমন প্রতিরোধ করলে দেখে মুগ্ধ হয়ে গেলাম।
আজকে দেখছিলাম ব্যডমিন্টন, কোরিয়া আর চীনের খেলা হচ্ছে, কোয়ার্টার ফাইনাল, চমৎকার লড়াই হলো। এইসব খেলায় ১ থেকে ১০ এর ভেতরে যারা আছে তাদের প্রত্যেকেরই দক্ষতা কম বেশী সমান- এদের প্রত্যেকেরই ১ হওয়ার যোগ্যতা আছে কিন্তু এদের ভেতরেই যে সেরা সে তার দক্ষতার চেয়ে মানসিক দৃঢ়তায় বেশী এগিয়ে। এসব খেলায় ব্যক্তিগত দক্ষতার সাথে মানসিক দৃঢ়তাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেকের ভিন্ন ভিন্ন শাররীক গঠন, ভিন্ন ভিন্ন খাদ্যাভাস, কারো সহজাত রিফ্লেক্স আছে, কেউ রিফ্লেক্স অর্জন করেছে, কিন্তু খেলার সবচয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজের সীমাবদ্ধতা আড়াল করে প্রতিপক্ষের সীমাবদ্ধতাকে কাজে লাগানো- সে কাজটাই ১ থেকে ১০ কে আলাদা করে দেয়।
কোরিয়ার খেলোয়ার চীনের খেলোয়ারের চেয়ে উচ্চতায় ছোটো, তাকে অনেক বেশী পরিশ্রম করতে হয়েছে কিন্তু প্রতিমুহুর্তে দক্ষতা, ডিফেন্সের সাথে বুদ্ধির লড়াইটাও ছিলো। চীন হেরেছে মুলত এই বুদ্ধিদৃপ্ত পরিশ্রমের কাছে। এনডুরেন্স, পারসিস্টেন্স, মেন্টাল স্ট্রেনথ, এবং প্রয়োজনে ১৫০% দেওয়ার মানসিকতা থাকতে হয়। আমাদের খেলোয়ারদের অনেক ধরণের সীমাবদ্ধতা আছে, এদের উন্নততর প্রশিক্ষণের সুযোগ নেই, তারা আর্থিক নিরাপত্তার অভাবে ভুগছে, তাদের দীর্ঘমেয়াদী কোনো লক্ষ্য নেই- সাফ পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় কোনো রকম মেডেলের কাছাকাছি যাওয়াটাই এদের স্বপ্নের সীমানা- এই স্বপ্নের দারিদ্রতা আমাদের খেলোয়ারদের সবচেয়ে বড় সমস্যা-
ভারত দীর্ঘ দিন সাফে একচেটিয়া জিতেছে, তাদের খেলোয়ারদের ভেতরে এখন বড় পরিসরে নিজেদের প্রমাণের তাগিদ তৈরি হয়েছে, ভারত এশিয়া কাপে ভালো ফলাফল করবে, চীন-জাপান- দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে লড়াই করে আগামি ২০ বছরে নিয়মিত ১০ থেকে ১২টা স্বর্ণপদক জিতবে- আমরা তখনও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহনই বড় কথা মানসিকতা নিয়ে অলিম্পিকে অংশগ্রহন করবো, সপরিবারে অলিম্পিক শহরে যাবো, উল্টাপাল্টা হাস্যকর সাক্ষাৎকার দিয়ে আসবো।
আমাদের সাঁতারে সুযোগ নেই শাররীক সক্ষমতার অভাব কিন্তু টেবিল টেনিস কিংবা ব্যাডমিন্টনে আমাদের ভালো হতে বাধা কোথায়? ইন্দোনেশিয়া মালোয়শিয়া ব্যাডমিন্টনে ভালো করছে- তারা কিভাবে তাদের শাররীক খর্বতা সত্ত্বেও এত ভালো করতে পারছে? আমাদের ফুটবলের ঐতিহ্য ছিলো, তবে আমাদের জাতীয় ফুটবল দলের যে অবস্থা আমি নিশ্চিত যেকোনো দিন এমন কি জাপানের মহিলা ফুটবল দল এদের ৬ গোল দিতে পারবে, আমাদের সোনার ফুটবলারেরা সোনা হাতানোর বাইরে তেমন প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারবে না।
প্রতিবার অলিম্পিক আসলে মনে হয় দেশের পতাকার মর্যাদা আমাদের কল্পনার দারিদ্র কখনও উপলব্ধি করতে পারে না।





কিচছু বলার নেই
(
সুন্দর একখান লেখা। আনন্দের সঙ্গে একটানে পড়লাম। শেষের দিকে এসে চাপা হাসি পেয়ে গেলো।
আজ টেনিস সেমিফাইনাল দেখলাম, কী দারুণ একটা ম্যাচ হলো
মহিলা টেনিস?
হুয়ান পেড্রো তো ফেদেরারকে কাঁপায়া দিছিলো। অলিম্পিক সেরাটা বের করে নিয়ে আসে, আমি এর আগে ১৪-১২ দেখছি লাস্ট সেট, আইজকারটা এপিক- ১৯-১৭।
একটা সময় সব ধরনের খেলা নিয়ে খুব উত্তেজিত থাকতাম এখন আর তেমন হয় না। বাঁশি কই আগের মত বাজে না
অলিম্পিকের সব ভাল,
কিন্তু সোনা জিতলে পতাকা তুলে জাতীয় সঙ্গিত বাজানোর ব্যাপারটা দেখে ভাল লাগ্লেও ম্ন খারাপ হয়ে যায়। ওখানে আমাদের পতাকা তুলে ধরার মত কাউকে দেখতে খুব ইচ্ছে করে।
মন্তব্য করুন