টুকিটাকি ১
ক্ষমতা আদতে তথ্য নিয়ন্ত্রনের অধিকার। সম্রাট তার শক্তিশালী সেনাবাহিনী দিয়ে সম্রাজ্য বিস্তার করতে পেরেছেন কারণ তার রণযাত্রার রসদখরচ জোগাতে গিয়ে নিজের জীবনস্পৃহা হারিয়ে ফেলা সাধারণ মানুষগুলো যে যুদ্ধযাত্রার জন্যে বাড়তি কর দিতে অনাগ্রহী, তারা যে যুদ্ধবিগ্রহের হয়রানি এড়িয়ে শান্তিতে জীবনযাপন করতে চায় এই সত্যটা তিনি তার সেনাপতি আর সৈনিকদের কাছ থেকে লুকিয়ে রাখতে পারেন। এত বিশাল সম্রাটও তার খুনে সেনাবাহিনীকে ভয় পান, তাদের ভেতরে গোপনে গোয়েন্দা অনুচর লুকিয়ে রাখেন- সেনা কর্মকর্তা আর সৈনিকদের অসন্তোষের তথ্য সংগ্রহ করেন, এবং নিজের ক্ষমতায় সেই তথ্যের ব্যবহার করেন। তথ্য ব্যবহারের দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় তিনি জানেন কখন কোন তথ্যের জন্যে প্রকাশ্যে প্রাণ সংহার করতে হবে আর কোন তথ্যটা শুধু একান্তে বলতে হবে। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ার দক্ষ ব্যবস্থাপনায় সেনাবাহিনীর প্রতিটা সদস্য বুঝে যায় নিজের নিঃশ্বাসের শব্দেও যদি কোনো অমান্যতার অভিলাষ থাকে সম্রাট সেটার তথ্য জানবেন, তারা নিজের ছায়াকেও অবিশ্বাস করবে তারপর থেকে।
নিজের অভিলাষ- অভিলিপ্সা শুধুমাত্র নিজের বিশ্বস্ত অনুচর এবং সম্রাজ্যের উত্তরাধিকারীদের জানাতে সম্রাট এবং অনুচরের নিজেদের মতো লিপি নির্মাণ করতেন- প্রতিটি লিপির নিজস্ব অর্থ ছিলো- প্রতিটি শব্দ এবং প্রতিটি রেখার টানের আলাদা মর্ম ছিলো। শুধুমাত্র গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন মানুষই এইসব রাজালিপির সংবাদ জানতেন এবং এর গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারতেন।
আধুনিক বিশ্বব্যবস্থায় তথ্যের অর্থমূল্যের পরিমাপ দেখে নিশ্চিত বলা যায় সংগৃহীত তথ্য থেকে কত সহজে প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে নেওয়া যায় সে দক্ষতার বাণিজ্যিক মূল্যটা সবচেয়ে বেশী। সব তথ্য সবার জন্যে প্রয়োজনীয় নয়- তারে-ইথারে সংযুক্ত বিশ্বব্যবস্থায় প্রতিনিয়ত যে বিশাল পরিমাণ তথ্য আমরা নিজেরাই সম্প্রচার করছি যারা তথ্যের বাণিজ্যিক ব্যবহার করবে তাদের সবগুলো তথ্যের প্রয়োজন নেই। প্রত্যেকের তথ্য সংগ্রহ এবং তথ্য ব্যবহারের নির্দিষ্ট ক্ষেত্র আছে- সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর কোম্পানী শেয়ারের দাম প্রতিদিন বাড়ছে- প্রতিদিন সেসব মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যুক্ত হচ্ছে- তারা বিনে পয়সার সার্ভিসে খুশী। এইসব মানুষ আসলে ডাটা পয়েন্ট- ঘরের খেয়ে বোনের মোষ তাড়ানোর মতো নিজেরাই বিভিন্ন তথ্য- অভিজ্ঞতা প্রকাশ করছে প্রতিমূহূর্তে। নিজেকে জাহির করার সুবর্ণ সুযোগ তৈরী করে দেওয়ায় তারা এইসব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমার খাদ্যাভ্যাস- আমার পোশাক রুচি আমার অন্তর্বাসের রঙ আর আমার গোপন যৌনতার ঢং এর রংচঙে তথ্য আসলে এইসব তথ্যপ্রযুক্তিবিদদের রুটি-রুজি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ডাটা স্টরেজ সম্রাটের ক্ষমতাকেও ভারসাম্যহীন করে ফেলেছে। প্রাযুক্তিক সুবিধা ব্যবহার করে তথ্য সংগ্রহের নিজস্ব ঝুঁকি আছে- তথ্য যেভাবে সংগ্রহ করা হয়- সেই একই পদ্ধতিতে তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও থাকে। রাষ্ট্র নিজস্ব গোপন সার্ভারে নিজেদের তথ্য লুকায়- প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের দুটো আলাদা অন্তর্জালিক স্বত্তা বিরাজমান এখানে।
একদল তথ্য প্রযুক্তিবিদ তথ্য সুরক্ষা বৃদ্ধির লড়াই করছেন- অন্য একদল তথ্যকে উন্মুক্ত রাখতে লড়াই করছেন। আমরা সাধারণ মানুষ এইসব লড়াইয়ের বিন্দুবিসর্গ না বুঝে অন্তর্জালে হম্বি-তম্বি করছি।





পিছিয়ে পরার কোন অপশন কি সাধারণ মানুষের আছে?
এইসব মানুষ আসলে ডাটা পয়েন্ট- ঘরের খেয়ে বোনের মোষ তাড়ানোর মতো নিজেরাই বিভিন্ন তথ্য- অভিজ্ঞতা প্রকাশ করছে প্রতিমূহূর্তে। নিজেকে জাহির করার সুবর্ণ সুযোগ তৈরী করে দেওয়ায় তারা এইসব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমার খাদ্যাভ্যাস- আমার পোশাক রুচি আমার অন্তর্বাসের রঙ আর আমার গোপন যৌনতার ঢং এর রংচঙে তথ্য আসলে এইসব তথ্যপ্রযুক্তিবিদদের রুটি-রুজি।
ফিউ লাইন অফ দ্যা ইয়ার!
মন্তব্য করুন