মিলনমেলা
আমাদের গৃহে অতি সম্প্রতি এক মিলনমেলার আয়োজন করা হইবে। উপলক্ষ আমার কনিষ্ঠ ভ্রাতার “হ্যাপী বার্থডে”। যারা এখনো বুঝিতে পারেন নাই, মিলনমেলার অর্থ, তাহাদের উদ্দ্যেশ্যে বলি, মিলনমেলার বাংলাদেশী অর্থ হইল “পার্টি”। তবে পার্টি বলিতে গেলেই আপনাদের মাথায় যে পার্টির কথা ভাসিয়া উঠে এ পার্টি সে পার্টি নহে, মানে কোন রাজনৈতিক পার্টি নহে, এ হইল সাধাসিধা মানুষ সমৃদ্ধ সাধাসিধা পার্টি থুক্কু মিলনমেলা।
অনুস্ঠান কবে হইবে তার ঠিক নাই, কে দাওয়াত পাইবে আর কে কে পাইবে না তা নিয়া আমার মা জননীর চিন্তার শেষ নাই। আর যাহারা দাওয়াত পাইবে বলিয়া একেবারে নিশ্চিত তাহারা কোন সৌন্দর্যকেন্দ্র হইতে নিজেদের রঙ করিয়া আসিবেন তাহার চিন্তায় মশগুল।
এই হুড়াহুড়ির মধ্যে একমাত্র আমার ভ্রাতাই কিছুটা শান্ত, কারন যদাপি মিলনমেলার প্রধান আকর্ষন সেই তথাপি বড় দুঃখের বিষয় এই যে তাহার কোন ঘনিস্ঠজন অর্থাৎ বন্ধু (বান্ধবী নয়) কে নেমন্ত্রন জানানো হয় নাই।
কথায় আছে, বাঙ্গালীরা অনুস্ঠানে আসে শুধু খাইতে, কথাটায় খুব বেশি ভুল নাই। কারন সবার আগে ঠিক করা হইয়াছে রান্না করিবে কে? অথচ কে কে আসবে আমাদের সে সম্পর্কে এখনো ধারণা ভাসা ভাসা।
কাচ্চী খাইব না তেহারী? এই নিয়ে কানাঘুষা চলিতেছে। আবার কোক না বোরহানী, তা নিয়াও চলিতেছে মনোমালিন্য। খাটিঁ বাঙ্গালী মিলনমেলা বলিয়া অনেকের পছন্দ বোরহানী, অবশ্য অন্য সময়ে তাহাদের কোকে আপত্তি নাই!
কেউ কেউ এক কাঠি সরেস, বার্তালাপ (টেলিফোন) করিয়া খোঁজখবর নেওয়ার উসিলায়, দাওয়াত নিতে ভোলে না। কেউ কেউ “কি নিয়া আসিব?” বলিয়া এমন দীর্ঘশ্বাস ফালান, যেন পারলে তিনি পুরা পৃথিবীটাই আনিতে পারিতেন!
কাহারো আবদার, এ অনুস্ঠানে আসার জন্য তাহাদের নতুন পোশাক কিনিয়া দিতে হইবে। হায় রে, তাহলে তো কার্ড ছাপাইয়া দাওয়াত দিতে হইবে, সাথে থাকিবে “নতুন পোশাকের বাক্স”। কাঙ্গাল হইতে আর বেশী দেরী নাই।
কাহারো আবার অনুস্ঠানের দিনেই সকল কাজ পড়িয়া যায়, তাহাদের আবদার, “তারিখটা কি পরিবর্তন করা যায়?” তাহাদের দেখিয়া মনে হয়, বছরে দিন যদি ৪০০ টা থাকিতো তবে কি না করা যাইতো!
আমি বসিয়া বসিয়া দেখি। কি আর বলিব? ভুক্তভোগী তো কেবল আমি একা নই।






কোন দাওয়াত টাওয়াত না দিয়াই লেখা শেষ!!
এইডা কেমুন কতা?!

রুযা রমজানের দিনে ইমুন লালুজ দেখাইয়া ধুকা দেওয়ায় তেব্র নিন্দা জানাই গেলাম!!
আয়োজন দেখে আমি কনফিউজড হ্যাপী বার্থডে না বিবাহ?
দাওয়াত না পেলেও কি আমরা নিজ দায়িত্বে উপস্থিত হয়ে যাব?
ওই জিনিসের আশা না করাই ভালো, কারন আমি নিজে দাওয়াত পাই কিনা, তা নিয়ে আমার যথেস্ঠ সন্দেহ আছে।

আগে নিজের জায়গা বুক করি, তারপর না হয় দেখা যাবে, আর নিজ দায়িত্বে আসা মানে তো নিজ দায়িত্বে আসা, ওই জিনিসের দায়িত্ব আবার আমি নিতে পারবোনা।
এইসব আবজাব চলবে না।
তো ফাইন্যালি কি ফাইন্যাল হলো? কাচ্চী না তেহারী? কোক না বোরহানী?
বাংলাদেশে আইসা লন, ফুনে টকিং হৈব....
ফাইনাল হয়নাই মনে হয়

বাঙালী একাই একশ হইতারে... একশ এক হইতারে না
ভালোই কইলেন.......মনোমালিন্য টু বি কনটিনিউড.....
মন্তব্য করুন