ফল নিয়ে কিছু কথা
এই গতবছর এই সময়ে সপ্তাহের ছুটিতে বাসায় গেছি।আব্বা বাজার থেকে কাঁঠাল নিয়ে আসছে।আম্মা কাঁঠাল ভাংতেছে আর আমাদের চোদ্দগুষ্ঠির পিন্ডি চটকাচ্ছে।কারন কি কাঁঠাল নাকি খাজা না।
আর আমরা তিন ভাইবোন দেখছি আর হাসতেছি।কিছুক্ষন পর আম্মা টেবিলে দিয়ে গেল আর বললো বছরের ফল খেতে হয় না হলে আল্লাহ মন খারাপ করবে ভাববে আমার নেয়ামত বান্দারা উপেক্ষা করছে।
আমরা তিন ভাইবোন আল্লাহকে খুশি করার জন্য তিনজন তিন রোয়া কাঁঠাল খেলাম।
আসলে আমাদের বাসায় আমরা তিন ভাইবোন কেও কাঁঠাল পছন্দ করি না।আমার ছোটটা পারলে এই ফলের নাম কে প্রস্তাব করেছিলো তারে পাইলে নাকি ওর একদিন আর উনার একদিন করে দিবে।
কিন্তু আমার আম্মা কাঁঠাল এর একনিষ্ঠ ভক্ত। বাসায় কাঁঠাল আসলে আম্মা একবার এমনি খাবে।বিকালে মুড়িদিয়ে আর রাতে দুধভাত দিয়ে আর বাকীটা কাজের বুয়াকে দিবে কিন্তু শর্ত হচ্ছে বুয়াকে বিঁচি ফেরত দিতে হবে।কারন ওগুলো দিয়ে পরে ভর্তা আর তরকারী খাওয়া হবে।
কিন্তু এইবার আল্লাহ সত্যি মন খারাপ করবে কারন আমি একটাও কাঁঠালের রোয়া খাইনি। ছোটবেলায় এই সময় ফল খাওয়া নিয়ে কত কাহিনী আছে...
একবার আমের সময় আম্মা আম আর দুধভাত মেখে দিয়ে বলছে তাড়াতাড়ি খা মাছি আসবে সেই মাছি আবার ময়লার মধ্যে থাকে বড় বড় মাছি।আম্মা মাছির দুঃখে জানালা বন্ধ করে দিছে আমি ভাত খাচ্ছি আম্মা কই যেন গেছে আর আমি এই ফাকে আমি জানালা খুলে পাশের বাসার দোস্তর সাথে বিকালে কখন খেলতে যাবো এটা ঠিক করছি এই সময় মাছু রুমে ঢুকে গেল আর আমি সাথে সাথে একটা চাবিয়ে খেয়ে ফেললাম আর কিছুক্ষন পর থেকে শুরু করলাম বমি।এখনো মনে আছে আমি আম্মার কাছে পিটুনী খাচ্ছি আর বমি করতেছি।
বাজার থেকে লিচু আনলে আমি আর আমার ভাই সেই লিচু ঘন্টাখানেক এর মধ্যে শেষ করে দিতাম কিছুক্ষন পর আব্বা জিজ্ঞাসা করলে বলতাম কি জানি কে খাইছে?একদিন আব্বা জিজ্ঞাসা করলো তোরা কতগুলো লিচু একঘন্টার মধ্যে খেতে পারবি?আমি আর আমার ছোট ভাই অনেক হিসাব নিকাশ করে বললাম হাজার খানেক। আব্বা পরের দিন দুই হাজার লিচু কিনে নিয়ে আসলেন বলল খাও বাবারা কত খেতে পার।আমি আর আমার ছোট ভাই মহাআনন্দে খাওয়া শুরু করলাম এবং তারপরের দিন থেকে টানা এক সপ্তাহ আমাশয়ে ভুগলাম।
একবার বাসায় আব্বা তরমুজ কিনে নিয়া আসছে তখন আমাদের বাসায় ফ্রিজ ছিলো না। আম্মা দেখে বললো কি ব্যাপার কেটে আনোনি যে আব্বা কয় দোকানদার কইছে চিনির মতো মিষ্টি আর রক্তের মতো লাল তাই সে আর কাটার প্রয়োজন মনে করে নাই।সারাদিন ঠান্ডা পানিতে চুবায় রেখে যখন বিকাল বেলা আম্মা কাটতে গেল তখন দেখলো তরমুজ পুরা সাদা।আম্মা কয় কই গেলা তোমার তরমুজ ওয়ালার কাছ থেকে চিনি আর আলতা নিয়ে আসো।আর আব্বা কয় বুঝলি জীবনে তরমুজ আর মেয়ে মানুষ চেনা বড় কঠিন।
কয়েকদিন ধরে বাসায় ফোন দিলে আম্মা জিজ্ঞাসা করে কোরিয়াতে আম পাওয়া যায়?
আমি কই হ্যাঁ।
খাইছোস?
কই, হুম।
কয় কয়দিন?
আমি কই তিনদিন?
কয় তোদের ক্যাম্পাসে আমগাছ আছে?
আমি কই না
কয় পাইলি কই?
আমি কই সুপারশপ থেকে কিনা খাইছি ইন্দোনেশিয়ান আম।
আম্মা কয় খাইতে কেমন?
আমি কই আমাদের আশ্বিনা আমের মতো স্বাদ।
কয় তাইলে তো টক।
আমি কই তা একটু তাই বলে বছরকার ফল না খেয়ে থাকি কেমনে?
কিন্তু এতটুকু বলতে পারি না তোমার ছেলে এই বছর আম,লিচু,কাঁঠাল চোখেই দেখে নি খাওয়াতো অনেক পরের কথা।
কারন এগুলো বললে দেখা যাবে উনিও ফল খাওয়া ছেড়ে দিবে।
কারন মা তো............





কোরিয়ায় থাকতে ম্যাক্সিমাম ক্যানের ফল খেতাম। তবে ফ্রেশ আম তো পাওয়া যায়। লিচুটা ক্যানেরটাই খেতে হবে।
নো ওরিস...... বিদেশে সব পাওয়া যাবে না, মন খারাপের কিছু নাই।
আমার প্রিয় ফল কাঠাল আর পেয়ারা। কাঠাল এখানে এখনও চোখে দেখি নি, আর পেয়ারার দাম যা তাতে মাঝে মাঝে শখ করে খেতে হয়।
ফ্রেশ আম পাওয়া যায় আমিও শুঞ্ছি কিন্তু মিরাং এর হোমপ্লাসে পাওয়া যায় না।ক্যানের ফল আমিও খাই।
এ নিয়ে মন খারাপের কিছু নাই সেটা আমিও জানি আর আপনে আম্র চাইতে ভালো জানেন যে কোরিয়া তে এর চাইতে হাজার গুন বড় কারন আছে মন খারাপ করার।

সুন্দর লেখা। আবেগ ছুঁয়ে গেল
ধন্যবাদ
কাঁঠাল সারাজীবনেও খাইনি, বলতে পারবো না ওটার কি স্বাদ। তবে পেয়ারা আমার প্রিয় ফল, খাইনি পাঁচ বছর।
তবে আপনার অবস্থার কন্ডিশন আর আমার অবস্থার কন্ডিশন এক।
বিদেশে যা ভালো খাই, তাই নি্যেই আফসোস হয়। মনে আহারে এটা যদি আমার মা-বাবাকে খাওয়াতে পারতাম! দেশে পয়সা দিয়েও ভালো জিনিষ পাওয়া যায় না। সব আপনার বর্ণিত তরমুজেভ মত।

ওরিড হবেন না, ওরিড হলে তাইলে দুঃখ বাড়বে কিন্তু।
ওরিড হবো না ।ওক্কে ওক্কে ওক্কে

ভাতিজা রাসেল আশরাফ, 'কাঁঠাল' বানানে 'চন্দ্রবিন্দু' দিতে হবে। নতুবা 'কাঁঠাল' হবে না! হাহাহা।
'কিন্তু আমার আম্মা কাঠালের একনিষ্ঠ ভক্ত।' সালাম আপনার আম্মাকে।
দিয়ে দিছি কাগু।
সালাম আপনার ভাবীর কাছে পাঠায় দিছি।
নরম একটু টক স্বাদের কাঁঠাল খাই, অন্যগুলা খাই না।
আমার নরম শক্ত কোনটাই খেতে ভালো লাগে না।

আপ্নে নতুন আসছেন? আমাদের মতো এক যুগ গেলে কেউ জিজ্ঞেসও করবে না আর মিথ্যেও বলতে হবে না।
এক যুগ কবে যে পার হবে??????
আর আপনি না বলে তুমি বললে ভালো হয়।
কোরিয়ানরা তো মাঙ্গু ফলডাই চিনেনা, তয় মাঙ্গু জুসটা আসলে জুশ..
তয় তরমুজ নিয়া টেমশম করতে হয়না, না? মান ওনের তরমুজ হৈলে ফাডাইয়া খাওয়া যায়, তাছাড়া ছোটো সাইযের বাঙ্গিও তো পাবেন, সেডি খান, মজাছে, খারাপ না----
মাঙ্গু জুসটা আসলে জুশ। কইছে তোমারে???? আমার কাছে এর ফ্লেভার আমের মনে হয় না।
তয় তরমুজ খাইতেছি জান ভইরা।আহা রে কি মিষ্টি।
বাংগীডাও খাইতে ভালো।
তয় রাজশাহীর পোলা তো তাই ল্যাংড়া,ক্ষিরসাপাত,গোপালভোগ ফজলি এর জন্য মন কান্দে।
বেশ মজা পাচ্ছিলাম, দিলেন তো মনটা খারাপ করে
আপনার আব্বা-আম্মাকে সালাম। দুজনেই দারুণ মানুষ।
কিসের সাথে কিসের তুলনা!!!!!!!!!!!
মন খারাপ কইরেন না। একসময় নিশ্চয়ই সব ঠিক হবে। দেশে আসলে ফল তো খেতেই পারবেন। আবগী লেখা।ভালো লাগলো।
তরমুজ !!! উদ্রাজী ভাইয়ের কথা মনে পড়লো ।
সুন্দর লেখা ।
দারুণ। আরেকটা ভাল লেখা পড়লাম।
সেই দিন বাজারে কাঁঠাল দেখলাম, কোথা হতে আনা জানি না। আধা আধি করে কাটা, $ ১১.৯৯/কেজি। দেখে মনে হলো সেই কাঁঠাল দিয়া ফুটবল খেলা যাবে, তারপরো ফাটবে না
২/৩ কোষ চলে , এর চাইতে বেশী না।
পেয়ারার দাম অনেক, হাতে ধরে নাড়াচাড়া করি মাঝে সাজেই, কেনা হয় না।
লিচুর দামও বেজায় অনেক। গনে গনে ১০/১২ টা কেনা হয় লিচুর মৌসুমে, তবে যতবারই কেনা হয়েছে দেশের মতো স্বাদ পাই নাই।
আমের সময়ে আম কেনা হয় সেইভাবে, দাম কোনো ব্যপারনা সে সময়। প্রায়শই ক্রেট ধরে কিনি। আম সবচাইতে প্রিয় ফল।
তরমুজও অনেক ভালো লাগে।
ফল অনেক কেনা হয়, মাজে সাজে এমন ফল কেনা হয় যা জীবনেও দেখিনাই। খাওয়ার পর মনে হয় শালার টাকাটা জলে গেলো
RUSSEL BHAI,KHUB I TOUCHY LAST PARA.PORE ONEK KOSTO HOCHHE.R APNAR MA JE FOL KHAWA CHERE DITO,TATE KONO SONDEHO I NAI. AMI TAI BOLI PROBASHI JIBON ONEK KOSTER,PORA SES KORE TARATARI CHOLE ASEN.
TOBE NISCOY OI DESHER ONEK FOL PAWA JAY, SE SOB KINTU KHETE VULBENNA.R DESHE BERATE ASBE SUMMER E.ALLAH APNAKE ESOB SOJO KORAR KHOMOTA DIK EI DOA THAKLO.
AMAR EKTA FRIEND GERMAN THAKE.THAKURGAON BARI.TAR BASA THEKE AIR POST ER MADHOME AAM PATHAY.KG HISEBE PAY KORTE HOY.ETA TRY KORA JAY.KI BOLEN?
কী খবর পাহারাদারসাব
? নতুন লেখা পাই না ক্যান?
জানিনা নুশেরা আপু কি হয়ছে?কিছুই করিনা ইদানিং।ল্যাব ধুমছে ফাকিঁ দেই।অবশ্য একটা কাজ করি সেটা হচ্ছে এবি পাহারা দেয়া।

জিলাপির নিউজ আমার পাতায় আছে।
darun
মন্তব্য করুন