পুরানো সেই দিনের কথা-৫
কিছুদিন আগে ইউনির ডরমিটরী ছেড়ে নতুন বাসাতে উঠেছি।বাসা থেকে পাক্কা উনিশ মিনিট হাটঁতে হয় ল্যাবে যাওয়ার জন্য।কিন্তু প্রতিদিনের এই হাঁটাটা আমি খুব উপভোগ করতেছি কিছুদিন ধরে।হাটঁতে হাটঁতে মনে পড়ে সেই স্কুলে যাওয়ার দিন গুলো।
আমি স্কুলে যেতাম হেটেঁ।মিনিট পচিশেক লাগতো হেটেঁ যেতে।কত কিছু করতাম এই হেটে যাওয়ার পথে।প্রতিদিন রাস্তার পাশের দোকান গুলোর নাম মুখস্ত করতাম।আব্বার অফিসের সামনের আখতার কাকার দোকান থেকে কলম আর বিস্কুটের প্যাকেট নিতাম প্রায়।স্কুলে যাওয়ার সময় একটা মেইল ট্রেন আসতো চাপাঁইনবাবগঞ্জ থেকে। সেই ট্রেনের নীচে পয়সা দিয়ে পয়সা চ্যাপ্টা করা ছিলো আমার প্রতিদিনের একটা কাজ।একদিন বড় বিপদে পড়ে ছিলাম আমার যেতে দেরী হয়ছিলো কিনা বা ট্রেন সেদিন কম লেইট করেছিলো কিনা জানি না দৌড়ায়ে পয়সা দিতে গিয়ে পড়ে গিয়েছিলাম।কোনমতে উঠে স্কুলে গেলাম কিন্তু কিছুক্ষন পর পা ব্যাথা শুরু হলো।শেষমেশ ব্যাথার চোটে টিকতে না পেরে টিফিনে বাসাতে চলে আসলাম।এসে আম্মার হাতে রাম ধোলাই খেলাম।
একবার স্কুলে এক ভাঙ্গা টেবিল ভাঙ্গার অপরাধে আমাদের চার বন্ধুর পঞ্চাশ টাকা করে জরিমানা করা হলো।বাসায় কি করে বলি এই নিয়ে মহা চিন্তায় পড়লাম।কারন আম্মা জানলে পিঠের ছাল তুলে দিবে আর আব্বা কে বললে পরবর্তী একশ্যান কি হবে বুঝতে পারছি না।শেষমেশ আব্বাকে খুলে বললাম ঘটনা।আব্বা শুনলেন দিয়ে পকেট থেকে পঞ্চাশ টাকা বের করে দিলেন আর বললেন স্কুলে বেশি দুষ্টামি না করার জন্য। কিন্তু কেন জানি সেই পঞ্চাশ টাকা স্কুলে জরিমানা হিসাবে দিতে হলো না।আমাকে আর পায় কে??স্কুলে যাওয়ার পথে পিঠা,কালাইয়ের রুটি মোড়ের দোকানের জিলাপী,স্কুলে অরেঞ্জ বেবী আইসক্রীম।কিন্তু এখন আফসুস হইয় সেই পঞ্চাশ টাকা আমি পুরা খরচ করতে পেরেছিলাম না।বাসায় বিশ টাকা ফেরত দিয়ে ছিলাম।
আরেকটু বড় হওয়ার পর স্কুলে যাওয়ার পথে স্টেশনে বসে বসে পেপার পড়তাম।আমাদের বাসার হকার হেলাল কাকা ঐ সময় পেপার গুছাতেন বিলি করার জন্য আর আমি সেই ফাকেঁ ভোরের কাগজ, আজকের কাগজ,ইনকিলাব,সংবাদে রিডিং দিয়ে দিতাম।বাসায় আরাম করে পড়তাম ইত্তেফাক।সিনেমার বিজ্ঞাপন গুলো কেটে জুতার প্যাকেট দিয়ে বাসাতে একটা সিনেমা হল বানাতাম।আমার ছোটটা ধারবিবরনী দিতো আর আমি সিনেমা চালাতাম।
স্কুলে যাওয়ার পথে একটা পোস্ট অফিস ছিলো প্রায় চিঠি পোস্ট করতাম আমার পত্র বন্ধুদের।একদিন এইরকম চিঠি পোস্ট করতে গিয়ে একটা চিঠি পেলাম স্কুলে গিয়ে সব বন্ধুরা খুলে পড়লাম।পড়ে দেখি ইউনি বন্ধ প্রেমিকা গেছে বাড়ি প্রেমিকের রাজশাহী শহরে দম বন্ধ হয়ে আসতেছে তাই তারা দুজন মিলে চাপাইঁনবাবগঞ্জের মহানন্দার ব্রীজের উপরে একটু বাতাস খেতে চায় এই আকুলতা জানিয়ে প্রেমিকার কাছে প্রেমিক একটা পত্র লিখেছেবে।আমরা ভাবলাম দাড়াও বাপধন বাতাস খাওয়াইতেছে। এইজন্য মেয়ের কাছে আলাদা একটা চিঠি আর মেয়ের বাবার কাছে মেয়ের প্রেমিকের চিঠিটা পাঠিয়ে দিলাম। এখন মাঝে মাঝে ভাবি সেই বেচারা সেইদিন মহানন্দার ব্রীজে সেই মেয়েটার জন্য কতক্ষন অপেক্ষা করেছিলো?মনে মনে হয়তো তার প্রেমিকারে অভিশাপ দিয়েছিলো?ইউনি খোলার পর কি তাদের সম্পর্ক টিকে ছিলো??
কি জানি? কিন্তু এত টুকু জানি সেই প্রেমিকের বদদোয়া লেগেছিলো আমার তা না হলে এতদিনে একটা প্রেম কেন করতে পারলাম না।কেন কেন কেন???
আমার স্কুলের একটা ছবি






বাহ কী সুন্দর স্মৃতি!
)
পঞ্চাশ টাকার অনিঃশেষ সঞ্চয়ের গল্প অনেকেরই বোধহয় আছে। তবে প্রেমিকযুগলের প্রতি বড় অন্যায় হয়ে গেছে ভ্রাত। কী আর করা, বিবাহোত্তর প্রেমের আশায় থাকো
এই আকাম ছাড়া আরেকটা আকাম করেছিলাম।
আমাদের পাশের বাসার এক বড় আপু ছিলো চেহারা মাশাল্লাহ ছিলো ভালোই।তার প্রেমে পরলো আব্বার কলিগের ছোট ভাই।আমারে একদিন একটা চিঠি দিয়ে বলে ভাতিজা এটা তোমার আপুরে দেয়া লাগবে।আমি বললাম কোন সমস্যা নাই।দিয়ে দিমু নে।বাসায় এসে সেই চিঠি আমাদের বাগানের এক পচাঁ কাঠের নীচে রেখে দিয়েছিলাম আর সেই চাচার কাছ থেকে কত দিন যে কত কিছু খাইছি।
প্রেম করতে পরলাম না...কেনু কেনু কেনু কইলেই কি আমরা বিশ্বাস করুম?আজব! আর বিশ্বাস যদি করি তাইলে তো বলবো আপনি পুরাই বুকটুস।
লেখাটা পড়তে গিয়ে ছোটবেলায় স্কুলে যাওয়ার কথা মনে পড়লো। আমরা ভাইবোনরা একসাথে যেতাম, ঝগড়া মারামারি, দুষ্টামি...কত কি ছিলো!
কি জানি হয়তো তাই।

রাসেল ভাইয়ের কমেন্ট যেমন মজার পোষ্টও তেমনি উমদা।
কি যে কন আরিফ ভাই??
আপনার মতো উমদা ছবি যদি তুলতে পারতাম।

মজার স্কুলবেলা।
আমার স্কুলে যাওয়াটা বিষের মত লাগত। তার উপর বাসা থেকে ছিন চার কি.মি হেটে স্কুলে যেতে হত। ফেরার সময় কমলাপুর স্টেশনের ভিতর দিয়ে রেললাইনের উপর দিয়া হাটতে হাটতে আসতাম। একবার বোধহয় পয়সা চ্যাপটা করেছিলাম।
ক্যান রায়হান ভাই??স্কুল বিষ ছিলো ক্যান??
স্কুলে মনয় বান্ধবী আছিলো না।
না বান্ধবীতে ছ্যাকা দিছিলো???

এখন যেমন সব্বাইরে ছুডো ভাই বানায়া ফেলে স্কুলেও মুনেলয় মাইয়াগো ছুডো বইন বানাইয়া ফেলছিল। আপসুস
ছুডু ভাই বানায় বইলা কি বইন বানায় নাকি? ঝানতাম না তো!
রায়হান ভাই দেখি ম্যালা আগে থেকেই মুরব্বী।

আপনিও দিলে দাগা দিলেন? বুঝছি আপনি কেন খোঁচান। কারণ রায়হান ভাই যেদিকে তাকায় আপনিও সেইদেকে তাকান তো তাই।
বুঝলাম না ম্যাডাম।যদি একটু উদহারণ সহ বুঝায় দিতেন।

খাইছে, বকলম সাবও দেখি পেচ্ছাপেচ্ছি করবার চায়।
করেন
লোকজন ১ বছর ধরে পেচ্ছাপেছি করে না।খ্রাপ হইয়া গেছে।
হ বিশেষ করে রায়হান ভাই মুরুব্বী হওয়ার পর থেকে।
অচিন্দা কেন মুরুব্বী- ঝাতি ঝান্তে চায়
উনি আজ মুখে কুলুপ আর হাতে পাথর বাধঁছে।উত্তর দিতো না আজকে।
ইশকুল তো মহা আনন্দের জায়গা ।
আপনার জন্য আফসোস!! ৫০ টাকাও খরচ করতে শিখেননাই ওই বয়সে । আমি হইলে নির্ঘাত ৫ টা মিমি কিনতাম! ব্যাস, ৫০ টাকা খতম ।
আর একটা জিনিস, আপনি কালাইয়ের রুটির কথা বেশ বলেন। এইটা খাইতে কি খুব মজা? কি দিয়া বানায়? কলাই ডাল দিয়া?
আসলে ঐ আমলে মিমি চকলেট কি তাই জানতাম না।
কালাইয়ের রুটি খেতে মজাই তো।যদিও আমি বেশি খেতে পারিনা চাপা ব্যাথা করে।এটা বানায় কালাইয়ের ডাল দিয়ে।হাতে তৈরী রুটি।
আপনার স্কুলের ছবিতো মাশাল্লা জোস আসছে। রাজধানীতে থাইকাও এমন শানদার অট্টালিকায় পড়ার সৌভাগ্য হয় নাই। জীবনে একটাও প্রেম হয় নাই! আফসুস। এক কাম করেন, এলেমদার কোন ফকির ধরেন...।
হুম
স্কুলের মাঠটা সবচেয়ে জোশিলা।এত বড় স্কুল মাঠ আমি দেখি নাই এখন পর্যন্ত।
এলেমদার ফকিরনী ধরবো ভাবছি।এক ঢিলে দুই পাখি মারবো।

স্কুলের কথা, স্কুলের বন্ধুদের কথা মনে পড়লে মনটা কেমন যেন করে । সব কিছু ঠিক মত মনে করতে পারিনা, আবার স্মৃতিগুলোকে দূরেও সরাতে পারিনা । মনের মধ্যে কেমন যেন সব এলোমেলো হয়ে যায় । এই দুনিয়া বড়ই আজব জায়গা । আর মন তার চেয়েও আজব ।
কথা ঠিক নাজমুল ভাই।স্কুলের অনেক বন্ধুর কথা মাঝে মাঝে খুব মনে হয়।
স্কুলটা সুন্দর। এমন স্কুলে পড়া এখন ভাগ্যের ব্যাপার!
আসলেই অনেক সুন্দর আমাদের স্কুলটা।
এই স্কুলের নাম কি? দারুণ সুন্দর একটা ক্যাম্পাস!
সিরোইল সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়।রাজশাহী।
বড় হইয়া আমি এই ইশকুলেই পড়মু...
পইড়েন।
বড় ভাইজানের কি বাও চোক্ষে সমস্যা।।

বিলাসী গল্পের ন্যাড়ার ২ ক্রোশ পথের কথা মনে পড়ল।
রাসেলের স্কুলের ফটু দেইখ্যাতো একদম আমার অমিতাভের মোহাব্বাতে মনে পড়ে গেলো। এরকম স্কুলে পড়লেই সেরকম ছাত্র হওয়া যায়।
ইয়ে সেদিন যে কোরিয়ান বান্ধবীর বাসায় থার্টি ফাষ্ট সেলিব্রেট করলা বললা, তিনি তোমার ইয়ে না?
দেখেন না এই জন্য এই বুইড়া বয়সেও ছাত্র হয়ছি আবার।
কোরিয়ান বান্ধবীর কথা আর কি কমু।বুললে তো আবার বুলবেন মামুর বুঠা বুলছে।

ছবি কি হেলিকপকপ থেকে তোলা নাকি? ভালৈছে।
আমরা বন্ধু ফ্লিকার গ্রুপেও দেখি চ্রম চ্রম ছবি দিসেন।
কাহিনী কি? আপ্নে কি ছুপা রুস্তম?
আমরা বন্ধুর ফ্লিকার গ্রুপ কোথায়? আমিও ফটু দিতাম চাই ইইইইইইই
এই যে
ক্লিকান
রাসেল ভাইএরটাতেই ক্লিকান, অসুবিধা নাই।
না না তাতাপু মীরেরটাতে ক্লিকান। সমস্যা নাই।
দুইটাতেই ক্লিকাইলাম, আমারো সমস্যা নাই
ফ্লিকারে তানবীরার দেওয়া ছবি দেখেছি ।
স্কুলের ছবিটা আমাদের এক বড় ভাই তুলছে।আমি ফেবু থেকে কপি মারছি।
শরম দাও ক্যানরে ভাই।হাতের লিখা না হয় আমার খারাপ।
কিসের কাহিনী জানতে চাও??
কাহিনী হৈল, ছবিগুলা কি আপ্নার তোলার ক্ষমতাবলে সুন্দর হৈসে, নাকি ক্যমেরার গুণে?
ছবি তুলছি আমি ক্যামেরাও আমার।তাইলে এবার বুঝে নাও/

বাহ্ ভাইএর তো দেহি দিন ফিরসে। খুশি হৈলাম। আন্তরিক শুভেচ্ছাও জানাইলাম।

দিন আবার কই গেছিলো???
হ, সেইটাও জরুরি কথা। দিন যাইবো কৈ?
যাউক্গা, দিন-কাল ভালো কাটুক আজীবন।
আমি গেলাম দাওয়াত খেতে আরি এরা কই কই ক্লিকাইলো!
মীর, রাসেল আর তাতাপুর সাথে আর কুনু কথা নাই।
হ, লিংকুটা আনতে আপনের পোস্টেই যাওয়া লাগছিলো। আপ্নারে কৃতজ্ঞতা না জানানোটা ঠিক হয় নাই। রাসেল ভাইরে ধরেন, আগে লিংক দিসে।
জয়ি রাগ করলে ক্যামনে কি? ঠিকাছে জয়ির লিঙ্কেও ক্লিকাবো
কুথায় লিংক, কিসের লিংক?
এই ফ্যাতকান্দুনীর অভ্যাস কি আপনার ছুডু বেলা থেকেই।।

আপনে বিড়ি খাইয়া কান দিয়ে ধুমা বাইর করার বুদ্ধি কবে থেকে শিখছেন??

বদ পুলা। বিড়ি আমি খাইনাই কুনুদিন।ভালু পাই না।
স্মৃতিচারণ ভাল্লাগছে।
আমি স্কুল জীবনে আম্মার ব্যাগ থেইকা ২/১ টাকা কৈরা প্রায়ই চুরি করতাম। অবশ্য এইটা করতাম দুপু্রে স্কুলে কিছু খাওয়ার জন্যই। দুপুরের দিকে ব্যাপক ক্ষিদা লাগতো।
আম্মার ব্যাগের দিকে তাকাইলে কেমনে জানি টের পাইতো।আর আব্বার পকেট থেকে একটাকা/দুইটাকা নিলে বুঝতো কিন্তু পাচঁ/দশটাকা নিলে বুঝতো না।
হাইস্কুলে উঠে মাঝে মাঝে একবারে দশটাকা নিতাম সকালে।আর রাতে বলতাম আজ আমি আপনার পকেট থেকে টাকা নিছি।
দুই চোর। বড় হয়ে বউ এর ব্যাগ থেকেও টাকা নিবে মনয়।
বউয়ের ব্যাগতো আমার ব্যাঙ্কের একাউন্ট।আমি যখন ইচ্ছা তখন টাকা তুলুম এতে চুরে কি হয়লো??

টুটুল's picture
টুটুল | জানুয়ারী ৪, ২০১১ - ৪:০২ অপরাহ্ন
এই পোস্টে সব চাইতে সুন্দর মন্তব্য । টুটুলকে বিপ্লব ।
স্মৃতিচারণ স্মৃতিতে রাখলাম।
ধন্যবাদ ভাইজান।
যখন অল্প সময়ের জন্য নাখালপাড়া হোসেন আলী স্কুলে পড়তাম তখন, ট্রেন লাইনে পয়শা রাখা ছিল একটা প্রিয় কাজ। টিফিনের পয়শা কতদিন যে এভাবে নষ্ট করেছি। সেই কথা আজ মনে পড়লো।
অর্থ ও বানিজ্য একই সাথে - স্বাভাবিক !
নষ্ট হবে কেন??ঐ সময় এটা নিয়ে যে আনন্দ পাওয়া গেছে এর দাম ঐ পয়সার চাইতে অনেক বেশী।
পয়সা নষ্ট হওয়ার ভয়ে প্রতিনিয়ত কত আনন্দ যে বিসর্জন দিয়ে চলেছি । আমরা সব কিছুই পয়সা দিয়ে কিনি, শুধু আনন্দটা পেতে চাই বিনা পয়সায় ।
যতার্থই বলেছেন রাসেল ভাই।
মানুষ টাকার পেছনে ছুটতে ছুটতে এক সময় টাকা কামানোর উপলক্ষ্যটাই ভুলে যায়।
মন্তব্য করুন