চলছে গাড়ি যাত্রাবাড়ি-৪
১
কলেজ - ইউনি তে পড়ার সময় সকালে উঠে ক্লাস দুপুরে বাসায় এসে ভাতঘুম বিকালে উপশহরের রুপালী ব্যাংকের সামনে আড্ডা বা ইউনিতে রুহুল ভাইয়ের চায়ের দোকানে আড্ডা দিয়ে রাতে বাসায় এসে একটু ক-খ-গ-ঘ পড়ে ভাত খেয়ে টিভি দেখে ঘুম।আর এখন… সকালে উঠে ল্যাবে কামলা দিতে যাওয়া রাতে এসে ঘুম।একই রুটিন প্রতিদিন।অবশ্য মাঝে মাঝে উপশহরের সেই আড্ডার মতো আড্ডা দেয়া হয় স্কাইপে তিন বন্ধু তিন দেশে বসে।আড্ডার বিষয় বস্তু সেই আগের মতোই কোন ঠিক নাই একেক সময় একেক রকম কখনো হাসিনা খালেদা,কখনো ইউনুস আবার কখনো ব্লগের বিষয় বস্তু।কি অদ্ভুত!!! জীবন থেমে থাকে না।চলে তার নিজের গতিতে।
২
স্কুলে পড়ার সময় অনেক গুলো পত্র বন্ধু ছিলো সাপ্তাহে কত চিঠি লিখা হতো তাদের।সেই চিঠি জমায় রাখতাম একটা ট্র্যাংকে।একবার আব্বা সব গুলো চিঠি পুড়িয় ফেললো বাসা জংগল হয়ে আছে সেই অপরাধে।আরেকটা কাজ করতাম বন্ধুদের মাঝে ঝগড়া হলে আমরা চিঠি লিখে মিমাংসা করতাম।কিছু চিঠি চালাচালির পর আবার সেই পুরাতন অবস্থায় ফিরে যেতাম।আবার একদিন ঝগড়া আবার চিঠি চালাচালি…
আর এখন ফেসবুক বা ব্লগের কল্যানে কত তাড়াতাড়ি বন্ধু হওয়া যায় আবার কত তাড়াতাড়ি ঝগড়া করে বন্ধুতালিকা থেকে বাদ হয়ে যায়।এক ক্লিকে বন্ধু আবার এক ক্লিকে শত্রু। কিন্তু যাদের কে আমি বন্ধু ভাবি তাদেরকে এখনো মেইল দিয়ে স্যরি বলি।কিন্তু অপরপ্রান্ত থেকে কোন উত্তর আসে না তখন নিজেকে খুব ছোট মনে হয়।নিজে থেকে কাছে যেতে চাই কিন্তু আগের মতো ঘনিষ্টতা হয়ে উঠে না বা আগের মতো সম্পর্ক মধুর হয় না।হয়তো এটাও জীবনের নিয়ম অথবা ডিজিটালের আশির্বাদ।
৩
একটা কনফারেন্সে জেজু আইল্যান্ড গেছিলাম গত ২৬ তারিখ। জেজু নিউ সেভেন নেচার ওয়ান্ডার্সে এখন ২য় পজিশনে আছে।কিন্তু আমি জেজু দেখে হতাশ!! দিনকে দিনকে কেমন জানি হয়ে যাচ্ছি।আগে পাকশীর হার্ডিঞ্জ ব্রীজ দেখলে গায়ের সব লোম দাঁড়িয়ে যেতো আর এখন মনে হয় দেখলে ভাববো এই কয়েক মণ লোহা দেখে এতো পুলকিত বোধ করার কি আছে।।এই চারদিনে শুধুই মনে হয়ছে আমি একটা আইল্যান্ডে নির্বাসিত হয়ছি কবে যাবো এখান থেকে।আর এত এত পর্যটক ভীড় করছে তবুও এরা মরিয়া হয়ে আছে নিউ সেভেন নেচার ওয়ান্ডার্সে একনম্বর পজিশনে যেতে।বিমানে আহবান জানাচ্ছে ভোট দেয়ার জন্য টিভিতে প্রচার চালাচ্ছে।কাল টিভিতে দেখলাম কোন সেলিব্রেটিকে ব্র্যান্ড এম্বাসাডর নিয়োগ দিসে এর প্রচারণার জন্য।আর আমাদের দেশের সুন্দরবন দিনকে দিন পিছিয়ে পড়ছে।আমার ভিয়েতনামীজ ল্যাবমেট প্রতিদিন নিয়ম করে হা-লং বেকে ভোট দেয় আর আমি সেই কবে একটা ভোট দিয়ে ক্লান্ত হয়ে গেছি।আমরা আসলেই অনেক ক্লান্ত জাতি নিজেকে দিয়েই সেটা বুঝি।আসুন সুন্দরবন কে ভোট দেই।
৪
যারা জেজুর ছবি নাই বলে পোস্টে মাইনাস দিতে চান তারা এখানে ক্লিক দিয়ে ছবি দেখে মাইনাস দিতে পারেন





হুমমমমম.....ট্রাংকভর্তি প্রেমপত্র থাকলে আংকেল তো পুড়ায়ে ফেলবেই..... স্বাভাবিক
কেমন জানি হয়ে যাচ্ছি আমি, তুমি আমরা। জাতী হিসাবেও কেমন ঝিমাচ্ছি...
একমত মেসবাহ ভাই।
ব্লগ নিয়েও আড্ডা হয়!! কি কি গল্প হয় শুনি
তা বুলা যাবে না।বুললে তো আবার বুলবেহেনি মামুর বোঠা বুলছে।

এতো অল্প বয়সে ক্লান্ত হলে চলবে? জীবনতো শুরুই হয়নি এখনো ভাই।
ডিজিটাল বন্ধু, ফেসবুক এগুলো বোগাস। ফেসবুক একটা ভ্রান্ত ধারমা
ব্লগের কার নামে কি কও জানতে চাই
কী কন এই সব? জীবন শুরু হয়নি।কব্বরে এক পা চলে গেছে।
তাইলে আপনি কি?
ব্লগের কার নামে কি কই তা বুলা যাবে না।

আমিও বোগাস
আমি তো পুরাই বোগাস।
কিন্তু অপরপ্রান্ত থেকে কোন উত্তর আসে না তখন নিজেকে খুব ছোট মনে হয়
কেউ অভদ্র হলে আপনার নিজেরে ক্যান ছোটো মনে হবে !
আড্ডা মিস করি
কথা ঠিক কবি আপা(সবাই কয় তাই আমিও কইলাম
)
হ্যাসচেন কেন গো মিয়া ভাই।

জেজু ভাল্লাগেনাই, দেশে আসেন, পদ্মার চরে গিয়ে মনে হবে- এমন সুন্দর জায়গা মহাবিশ্বে নাই। পদ্মার চর একটা প্রতীক, সেই প্রতীকের সঙ্গে 'আমার' 'আমাদের' অনুভূতিগুলো জড়িয়ে আছে। বিদেশে গেলে হোমসিক মানুষগুলো এই সমস্যায় ভোগে। আপনার জন্য বিদেশ না। পড়াশোনা শেষ করে দেশে চলে আসেন।
এইটা যদি আগে বুঝতাম।

যামুগা দেশে গিয়া ফুলকপির চাষ করুম।
এমনতর ক্লান্তি থেকে ভাল হতে হয় একটানে। আজকেই মনে করুন কালকে থেকে আবার আগের মত হয়ে যাব। তারপর কালকে থেকেই ক্লান্তি দুর করে নতুন ষ্টাইলে জীবন শুরু করে দিন।
আমি বহুদিন ধরে এই ফর্মুলা ট্রাই করছি। অবশ্য এখনও এটা কাজে দেয় নি।
এই ফর্মুলা আমিও ট্রাই করি কিন্তু কাজ হয় না।আমার মনে হয় ফর্মুলার মধ্যে ভেজাল আছে।

যাত্রাবাড়ির গাড়ি তাইলে চলছে আবার! খুশী হইলাম। চালাইতে থাকেন। প্রেমপত্র কিরম লিখতেন ২/ ১ টা পোষ্ট দেন, পড়ে দেখি।
প্রেমপত্র কিরম লিখতেন ২/ ৩ টা পোষ্ট দেন, পড়ে দেখি
মন্তব্য করুন