চলছে গাড়ি যাত্রাবাড়ি-৫
১.
আর একটা সেমিস্টার শেষ করলাম। দেখতে দেখতে তিনটা সেমিস্টার শেষ করে ফেললাম। সময় অনেক দ্রুত যায় কিন্তু প্রথমদিকে মনে হতো যেতেই চাইতো না। প্রথম সেমিস্টারে আমাকে মেইন ক্যাম্পাসে গিয়ে ক্লাস করতে হতো। আমার এখান থেকে ঘন্টা খানেকের পথ বাসে তারপর দৌড়ায় পাহাড়ে উঠে ক্লাসরুমে যেতে যেতে হাঁপিয়ে যেতাম আমার সাথের রাজেশ আমাকে দেখে হাসতো। ক্লাসে গিয়ে দেখতাম প্রফেসর আমাদের জন্য বসে আছেন আমরা গেলেই ক্লাস শুরু করতেন। অপটিকস পড়াতেন যার একবর্নও আমি বুঝতাম না এমনিতেই ফিজিক্স পড়া ছেড়েছি ইন্টারমিডিয়েটের পর তারপরে মা মাটি দেশের জন্য সেই সময় সারাদিন বালিশ ভিজাতাম।
প্রফেসরের ক্লাসে দেখতাম কেও ঘুমাচ্ছে,কেও ল্যাপটপে নেট ব্রাউজ করছে।আর প্রফেসর তার মতো করে ক্লাস নিয়ে চলছে।সে এক আজব অভিজ্ঞতা!! মিডটার্ম হলো দিলাম পরীক্ষা চল্লিশে ১৩ পেলাম। ফাইনাল পরীক্ষা দিলাম সেই ১৩ মার্কের উত্তর দিলাম।রাজেশ জানালো সে নাকি প্রফেসরকে মেইল দিসে যেন তার গ্রেডটা দয়া করে কন্সিডার করে। আমাকেও বুদ্ধি দিলো তুমিও মেইল দাও।দিলাম মেইল প্রফেসর দেখি সাথে সাথে মেইলের রিপ্লাই দিয়ে জানালো গ্রেড নিয়ে টেনশন করতে হবে না।ভ্যাকেশন উপভোগ করো।রেজাল্ট হলো দেখি ঐ কোর্সে A পেয়েছি রেজাল্ট হওয়ার পর প্রফেসর মেইল দিয়ে জানতে চেয়েছে আমি এই গ্রেডে সন্তুষ্ট কিনা? আমি তো হতবাক!! শেষমেশ বিবেকের তাড়নায় মেইল দিয়ে জানায়লাম আমি সন্তুষ্ট।
ইদানিং প্রফেসর আমাকে দিয়ে খাতা দেখায়।প্রথমবার খাতা দেখে দেয়ার পরেরদিন আমার সাথে সে কি চোটপাট আমি নাকি সিকোয়েন্স অনুযায়ী নাম্বার দিতে পারিনি।খাতার মধ্যে হাবিজাবি ইকুয়েশন লিখে রেখেছে প্লেন আকঁতে হবে একটা একেঁছে আরেকটা তাদেরকেও নাকি নাম্বার দিতে হবে।মনে মনে বললাম আহারে কি দয়ালু শিক্ষক!! আর আমরা ইন্ড্রাস্টিয়াল কেমেস্ট্রী পরীক্ষার দিন লিখতে লিখতে হাত ব্যাথা হয়ে যেতো যে কারখানা জীবনে দেখি নাই সেই কারখানাতে প্রোডাক্ট বানাতে হতো।কি বানাই নি।চিনি থেকে শ্যাম্পু, সিমেন্ট থেকে সার ইনশাল্লাহ কোনটাই বাদ দেই নাই।কিন্তু নাম্বার পেতাম টেনেটুনে ৭৫ এ ৪০/৪২।
২.
প্রথম সেমিস্টারে পরীক্ষায় নকল নিয়ে অনেক জ্ঞানের কথা শুনেছিলাম কোরিয়ানরা কপি করে না।তাই তক্কে তক্কে ছিলাম কোনদিন সুযোগ পেলে সেটা প্রমান করবো।কপালে মিলেও গেলো সেদিন পরীক্ষায় গার্ড দিতে গিয়ে।একজনের নকল ধরলাম।পরে খাতার সাথে স্ট্যাপ্লার করে প্রফেসরের কাছে জমা দিলাম আর বললাম ‘’আমারো ধারনা ছিলো কোরিয়ান স্টুডেন্টরা কপি করে না কিন্তু আজ ভুলটা ভেঙ্গে গেলো’’। প্রফেসর উত্তরে বললো স্টুডেন্টদের নেচার নাকি সবদেশেই একরকম।
৩.
কাল নাজভাবীর ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে জানতে পারলাম আমাদের টুটূলভাই অসুস্থ্য।রাতে ফোন দিলাম ভাবী দেখলাম মোটামুটি অভিযোগের বন্যা বইয়ে দিলো ফোনের ওপাশ থেকে। কোন কথা শুনে না,হ্যান ত্যান কত কিছু। আসলেই খুব ভালো লাগছিলো কথাগুলো শুনতে। টুটুল ভাইয়ের কি কপাল!!! এতো কেয়ারিং একটা বউ পাইছে।আল্লাহ জানে আমাদের কপালে কি আছে?? দোয়া করি টুটূল ভাই খুব তাড়াতাড়ি সুস্থ্য হয়ে উঠুক।
এই লেখাটি মীরের জন্য উৎসর্গীত।মীর যেখানেই থাকো প্লিজ সাড়া দাও আমরা তোমার উত্তরের অপেক্ষায় আছি।





১. ইরাম শিক্ষক জীবনে যদি পাইতাম


২. সব শিয়ালের এক রা
৩. হ, তাড়াতাড়ি সুস্থ হৈয়া উঠুক আমগো টুটুল মিয়া
হ সেটাই সব হুক্কা হুয়া।।

ভাল লাগলো। টুটুল ভাই তাড়াতাড়ি সুস্থ্য হয়ে উঠুন এই কামন করি। আসলেই মীর কোথায় ? অনেক দিন ধরে তিনি ব্লগে নাই। কিন্তু কেন? আমি ব্লগে নিয়মিত না এটা জানি সেই আমি ও টের পাচ্ছি মীর নাই। মীর আপনি অতীসত্ত্বর ব্লগে চলে আসুন।
মীর মনে হয় কিডন্যাপ হৈছে
মীরের কিডন্যাপের সাথে ফিরোজ মনে হয় জড়িত।ওরে ডিজিএফআইয়ের কাছে দেয়া লাগবে।
থ্যাঙ্কু রুনাপা।
কোরিয়ান বান্ধবীদের(হাফ প্যান্ট পড়া
) নিয়া কিছু লেইখো
লিখুম নে একদিন।

টুটুল ভাইর সুস্থতা কামনা করি............ মীর কই গেল! আজিব!!
একটু মাইকিং করেন লীনাদি।

নাজ এখন নাকি ঋহানের খিচুড়ী টুটুলকে খাওয়াচ্ছে। আর ঋহান নাকি টুলটুল চোখে তাকিয়ে খিক খিক করে হাসতেছে।
আহারে টুটুল ভাইয়ের কোপাল।
(
(
টুটুল ভাইয়ের সুস্থতা কামনা করছি। মীর ভাইকে একটি জাদু দিলাম, খুব তাড়াতাড়ি চলে আসবে ইনশাল্লাহ
্মীররে তাড়াতাড়ি হাজির করেন নাইলে কিন্তু আপনার খবর আছে।

এমন প্রফেসর যদি পাইতাম
ঋহানের নতুন ছবি নিয়ে নাজ আপুও অনেকদিন আসেন না ব্লগে।
মীর ভাইয়ের জন্য পেপারে নিখোঁজ সংবাদ দেয়া হোক। তাহলে উনি হয়ত জানবেন সবাই ওনারে খুঁজতেছে
এই টাইপের প্রফেসরেরও অনেক যন্ত্রনা আছে সেইগুলা কমু আরেকদিন।
নাজভাবী ব্যস্ত তার ঋহান আর ঋহানের বাপরে নিয়ে।
মীরের জন্য আসলেই একটা নিখোঁজ সংবাদ দেয়া হোক।
কোরিয়ান বান্ধবীদের ফুটুক দেন। আর মীররেও আনেন।
বান্ধবীর ফটো ভরা মজলিশে দেয়া যাবে না।

মীররে আমি কই থেকে আনুম।
অফট পিকঃ আমাকে আবার প্রমোশন দিলেন ক্যান??
বাট কিন্তু টুটুল ভাইয়ের হইছে কি????
টুটুল ভাইয়ের ঠ্যাং ভাংছে।

১

এরকম teacher চাই-
অলিতে গলিতে নইলে চলবে সংগ্রাম,ছাত্র জনতার।
২
হুহ...কপি করে না!!! bravo,bro...এই না হইলে বাঙালি??
৩
ভাবীরা ঐ রকমই হয়-ভাইয়ারা অযথাই বুঝতে চায় না- দেখা যাবে এরকম একজনই আপনি পেলেন কিন্তু আপনার মনে হবে ঠিক নাই। (আফসোস!!)
৩।আমি এইরকম একজনই চাই।

মন্তব্য করুন