আধ পাকা প্রেম- ট্র্যাজিক কমেডি টাইপ আরকি
..রুপার সাথে দেখা করতে যাবে ভাবলেই চিরজীবন ক্যাজুয়াল টিপুও একটু সময় নিয়ে নেয় আয়নার সামনে। ঠিক এইরকমই টিপিকাল, টিপু আর রুপার কাহিনী।
টিপুদের গ্রুপের অনেকের প্রেম হৈলো সেই ক্যাম্পাসে থাকতেই। তিনজন ইতিমধ্যে বিয়েও করে ফেলছে।
একজন মেয়ে গ্রুপ মেট, দুইজন ছেলে গ্রুপ মেট। সবারই আলাদা আলাদা স্পাউসের সাথে কিন্তু।
কিন্তু টিপু সবসময়ই বৈলা আসছে,
"প্রেম হৈলো একটা খাঁদের মত। বেশি উৎসাহীরা কাছে গিয়ে ঝাঁপাইয়া পরে। ডরপুকরা দূর থেইকা ভাব নেয়, "আমি এইসব প্রেম-ট্রেম করিনা"। আর যারা সত্যিকারের স্মার্ট, তারা আমার মত, খাদের কিনারে গিয়া উঁকিঝুঁকি মাইরা দেইখা আবার চৈলা আসে........হা হা হা"
রুপা :
...টিপু গ্রুপের সবচেয়ে প্রগতিশীল বান্ধবী হৈলো সাবিনা। এতটাই প্রগতিশীল যে, তার চেহারা সুন্দর হবার কারনে গ্রুপের বাইরে থেইকা তার জন্য যেই অফার গুলা আসতো, সেইগুলা নিয়া হাসাহাসি করতো গ্রুপের পোলাপাইন- টিপু, হারুন, জনি, তন্ময়, প্রীতি এমনকি সাবিনা নিজেও।
কিন্তু এতকিছুর মাঝেও পোলাপাইন কেনো জানি টিপুর সাথে সাবিনারে মিলাইয়া মাঝে মাঝেই রসিকতা করতো। জমানা বদলাইছে, এই রসিকতায় মজা পাইতো সাবিনা আর বিব্রত হৈতো টিপু।
একদিন ঠিক হৈলো, বেড়াইতে যাবে সবাই, কানিশাইল থেইকা নৌ ভ্রমন..সাবকিছু ঠিকঠাক করা হৈতাছে, এমন সময়
: আমার এক বান্ধবীরে নিয়া আসতে পারি, নৌভ্রমনে?
জানতে চাইলো সাবিনা।
:নিয়াসো নিয়াসো ...অত্যাধিক মাত্রায় উৎসাহী হৈয়া জানায় টিপু আর হারুন।
প্রেন না করলেও, বা সাবিনার সাথে জড়ানোতে বিব্রত ভাব করলেও(নাকি অভিনয়??) মেয়েদের ব্যাপারে বরাবরই উৎসাহী ছিলো টিপু । আর হারুনের উৎসাহ নিয়া কেউ টেনশন নেয়না, মূলত অন্যের টাকায় খাওয়া ছাড়া কোনো কিছুতে তার সত্যিকারের উৎসাহ থাকতে পারে, সেইটা কেউ বিশ্বাস করেনা।
নৌভ্রমনের দিন রুপা আসলো, সাবিনার কলেজ জীবনের বান্ধবী। এখন মেডিকেল ছাত্রী। প্রথম দর্শনেই সবাইরে মুগ্ধ করছিলো গ্রুপের। এমনকি গার্লফ্রেন্ড থাকা জনিও কেমন দূর্বল বোধ করতে ছিলো।
টিপু ভাবে, কি এমন আহামরী সৌন্দর্য্য ছিলো, যে সবাই আবেশিত হৈছিলো?
নিশ্চই তার হাসিটা, চিন্তা কৈরা বাইর করলো টিপু।
হারুনের সাথেই বেশি দহরম মহরম হৈছিলো শুরুতে, যদিও পরে চান্স মোহাম্মদ খ্যাত তন্ময় রে প্রায়ই শুনা যাইতো মেডিকেল হোস্টেলে গিয়া কল দিতো রুপারে।
কোনো মেয়েরে নিয়াই এতবেশি ভাবেনাই কখনো টিপু।
এরপর কতবার তাদের আড্ডায় একসাথে সময় পার করছে, অনেকবার...
তন্ময় অপর পক্ষের উৎসাহ না পাইয়া ধীরে ধীরে রুপা'র এক বান্ধবীর দিকে মনোযোগ দেয়া শুরু করছে..
রুপা গান গাইয়া মুগ্ধ করছে সবাইরে, টিপুরে দিওয়ানা করছে..
সাবিনার কাছে রুপা টিপুর দুষ্টামি'র চরম মাত্রা নিয়া হাসাহাসি করছে, টিপুর ছেলেমেয়ে বাছ বিচার না কৈরা রসিকতা করার প্রবনতায় ভালো পাইছে...
তারপর, সুখের অসুখ ফুরাইছে, ক্যাম্পাস লাইফ শেষ হৈয়া গেছে সবার...
একটি রোমান্টিক গল্প:
..মুখোমুখি বসিবার বনলতা সেন।
বনলতা আর জীবনানন্দ নিশ্চই চা খাবার জন্য মুখোমুখি বসে ছিলোনা । তাদের সম্পর্কটা আসলে কি, ঠিক নিশ্চিৎ নয় টিপু। এইতো সামনেই বসে চা খাচ্ছে রুপা। তার কাছে সময় চাইতেই আসতে রাজি হলো। বেশ অনেক দিন থেকেই ওরা অনানুষ্ঠানিক ভাবে একসাথে ঘুরে বেড়াচ্ছে মাঝে মাঝেই। তবু ভয় কাটে না টিপুর।
:চলো, টিপু, আমরা আগের মত একটা আড্ডা এ্যরেঞ্জ করি। পুরানোরা সবাই একসাথে..
টিপুর ভয় হয়। এত কম চেনে সে রুপাকে। নিজের ভেতরের ভালোবাসা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই তার, জানে, তার ভেতরে পটানের স্মার্টনেস টা না থাকলেও সে রিপালসিভ মানুষ না।
তবু, পুরানোদের মাঝে কেমন করে নিয়ে যাবে সে?
অন্য কারো সাম্নেই নিতে ভয় পায় টিপু, রুপাকে। মনে হয় আগলে রাখবে, অন্য যারাই পছন্দ করতে পারে রুপাকে ,তাদের হাত থেকে।
আর কেউ রুপাকে চাইলে রুপা যদি রাজী হয়ে যায়..জানে না টিপু, একদম ভরষা পায়না..
:হ্যা, আড্ডা তো দেয়াই যায় একদিন।
উত্তর দিতে দিতেই ভাবতে থাকে টিপু, কি করে ম্যানেজ করা যায়।নাহয় আরো কিছুদিন যাক, টিপু নিশ্চিৎ হয়ে নিক, তাদের মাঝের সম্পর্কটা ভালোবাসাই, তারপর নাহয় সবার মাঝেই আড্ডা হবে।
:কিন্তু সবাই এখন চাকরী-কাজ নিয়ে ব্যাস্ততো, তাই সময় ম্যানেজ করাটা ঝামেলা হয়ে যাবে মনে হয়। নীচু স্বরে জানায় টিপু।
:চাকরী- কাজ নিয়ে তো আমরাও ব্যাস্ত, আমরা যখন আড্ডা দিতে পারছি, ওরাও পারবে নিশ্চই.....
কি এক কারনে ঠোঁটের কোণে মুচকি হাসি লেগে থাকে রুপার, হয়তো টিপু'র ভয়টা উপোভোগ করে....
:তুমি বরং তন্ময়কে ফোন করে বলো, ঐ তো সব আড্ডা-গ্যাঞ্জাম আয়োজন করতো..
এ্য?? তন্ময়ের কথা বললো কেনো রুপা? ভাবতে ভালো লাগেনা টিপুর। এককালে তাদের একটু কাছাকাছি থাকাটা এখন মনে পড়ে টিপুর। তাহলে কি?..
:হুম, আমি ফোন করে দেবো, সবাইকে হয়তো পাওয়া যাবেনা, সাবিনা তো দেশে নেই, আর যারা আছে তারা সবাই আসতে পারে কিনা বলতে পারছিনা। অনিচ্ছার ভাবটা আলগোছে লুকিয়ে নেয় টিপু।
এই শহরে আরো একবার দেখা হয়ে যাবে রুপার সাথে, অতটুকু আশা কি করেনি টিপু? আর দ্বিতীয়বার দেখার পর টিপু বুঝতে পারে, সেও বোকাদের মত প্রেমের খাঁদে ঝাপ দিতে চায়, শুধু কিনার দিয়ে ঘুরে আসতে আর ভালো লাগবে না হয়তো..তার চেয়ে বরং রুপা পাশে থাকলেই ভালো লাগবে...
সেদিন রাস্তা পার হবার সময় হাত ধরায় কিংবা অনেক্ষন মুখোমুখি বসে গল্প করার সময় রুপার চোখের ভেতর তাকানোয়, যেই আঁকুতিটা টের পায় টিপু, মনে ভাবে এমন টিনেজারের মত নেশা কেনো?
এখন শুধু জানে টিপু, রুপাকে সে ভালোবাসতে চায়, তার চেয়েও এখন বেশি চায়, রুপা তাকে ভালোবাসুক, কিংবা ভালোবাসে কিনা, সেইটা নিশ্চিৎ হোক...
এই গল্পটা আসলে আমার গল্প:
উত্তরা থেকে মিরপুর ১০ নম্বরে আসতে এই শুক্রবারেও দেড়টা ঘন্টা লাগলো, তারপর সেইখান থেইকা আবার সাড়ে এগার । শালার বন্ধু বান্ধব থাকে সব মেরু অঞ্চলে, নিজে থাকি উত্তরা, কেউ আবার মিরপুরে কেউ ম্যারাদিয়া। দুনিয়াডাই পুরা ফাউল। যাই হউক, আইজকার আড্ডা সফল হৈবো, যদি ডার্লিং আড্ডায় যোগ দেয় (আমার আবার পুরান-নতুন সব বান্ধুবীরেই ডার্লিং ডাকার অভ্যাস কিনা--অমুক ডার্লিং, তমুক ডার্লিং....ইত্যাদি...)
যতক্ষনে আমি আর হারুন, জনির ড্রয়িং রুমে বৈসা "স্মৃতি তুমি বেদুনা" খেলাটা খেলতাছি ততক্ষনে জনি গোসল সাইরা নিতাছে। ভাগ্যিস, ওর বৌয়ের অফিস শুক্রবারে, ছুটি শনি-রবিবারে। এম্নিতে আমি বন্ধুর বৌদের শুধু মাত্র নিরিবিলিতে গল্প করার সময় হালকা পছন্দ করলেও করতে পারি, কিন্তু যখন তারা বন্ধুদর আড্ডা ভাইঙ্গা দিতে চায়, তখন .... থাক...
কলিংবেলের শব্দে গল্পে বাধা পড়ে, জনি চুল মুছতে মুছতে আইসা দরজা খুলে...
ও হরি, হরি..টিপুর পিছনে ঐটা শাড়ি পড়া কে? আহা, দিলে মোচড় দিয়া উঠলো..
বিভিন্ন হাসির মাঝে আমার সবচেয়ে কিউট হাসিটা নিয়া আগইয়া গেলাম..ইদানীং দেখছি, আমার স্মার্ট কোনাইচ্চা হাসিটা, সমবয়সী বা দুয়েক বছরের ছোটো দের মাঝে কোনো এফেক্ট ফেলতে পারেনা, কিন্তু কিউট হাসি বা অসহায় ভাবটা দিয়া মেয়েদের মন জয় করাটা সুজাই হয়..।বাই দ্যা ওয়ে, এইগুলা শুধুই এক্সপেরিমেন্টাল, আমি যে মেয়েদের পিছে ঘুইরা বিভিন্ন হাসি দিয়া বেড়াই, তা কিন্তু না, আমার কোনো আলুর দোষ নাই।
:দরজা খোলার সময় গেলোনা, এখন চান্স মোহাম্মদই দেখি সবার আগে যায়, এইডা আর মানুষ হৈলৈ না।
আমি হারুনের টিটকারিরে পাত্তা না দিয়া আগাইয়া গেলাম। টিপুর সাথে হাত মিলাইয়া কুলাকুলি কৈরা রুপার দিকে হাত বাড়াইয়া দিলাম।
:হ্যালো রুপা..
:হ্যালো তন্ময়।
:তোমারে আজকে অনেক সুন্দর লাগতাছে (এই প্রাচীনতম টেকনিকটার কোনো বিকল্প নাই)....আমি আগে কখনো তোমারে শাড়ী পড়া অবস্থায় দেখিনাই..
মিষ্টি হাইসা ধন্যবাদ জানায় রুপা, কি যে ভালো লাগে!!!
এরপর শুরু হৈলো জম্পেশ আড্ডা, এইগুলা নিশ্চই আর বলা লাগবে না?
রুপা আছে মাঠে, তাই আমি খুবই ভালো খেল্লাম ঐদিন, কিন্তু শুরুটাই, পরে আর পারফর্মেন্স ধৈরা রাখতে পারিনাই... ফ্ল্যাটারি করে ঠিক ভালো লাগতাছিলোনা......কি যেনো আছে রুপার মাঝে, আমি অদ্ভুত একটা অনুভূতি বোধ করতাছি, আগে কখনো যেইটা পাইনাই। রুপারে কি আমার সত্যই এত বেশি ভালো লাগে? সেই আগের দিনের হলে কল দেয়া দিনগুলো কি কোনো দীর্ঘস্থায়ী এফেক্ট ফেলে রাখছে মনে?
জানি না, কিন্তু ক্ষতি কি?
নাহয় হোক রুপার সাথে একটা জীবন।
তখন, যখন আমাদের আড্ডার বাইরেও আমি রুপার সাথে সময় কাটাইতাম অনেক .. সেই গুলা আজকে সব বন্ধুরাই জানে।
তাই এখনও যদি আবার আগের মত সবার থেইকা আলাদা হৈয়া সময় কাটাইতে যাই, তাইলে নিশ্চই বন্ধু বান্ধব মাইন্ড করবেনা?
:রুপা কি এখনো কুড়িলই থাকো? জানতে চাইছিলাম...
:হ্যা, কুড়িল'ই থাকি, তুমি কোথায় থাকো?
:আমি থাকি উত্তরা পাঁচ নম্বরে...তা, টিপুর সাথে আসলা ক্যাম্নে?
:আগেই বলে দেয়া ছিলো। টিপু আমাকে আমার ক্লিনিক থেকে পিক করে, মহাখালী থেকে..
:এখান থেকে কি বাসায় ফিরবা তো, নাকি?
টিপুর সাথে একসাথে আসছে তো, আমি বুঝতে চেষ্টা করি, ওদের মাঝে আবার কিছু আছে কিনা? আর থাকলেও কতটা? অবশ্য হৈলে আমি জানতে পারতাম..এইসব টিপুরে দিয়া হবারও না...
আমার নাম তন্ময়, বন্ধুরা আদর কৈরা ডাকে চান্স মোহাম্মদ..একাসাথে ফেরার ব্যাবাস্থাটা কৈরা ফেলি..যেহেতু রুপার বাড়ির সবচাইতে কাছের বাড়ি আমারই..
টিপু একবার তার সাথে আসছে, তার সাথেই যাওয়া উচিৎ টাইপ একটা নৈতিক দায়িত্ব টাইপ কিছু বলতে গেছিলো, আমার ফাঁপোড়ের কাছে আর রুপার অনিচ্ছার কাছে ভাত পায়নাই।
এরপর আর আড্ডায় বেশিক্ষন থাকতে মন্চায় নাই।
বাসে একসাথে বেশিক্ষন ভাল্লাগবে না বৈলা, একটু কষ্ট কৈরা সি.এন.জি নিলাম..
রুপার পাশে বসায়, পুরানো দিন গুলা এমন ভাবে ফেরৎ আসতে লাগলো হুড়মুড় কৈরা, অবাক হৈলাম। ক্যাম্পাসে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম, আড্ডা, নারী পুরুষের টান সব কেমন উচ্ছল ছিলো, এখনকার মত ভারিক্কি না..
অনেক গল্প করলাম দুইজনে...পুরানো দিনের মত। ও নেমে যাবার সময় হাত মিলাইলাম।
:এতদিন পরও তোমার পুরানো দিনের মত ফাযলামো দেখে খুব ভালো লেগেছে তন্ময়।
আর এই প্রথম, আমি কোনো স্মার্ট উত্তর না দিয়া, হালকা কৈরা জানাইলাম, ধন্যবাদ।
নি:শ্বাস ভরে রুপার গায়ের সৌরভ নিয়া ফেরৎ আসলাম। ফোন করে জাইনা নিলাম, ঠিকমত পৌঁছাইলো কিনা।
এর পর রাতেও আবার কথা হৈলো। আমি রুপার কন্ঠস্বরের শব্দ নিয়া ঘুমাইতে গেলাম।
দুয়েকদিনের মাঝেই রুপার সাথে আবার দেখা করার ব্যাবস্থা কৈরা নিতে হবে। তারপর একদিন বৈলা দিবো..এখনো কোনোদিন কাউরে বলতে মনচায়নাই যেইটা...
যে কথা হয়নি বলা:
স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি সময় চুপ করে ছিলো টিপু। তারপর যখন সে রুপার দিকে তাকায়, তার চোখে ভয় ছিলো অনেক খানি, দ্বিধা আর ভালোবাসা। কোনোদিনই বলতে পারেনি সে রুপাকে, তবু আজ শেষ চেষ্টা করে সাহস সঞ্চয় করে...
:রুপা, আমরা কি কোনো কমিট্মেন্টে আসতে পারিনা?
টেবিলের উপর দিয়ে হাত রাখে রুপা টিপুর হাতে...
:এতদিন লাগিয়ে দিলে বলতে?
খুশিতে জ্বলজ্বল করে ওঠে টিপুর চোখ।
:তুমিও কি?...তাহলে বলোনি যে..?
:আমিও কি ছাই জান্তাম? কিন্তু যখন আড্ডায় গেলাম তোমার পুরানো বন্ধুদের সাথে, তখন বুঝতে পারলাম, শুধু তোমার সাথে বসে থাকতে কতটা ভালো লাগে।
যখন তন্ময়ের সাথে গল্প করলাম, তখন শুধুই তোমার কাছে আসার ইচ্ছে হতো।
যখন তন্ময় ইঙ্গত করা শুরু করলো, আমি ভয় পেয়ে গেলাম...ভাবলাম বুঝি তোমাকে হারাবো..
খুশিতে ভাষা হারিয়ে ফেলে টিপু। যেই ভয়ে রুপাকে নিয়ে আড্ডাতে যেতে চায়নি, টিপু, ঠিক সেটাই শাপে-বর হয়ে ওদের দুজনকে নিয়ে এলো কাছে।
আগে যদি জান্তামরে বন্ধু, তুমি হৈবা পর:
একটু আগেই ফোন আসলো টিপুর। আমরা দুইজনেই ম্যাচিউর মানুষ। কাহিনী নেভার মাইন্ড ফোল্ডারে ফালাইয়া দিবোনে নাহয়। মনে হয় আসলে চান্স মোহাম্মদরাই খাঁদের কিনারে ঘুর ঘুর করে।
রুপারে মনে থাকবে অনেকদিন, অনেক রাতের ঘুমের থেইকা কয়েক ঘন্টা কৈরা কাইটা নিবে।
আফসুস।





এ্য?? তন্ময়ের কথায় বললো কেনো রুপা? ভাবতে ভালো লাগেনা হারুনের। এককালে তাদের একটু কাছাকাছি থাকাটা এখন মনে পড়ে টিপুর। তাহলে কি?.. (ভাবতে ভালো লাগে না হারুনের ঐখানেমনে হয় হারুনের জায়গায় টিপু হইব)
আত্মজৈবনী ভালো হইছে
হুমম, ঠিক করছি....আত্মজীবনি মনে হৈলে কেন? আমিতো ফার্স্ট পারসনে লেখতেই বেশি পছন্দ করি....
আমি তোমারে স্মার্ট মনে করি ; তাই বুঝলাম এইটা তোমার আত্মজীবনি
ধুরু, দেশে কি খালো আমি একলাই স্মার্ট নাকি? হয় নাইরে হয় নাই....
শাক দিয়া মাছ ঢাকা হয়তো যায় কিন্তু শাক ঢাকবা কি দিয়া ; মু হাহা হা
দেখো বন্ধু, কুৎসা রটাবা না আমার মত ভালো মানুষের নামে....তাইলে তুমিই কিন্তু চান্স মোহাম্মদ....আমিতো আদতেই আর মাছ খাইনা, ঠিকনা?
বিলাই বলে মাছ খায়না; গান্জা সস্তাহইয়াগেল নাকি
নাহ, কৈতে চাইলাম, আমি শাকঢাকা মাছ খাইনা, যা কাই, খোলাখুলি কারবার....লুকাই খাওয়ার অভ্যাস নাই...
:D
গান্জার দামের খোঁজ নেও কেন? খাইবা??
"আর যারা সত্যিকারের স্মার্ট, তারা আমার মত, খাঁদের কিনারে গিয়া উঁকিঝুঁকি মাইরা দেইখা আবার চৈলা আসে........হা হা হা"
ব্যাপক পছন্দ হইছে কথাটা। আমিও কিনা........
.....হি হি হি, আমার এই ডায়লগটা কয়দিন হিট আইটেম আছিলো, আমাদের সময়ে। সেই জন্য ইউজ কৈরাল্লাম.....
পড়ার জনয় অনেক ধন্যবাদ নরাধম....
ভাইডি তুমি টিপু না তন্ময়?
গল্প আরামদায়ক লাগছে। স্মার্টনেস, হাসির তরিকা এই প্রসঙ্গগুলো দারুণ হইছে। তবে বানানের দিকে মন দাও আরেকটু। শিরোনামেই চন্দ্রবিন্দুটা বাড়তি। স্মার্ট বাক্যটার খাদেও চন্দ্রবিন্দু নাই।
সে চান্স মোহম্মদ তন্ময়
@কাঁকন:নামটা সত্যই আমাদের একজনের কাছ থেইকা নেওয়া, সেই একজনডা আমি না, সত্য.....
আপু, আমি শাওন....
স্মার্টনেস, হাসির তরিকা এইসব ছোটোখাটো এলিমেন্ট দিয়া ডিটেইলিংয়ের চেষ্টা করি....
আমি একটা গল্পের বা ছিনেমা/নাটকের অথেনটিসিটি বা ডিটেইলিং নিয়া ব্যাপক কাটাছিড়া করতে পারি, কিন্তু নিজে কিছু লিখতে/ বানাইতে ভালো পারিনা.....
ভানাম বূলে আমি এতই ভালো, যে , আমি জানিইনা, কি কি ভুল করছি, তাই, ঠিক করুম ক্যাম্নে?...

বেশ লাগলো বিল্লি --
আমিও প্রথমে আত্মজীবনী ভাবছিলাম -- পরে ভুল ভাংলো ।
আস্তে আস্তে হাত খুলতাসে --
এইবার পা খোলা শুরু করে -- জোড় কদমে লিখে যাও ।
গল্পের শুরুতে আর শেষে ডিসিভিং করতে পারছি তাইলে কৈতে চান? কি দিয়া ধন্যবাদ দিমু ভাই?....হাত পাও খুইলা বেশি লাভ নাই....মোল্লার দৌড় মশজিদ পর্যন্তই....হা হা হা...
খাইসে, জট্টীল এক্ষান জিনিষ নামাইসো ভাইডী ,
কিন্তুক কানিশাইল এ নৌকা ভ্রমন লেইখা ত আমারে কনফুশন এ ফালায়া দিলা ।:(
জটিলা খালা?

কানিশাইল?? একটা নাম তো লেখতেই হৈতো, তা আম্রা ছোটোবেলায় ক্যাম্পাস থেইকা কানিশাইল ঘুরতে যাইতাম্না? সেইডাই দিয়া দিলাম.....এইখানকার বেশিরভাগ আইটেম পরিচিত গন্ডির থেইকা নেওয়া, শুধু কাহিনী টা বানাইছি....
শাওনের এই গল্প পড়তে ভালো লাগছে...কিন্তু এইটাতে কেনো জানি মনে হইলো তার মনসংযোগের অভাব ছিলো...
যাউগ্গা এইরম একটা কাঠামো যে ভাবতে পারে এতো সহজ একটা বিষয় নিয়া তারে ধন্যবাদ...শাওনের আসল মজা ঐ সিম্পলিসিটিতেই...
মনোসংযোগ কিনা জানিনা দাদা, কিন্তু এইটার প্লট টারে আকর্ষনীয় করার কোনো ট্রাই করিনাই একেবারেই....একটা এক্সপেরিমেন্ট করার ট্রাই করছি--শুরুতে থার্ড পার্সনে গল্প বৈলা পরে ফার্স্ট পার্সনে নিয়া আসার....আর আমার নিজের পরিচিত কয়টা ক্যারেক্টাররে একটার সাথে আরেকটা মিলাইয়া ক্যারেক্টার গুলা বানইছি...
ব্যতিক্রম কিছু দেখতে ইচ্ছা করে।দেখা মেলা ভার।
থুক্কু এই কমেন্ট এইখানে কেমনে আসলো?
আমিও টেনশনে পৈড়া গেছিলাম....
টেনশান মাত করো বিলাই। তোমার এইটা পইড়া, আরেকটা লিংকু পাইয়া ওইটাতে কমেন্ট করতে গিয়া এইটাতে এই কমেন্ট করছি।থুক্কু।
নাহ, আমার আর টেনশনের কিয়াছে......থুক্কু দিয়ালছো, দাইন দিয়া গেলানা খেলার.....
আমার কাছেও এইটা আত্মকাহিনীই মনে হইতাছে। আপ্নে চান্স মোহাম্মদ কিংবা টিপু না হইলেও আশেপাশের কেউ একজন।
আত্ম জীবন থেইকা অনেক উপাদান নেয়া হৈছে ঠিক, কিন্তু কোনো চরিত্রই একক ভাবে নাই, সবগুলাই একটা আরেকটার সাথে ইম্পজ হৈছে, আর কাহিনী সম্পূর্ণ নতুন ছায়াছবি...
হুমমমমমমমমম ...........
ঝিমাইতেছিলাম, হুমানি দেইখা ঘুম আইসা গেলো....
ভালো লাগলো
এইতো, কি সুন্দর লাগে শুনতে....ধন্যবাদ ভাই...
বাহ....কাঠামোটা পছন্দ হইছে। আত্মজীবনী হইলেও সমস্যা নাই।
...নেহিইইইইইইইই.....এডা আত্মজীবনি হৈলে আপনের নাহয় সমস্যা নাই, কিন্তু আমি দু:খের চোটে মারা যামুনা?
পড়লাম
অখন না দেইখা লেখতে দিলে লেখতে পার্বেন? নাকি শর্ট কুশ্চেন দিমু?
ব্যাখ্যা লিখতে দাও
ধুর, ব্যাখ্যা তো বানাইয়া লেখতে পারবো, হালকা পড়লেই.....কিন্তু সত্যই পড়ছে কিনা, যাচাই করতে হবেনা?
তাইলে এক কথায় উত্তর আর সত্য মিথ্যা দাও?
যেমন এই গল্পে চান্স মোহম্মদ এর আসল নাম কি?
রূপার সাথে হারুন এর প্রথম কোথায় দেখা হয়?
রুপার বান্ধবীর নাম কি?
হি হি, তুমিও ভুল করছো, এক নাম্বার কাটা...হারুন নামটা ভুল হৈছিলো, পরে ঠিক কৈরা টিপু করা হৈছে...রিভিশন হয়নাই ভালোমত...খিক
"নৌভ্রমনের দিন রুপা আসলো, সাবিনার কলেজ জীবনের বান্ধবী। এখন মেডিকেল ছাত্রী। প্রথম দর্শনেই সবাইরে মুগ্ধ করছিলো গ্রুপের। এমনকি গার্লফ্রেন্ড থাকা জনিও কেমন দূর্বল বোধ করতে ছিলো।
টিপু ভাবে, কি এমন আহামরী সৌন্দর্য্য ছিলো, যে সবাই আবেশিত হৈছিলো?
নিশ্চই তার হাসিটা, চিন্তা কৈরা বাইর করলো টিপু।
হারুনের সাথেই বেশি দহরম মহরম হৈছিলো শুরুতে, যদিও পরে চান্স মোহাম্মদ খ্যাত তন্ময় রে প্রায়ই শুনা যাইতো মেডিকেল হোস্টেলে গিয়া কল দিতো রুপারে।
কোনো মেয়েরে নিয়াই এতবেশি ভাবেনাই কখনো টিপু।"
আমি হারুন ই মিন করসি; এইটা অফট্র্যাকের প্রশ্ন
খাইছে, তোমার কাছে আমার মাইয়া টিউশনি করামু...ইদানীং আবার সৃজনশীল কুশ্চেন থাকে পরীক্ষায়....এইডা কিন্তু কানু গ্রুপের কাছে ধরা হিসেবে কাউন্ট হবেনা....খবরদার...
অবশ্যই এইটা কানু গ্রুপের কাছে ধরা হিসেবেই কাউন্ট হবে
;
এখনকার পোলাপান ই যে চাল্লু, তোমার মাইয়া-পোলার জেনারেশন আরো চাল্লু হইবো তাগোর কাছেই আমাগো শিখা লাগবো; ঐখানে মনে হয় কানু গ্রুপের জারিজুরি খাটবো না
এডা কানু গ্রুপের ধরা হিসেবে বৈধতা নাই, নুশেরা আপু নাই এলাকায়...তুমি এলকাই তো আর কানু গ্রুপ না?
হুম, প্রতি নতুন বছরের পোলাপাইন মনে হয় আগের চাইতে ১০ বছর বেশি পাকনা হৈয়া যায়....নয়া প্রজন্মের পোলাপাইনের চালু হওয়ার রেট মনে হয় জ্যামিতিক হারে আগাইতাছে...
নুশেরাপু / কাঁকন এর একক বা যৌথ যে কোন ধরাই কানু গ্রুপের ধরা; অন্য যে কোন বিষয়ে তাহাদের আলাদা আলাদা অর্জন/বর্জন থাকতে পারে ধরাধরির ব্যাপারে নাই; তারপরো চিন্তাইও না নুশেরাপু এলাকায় আসলে সার্টিফাইড কইরা যাবে
প্রতি নতুন বছরের পোলাপাইন মনে হয় আগের চাইতে ১০ বছর বেশি পাকনা হৈয়া
যায়.... -- ডারউইনের বিবর্তনবাদ, পোলাপান বিবর্তিত হইতেছে
স্মার্ট একটা গল্প। উপস্থপনা স্টাইল ভাল লাগছে খুব।
...অনেক ধণ্যবাদ, হাসান ভাই...
(আপনি কি ক্যামেরার পিছনেই থাকবেন?)
আরে লেখাডা জোস লাগছে। রুমান্টিক গল্পপ পড়লে আমার বেশির ভাগ সময় ঘুম আসে। কিন্তু সেরাম গতি দিয়া লেখা। ভাষার ব্যবহারটাও মজা লাগছে।
লেখার নতুন নিয়মে, গল্পের সাইয ছোটো করতে হবে, তাই গতি আনার চেষ্টা আরোপিত মনে হৈছে আমার কাছে...কিন্তু তুই ভালো কওনে একটু সাহস পাইলাম...থ্যাঙ্ক্যুস...
পুলাপান কত সুন্দর কৈরা লিখে রে!
*****
আহারে, আমদের তো দুশ্চিন্তা নাই(বিয়াশাদী ইত্যাদি ইত্যাদি...
)...সেই জন্য লিখা ফালাই, ভালা-মন্দ যাই হোক...
এটিকে গল্প না বলে টুকরো স্মৃতি বলবো?
যা-ই বলিনা কেন লেখা স্বাদু।
যেটা খুশি সেইটাই বলবেন আপু...আপনি লিখা পড়তে আসেন, সেইটাই তো আনন্দের...
এডাও কি এট্টা মধু কাহিনী ভাইডি?
নারে বৈনডি, এডি লীনা আপু বলেছেন, স্বাদু কাহিনী....
আত্মজেবনী!
ভালু পাইলাম ,তবে যেহেতু গল্প সেহেতু পুরোটা লেখ্য ভাষায় লিখলে আরো ভালো হইত মনে হয় , তয় উপাদেয় হইছে ।
আমি লেখ্য ভাষায় কৈতেও পারিনা, লেখতেও পারিনা
দারুন কাহিনী
কাকীরে আবার নিয়মিত দেইকা ভালো লাগছে..
মেলাদিন লেখা নাই....
বিদ্যূতাঙ্কেলের দয়ায় দৈনিক যেই বরাদ্ধ থাকে, তাতে গোসল খাওয়া দাওয়া আর পানি তোলায় দিন যায়....আবার চলবে গাড়ি, যাত্রাবাড়ি..
ভালো লাগছে।
অনেক ধন্যবাদ..আপনাকে আমার পাতায় স্বাগতম...
জেডা @ তুমার নাম যে টিপু এইডা কিন্তু জানতাম না । আফসুস
তপে টিপু নামডা কি টিপ পরা কুন কুরিয়ান চান্তেকে দিছিলো জেডা ?
তুমার আত্নজৈবনী (লুকে বলতাছে, আমি না কিন্তু ) যে এইরাম নন-আফসুসিত রুমান্তিক এইডাও জানতাম না । তুমার সম্পর্কে এতকিছু জানতে হইলে মনে হয় গোলাপ জাম খাওয়া শুরু করতে হপে। তুমারে গিলাসে ভরে পিলাস।
জ্যাডা, গুলাপ জাম খাবানা, তাইলে কিন্তু পরে আবার ৪ টাকা কৈরা আফসুস কিন্না খাইতে হবে, তারচাইতে এখন জামের দিন আছে, এমনকি জামরুলও খাইতে পারো....কিন্তু খপোড়দাড়, গুলাপ জাম খাইওনা...
নন আফসুসায়িত রুমান্টিক লুকে কি রুমান্টিক লেখা লিখতে পারে? তারা তো নিজেদের আফসুসরে নন আফসুস করার জন্যই টেমশমে থাকে...
হ, কুরিয়ান দুই চান্তেক, নাম দিলো টি পু ঝিং আর তোমার টা দিলো ভেচ্ছাঙ্কু---- ভে ছা ঙ্কু...
)
পিলাস আমিও দিতে চাইতেসি, কিন্তু এইখানে পিলাস নাই। যাউক গা, গল্প পছন্দ হইসে। কমেন্ট আর কমেন্টের জবাবও পছন্দ হইসে। আপনি স্মার্ট লোক, নিঃসন্দেহে।
পিলাস মাইনাস বড় বিষয় না, কাহিনি হৈলো ভাল্লাগছে, সেডাই "আহা"....
স্মার্ট ও কৈছেন.. 
আবার
মন্তব্য করুন