আবোল তাবোল -৭
# # # # #
বিষয়ঃ 'সুরের ধারা:রবীন্দ্র উৎসব' ও অন্যান্য কথকতা।
# # # # #
মন ভাল নেই, মন ভাল হয়না..
প্রত্যেকটা দিন একই রকম নিস্তরঙ্গ জীবনযাপন। খাওয়া- দাওয়া- ঘুম। মুভি- মিওজিক- গেম।
কখনও কখনও ঘরোয়া আড্ডা আর বন্ধুদের সাথে ঘুরাঘুরি। মন চাইলে গল্পের বইয়ের পাতায় ডুব।
মাঝে মাঝে প্রচণ্ড বিরক্তি জাগে নিজের উপর, এই বেঁচে থাকার উপর।
অবসর সময়টা খুব বেশি পেয়ে বসলে ভাল লাগেনা, ভয়ংকর একটা অস্থিরতা ভর করে সব কিছুতেই।
খুব ছোট ছোট কারনে আজকাল মন খুব বেশি খারাপ হয়ে যায়। ভাল লাগে না।
মন খুব বেশি খারাপ হলে মন একটু ভাল করতে কি করা যায়? সকলের পরামর্শ প্রার্থনীয়!
# # # # #
অনেক দিন কিছু লেখা হয়না, আজ একটু নিজের উপর জোর খাঁটিয়েই লিখতে বসলুম!
এবি আসি প্রায় প্রতিদিন-ই, কিন্তু কেন জানি কিছুই লেখা হয়না।
অনেক লেখাই পড়তে ভাল লাগে। ভাবি, একটা কিছু বলব। লগইন করা হয়না।
বেশ কয়েকটা লেখার থিম মাথায় ঘুরছে। অসম্পূর্ণ না, পরিপূর্ণ। লিখতে ইচ্ছে হয়, লেখা হয়ে উঠে না।
আরও কিছু লেখা একদম জামাজুতো পড়ে ফিটফাট রেডি। তা-ও পোস্টানো হয়না! আজব অবস্থা!
এবি-তে আসার পর এত বড় বিরতি দেয়া হয়নি আগে, কয়জন এখনও চিনতে পারবে সেটাই চিন্তার বিষয়!
# # # # #
গত বছরের প্রায় শেষ অর্ধেক এত বেশি দৌড়াদৌড়ি গিয়েছে যে হালকা হবার পর থেকে রিলাক্সেসনের ধাক্কায় এখন আর কিছুই করতে ভাল লাগেনা। ব্লগ লিখতাম, মনে হচ্ছে এক যুগ আগের কথা!
একটা কথা আছে, শেষ ভাল যার- সব ভাল তার।
সে হিসেবে বলা যায় গত বছর টা আমার অসাধারণ গিয়েছে।
যার প্রায় পুরোটা কৃতিত্ব 'সুরের ধারা'র।
বলছি, 'সুরের ধারা:রবীন্দ্র উৎসব' এর কথা। ২৯,৩০ আর ৩১ই ডিসেম্বর- ২০১১।
ঢাকা'র আগারগাও-এ 'বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে।
শেষের দিন যেতেই পারি নি,
প্রথম দিনের অনুষ্ঠান প্রায় পুরোটাই আর দ্বিতীয় দিন শুধু রাতের অধিবেশনে গিয়েছিলাম।
প্রথমে, প্রথম দিনের কথাই বলি।
রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা'র সুরের ধারার আয়োজনে ২২টি ডিভিডি-তে গীতবিতানের ২,২২২ গানের অপূর্ব সমাহার 'শ্রুতি গীতবিতান' এর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী। তার পর আনিসুজ্জামান আর অমর্ত্য সেনের শুভেচ্ছা কথকতা, বেশি সময় নিলেন না কেউ-ই।
তারপর-ই সেই অসাধারণ ক্ষণ!
একই মঞ্চে, একই সাথে। 'সহস্র কণ্ঠে রবীন্দ্রনাথ'।
সারাদেশ থেকে আসা এক হাজার শিল্পী একসাথে গাইলেন রবীন্দ্রনাথের গান।
কবিগুরুর সার্ধশততম জন্মবার্ষিকীতে এর চাইতে ভাল আর কী ই বা হতে পারতো!
ভারতের প্রখ্যাত মিউজিক কম্পোজার দেবজ্যোতি মিশ্রের পরিচালনায় হাজারো শিল্পীর ভালবাসার নিবেদন ১২টি রবীন্দ্রসঙ্গীত। মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে কেটে গেল প্রায় দুই দুইটি ঘণ্টা।
খোলা আকাশের নিচে, পড়ন্ত বিকেলবেলায়।
নিস্পলক চেয়ে থাকা - নিশ্চুপ শুনে যাওয়া-কখনও হয়ত নিজের অজান্তেই আর সবার সাথে গেয়ে উঠা..
'ও আমার দেশের মাটি, তোমার পরে ঠেকাই মাথা..'
অথবা, গোধূলির মায়াভরা আলোতে পশ্চিমের আকাশে লাল টুকটুক সূর্য কে সাক্ষি রেখে..
'আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রানে.. এ জীবন পুণ্য কর..এ জীবন পুণ্য কর..'
আবার, বিকেল আর সাঁঝের মিশেলের সময়টায় সমস্বরে ' আকাশ ভরা সূর্য তারা..'।
এ যেন এক অপার্থিব ভাললাগা আবেশ, ভাষায় প্রকাশ করে সাধ্য আছে কার..!!
সন্ধ্যার পর সুরের ধারার কচিকাঁচারাও গাইল বড়দের সাথে।
তারপর,
ব্রততী বন্দ্যোপাধ্যায় এর কথা,গান আর আবৃতিতে অপূর্ব কিছু সময়।
আর দিনের শেষে,
আমার খুব খুব প্রিয় শিল্পী শ্রীকান্ত আচার্যের গলায় 'তুমি সন্ধ্যার মেঘমালা','সেদিন দুজনে','আজি বরিষণ মুখরিত..' আর ' যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে..'। এক কথায় 'অসাধারণ'।
পরের দিন শুধু একটাই পরিবেশনা দেখব বলে ভেবে রেখেছিলাম।
৮টার অনুষ্ঠান ১০ টায় শুরু হয়ে শেষ হ্ল সোয়া ১১ টায়!
কিছুই যায় আসেনা তাতে, ওঁরা যতবারই আসবে - আমি ততবারই যাব ওঁদের গান শুনতে!
'গন্ধর্বলোক অর্কেস্ট্রা' প্রথম বারের মত পরিবেশন করল ৮টি রবীন্দ্রসঙ্গীত। 'মন মোর মেঘের সঙ্গী' অথবা ' আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে' কিংবা নিতান্তই তাদের ট্রেডমার্ক সুর-তাল-লয়ের শিহরণ জাগানিয়া নিবেদন 'ঠাকুর ঠাকুর'। কোনটাই ভোলার নয়।
রবি বুড়োর হৃদয় ছোঁয়া যত কথার সাথে অর্কেস্ট্রার সুরের ক্ষণে ক্ষণ উঠানামা। তার সাথে পাল্লা দিয়ে একটু পর পর-ই হাত-পা-পিঠের রোমের নাচানাচি। অদ্ভুত এক উত্তেজনায় প্রায় সিট থেকে উঠে পড়া সটান শরীরের বুকের ভেতর ক্রমাগত বেড়ে চলা ডুব-ডাব ডুব-ডাব! হৃদপিণ্ডে অদ্ভুত মায়াময় এক কাঁপন! কি আজব!
'সুরের ধারা:রবীন্দ্র উৎসব', মনে থাকবে অনেক অনেক দিন।
# # # # #
আজ আর নয়,
এখানেই শেষ করছি ৩টি অসাধারণ রবীন্দ্র আবৃতি/সঙ্গীত এ্যালবামের খোঁজ জানিয়ে!
ব্রততী বন্দ্যোপাধ্যায় এর আবৃতির সংকলন 'ছোটদের রবীন্দ্রনাথ' ,
ছোটদের গলায় একসাথে 'আমাদের প্রার্থনা' ,
আর,
রবীন্দ্রনাথের ৯ট ভাঙ্গা গানের সংগ্রহ( মূল গান ও তার ইতিহাস সহ!) 'আন্তর্জাতিক রবীন্দ্রনাথ' ।
আশা রাখি, গানগুলো সবার ভাল লাগবে।
ভাল থাকুন সবাই। অনেক ভাল। সব সময়।





মিয়া
পরীক্ষা শেষ হবার পর কই নিয়মিত হবেন, তা না...
আর যামু না..ইন শা আল্লাহ!
পড়তে শুরু করে ভেবেছিলাম শুধুই বিষাদের ঝাঁপি খুলে বসা একটা লেখা পড়তে হবে কিন্তু পড়া শেষ হলে চমৎকার একটা অনুভূতি হল । ধন্যবাদ ।
আমার ভাল লাগা কিছু মুহূর্তের আনন্দ টুকু আর কারও সাথে শেয়ার করতে পেরেছি জেনে ভাল লাগছে। পড়ার জন্য ধন্যবাদ । ভাল থাকুন। অনেক ভাল। সবসময়।
অর্কেস্ট্রার সাথে সুরের উঠানামার শরীরের রোমের উঠানামার ব্যাপারটা বিশদ কলেবরে এলে বেশ হত কিন্তু!
মনে হয়েছিল, অনুভূতি টা হয়তো বলে বোঝাতে পারব না। তাই, ডিটেইলসে যাইনাই তখন।
তাছাড়া, ঘুম ধরতেছিল খুব লেখার সময়! এখন, চেষ্টা করলাম কিছুটা..
আমার আবার সম্মিলিত কন্ঠে রবীন্দ্রসঙ্গীত ভালো লাগে না
কোরাসে মেয়েদের দাপটে ছেলেদের গলা বলা যা শোনাই যায় না,
এইটা বাদ দিলে সম্মিলিত কন্ঠে রবীন্দ্রসঙ্গীত আমার কাছে অসাধারণ লাগে!
ভালো লেগেছে আবোল তাবোল
পুরাই গানময় পোস্ট!!
ভালো লেগেছে
পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

কমেন্টে
সুরের ধারার অনুষ্ঠানটা দেখার ইচ্ছে ছিলো।
৩ দিন ধরে হ্ল তো,
একদিনও সময় করে উঠতে পারলেন না?!
সুরের ধারায় শেষের দিন আমি পারফর্ম করলাম, সেদিনই তুমি যাইতে পারলানা আর সবদিন গেলা। এইটা হইলো কোন কিসু? ওই মিয়া মন ভালো করো তাড়াতাড়ি। মন খারাপ শুধুমাত্রই আমার প্রোপার্টি। আমি ছাড়া অন্য কেউ মন খারাপ করে থাকতে পারবেনা।

আয় হায়, আগে আগে একটা রিমাইন্ডার পোস্ট দিলা না কেন- যে তুমি কবে কই পারফর্ম করবা?!
তুমি কিসে আছো? সুরের ধারা তেই? নাকি অন্য কোনটায়?
ইইইইনহহ..আইছে..কইলেই হইল নাকি?!

আমার নাম আর বায়ো দেখলেই বলা যায়,
বিষণ্ণতা আমার অহংকার, আমার অলংকার!!
ছিলেন কই এতদিন?
এই পোস্ট পুনরায় দ্রষ্টব্য!!

মাথা ঠান্টা হপে!
মন্তব্য করুন