আমার সেই বন্ধুর সরল স্বীকারোক্তি - ১
আমার খুব কাছে এক বন্ধুর একন্তই নিজের কিছু কথা বলতে আমার এই পোষ্ট, যদিও এটি আমার প্রথম পোষ্ট। গত দু'বছর যাবত আমি আমার এক বন্ধুর সাথে আছি, প্রতি রাতেই প্রায় ২/৩ ঘন্টা আমি শুধু চুপচাপ তার কথা শুনি। সে বলে, আমি শুধু শুনে যাই। হয়তো তার এই কথাগুলো সে কোনদিন কাউকে বলতে পারেনি। কথাগুলো তার নিজের জীবন নিয়ে। এখানে আমি আমার বন্ধুর ছদ্মনাম 'প্লাবন' ব্যবহার করে কথা গুলো বলবো। জানি একটি পোষ্টে সবটুকু শেষ করা যাবেনা।
প্লাবনের সাথে আমার যেভাবে পরিচয়, দেশের বাহিরে এসে প্রথম রুমমেট সে আমার। তারপরও মনে হয় অনেক আগে থেকেই আমাদের পরিচয়। নিজের অনেক ছোটবেলার বন্ধুকে সে যে কথাগুলো বলতে পারেনি তা আমাকে বলে নির্দ্বিধায়। দেশের কারো সাথে তেমন কোন যোগাযোগ নেই প্লাবনের। সেই রাখেনা। প্রতিদিন কাজ অথবা ক্লাস থেকে এসে ফ্রিজ থেকে তার রঙ্গিন বোতলটা বের করে বসে, এক সময় গভীর ঘুমে তলিয়ে যায় কথা বলতে বলতে। মাঝে মাঝে সোফায়, মাঝে মাঝে আমি ধরে নিয়ে আসি বিছানায়। যাই হোক প্লাবন যেভাবে শুরু করেছিল সেভাবেই শুরু করে কথা গুলো বলি।
স্কুল পাস করে সবে কলেজে ভর্তি হয়েছি। পাড়ার একটা ক্যাসেটের দোকানে বসে আড্ডা দেই, সিগারেট টানি, গান শুনি। একটি মেয়ে আসতো নতুন কোন বাংলা ক্যাসেট আসলেই তার চাই। প্রথম প্রথম বুঝতাম না, কি করে সব শিল্পীর ক্যাসেট নিয়ে। অনেকদিন দেখার পরে একদিন দোকানের মালিককে জিজ্ঞেস করে জানতে পারলাম, তার এক কলমি বন্ধু আছে তার চিঠি আসে। সেই চিঠি সে সবার সামনে নিতে লজ্জা পায় তাই ক্যাসেটের ভেতরে নিয়ে যায় এবং পরে তা আবার ফেরত দিয়ে যায়। এভাবে কয়েক মাস কেটে যাবার পরে একদিন তার সেই কলমি বন্ধু এসে হাজির সেই দোকানে। দোকানের মালিক সেই মেয়েকে ফোন করলে সেই মেয়ে ঐ ছেলের সামনে আসতে ভয় পাচ্ছিলো। যেহেতু আমরা ঐ দোকানে আড্ডা দেই তাই দোকানদার আমাদের সাহায্য চাইলো। ঠিক হলো, মেয়েটা ছেলেটার সাথে দেখা করবে, আমি দূর থেকে খেয়াল রাখবো।
যেমনটি ঠিক হলো, তেমনিভাবে মেয়েটি আসলো। আমি দূর থেকে লক্ষ্য করছিলাম। দেখলাম তারা সামনা-সামনি দাঁড়িয়ে কথা বলছে। এই ফাকে ভাবলাম সিগারেট নিয়ে আসি। সিগারেটটা ধরিয়ে ফিরে দেখি ছেলেটি জোড় করে মেয়েটের হাত ধরতে চাচ্ছে, মেয়েটি বার বার দূরে সরে আসছে। বুঝতে পারছিলাম না কি করা উচিত। সামনে এগিয়ে যেয়ে মেয়েটিকে বললাম বাসায় যেতে, এবং ছেলেটিকে পরের বাসে তুলে দিলাম সে যেখান থেকে এসেছিলো সেই উদ্দেশ্যে।
ঘটনার দুদিন পরে, এক বিকেলে স্যারের বাসায় না যেয়ে আড্ডা দিচ্ছিলাম সেই দোকানে। একটি রিকশা এসে থামল। সেই মেয়েটি, আমার সামনে এসে আমাকে ধন্যবাদ জানিয়ে চলে গেল। আমি কোন উত্তর দেয়ার আগেই সে আবার রিকশায় উঠে চলে গেল। এভাবেই পরিচয় আমার তার সাথে।
চলবে...





শুরুটা ভালো। আকর্ষনীয় সিরিজ হবে মনে হচ্ছে।
গুরুর পাশে দাঁড়িয়ে আমিও আপনাকে সালাম জানাই।
শুভেচ্ছা। স্বাগতম।
ধন্যবাদ
স্বাগতম অরন্য । কাউকে না-বলা কাহিনী শুনতে ভাল লাগবে মনে হচ্ছে । অধৈর্য হয়ে উঠবার মত বিলম্ব হবে না আশা করি ।
ধন্যবাদ আপনাকে। চেষ্টা করবো দ্রুত করতে।
ভালো, চলুক...
চলুক।
লেখা ভালো পাইলাম। তবে শিরোনামে কি টাইপো আছে কি না একটু দেখবেন। আর রঙ্গিন বোতল খোলা নায়কের গল্পে বিলম্ব কিন্তু কাম্য নয়।
শুরুটা ভালোই।
দেখা যাক কোথাকার পানি কোথায় যায়।
শুভ হোক পথ চলা এই ব্লগে।
ধন্যবাদ সবাইকে, শিরোনামের টাইপো ঠিক করে দিলাম
শুভেচ্ছা। স্বাগতম।
ধন্যবাদ আপু।
মন্তব্য করুন