ভালবাসার বিশ্বাস
ইউনিভার্সিটির ৪র্থ তলায় এসে আমি দেখি তুমুল ঝগড়া করছে সাঈদ আর শিমু।সাঈদ
আর শিমু এক সাথে পড়ে। দু জন-ই আমার ভাল বন্ধু।
কতক্ষন হল ওরা ঝগড়া করছে জানিনা ।আমি এসেই দেখি ওরা ঝগড়া বাধিয়ে দিয়েছে।একটু আগে সাঈদ আমাকে ফোন দিয়ে এখানে আসতে বলে ,আর এসেই দেখি এই কান্ড ।শিমু মেয়েটা সুন্দরী,সাদাকালো একটা ড্রেস পরে এসেছে। মুখেও তেমন একটা মেকাপ নেই,তবে ঠোটে আমার অজানা একটা রঙের লিপিস্টিক আর চোখে সামান্য একটু কাজল ,এই যা।
সাঈদ কালো ,গোমড়া মুখো ,আর একটু বলদ টাইপের তবে কুটীলতায় ভরা ।আমি বুঝতে পারিনা ,এত সুন্দরী একটা মেয়ে কিভাবে সাঈদ এর মত কালো একটা ছেলে কে পছন্দ করল ।যাই হোক,কথায় আছে না "ভালবাসার প্রেত্নীও সুন্দর" ।।
"তুই-ই বল হাসান" আমার দিকে তাকিয়ে বলল শিমু;"ওর মত মিথ্যুক ছেলে তুই তোর জীবনে দেখেছিস?" ।আমি বললাম
"তোদের ঝগড়ার মধ্যে আমাকে টানছিস কেন"।সাঈদ বলল
"কী বলিস,তাহলে তোকে এখানে আসতে বললাম কেন?"
"যে কাজের জন্য আসতে বলেছিস তাতো তোরা নিজে নিজে-ই কী সুন্দর সমাধান করছিস!"
"তুই আবার রাগ করছিস কেন?"সাঈদ বলল;"আচ্ছা থাক এখন বল আমাদের মধ্যে কার দোষ বেশি আর আমাদের কার কি করা উচিত?"
আমি বললাম,"প্রথমে শিমু বল, ঘটনাটা কি হয়েছে? তারপর সাঈদ বলবি। ওকে?"
"ওকে!" বলল দু জন-ই।
"ঘটনা হচ্ছে" শিমু বলতে শুরুকরল,"তুই তো নিপাকে চিনিস? ওই যে লম্বা মত শ্যমলা মেয়েটা,যার বিয়ে ঠিক হয়েছে,কিন্তু বিয়েতে রাজী হচ্ছে না?"
হ্যাঁ হ্যাঁ চিনেছি বল"
"ওই মেয়ের সাথে ও কাল সারারাত গুজুর গুজুর ফুসুর ফুসুর করেছে"
"মিথ্যা বলছে ও" সাঈদ বলল,"আমি মোটেই ওর সাথে কথা বলিনি;আমি আমার চাচাতো ভাই মিজানের সাথে কথা বলেছি"
"এত বড় মিথ্যা কথা!" চেচিয়ে উঠল শিমু"আল্লাহ সইবেনা"
"এই তো আবার শুরু করেছিস" বিরক্ত হলাম আমি; "আমি তাহলেচলে যাচ্ছি।
"না! না! না!" দু জনই বলে উঠল "আর করবনা"
"আচ্ছা শিমু" বললাম আমি"তুই কি করে বুঝলি ও কাল নিপার সাথে কথা বলেছে?"
"কাল ভোর পাঁচটা পর্যন্ত ওর ফোনবিজি ছিল " শিমুবলল ।
"এতেই কি প্রমান হয়ে যায় যে আমি নিপার সাথে কথা বলেছি?" প্রতিবাদ করল সাঈদ ।
"সাঈদ তো ঠিকই বলছে এতে তো তা প্রমান হয়না"।
"আমার কাছে প্রমান আছে হাসান" শিমুর কন্ঠটা হঠাৎ খুব শান্ত শোনাল।
"তাহলে বল কি প্রমান?"
"আমি তা বলতে পারবনা" গলাটা কেঁপে উঠল শিমুর। তারপর না জানি কি হল। দু হাতে মুখ ঢেকে কাঁদতে শুরু করল শিমু।বিব্রত বোধ করলাম খুব। সাঈদের চেহারা-ও খেয়াল করলাম চেঞ্জ হয়ে গেছে। অপরাধ বোধের কালো একটা ছায়া নেমে এসেছে সাঈদের চেহারায়।
বুঝতে পারলাম সাঈদ আর শিমুর আজকের ঘটনটা ঝগড়ার অন্যান্য দিন গুলোর মত নয়। ওরা প্রচুর ঝগড়া করে ঠিকই তবে তা কখনো রিলেশন ব্রেকের মত ব্যাপার নয়। কিন্তু শিমুর এই কান্না আর সাঈদের অপরাধীর মত ওই কালো মুখ তাদেরসম্পর্কের মধ্যে ফাটলের পূর্বাভাস বলেই মনে হচ্ছে।
"শিমু শোন" কান্নার বেগ একটু কমে আসাতে বললাম আমি"তুই আমাকে ঘটনাটা পুরো খুলে বল নইলে আমি তোদেরকোন সমাধান দিতে পারছিনা।"
"কোন সমাধান লাগবেনা হাসান! ওর সাথে আমার সম্পর্ক রাখা সম্ভব না।"
"কিন্তু কেন?"
"ও একটা বেঈমান,মিথ্যুক, বিশ্বাসঘাতক"
"বিশ্বাসঘাতকতার কি করল সেটাই তো জানতেচাচ্ছি।"
হঠাৎ করে শিমু এক ঝটকায় উঠে দাঁড়াল- "আমি চলে যাচ্ছি হাসান"
"ওমা সে কী! কোন কথাই তো বলা হয়নি"
"আর কোন কথা নেই হাসান , আর কোন কথা নেই! "
হন হন করে হাঁটতে শুরু করলও। এতক্ষন চুপচাপ ছিল সাঈদ।এবার উঠে দাঁড়াল। বলল"প্লীজ শিমু প্লীজ ।আমি ক্ষমা চাচ্ছি, ভুল হয়ে গেছে আমার। আর কখনো হবেনা। প্লীজ তুমি যেয়োনা। আমার অনেক কষ্টহচ্ছে । প্লীজ যেয়োনা। আমি বুঝতে পারছি আমি অন্যায় করেছি।"
শিমু হেঁটেই চলেছে। পিছন পিছন সাঈদ।
আর আমি হতভম্ব হয়ে ওদের দিকে তাকিয়ে থেকে যেখানে ছিলাম সেখানেই বসে রইলাম ।





সাঈদ ভাই-এর কাজটা ঠিক হয় নাই। এখন নিজেকেই সামলাতে হবে। তবে লুক্টা কত কি গোপন করে রাখলো!
ওকে , অসুবিধা নাই ।আমি সব প্রকাশ করে দিব ।হাহা হা হা ।
ভালো।
আহা, সাইদভাইয়ের এইহারে ঢোল পিটানি হইলে তো কোনসময় সব ফাটায়া ফেলবেন!
আপনার খবরই আছে। সাঈদ ভাই দেখলে আপনারে আছাড় দিবো

আপনি আবার সাঈদ ভাইরে উস্কাইতেছেন? ধিক্কার আপনেরে। হাসান ভাই না হয় গল্পটা লিখেই ফেলছে, তাই বলে-------!!!!
সাঈদ ভাই, আপনি কই?
আপনার নামে কিন্তু মানহানির মামলা করতে বাধ্য হমু ।
সাঈদ ভাই-এর কাজটা ঠিক হয় নাই। এখন নিজেকেই সামলাতে হবে।
মন্তব্য করুন