সোনারও পালঙ্কের ঘরে ...

"লেখার মুড নাই, মন মেজাজ খারাপ" - কি আর করি! অস্থির আর অগোছালো সময় গুলোকেও ব্লগের পাতায় ধরে রাখা চাই। ব্লগ যদি হয় মনের আয়না - তবে সে আয়নায় মনের ছায়া পড়ুক।
ছোটবেলায় টিভিতে দেখতার - বিষন্যতা একটি ব্যাধি, এর চিকিৎসা আছে। অসুধটার নাম যেন কি? মনে নাই এখন আর। মাঝে মাঝে মনে হয় সেই অসুধটা আমার খুব দরকার। এখানেও পাওয়া যায়, বেশ কিছুদিন আগে একবার গিয়েছিলামও ডাক্তারের কাছে। বুড়ো ডাক্তার, স্যরি - বুড়ী। তো - সে আমার জন্ম থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সব শুনলো দেড় ঘন্টা সময় নিয়ে। তারপর অনেক্ষন ভাবলো কি যেন। বললো - তোদের মত এশিয়ানদের ডিপ্রেশন কাটানো অনেক কঠিন। আমার সেকেন্ড হাজবেন্ড আর আমি দুই বছর ছিলাম ইন্ডিয়াতে। দেখেছি তোরা অনেক অল্পতেই অনেক বেশী ডিপ্রেসড হয়ে যাস, আবার খুব সামান্য কারনেই হ্যাপি হয়ে উঠিস। অষ্ট্রেলিয়ান হলে তোকে বলতাম - ক্লাবে যা - ড্যান্স কর, পাবে যা - ড্রিঙ্ক কর, বিচে যা - হ্যাভ ফান উইদ গার্লস - এন্ড স্পয়েল ইয়োরসেল্ফ। কিন্তু এটা তোর জন্য কাজে দেবে জানি, কিন্তু তুই কতটা করবি - সেটা আমি জানিনা। কারন এই তোর কথায় যতটা বুঝলাম - এই এডভাইজের জন্য তুই আমার কাছে আসিসনি। আমি তোকে ঘুমের অসুধ লিখে দেবো একটা, ভাল করে ঘুমা, ভালো ঘুম হলে মুড ব্রাইট হবে।
এরপর থেকে আর যাইনা ডাক্তারের কাছে। নিজে নিজেই চেষ্টা করি নিজেকে সামলে নেবার। বেশীরভাগ সময়েই পারিনা। কিন্তু একটা সময় মন ঠিকই ভাল হয়ে যায়। কিন্তু এবার মনে হয় মন সময় নিচ্ছে বেশী। গত তিন সপ্তাহের ওপর হয়ে গেলো, প্রচন্ড মুড সুইং করে। এই সপ্তাহের শুরু থেকে মেজাজটাও নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে গেছে। খুব অল্পতেই রেগে যাচ্ছি, স্বভাব বিরুদ্ধ আচরন করছি। অযথা মিথ্যে বলছি মানুষকে। কারও মেইল পেয়েও বলছি পাইনি, কারও কাছে ফোন করার কথা থাকলেও করছিনা, কেন এমন করছি তাও জানিনা। তবে এবার সিগারেট খাওয়া বাড়েনি আগের চাইতে। প্রতিদিন দশ বারটার বেশী না। আগে এমন হলে দিনে পঁচিশটার মত খেতাম।
চুলায় দু'কেজি গরুর গোস্ত রান্না বসিয়ে এসেছিলাম। ব্লগটা লিখতে লিখতে আর মনে ছিলোনা সেটার কথা। এখন গিয়ে দেখি তরকারি পুড়ে কয়লা। কি মজা। কি মজা। 






"কেন এমন করছি তাও জানিনা।"
উত্তরটা তোমার লেখাটাতেই আছে।
কই?
এর থেকে যদি ম্যানুয়ালি বের হতে চাও, সেটাও দিয়েছ।
তোরে কৈচে, তুই বেশি জানোস
মন খারাপ অবস্থায় লেখা ব্লগ পোস্ট পড়তে বেশী ভালো লাগে এইটা বুঝতে পারলাম...
আলুপোড়ার গন্ধ পাই
ধন্যভাত ভাইডি
মন মেজাজ যখন খারাপ থাকে, তখন মনে হয় সেই কবে থেকে মেজাজ খারাপ। যখন ভাল থাকে, তখন কিছু মনে করার মতো সময়ই থাকে না। ব্যস্ত হন, ভাল থাকুন।
রাত ১১টায় বের হয়ে এখন ফিরলাম, এখন সময় দুপুর ২.৫৩, এইটাই আমার ডেইলি রুটিন, সপ্তাহে সাতদিন, এতেও হবে না?
ইশ, গরুর মাংসটা খাইলেই তো মন ভালো হয়া যাইতো মনে হয়... আমার তো লোভইতাছে। আমার নিজেরও এই ভুল হয় খুব। রান্না চড়ায়া ব্লগে বসি, পুড়ে যায়। সেদিন পুড়লাম একটা মুরগী। তাও রাইত বারোটার সময়। এক বন্ধু আসছিলো, তার জন্য রানছিলাম। শেষতক দুই বন্ধুতে ডিমভাজী কইরা খাইছি...
[ এই কমেন্টের রিপ্লাই ৪ বার দিলাম, শেষ বার কোন লেখা ছাড়াই কমেন্ট পোষ্ট হইলো ... ]
তরকারী পুইড়া কয়লা হইয়া গেছিলো গো ভাইডি, খাওনের অবস্থা ছিলো না ...
শেষ পর্যন্ত দুই কেজি গরু পুইরা মন ভালো হইলো?
অনেক দিন পর...
নুশেরা আপার থেকে জানতে পারছি যে আপনি ভাল রান্ধেন ... কিন্তু গরুটারে এইভাবে পুড়ায় ফেললেন? ব্লগের কারণে গরু পুড়ছে, ব্লগ কমিটির কাছে ক্ষতিপূরণ চান
গরু পুইরা মন ভালো হয়! ঝানলাম কিন্তু গরু পুড়তে চাই না।অন্য কোন পদ্ধতি জানা নাই?
ব্লগের কারণে গরু পুড়ছে, ব্লগ কমিটির কাছে ক্ষতিপূরণ চান
অষুধটার নাম মনে পড়ছে- লুডিওমিল
এরকম অবস্থা হইলে ঘর বাড়ি আন্ধার কইরা পছন্দের গান ছাইড়া দিবেন । তারপর চোখ বুইজা গানের ভিতর প্রবেশ করবেন , দেখবেন দুনিয়াদারী কেমন ফক ফকা।
একবার কিছুদিন খুব ডিপ্রেশন চলছিল আমার। অফিস শেষ কইরা শুধু একটা গান শুনতাম - এইভাবে ঘর বাড়ী আন্ধার কইরা । গানটা হইলো - আনন্দ ধারা বহিছে ভুবনে ...
হ, ওষুদটার নাম লুডিওমিল। সিবা গেইগির ছিলো সেটা। তবে এডটা ছিলো ফাটাফাটি... ইয়ে, পোড়া গোশত দিয়ে মচমচা পরোটা কিন্তু বেশ....
হুম, মেয়েটা খুব ভালো ছিল দেখতে
খারাপ সময়ের পর ভালো সময় অবশ্যই আসে। টেনশেন করে লাভ নাই।
হ হ ইয়াদ আছে। একটা মাইয়া কাগজ ছিড়ে, মন খারাপ কইরা চেয়ারে বইসা থাকে...জোস ছিল বিজ্ঞাপনটা। আমরা কার মন খারাপ দেখলে বলতাম লুডিওমিল খা।
....তোমার ঐ ডাক্তারনী বেশি সুবিধার না....একজন ভালো ডাক্তার রোগীর জন্মের আগের থেইকা মৃত্যুর পর পর্যন্ত খবর নেয়....
যাই হউক, বৈদেশে একলা থাকলে মন টন এম্নিতেই খারাপ হবৈ, না হৈলে বুঝতে হৈবো, তোমার অসুখ আছে...!!
আর ডাক্তার দের স্পয়েল হওয়ার পরামর্শের মনে হয় একটা লজিক আছে..মানে, একটা আকাম দিয়া মনডা কোনো একটা ফিলিংসে(এইক্ষেত্রে অপরাধবোদ) ভরাইয়া, মন্খ্রাপ ভাবটা কাডানো, আমার ক্ষেত্রেও দেখছি, মনডা উচাটন হৈলে, অপ্রয়োজনীয় খরচ করলে(অনেক টাকা নষ্ট করলে), বা প্রোযনীয় এ্যসাইনমেন্ট সময় মত শেষ না কৈরা ঝাড়ি খাইলে মন খারাপ ভাবটা কাইটা যায়, যদিও এইডা মনে হয় স্বাস্থ্যকর সিস্টাম না..।
বাই দ্যা ওয়ে
বিষন্নতা একটি রোগ.....সীবা গেইগি.....(সীবা গেইগী অবশ্য এখন আমাগো দেশে নাই)
মন শীঘ্রই ভালো হৈয়া উঠুক....
মেজাজ খারাপ হইলে পানি খান!!!
মনোযোগ দিয়া রানতে হয়; এমনেরান্না নষ্ট করলে কিন্তু আমি তোমারেরান্নার অনুষ্ঠানের ভিজে থিকা বাদ দিয়া দিমু
ভাইয়া লিখতে গিয়ে রান্না তাই পুরে গেল?
আমি কি করি শুনেন, খুব যখন মন খারাপ হয়, একটা গান যত জোরে সম্ভব বাজাই, হেডফোনে, কানের কাছে...শুনতে শুনতে একসময় মাথায় ওই গানের লাইন গুলো ছাড়া আর কিছু থাকে না ...সাময়িক কিন্তু ভালো পদ্ধতি ...
আরেকজন আরেকটা জিনিষ করতে কইসে ...একা একা বাইর হয়া পড়া ...রাস্তায় রাস্তায়...
এইটাও টেষ্ট কইরা দেখসি, ভালো, তবে ঘুইরা বাসায় ফিরলে খুব ক্লান্ত লাগে, আর মন খারাপ আরো বাইরা যায় ...
মন্তব্য করুন