আজ জোনায়েদের জন্মদিন
ফজরের আজান হয়ে গেল
মুসুল্লিগন মসজিদে যাচ্ছেন
দিন শুরুর প্রথম নামাজ
আদায় করতে।
সাত বছরের মেয়ে মৌ
জড়িয়ে ধরে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছে।
কাজের বুয়া ও কয়েকজন আত্নীয়
অপারেশন থিয়েটারের সামনে ।
আমার প্রিয়তমা স্ত্রীকে নিয়ে গেছে
ওটিতে।
এটা তার দ্বিতীয় সিজারিয়ান।
বগুড়ার মৌ ক্লিনিকের ডাঃ গোলশান আরা
আমার স্ত্রীর শিক্ষক, সব ডাক্তার বিশেষ
পরিচিত ও যত্নবান।
তবু কিছু মুহুর্তে মানুষের মনটা
হয়ে যায় অতি দুর্বল।
আমারও তাই, দোয়া ইউনুস থেকে
যত দোয়া জানি, পড়ে যাচ্ছি।
মিনিট ৪০-৪৫ পর নার্স এসে
তোয়ালে জড়িয়ে আমার কোলে দিল,
পৃথিবীর সকল সুখ,সকল সম্পদসম
আমার ছেলে
জোনায়েদ মাসুদ হোসাইন(শিফাত)কে।
অবশ্য এটা আমার দ্বিতীয় পাওয়া
আমার মেয়ে একি ক্লিনিকে
একই সময়ে আমার কোলে এসেছিল
সাতটি বছর আগে।
একই বা তারচেয়েও বেশী অনুভূতিতে।
ঠিকমত পরিষ্কার হয়নি, রক্ত ও শ্লেষা
লেগে আছে ওর গায়ে,
তাতে কি চুমুর পর চুমু খয়ে যাচ্ছি।
ওর নানি বলল, পাগল হয়ে গেলে নাকি।
আজান দাও,
আমি লজ্জা পেলেও
আল্লাহু আকবার, আলাহু আকবার
আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান
ধ্বনিতে মৌ ক্লিনিকের চারদিকের
আকাশ বাতাসে ছড়িয়ে দিতে লাগলাম।
ততক্ষণে রাত শেষ
সকালের সূর্যের আভা
চার দিকে ছড়িয়ে পড়ছে,
বন্ধুগন আজ আমার ছেলের জন্ম দিন।
আমি আমার ছেলেকে তেমন কিছু দেইনি
তবু আমার ছেলে আমার গলা জড়িয়ে ধরে
বলল,
আব্বু তোমাকে অনেক আদর
তুমি আমাকে এত কিছু দিলে!
না বাবা,
আমি তো তোমাকে কিছু দিতে পারি না,
যিনি দেন বা দিবেন তিনি উপরে
এবং আমাদের সবার কাছেই আছেন।
আমি দোয়া করি
আল্লাহ তোমাকে
সত্যিকার মানুষ করে গড়ে তুলুন।
আপনারাও আমার ছেলের জন্য
দোয়া করবেন।
আমিন।।
২৩/০১৫/২০১৩ইং





শুভেচ্ছা ও দোয়া থাকলো!
ধন্যবাদ শান্ত ভাইয়্যা
নতুন অতিথির জন্য শুভকামনা
ধন্যবাদ ভাইয়্যা
অদ্ভুত সুন্দর লিখেছেন।
আমি এই ব্লগের অনেক বড় মাপের লেখকদের লেখা পড়ি আর মুগ্ধ হই। জীবনে কোথাও কখনো এক কলম লিখি নাই, এই ব্লগের লেখা পড়েই হয়ত সাহস বেড়েছে আমার। আমার দুর্বল লেখার জন্য ক্ষমা করবেন।
আপনার, আপনার পরিবার আর নতুন অতিথি'র জন্য আমার অনেক শুভেচ্ছা আর দোয়া থাকলো।
আপনার মত অবস্থা আমারও। সত্যি এখানে অনেক গুনি লেখকরা লেখেন। আপনার ও আপনার পরিবারের প্রতিও রইল শুভেছা ও দোয়া।
শুভেচ্ছা ও দোয়া থাকলো!
ধন্যবাদ আপু।
মন্তব্য করুন