ইউজার লগইন

কেন মেঘ আসে হৃদয়ও আকাশে

আমি যখন বাইরাইন প্রবাসী তখন ওখানকার পরিবেশ,ধর্মীয় বিষয়ে (বিভিন্ন ধর্ম)পড়াশুনা, বড় ভাইয়ের মৃত্যু মানষিক ভাবে আমাকে ভীষণ দুর্বল করে তোলে। আমি নিয়মিত ধর্ম পালন ও পারলৌকিক বিষয় নিয়ে অনেক চিন্তা ভাবনা করতে লাগলাম। এ ভাবনা চিন্তার মাত্রা এক সময় এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে আমার মানষিক অশান্তির কারণ হয়ে দাড়ায়। আমার কাছে পৃথিবীর যাবতীয় বিষয় অতি তুচ্ছ মনে হতে লাগল। নিছক এ পৃথিবী, আর এর জন্য এত কষ্ট। তারপরও পরকালে যে শাস্তির বর্ননা দেয়া আছে সে সব চিন্তায় কিছুই ভাল লাগছিল না। আমি তখন আমাদের কোম্পানির ম্যানেজার ইঞ্জিনিয়ারিং হায়দ্রাবাদী বুজুর্গ খান সাহেবের সাথে কথা বলি। সময়টা ছিল এশার নামাজের পর। খান সাহেব কিছুক্ষন চুপ করে থেকে আমাকে নিয়ে আবার মসজিদে প্রবেশ করলেন। এটা কোম্পানির অফিসারদের থাকার জন্য বাসস্থান ও অফিস সংলগ্ন মসজিদ। তিনি আমাকে সুরা জুমার ১০ নম্বর আয়াত পড়তে দিলেন এবং ইংরেজীতে যে অর্থ লেখা আছে তা পড়তে বললেন।
৬২:১০ ফাইযা কুদিয়াতিছ্‌ ছালাতু ফান্‌তাশিরূ ফিল্‌ আর্‌দ্বি ওয়াব তাগূ মিন্‌ ফাদ্বলিল্লাহ।
অর্থঃ নামাজ সমাপ্ত হলে তোমরা জমিনে বাইরে ছড়িয়ে পড়বে এবং আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ সন্ধান করবে।
আল্লাহ্‌ তাঁকে স্মরণ করতে বলার পাশাপাশি দুনিয়াতে উনি যে নেয়ামত দিয়েছেন তোমার প্রয়োজন মিটানোর জন্য তা অর্জন করতে হবে। তুমি যে ভাবে ভাবছ তাতে আল্লাহ্‌ প্রদত্ত নিয়ামত থেকে নিজেকে বঞ্চিত করছ। আর এটা তোমাকে যে মানষিক কষ্ট দিচ্ছে তা তোমার নিজের সৃষ্ট আর তা একেবারেই ঠিক নয়। আরও অনেক কথা তিনি আমাকে বললেন। আমি প্রতিদিন উনার সাথে কিছু সময় ব্যয় করতে লাগলাম। একসময় আমি আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এলাম। এমন সময় একদিন নেট থেকে কয়েকটি গান ডাউনলোড করলাম। তার মধ্যে একটি গান ছিল,
মাঝে মাঝে তব দেখা পাই
চিরদিন কেন পাই না
কেন মেঘ আসে হৃদয়ও আকাশে
তোমারে দেখিতে দেয় না।
মাঝে মাঝে তব দেখা পাই
চিরদিন কেন পাই না

বিশ্ব কবির লেখা এই গানটি শুনলাম আর আমার জীবনের সাথে মিলিয়ে দেখলাম হুবুহু মিলে যাচ্ছে। আমি কিছুদিন ইবাদতে মশগুল হই তো কিছুদিন আবার নাই। কিছুদিন আবার সঙ্গীত চর্চায় মশগুল তো কিছুদিন তাতেও নাই। লেখালেখির ক্ষেত্রেও তথৈবচ। আজ দু লাইন লিখি তো আবার কালকে নাই।
আমি যে কখন কি করি বা করব আমি নিজেই জানি না।
এ অনিয়মিত প্রার্থনার মাঝেও মধ্যরাতের প্রার্থনায় আমার নিজের অজান্তেই আমার মত ক্ষুদ্র ও গুনাহগার বান্ধার হাত আমার আত্নীয় নয় এবং একজনকে আমি চিনলেও তিনি আমাকে চিনতেন না। তাদের একজন হলেন বি,এন,পির মরহুম মহাসচিব আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া, আর অন্যজন আমার এলাকার অনেকের চোখে খারাপ ( মদ খাওয়া, মেয়ে মানুষ নিয়ে ফুর্তি করা) একটি ছেলে কাজল। প্রথম জনের ব্যাপারে আমাকে কেউ প্রশ্ন করলে আমি কিছু বলতে পারব না। আমি রাজনীতি করি না। উনার মৃত্যুর আগে কখনও উনাকে নিয়ে ভেবেছি মনে করতে পারি না। তবে দ্বিতীয় জনের ব্যাপারে আপনাদের সাথে কয়েকটি কথা শেয়ার করব।
আর কেঁদেছিলাম দুজনের জন্য একজন হুমায়ুন স্যার। উনার মৃত্যর পর আমার একটি লেখা উনাকে উদ্দেশ্য করেই লিখেছিলাম( কিছিকো কইব নাকো স্বপ্নে দেখিলে)। আমি যখন এ লেখাটা লিখি তখন আমি আমরা বন্ধুর সদস্য ছিলাম না। আর যেহেতু পুরাতন লেখা ব্লগে দেয়ার উপর নিষেধাজ্জা আছে তাই দেয়া হয়নি। তবে জনাব মডারেটর অনুমতি দিলে আমার হুমায়ুন স্যারকে নিয়ে লেখাটি আমার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করব।
আজ অফিস থেকে এসে কেঁদেছি বি,টি,ভিতে আতিকুল হক স্যারের আর্ক্রাইভ সাক্ষাৎকার দেখে। স্যার শেষে, সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তরের পর্বের প্রথম প্রশ্নে,
আপনার কাছে চিরন্তন সত্য কি?
মৃত্যু।
তিনি বলেছেন আমরাও জানি, বন্ধুরা তোমরা বল তারপরও আমার কেন তাঁর জন্য কান্না আসবে? তিনি আমার বা আমি উনার রক্তের কেউ তো না। তিনি বাংলাদেশকে গ্রহীতা নয় দাতার হাতে দেখতে চেয়েছেন এবং আশাবাদ ব্যক্ত করে গেছেন, একদিন বাংলাদেশ সে অবস্থানে পৌছবে। দেশকে ভালবাসা এমন জনেরা একে একে চলে যাচ্ছেন, আমরাও একদিন চলে যাব। তবে যাবার আগে উনার মত করে একবার হলেও দেশকে যেন সবাই ভালবাসতে পারি। (চলবে)

পোস্টটি ৩ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

নিভৃত স্বপ্নচারী's picture


চলুক...

আহসান হাবীব's picture


ধন্যবাদ ভাইয়া

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

আহসান হাবীব's picture

নিজের সম্পর্কে

তোমার সৃষ্টি তোমারে পুজিতে সেজদায় পড়িছে লুটি
রক্তের বন্যায় প্রাণ বায়ু উবে যায় দেহ হয় কুটিকুটি।।
দেহ কোথা দেহ কোথা এ যে রক্ত মাংসের পুটলি
বাঘ ভাল্লুক নয়রে হতভাগা, ভাইয়ের পাপ মেটাতে
ভাই মেরেছে ভাইকে ছড়রা গুলি।।
মানব সৃষ্টি করেছ তুমি তব ইবাদতের আশে
তব দুনিয়ায় জায়গা নাহি তার সাগরে সাগরে ভাসে।
অনিদ্রা অনাহার দিন যায় মাস যায় সাগরে চলে ফেরাফেরি
যেমন বেড়াল ঈদুর ধরিছে মারব তো জানি, খানিক খেলা করি।।
যেথায় যার জোড় বেশী সেথায় সে ধর্ম বড়
হয় মান, নয়ত দেখেছ দা ছুড়ি তলোয়ার জাহান্নামের পথ ধর।
কেউ গনিমতের মাল, কেউ রাজ্যহীনা এই কি অপরাধ
স্বামী সন্তান সমুখে ইজ্জত নেয় লুটে, লুটেরা অট্টহাসিতে উন্মাদ।
তব সৃষ্টির সেরা জীবে এই যে হানাহানি চলিবে কতকাল।
কে ধরিবে হাল হানিবে সে বান হয়ে মহাকাল।।