“কিছিকো কইবো নাকো ,স্বপ্নে দেখিলে......।।"
দুটি গপ্ল বলি,
প্রথমে যে গল্পটি বলব তা অনেক ক বছর আগে ১০০বিখ্যাত ব্যক্তির জীবনী গ্রন্থের একটি কাহিনী তাই ঘটনায় বর্নিত বুজুর্গ গনের নাম মনে নেই। তবে কাহিনীটি পুড়োপুড়ি মনে আছে।
ঘটনাটি এরকম,
প্রত্যেক এলাকা বা সমাজে বখে যাওয়া এমন দু একজন ছেলেপেলে থাকে যারা উঠতি বয়সে এহেন খারাপ কাজ নেই যা করে না। ইরাকের বাগদাদে ঠিক এমনিই একটি ছেলে ছিল। সকলেই তাকে এড়িয়ে চলত। মেয়েদের তো কথাই নেই। একদিন তার কি মনে হলো সে আছরের নামাজ পড়ার উদ্দেশ্যে মসজিদে প্রবেশ করল। অজুখানায় প্রবেশ করে অজু করছিল। বলা বাহুল্য, অজুখানার কিছু অংশ উচু জায়গায় এবং কিছু অংশ নিচু জায়গায় অবস্থিত ছিল। সে উচু জায়গায় বসে অজু করছিল। এমন সময় তখনকার বিখ্যাত বুজুর্গ আধ্যাতিক সাধক(সম্ভবত হাসান বসরী রঃ) মসজিদে প্রবেশ করে নিচু জায়গায় অজু করতে বসলেন। উচু জায়গায় বসে যে ছেলেটি অজু করছিল তার ব্যাপারটা পছন্দনীয় হয়নি। সে ভাবল এত বড় বুজুর্গ নীচে অজু করবে আর আমি উচু জায়গায় বসে অজু করবো এটা হয়না, সে যথারীতি উচুস্থান থেকে নীচুস্থানে নেমে অজু করে নামাজ পড়ল। কয়েকদিন পড় ছেলেটি মারা গেল।
ছেলেটি মারা যাবার কদিন পর ঐ বুজুর্গ ব্যক্তি স্বপ্নে দেখেন ঐ ছেলেটি বেহেশতের বাগানে ছুটাছুটি করছে এবং ভীষন খুশি। বুজুর্গ ব্যক্তি তাকে প্রশ্ন করল তুমি এখানে কি করে এলে ? তুমি দুনিয়াতে যে সকল অপকর্ম করেছ, তাতে তো তোমার দোজখে থাকার কথা। ছেলেটি বলল হ্যাঁ জনাব আপনি ঠিকই বলেছেন,আমারও দোজখে যাবারই ফয়সালা হয়েছিল। দোজখের ফেরেস্তারা যখন আমাকে দোজখের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল,বেহেশতের ফেরেস্তারা করুণ দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকাছিল। তখন আল্লাহ সোবহানা তায়ালার কাছ থেকে নির্দেশ এল, ওর তো বিচারের ফয়সালা হয়েই গেছে তবুও ওর আমলনামাটা আরও একবার আমাকে দেখাও। নির্দেশ পালিত হল। যা দেখা যায় সবই হতাশার, অতঃপর এল সে দৃশ্য,আপনাকে দেখে আমি নীচে নেমে এসে অজু করলাম। ওই দৃশ্যটি আল্লাহ সোবহানা তায়ালা বার বার দেখতে লাগলেন। অতঃপর ফেরেস্তাদের বললেন, মানলাম সে অনেক গুনাহ করেছে কিন্তু যে ব্যক্তি আমার নেক বান্দার প্রতি এত সন্মান দেখাল তাকে আমি দোজখে দিতে পারি না। আমি আল্লাহ তাকে মাফ করে দিলাম। (সোবহানাল্লাহ)।
এবার দ্বিতীয় গল্পটি আমার এক সময়কার মেস রুমমেট কুমিল্লার ইঞ্জিনিয়ার সাহেবের কাছ থেকে শুনা(উনার নামটি মনে নেই)। গল্পটি এরূপ,
এক পরহেজগার ব্যক্তি নামাজ রোজাসহ ধর্মীয় সকল বিধিনিষেধ মেনে চলত। কারও কোন অন্যায় করত না। তাই সে বলত আমি মরে গেলে আল্লাহ আমাকে জান্নাত দিবেন। কারন আমিতো তার কোন হুকুম আমান্য করিনা। যা হউক একদিন ঐ ব্যক্তি মারা গেলেন। হিসেবের ফেরেস্তা মুনকার নাকির এসে তাকে প্রশ্ন করল “ মান রাব্বুকা?” সে প্রশ্নের কি উত্তর দিবে তার যে পানি পিপাসাতে বুক ফেটে যাছে। সে ফেরেস্তাদের বলল আমি সব প্রশ্নের জবাব দিব আমাকে আগে এক গ্লাস পানি দাও। তৃষ্ণায় আমার বুক ফেটে যাচ্ছে। ফেরেস্তারা বলল,বিনিময় ছাড়া তো এখানে কিছু দেয়া হয়না। লোকটি বলল আমি তোমাদের কি বিনিময় দিব আমার তো এখানে কিছুই নেই। ফেরেস্তারা বলল, দুনিয়াতে তুমি যে নেকি অর্জন করেছ সে নেকি দাও। লোকটি বলল না নেকি দেয়া যাবে না। ফেরেস্তারা বলল, তাহলে আমরাও পানি দিতে পারব না। এদিকে পিপাসা আস্তে আস্তে বাড়তে লাগল। কি আর করা লোকটি বলল,ঠিক আছে দু,আনা নেকি নাও তবুও আমাকে পানি দাও। ফেরেস্তারা বলল, না তোমাকে পুরো নেকি দিতে হবে। এদিকে পানির তৃষ্ণা বাড়তে বাড়তে এক পর্যায়ে এমন অবস্থা হল যে, লোকটি তার সারা জীবনের অর্জিত সব নেকির বদলে এক গ্লাস পানি নিল। এখন সে নেকি শূন্য, আর মৃত্যুর পর কেঊ নেকি শূন্য হলে তার পরিনতি কি হবে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না।
ঊপরের গল্প দুটি থেকে আমরা কি পেলাম। আল্লাহ সোবহানা তায়ালা যেমন রহমানির রহিম, তেমনি সাধিদুল ইকাব। অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালা যেমন দয়ার সাগর, তেমনি শাস্তি দিতেও কঠোর,বান্দার অহংকার করার কোন সুযোগ নাই।
হুমায়ুন স্যার আপনার মৃত্যুর সংবাদ আমি সকাল বেলা শুনার পর মনের অজান্তেই চোখের কোণে পানি নেমে এল। আপনি তো আমার আত্নীয় নন। আপনার সাথে কোনদিন সরাসরি দেখাও হয়নি। শুধু মাত্র আপনার কয়েকটি উপন্যাস পড়েছি আর শ্যামল ছায়া নামক টেলিফিল্মটি কয়েকবার দেখেছি। একটি ছোট্ট টেলিফিল্মে এত বেশী ঘটনা ও বিনোদনের সম্ভার ছিল যে কয়েকবার দেখতে বাধ্য হয়েছি।
স্যার আপনার দুটি টিভি সাক্ষাৎকারের কিছু অংশ দেখেছিলাম। একটি সাক্ষাৎকারে আপনি বলেছিলেন একটি কচ্ছপের আয়ু হয় সাড়ে তিন শ বছর অথচ মানুষের আয়ু মাত্র ৬০ থেকে ৭০ বছর। মানুষের জীবনের সকল আকাংখা পুরন করতে হলে কয়েক জনম দরকার। সত্যি তাই...।
স্যার আজ আপনি আমাদের কাছ থেকে না ফেরার দেশে চলে গেছেন। তাই বলে ৬০ থেকে ৭০ এর মাঝে ৬৪ তেই যাবেন তা তো কখনও ভাবিনি। সেখানে আপনি কেমন আছেন জানি না, জানার সুযোগও নেই। তবে আমার প্রার্থনা আল্লাহর কাছে, হে আল্লাহ আমাদের গুনাহর শেষ নেই,তারপরও তুমি বলেছ মানুষের গুনাহ করার ক্ষমতা সীমিত আমার ক্ষমা করার ক্ষমতা অসীম। তুমি প্রথম গল্পের মত হুমায়ুন স্যারকে কোন না কোন উছীলায় ক্ষমা করে দিয়ে তোমার সন্মানিত স্থানে স্থান দাও।
চেনেল আই তে ছোটদের সঙ্গীত প্রতিযোগিতার একটি আসরের বিচারকের ভুমিকায় ছিলেন হুমায়ুন স্যার ও শাওন ম্যাডাম। অনুষ্ঠানটি মাঝে মাঝে দেখার সুযোগ হতো,তবে নুহাশ পল্লীতে সর্বশেষ যে অনুষ্ঠানটি হয়েছিল তার একটি গান আজ খুব মনে পড়ছে। গানটি চিটাগাংয়ের আঞ্চলিক ভাষায় চিটাগাঙয়েরই একটি মেয়ে গেয়েছিল। গানটির স্থায়ীটা এরকম।
বাইত্তো আইত্তো নো আই তুই
নিশিরও কালে এ ......।
মা বাপের অ লাগাই দিবও
মাইনসে দেখিলে।
গানটি গাওয়া শেষে হুমায়ুন স্যার বলেছিলেন, যদিও গানের কথাগুলো পুরাপুরি বুঝতে পারিনি তবে তার সুর ও গায়কি আমাকে মুগ্ধ করেছে।
সত্যি গানটির সুর এতই মধুর এবং এত সুন্দর করে মেয়েটি গেয়েছিল যে আমিও মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। গানটির মানে আমিও পুরাপুরি বুঝতে না পারলেও অর্থটা মোটামোটি এরকম।
“হে বন্ধু নিশি রাতে চুপিচুপি তুমি যখন তখন এভাবে আমাদের বাড়ীর আশপাশ এসো না। পাড়ার কোন মানুষ দেখলে মা বাবাকে বলে দিবে।"
স্যার তুমি তো না ফেরার দেশে চলে গেছ ওখান থেকে তো কেউ আসতে পারে না, আমি তো বুজুর্গ না যে তোমাকে স্বপ্নে দেখব। তাই বলছি তুমি কি পারবে না ওভাবে লুকিয়ে লুকিয়ে আসতে, আমাদেরকে বলে যেতে কিভাবে তুমি লিখতে,কিভাবে তুমি বাংলাকে,বাঙ্গালীকে,বাংলাদেশকে এত ভালবাসতে। তা না হলে তোমার লেখার ধারা ও সৃষ্টিকে কে বাঁচিয়ে রাখবে। তোমাকে যে আসতেই হবে কারন তুমি চিকিৎসার মাঝখানে দেশে এসে শেষ সাক্ষাৎকারে বলেছিলে ডাঃ বলেছে তুমি সুস্থ হয়ে যাবে,দেশে এসে এটা করবে ওটা করবে। ক্যান্সার হাসপাতাল বানাবে।
তুমি যে কথা দিয়ে কথা না রাখার পাত্র নও, তাই তুমি আসবে অবশ্যই আসবে।
বাইত্তো আইত্তো আইও তুই
নিশিরও কালে এ ......।
কিছিকো কইবো নাকো
স্বপ্নে দেখিলে......।।
মোঃ আবুল হোসেন (জীবন)
২১সে জুলাই,২০১২
উত্তরা,ঢাকা,





মন্তব্য করুন