ইউজার লগইন

REOSA এর ইফতার পার্টি ও দোয়া মাহফিল

দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকার কারনে আমার সিরিজের অনেক বন্ধুকেই স্মৃতিতে হাড়িয়ে ফেলেছিলাম। বন্ধু মিজানের মাধ্যমে BITRAJ85 এর সদস্য হবার পর কিছুদিনের মধ্যেই স্মৃতি ঝালাই হয়ে গেল। অনেককে প্রথম দেখায় চিনতে না পারা বা নামের সাথে অবয়বের সামঞ্জস্য করতে না পারার জন্য কত যে পাঞ্চ বা কথার কাঁটা সহ্য করেছি, কিন্তু তাতে কোন আপত্তি বা লোকসান হয়নি। স্মৃতিতে হাড়িয়েছিলাম বন্ধুকে, ফিরে পেলাম বন্ধু, ভাবি আর আল্লাহ্‌র দেয়া অমুল্য রতন, ভাস্তা, ভাস্তি। ওরা শুধু অমুল্য রত্ন নয়। আরও অনেক কিছু। অনেক গুনে ওরা গুনান্বিত। দেশের বাড়িতে আমার সঙ্গীত সাথি তবলা বাদক রেখে এসেছি। তাই আর সংগীত চর্চা করতে ইচ্ছা করে না। ঢাকায় একজন তবলচিকে নিতে তাদের যে বায়না আর টাইম সিডিউল, তাতে ছেড়ে দে মা কেদে বাঁচি অবস্থা, গান করি সখে তার জন্য আর তবলচি নিতে মন চায় না, কখনও সখ চড়ে গেলে, শুধু হারমোনিয়ামেই সাধ মিটাই। সত্যিকার অর্থে তবলা বাজানো অনেক কঠিন। আমি কয়েকবার চেষ্টা করেও ডেডিকেশনের অভাবে তা আর হয়ে উঠেনি। আর এ কঠিন কাজটি যখন একজন বন্ধুর ছেলে পারে জানতে পারি, তখন মনটা অনেক বড় হয়ে গেল। ওরা অর্থাৎ আমাদের তরুন প্রজন্মরা যে অনেক সম্ভাবনাময় তা আমি আমার অনেক লেখায় লেখেছি। আমি জোর গলায় এটাও বলি বাংগালীরা অনেক মেধাবী। পরিবেশ ও সুযোগ পেলে ওরা অনেক বড় বড় কর্ম করতে পারে এটা আমার অভিজ্জতা থেকেই বলছি।
পাশ করার পর থেকে দেশের বাইরে থাকায় REOSA সম্পর্কে আমার কোন ধারনা ছিল না। এবার আই ই বির নির্বাচনের সময় জানলাম। এর কিছুদিন পর ফেবু ওপেন করার পর REOSA তে লেখা দেবার সুযোগটা কেমন করে জানি হয়ে গেল। ভাঙ্গাচোড়া যাই লিখি তাই দেই। তাতেই উপর ও নিচের সিরিজের অনেক নতুন বন্ধু পেলাম। বুয়েটের বাপ লেখার পর অনেক সাড়া ও উৎসাহও পেলাম। বন্ধুর সংখ্যাও বাড়ল অনেক।

সেদিন যখন ইফতার মাহফিলের দাওয়াত পেলাম একই দিনে প্রকৌশলী মোঃ কাম্রুজ্জামান এফ-১০৯০০, ৯৪ সিরিজ এর Friend request এবং সাথে উনার মাধ্যমে আবার ইফতার পার্টির দাওয়াত পেলাম, তখন নিজে একা না গিয়ে বন্ধুদের ফোন করে পাল্লা ভারি করতে লাগলাম। সত্যি কথা আমি কবে কখন পার্টিতে যাব, উপর নীচের বড় ও ছোট ভাইদের এতদিন পর দেখতে পাব। কেমন জানি একটা অন্যরকম কোতুহল। আমার প্রিয় কবির কবিতা আবৃতিকার ৮৪ সিরিজের কালাম ভাইকে যদি পেয়ে যাই। আহ্‌ কেউ কথা রাখেনি আবৃতি করে আমাদের কি আনন্দটাই উনি দিতেন। আমার ফুটবল মাঠের চির প্রতিদ্বন্দ্বী চশমা পড়া মোজাম্মেল ভাইকে, নাসিম ভাইকে যদি পেয়ে যাই।
কিছু লোক সব জায়গায় থাকে যারা গাছে চড়িয়ে মই কেড়ে নেয়। আমাদের মধ্যেও আছে। হেন করেংগা তেন করেংগা, বাদ মে কোছ নেহী করেংগা। যাক বন্ধু মশিউর রাজি তো আর কি চাই। কারন ও আমার সবচেয়ে কাছের প্রতিবেশি। ইকবাল ডি,এম নুরুল হুদা , মেইলে দেখলাম শুভ কিবরিয়া আসছে,আর কি চাই। প্রিন্স মেইল করেই শেষ। ওকে না আসার মাসুল তো দিতে হবে। কোন ছাড় নাই।
যাক আশা মাটি হয়নি। মালয়েশিয়া প্রবাসী বাদলকে পেলাম ২৩ বছর পর। ফেবুতে একে অপরকে আক্রমণ প্রতি আক্রমণে সর্বদাই নিয়োজিত থাকি। আর ইদানিং যেন এটা নেশায় পরিণত হয়েছে। ও একটা পাক্কা চোর। আমার প্রতিটা লেখা চুপি চুপি পড়ে, কিন্তু কোন মন্তব্য করে না। কালকে এসছে পাঞ্জাবি পড়ে ও তো সব সময়ই নেতা, কাল পাক্কা নেতার মতই লাগছিল। দোয়া করি ও, লতিফ, ইকবাল যেন দল থেকে নমিনেশন পায়। যাক কালকে দেখা হবার পর সে কি অনুভূতি,একেবারে ভাষাতীত। ওর কফির দাওয়াত আমি রাখতে পারিনি, যানজট ও উত্তরায় যেতে হবে বলে। বোনাসের উপর মহা বোনাস জুন্নুর কাদের ভাইয়ের সাথে দেখা হওয়া। তাও ২২ বছর পর। উনার সাথে শেষ দেখা আই, ই বিতে। মেম্বার হবার জন্য ফরম পূরন করে আই, ই, বিতে গেলাম। ঢুকার মুখে জুন্নুর ভাইয়ের সাথে দেখা। কারন জিজ্ঞেস করেই আমার হাত থেকে ফাইল নিয়ে উনাকে অনুসরণ করতে বললেন। কয়েক মিনিটে কাজ শেষ। ঐ দেখাই ওনার সাথে সামনা সামনি শেষ দেখা। এখানে একটা কথা বলি, জুন্নুর কাদের, দোহা, মোস্তাক ও আরও কয়েকজন ভাই ছিলেন যেন ছোট ভাইদের উপকার করতেই উনারা বি, আই,টিতে ভর্তি হয়েছিলেন। উনার সৌম্য চেহেরার মধ্যে কালও তা খুঁজে পেয়েছি। অবশ্য ফেবুতে প্রায়ই সাক্ষাৎ হয়, লেখালেখির মাধ্যমে। কাল যখন উনি আমাকে বললেন তোমার সব লেখা আমি মন দিয়ে পড়ি। আমি রিতিমত অভিভুত হলাম। তাই কোন জবাব দিতে পারিনি। জুন্নুর ভাই আপানারা উৎসাহ দেন বলেই এত ব্যস্ততার মাঝেও ছাই পাশ যা পারি লিখি। দোয়া করবেন যেন যতদিন বেঁচে আছি লিখতে পারি।
আরও কয়েকজন বড় ভাইয়ের সাথে দেখা হল। ফেবুতে পরিচিত কয়েকজন ভাইয়ের সাথে কথা হল। তার মধ্যে আমার দিনাজপুরের পার্বতীপুরের এক ভাইও আছে।
যাক ইফতার পার্টি পরিপাটি গোছানো সর্বোপরি ভাল হয়েছে। যারা এর আয়জনে ছিলেন প্রশংসা করে ছোট করব না, তবে এত যানজটের মাঝেও উপস্থিতি সন্তোষজনক। আমাকে উৎসাহিত ও মহিমান্বিত করেছে, প্রবীন বড় ভাইদের উপস্থিতির সংখ্যা দেখে। উনারা আজ আমাদের ও দেশের অসীম সম্পদ। শুধু কি তাই বি,আই, টিতে ভর্তি হবার আগেই বাবাকে হাড়িয়ে ছিলাম। আজ ডায়াসে যখন শ্বেত শুভ্র বাবার বয়সি বড় ভাইদের দেখছিলাম, কেমন জানি ঐশ্বরিক একটা প্রশান্তি পাচ্ছিলাম। মনে হচ্ছিল কেমন জানি একটা ভরসার বা আশ্রয় স্থলে আমরা আছি। কাল আসার পর আফসোস হচ্ছিল, ২২টি বছর যদি ২২টি REOSA ইফতার পার্তিতে যোগ দিতাম, তবে এ বড় ভাইদের সাথে আরও ২২ বার মিশার সুযোগে আরও কত অপূর্ণতা পূর্ণ করতাম। REOSA তুমি স্বার্থক। তুমি আছ বলেই আমরা ক্ষনিকে কে কোথায় কি ভাবে আছে জানতে পারি। যারা এর সদস্য নয় তাদের সদস্য করার আরও একটু সহজ ব্যবস্থা করা যায় কিনা ভেবে দেখবেন। নেটের মাধ্যমে সদস্য হওয়ার সুযোগ করা যায় কি না?
কয়েক দিনের মাঝে আমরা আমাদের দুজন বড় ভাইকে হারালাম। তাই মনটা খানিক দুর্বল। কিছুদিন আগে হারালাম ৮৩ সিরিজের মল্লিক ভাইকে। এরও আগে আমাদের ৮৫ সিরিজের গিয়াসকে। এসেছি যেতে তো হবেই, তাও মনটা কেঁদে উঠে , তাই মরহুম হুমায়ুন স্যারের আবেগময় গানটি দিয়ে শেষ করতে চাই।

আমার ভাঙ্গা ঘরে, ভাঙ্গা চাল, ভাঙ্গা বেড়ার ফাঁকে।
অবাধ জোছনা ঢুইকা পড়, হাত বাড়াইয়া ডাকে।
হাত ইশারায় ডাকে কিন্তু মুখে বলে না
আমার কাছে আইলে বন্ধু আমারে পাইবা না।
আমার ভাঙ্গা ঘরে, ভাঙ্গা চাল, ভাঙ্গা বেড়ার ফাঁকে।
অবাধ জোছনা ঢুইকা পড়, হাত বাড়াইয়া ডাকে।

তুমি আমায় ডাকলানাগো তুমি রইলা দূরে
তোমার হইয়া অবাক জোছনা ডাকলো অচিন সুরে
হাত ইশারায় ডাকে কিন্তু মুখে বলে না
আমার কাছে আইলে বন্ধু আমারে পাইবা না।
আমার ভাঙ্গা ঘরে, ভাঙ্গা চাল, ভাঙ্গা বেড়ার ফাঁকে।
অবাধ জোছনা ঢুইকা পড়, হাত বাড়াইয়া ডাকে।

ঘর খুলিয়া বাহির হইয়া জ্যোৎস্না ধরতে যাই
হাত ভরতি চান্দের আলো ধরতে গেলে নাই
হাত ইশারায় ডাকে কিন্তু মুখে বলে না
আমার কাছে আইলে বন্ধু আমারে পাইবা না।
আমার ভাঙ্গা ঘরে, ভাঙ্গা চাল, ভাঙ্গা বেড়ার ফাঁকে।
অবাধ জোছনা ঢুইকা পড়, হাত বাড়াইয়া ডাকে।

জুলাই,২১ ২০১৩খ্রীঃ

পোস্টটি ৪ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

আহসান হাবীব's picture


বাংলাদেশ

সামছা আকিদা জাহান's picture


ভাল লাগল। আমার ও দেখা হল এবার ২৮ বছর পর বন্ধুদের সাথে। ভাল থাকুন।

আহসান হাবীব's picture


ব্লগে নিজের প্রতিষ্ঠানের কাউকে পেয়ে ভাল লাগল। ভাল থাকবেন।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

আহসান হাবীব's picture

নিজের সম্পর্কে

তোমার সৃষ্টি তোমারে পুজিতে সেজদায় পড়িছে লুটি
রক্তের বন্যায় প্রাণ বায়ু উবে যায় দেহ হয় কুটিকুটি।।
দেহ কোথা দেহ কোথা এ যে রক্ত মাংসের পুটলি
বাঘ ভাল্লুক নয়রে হতভাগা, ভাইয়ের পাপ মেটাতে
ভাই মেরেছে ভাইকে ছড়রা গুলি।।
মানব সৃষ্টি করেছ তুমি তব ইবাদতের আশে
তব দুনিয়ায় জায়গা নাহি তার সাগরে সাগরে ভাসে।
অনিদ্রা অনাহার দিন যায় মাস যায় সাগরে চলে ফেরাফেরি
যেমন বেড়াল ঈদুর ধরিছে মারব তো জানি, খানিক খেলা করি।।
যেথায় যার জোড় বেশী সেথায় সে ধর্ম বড়
হয় মান, নয়ত দেখেছ দা ছুড়ি তলোয়ার জাহান্নামের পথ ধর।
কেউ গনিমতের মাল, কেউ রাজ্যহীনা এই কি অপরাধ
স্বামী সন্তান সমুখে ইজ্জত নেয় লুটে, লুটেরা অট্টহাসিতে উন্মাদ।
তব সৃষ্টির সেরা জীবে এই যে হানাহানি চলিবে কতকাল।
কে ধরিবে হাল হানিবে সে বান হয়ে মহাকাল।।