আপনি কোন পক্ষে?
কোলকাতার উপন্যাস নিয়ে বাংলাদেশে সিরিয়াল নির্মাণ করেছেন এবং ভবিষ্যতে করবেন কিছু নির্মাতা। সম্ভবত আফসানা মিমি থেকে শুরু হয়েছে, শেষ খবর জানলাম গোলাম সোহরাব দোদুলের কথা - যারা এ লাইনে নেমেছেন। কোলকাতার বা ওপার বাংলার যা যা নির্মাণ হলো/ হবে বাংলাদেশে
১। কাছের মানুষ
২। সাতকাহন
৩। গর্ভধারিণী
৪। কফি হাউজের গান
৫। এছাড়াও সুনীল ও শীর্ষেন্দুর (নাম মনে করতে পারছি না)
আর বাংলাদেশের উপন্যাস নিয়ে কোলকাতায় সিরিয়াল হয়েছে -
১। আমার জানামতে একটাও না
ঠিক কী কারণে বাংলাদেশের নির্মাতারা কোলকাতার উপন্যাস নিয়ে সিরিয়াল বানান। পরিচিত, বিখ্যাত উপন্যাসিকদের নামে তাদের সিরিয়ালের বাণিজ্য ভালো হয়? নাকি ওদের উপন্যাসে সিরিয়াল বানালে শিল্পের ক্ষুধাটা মিটে?
অথবা বাংলাদেশের উপন্যাসের মান যথোপযুক্ত নয়? নাকি ওপার বাংলার পটভূমিতে রচিত এইসব উপন্যাসগুলো বাংলাদেশের ভূমি-বায়ু-চরিত্রে চিত্রায়ণটাই স্বাভাবিক। শুধু 'বাতিটা নিভিয়ে দাও' পরিবর্তন করে 'লাইটটা অফ করে দাও' - স্ক্রিপ্টে এটুকু পরিবর্তন করলেই হয়।
আমি কোলকাতার উপন্যাস নিয়ে বাংলাদেশে টিভি সিরিয়াল বানানোর বিপক্ষে। আপনি কোন পক্ষে?





প্রথমেই বলি, কাছের মানুষ এর নাট্যরূপ আমারই করা। বেশ কয়েকটা পর্ব পরিচালনাও আমার।
সেই হিসেবে আমি আপনার বিপক্ষ দলীয়। তবে শত্রুপক্ষ না।
এবার বলি,
১. বাংলাদেশেও পরিচিত বা বিখ্যাত উপন্যাসিক আছেন। ব্যাপক জনপ্রিয় উপন্যাসিকই আছেন। ফলে শুধু পরিচিত বা বিখ্যাত উপন্যাসিক এখানে মূল বিবেচ্য না।
২. শিল্পের ক্ষুধা মেটে না কখনো, এটা বলে লাভ নাই। আর সিরিয়াল নাটকে শিল্পের কোনো ব্যাপার নাই। এটা রুটিন ওয়ার্ক।
৩. শুধু 'বাতিটা নিভিয়ে দাও' বদলে 'লাইটটা অফ করে দাও' লিখলেই রূপান্তর হয় না। উল্টো খাটনি বেশি। সেই বিস্তারে যাওয়ার প্রয়োজন দেখি না।
৪. মানের বিষয়টাতে আমার বিবেচনা পুরাই উল্টা। আমি মনে করি সিরিয়াল বানাতে ভালো সাহিত্যকে না ঘাঁটাই ভালো, ভালো সাহিত্যগুলো তোলা থাক ফিল্মের জন্যই। বড় বড় নির্মাতারা অসাধারণ ফিল্ম বানাবেন অসাধারণ উপন্যাস দিয়ে।
৫. সিরিয়ালের যারা টার্গেট দর্শক, বিশেষ করে মেগা সিরিয়াল... তারা বেশি ক্ষেত্রেই একটু প্যানপ্যানানি সামাজিক পারিবারিক গল্প, গল্পের ভেতরের আড়াল গল্প এগুলো পছন্দ করে। এগুলোর জন্যই আমরা কাছের মানুষরে বাইছা নিছিলাম।
উপন্যাস হিসেবে আমারে জিগান, আমি নির্দ্বিধায় এইটার প্রথম প্যারা পইড়াই বাতিল করে দিমু। এ ধরণের উপন্যাস আমার জন্য প্রযোজ্য নহে। আর সেজন্যই মনে করি, প্যানপ্যানানি একটা দীর্ঘ ধারাবাহিকের জন্য এটাই ভালো হবে হয়তো...
৬. আপনি যে কয়টার নাম দিয়েছেন, এর বাইরেও কিছু হয়েছে। তবু সব মিলিয়ে খুব বেশি সংখ্যার না। তারচেয়ে ঢের বেশি নাটক হয়েছে দেশী উপন্যাস নিয়ে। কিংবা অন্যভাষী সাহিত্য নিয়ে। তাহলে শুধু কোলকাতার উপন্যাসকেই কেন নিয়ন্ত্রণের ঘেরাটোপে বাঁধতে হবে ভাই? সাহিত্যগুলো পড়তে পারলে নাটকে কী সমস্যা করলো?
আপনার ১ নম্বরের উত্তরে - তাইলে কোলকাতার উপন্যাস বাইছা নেয়া কেন? প্যানপ্যানানির ব্যাখ্যা কাছের মানুষের ক্ষেত্রে দিছেন। বাকিগুলার ক্ষেত্রে?
২ নম্বরের উত্তরে - সিরিয়াল নাটকে অবশ্যই শিল্পের বিষয় আছে। বতর্মান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে নাই - এইটা লিখ্যা দিতে পারতেন। বাংলাদেশে এইটারে রুটিন ওয়ার্ক বানানি হইছে। মূলত অর্থনৈতিক কারণ আর চাহিদ মিটানির লাইগা।
৩ নম্বরের উত্তরে - খাটনি তো বেশি হইবই। কলকাতারে ঢাকা বানাইতে কষ্ট তো হইবই। আমি তো মনে করি এই কষ্ট একটা সিরিয়াল স্ক্রিপ্ট লেখনের চাইতেও বেশি। কিন্তু আপনেরা তারপরও কেন এই হুদাই কষ্টটা করেন?
৪ নম্বরের উত্তরে - ঠিক আছে।
৫ নম্বরের উত্তরে - মানলাম না। ঠিক এইরকম উদ্দেশ্য আছিল না মনে হয় আপনাদের। প্যানপ্যানানি লিখতে পারেন আপনারা। বন্ধন খারাপ তো বানায় নাই আফসানা মিমি। সামাজিক গল্পের দোহাই দিয়া কাছের মানুষ বাইছা নেয়া যুক্তিযুক্ত মনে হয় নাই।
৬ নম্বরের উত্তরে - বাধাবাধিতে আমারও আপত্তি আছে। কিন্তু একই টাইপের ট্রিটমেন্ট না পাইলেই সমস্যা করি। মেসবাউর রহমান সুমন 'কফি হাউজ' বানাইল কী মনে কইরা? স্রেফ জনপ্রিয় গানের ফায়দা লুটতে চাইছে। নাটক যে দামেই বেচা হোক নাম ও হাকডাক হবে। এইটা একটা দিক হইতে পারে কলকাতার উপন্যাস বাইছা নেয়া। অন্যান্য ভাষাভাষীর সাহিত্যরে টাইনা আনানোর দরকার নাই। এ বিষয়টা আপনারে বোঝানোরও কিছু নাই। এই জায়গায় যুক্তিটা ওইরকম - উর্দুরে যেমন শুধুমাত্র বিদেশী ভাষা ভাবতে পারি না। পাকিস্তানরে যেমন শুধুমাত্র ক্রিকেট খেলুড়ে দেশ হিসেবে সাপোট করার যুক্তি পাই না।
আমি তো কাছের মানুষের কথাই বলবো, অন্যগুলোর ব্যাখ্যা আমি কীভাবে দেবো?
বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের নাটক নিয়েই যেহেতু আলাপ হচ্ছে, তাহলে সেটা লেখার দরকার কী? আপনি তো এই প্রেক্ষাপটের কথাই জিগাইছেন, উত্তরও সেই প্রেক্ষাপটেই হইছে।
আমার যেহেতু বিদেশে কামলা দেওয়ার অভিজ্ঞতা নাই, তাই অন্যদেশের কথা জানা নাই। দেশে এটা রুটিন ওয়ার্কই। প্রফেশন। নাটক বানাই বলে আমাদের অর্থনৈতিক চাহিদার বাইরে গিয়ে কাজ করতে হবে, এরকম দায় ঘাড়ে নিবো কেন?
আমাদের কষ্ট করতে ভালো লাগে, তাই আমরা কষ্ট করতে ভালোবাসি। আমাদের কষ্টটা আমাদের শ্রমেই যাক, আপনার আরাম বজায় থাকুক, আমেন।
আমাদের কী উদ্যেশ্য ছিলো, সেটা আমার চেয়ে আপনি বেশি জেনে ফেলাটা ঘোড়া ডিঙ্গায়া ঘাস খাওয়ার মতো হইলো। সেই চেষ্টা না করাই ভালো।
বন্ধনের লেখক চারজনের আমিও একজন। এখানে বলে রাখি- ধরা যাক মাছরাঙ্গা এবং কৃষ্ণচূড়া মিলায়া এখন পর্যন্ত মোট ৫টা মেগা ধারাবাহিক নাটক বানাইছে। তার ৪টাই মৌলিক কাহিনীর। একটা কেবল উপন্যাসের নাট্যরূপ। আমার নাটক লেখার বয়স ১২ বছর। এই বারো বছরেও আমি অসংখ্য মৌলিক লেখছি, দেশী বিদেশী উপন্যাস গল্পের নাট্যরূপ দিছি। কোলকাতার উপন্যাস একটাই... আপনি পরিসংখ্যানটা খেয়াল করে তারপর কথা বলেন।
মেজবাউর রহমান সুমন ভালো নির্মাতা হিসেবে দেশে সুপরিচিতই আছে। তার অন্য নাটকের চেয়ে কফি হাউজের জনপ্রিয়তা কম। আর সে কী মনে কইরা বানাইলো তা আমার জানা নাই। অন্যের উদ্দেশ্য তার নিজের চেয়ে আমি ভালো জেনে ফেলার চর্চাটা এখনো রপ্ত করি নাই।
বস... এখানে একখান কথা আছে। উর্দু হিন্দীর লগে বাংলারে বিচার করতে আমি নারাজ। তাইলে আমি রবীন্দ্রনাথরে কই ফালামু? কই ফালামু জয় গোস্বামী, শঙ্খ ঘোষ, শক্তি চট্টোপাধ্যায়রে? তারাশঙ্কর, মানিক, বিভূতি?
তারপরও বলি... আমি নিজেও কোলকাতার উপন্যাস নিয়ে নাটক বানানো খুব পছন্দ করি তা না। করলে সবই তাই করতাম। কিন্তু তাই বলে এটা করাটা অন্যায়ও মনে করি না। আপনি দেখেন যাদের নাম বলছেন, তারা কেউই কোলকাতার উপন্যাসের জোয়াড়ে ভেসে যাচ্ছেন না। একটা দুটো কাজ করছে তবে বেশিরভাগ কাজটাই হচ্ছে মৌলিক গল্প নিয়ে।
আচ্ছা... আমি সামনে বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায় নিয়ে একটা কাজ করছি। সেটা কোন পক্ষে যাচ্ছে?
নিয়মিত মিডিয়ায় কাজ করে 'আমার কথা আমি বলব অন্যদেরটা জানি বা বলি কী করে' বলাটা আপনার পাশ কাটানো মনে হইল। অন্যেরা কী মনে করে এইটা আপনি বলতে পারবেন ভাবছিলাম। আপনার চাইতে আমি এক্ষেত্রে ভালো ভাবি বা বলি টা কী করে। আপনি পাশ কাটিয়ে বাঁচলেন।
যে কোনো প্রফেশনই তো রুটিন ওয়ার্ক বলা যেতে পারে। এই রুটিনের মধ্যে থেকেই তো সবাই নতুন কিছু করার চেষ্টা করে। আপনিও করছেন। নয়তো আপনার নাটক/ সিরিয়ালও 'গুলশান এভিনিউ' হইত। কোথাও কেউ নেই, কিংবা এইসব দিনরাত্রিরে কি আপনি শুধুই রুটিন ওয়ার্ক বলবেন। মোদ্দা কথা অর্থনৈতিক চাহিদার মধ্যে থেকেও কিছু করা যেতে পারে।
আপনার চেয়ে বেশি জানি কিনা জানি না তবে জানার মধ্যে আছি, থাকব। এভাবে না করতে পারেন না। আমাকে এই জানার চেষ্টার মধ্যেই থাকতে হয়।
আপনি ১২ বছরে একটাই কলকাতার উপন্যাসের সিরিয়াল বানাইছেন। ভালো কথা, কিন্তু পোস্টের মূল সুর অন্য জায়গায়। ধরতে পেরেও কেন আপনার হাত পিছলে বেরিয়ে যাচ্ছে সেটাই ধরতে পারছি না।
যেসব লেখকদের নাম কইলেন তারা নমস্য। এমনকি আমি সুনীল শির্ষেন্দু সমরেরশর বিরোধিতাও করছি না। কিন্তু তাদের উপন্যাসরে রাত জাইগা ঢাকাইয়াকরণ/ বাংলাদেশীকরণ করাটারে নিরর্থক মনে করি।
ভেসে যাচ্ছেন অনেকেই। সাম্প্রতিককালে দোদুল বলেছেন, জলপাইগুড়িতে শুটিং করতে যাবেন। আপনি অবশ্যই জানেন অথবা আপনার বন্ধু সৈনিককে জিজ্ঝেস কইরেন ওইখানে গিয়া কাগো টেকনিকাল হ্যাণ্ডস নিয়া কাজ করতে হইব। অর্থ, সময়, লোকবলের লস কারদের হবে?
একজন আমারে কইল ভারতে সূর্যসেন নিয়া ছবি হচ্ছে। কোনো ভারতবাসী তো আপত্তি করে নাই। উত্তরে আমি কইছি মহাত্মা গান্ধীরে নিয়াও বাংলাদেশে ছবি হোক আমার আপত্তি নাই। আপনারে একথাটা বললাম কারণ বিভূতিরে নিয়া যে কাজ করবেন সেইটার জন্য হালের এই সুনীল শীর্ষেন্দু বানানির হিড়িকরে প্রশ্রয় দেওয়ার কোনো মানে নাই। বিভূতি নিয়া আপনার উদাহরণ এক্ষেত্রে ঠিক হয় নাই।
ঠিকাছে, তাইলে ব্যক্তির জায়গা থেকে বের হয়ে বলি...
আপনি যে ধারণার উপর দাঁড়িয়ে এই পোস্ট দিয়েছেন, তার একটা হলো কৈশোরে পড়া উপন্যাসের নাট্যরূপ দেখলে দর্শকের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ কাজ করবে, প্রচার ভালো পাওয়া যাবে। আর দ্বিতীয়ত হলো- ওরা আমাদেরকে এক্সেস দিচ্ছে না, আমরাও দিমু না।
[ধারণা ভুল হলে শুধরে দিতে অনুরোধ রইলো] উত্তর পেতে চলুন একটু অন্য প্রসঙ্গে যাই, আপনি সাতকাহন, দূরবীন এগুলো পড়েছেন? আমার ধারণা অনেকেই পড়েছেন। এগুলোর প্রতি একধরণের ভালো লাগা শুধু দর্শক পাঠকের না, মাঝে মধ্যে নির্মাতারও কাজ করে। সেই জায়গা থেকেও অনেকে করেন। কোলকাতায় আমাদের বই যেতো না, তাদেরটা আসতো। এর কুফল হয়তো। আমাদের লেখকরা ওপার বাংলা দখল করতে পারলে হয়তো ওপারেও হবে। জোর করে কিছু হয় না।
আপনি নিজেই কিন্তু বলছেন বইগুলো এদেশে জনপ্রিয় বলেই নাটকগুলো জনপ্রিয় হওয়ার চান্স আছে- এই ভেবে নির্মাতারা বানাচ্ছেন। তারমানে মূল সমস্যা বইগুলোর জনপ্রিয় হওয়া। ওদের বই এদেশে জনপ্রিয় না হলে সেগুলো নিয়ে নাটকও হতো না।
একটা পয়েন্ট বলি আপনাকে, ওরা রিফিউজটা প্রথমত করে পাঠক হিসেবে। নাটক হিসেবে না। হুমায়ুন আহমেদ এদেশে অনেক জনপ্রিয় হলেও ওপারের পাঠক তাকে বর্জনই করেন। কিন্তু আমরা পাঠক হিসেবে ওদের উপন্যাসিকদের দাদা বলতে অজ্ঞান। এই চর্চাটা আগে ঠেকাতে হবে।
ধারণার প্রথম অংশ ঠিক আছে। দ্বিতীয় (এক্সেস) পুরোপুরি ঠিক না।
এছাড়া কমেন্টের বাকি অংশের পুরো একমত।
ছোটবেলা বা তরুণ বয়সের পড়া এইসব উপন্যাসগুলোর প্রতি মুগ্ধতা থেকেই নির্মাতারা উৎসাহী হন। এটাকেই আমি প্রধান কারণ বলে মনে করি। অর্থনৈতিক লাভ যে খুব একটা হয় তা নয়। কিন্তু এই মুগ্ধতার বিষয়টি ছাপিয়ে এক ধরনের দায়িত্ববোধ আশা করি নির্মাতাদের কাছ থেকে। না পেয়েই আমার প্রতিবাদ।
আর মুগ্ধতা থেকে নির্মিত এসব নাটক খুব একটা উপাদেয় হয় না। স্থান-কাল-পাত্র-পটভূমিতে সমস্যা রয়ে যায়। বাংলাদেশীকরণ করতে যে খাটুনি দিতে হয় তাতে আরও কম খাটুনিতে দেশী উপন্যাস নিয়ে ভালো কাজ সম্ভব।
আমাগো দেশের গল্প বাদ দিয়া কোলকাতার জনপ্রিয় উপন্যাসের এই নাট্যরূপ আসলে কতোটা কার্য্যকরী হয় তা নিয়া আমারো সন্দেহ আছে। আমি এই ট্রেন্ডের বিরোধীতা হয়তো করুম না...কিন্তু বেসিক ঝোঁকটা আমারো নেতিবাচক লাগে...
কলকাতার উপন্যাসিকদের বাংলাদেশ ভ্রমণের সূচিতে দুইএকটা উপন্যাস বেচনের এজেণ্ডাও থাকে।
দেশে সাহিত্যের খরা কি আইসা গেছে? সারা বছরে দুই একটা বানাইলে ঠিক আছিল। কিন্তু এখন রীতিমতো ঘোষণা দিয়া এসব ফাজলামো শুরু হইছে।
আমাগো দেশে সাহিত্যের খরা হয় নাই, তয় ভারতে এখন বেশিরভাগ ঔপন্যাসিকই টিভির কথা মাথায় রাইখা বই লিখে, হলিউডে যেমন ম্যুভির কথা ভাবা হয়। কিন্তু আমাগো সাহিত্য বেশির ভাগ সময়েই নির্ভেজাল সাহিত্য...যেইখানে ইমেজের সৌন্দর্য্য হয়তো থাকে কিন্তু মিজো'সিনের বেলায় দেখা যায় কিছু সাহিত্যিক পরিভাষারে ইনকর্পোরেট করা যায় না। কারণ শব্দ-বাক্য-ভাষারীতি প্রধান হয় লেখকের কাছে, এইটাই স্বাভাবিক।
সবচাইতে জনপ্রিয় কোন সাহিত্যিক নাটকের বাছাবাছির বেলায়? উত্তর হইলো সমরেশ মজুমদার। সেতো রীতিমতো টিভি সিরিয়ালের ক্লীফ হ্যাঙ্গারের মতোন বইয়ের অধ্যায় শেষ করে। এই যে টুইস্ট সেইটা একজন নির্মাতার কষ্ট কমাইয়া দেয়।
আমি শিল্পের আন্তর্জাতিকতায় বিশ্বাসী। কিন্তু তাই বইলা যেই মানুষ আমার সংস্কৃতিরে অন্য যে কারো চাইতে ভালো বুঝে তারে রিজেক্ট কইরা না। তাই আমার পাশে বইসা থাকা গল্পকারের গল্প থেইকা স্ক্রিপ্টিং আমার কাছে বেশি প্রয়োজনীয় লাগে। জীবনবোধে একাট্টা হওনটা আমার কাছে জাতীয়তাবোধের চাইতে অধিক গ্রহণযোগ্য...
বাজার সংস্কৃতি এই যূগে কারো বই ফেরি কইরা বেচনটা হয়তো আমার কাছে এথিক্যাল ঠেকে না, কিন্তু তারে ঠেকাইতে চাওয়াটা সামাজিক অর্থে অপরাধও কইতে পারিনা...ডিলেমায় থাকি...
যেই পরিমান চ্যানেলের যেই পরিমান এয়ার টাইম, শুধু কোলকাতা কেন, কোরিয়া জাপানের কাহিনী আইনা নাটক বানাইলেও পুরা টাইম কাভার কর্তার্বোনা...
বস্তাপঁচা নাস্তা টাইপ খাস্তা খবিশ নাটক বানানের চাইতে, দেশের বাইরের কাহিনী আনলেই বা সমস্যা কি? তয় প্রতিযোগীতামুলক হৈলে ভালো, দখলদারী হৈলে খ্রাপ...আর শুধু কলকাতা না হৈয়া, অনেক দেশের কাহিনী আনলে মজাই হয়...অখনকার ফারুকী আর লাভলু স্টাইলের বাইরেও কিছু পাইতাম আরকি..
ওরা করে না-- আমরাও করবো -- এই যুক্তিতে যেতে আমি নারাজ ।
ওরা করে ঠিকই -- ওরা হিন্দি থেকে করে, তামিল থেকে করে । ঠেকায় পরলে পাশ্চাত্য থেকেও আইডিয়া নিয়ে আসে।
--
আমি মনে করি না পশ্চিম বাংলা উপন্যাসে নাটক করলে আমাদের কোন সমস্যা হবে। বরং মনে হয় আমরা একটু মুক্ত হাওয়া বেশী থাকি তাদের চাইতে ।
--
তবে পশ্চিমবাংলার নাক উচু ভাব ধরলে কেউ সাথে সাথে তারে বর্জন করা উচিত ।
আমি পক্ষে ।
পশ্চিম বাংলা কেন, সারা বিশ্বের সাহিত্য থেকে নাটক বানানো হোক বাংলাদেশে আমার কোনো আপত্তি নাই।
কিন্তু সাহিত্যের দোহাই দিয়ে এসব কাজ হচ্ছে না, এটাই বলতে চাইছি। জনপ্রিয় উপন্যাসগুলোর ফায়দা (নামের কারণে আগেই হিটের আশা) লোটার কারণ। তরুণ বয়সে পড়া এইসব উপন্যাসগুলোর প্রতি মুগ্ধতা কাজ করছে পেছনে ...
আর পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বন্ধন সমান্তরাল নয়। এটাও একটু ভেবে দেখা দরকার।
কোলকাতার সাথে সাংস্কৃতিক যে কোনো টাইপ লেনদেনের আমি তীব্র বিরোধী। ঐখানে বাংলা চ্যানেলগুলা পর্যন্ত একসেস পায় না, আমরা কোন মুখে ওখানকার সাহিত্য নিয়ে কচলাকচলি করি? মিডিয়ার এই একসেস না পাওয়ার ঘটনার পর থেকে আমি কোলকাতার বই পড়া ছেড়ে দিছি।
বাংলা চ্যানেল প্রচারের ক্ষেত্রে যতোদূর জানি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কিছু করার নেই। কেন্দ্রীয় সরকারের কিছু নিয়মনীতির কারণে বিষয়টি ঠেকে আছে। তারপরও সাংস্কৃতিক বন্ধনটা জরুরি। এতে বাংলাদেশী মুভি, বই, থিয়েটারের পরিচিতি ঘটে। কিন্তু ওদের্ উপন্যাস নিয়ে আসলেই আমরা বেশি কচলাকচলি করি। বাংলাদেশের কোনো উপন্যাস নিয়ে ওরা তো সিরিয়াল নির্মাণের ধারই ধারে না - বরং শমী কাইজার আর তানবীর মকাম্মল লিখে ভেবে নেয় আমরা এতেই সুখী। আমগো নির্মাতাগো মাথায় এসব তখন থাকে না সুনীল সমরেশ শীর্ষেন্দুর কথা ভাবতে গেলে
কেন্দ্রীয় সরকার হোক আর জাহান্নাম হোক, কিছুই যায় আসে না। নাক-উঁচাদের কাজ নিয়া আমার নাক আমি বোঁচা করতে রাজি নই। যতোদিন না চ্যানেলগুলা একসেস পাবে, আমি অখাদ্য-কুখাদ্য হুমায়ূন আহমেদ পড়লেও সুনীল-সমরেশ-শীর্ষেন্দু বয়কট করে যাব। একইভাবে এদের বানানো কাহিনীতে নাটক-সিনেমা হলে সেটাও বয়কট।
ভাঙা পশ্চিমবঙ্গ বা কেন্দ্রিয় সরকার বাংলাদেশি চ্যানেল এর এক্সেস বন্ধ করার জন্য কোন আলাদা নীতিমালা করে নাই; ওদের দেশে যখন স্টার মুভিজ, ইএসপিএন যায় তখনো ওদের নীতিমালা মাইনা এক্সেস পাইতে হয়; আমরা যদি সেই নীতিমালা মাইনা এক্সেস নিতে না পারি বা সবকিছু মেনে এক্সেস নেয়াটাঅলাভজনক মনে করি ঐটা আমাদের ব্যার্থতা।
নীতিমালাটা কি? আম্রা ঠিক কোন ধারায় আটকা পড়ছি?
সম্ভবতঃ নীতিমালা না; প্রদর্শনের শর্ত টাইপ কিছুতে বনে নাই, ঘটনা এমন...
কলকাতার একটা চ্যানেলে কবীর সুমন সাক্ষাৎকার নিতেন ব্যক্তিত্বদের, এনায়েতউল্লাহ্ খানের (হলিডের সম্পাদক) এক সাক্ষাৎকারে আলাপ দেখছিলাম এই বিষয়ে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে করণীয় আর কিছু নাই এমনই মনে হয়েছিলো তাদের কথায়... কয়েক বছর আগের ঘটনা এখন অবস্থা কী জানা নাই
এ প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের ব্লগার দিগন্ত জানিয়েছেন।
বরং শমী কাইজার আর তানবীর মকাম্মল লিখে ভেবে নেয় আমরা এতেই সুখী। আমগো নির্মাতাগো মাথায় এসব তখন থাকে না সুনীল সমরেশ শীর্ষেন্দুর কথা ভাবতে গেল
এইটা ওদের জন্ম দোষ, এইটা থেকে বের হইতে পারবে না। আমিও আজকাল মেইলে আমার নামের ভুল যে লিখেছে দেখেছি সাথে সাথে আমিও তার নাম বিকৃতি করে লিখে উত্তর দেই। আমি হারামী নাম্বার ওয়ান
যতগুলা নাটক বললেন তার মধ্যে শুধু কাছের মানুষ এর কয়েক পর্ব আমি দেখসিলাম আমার খারাপ লাগে নাই আর ঐ নাটক টা আমার মা খুব পছন্দ করে দেখত।
আমি আসলে কোন দেশের উপন্যাস নিয়া নাটক বানাতেই সমস্যা দেখিনা; আর মেগা সিরিয়াল এর পেছনে বানিজ্যটাই প্রধান আর আমি এইটারে দোষের ও মনে করিনা; যেইসব হাবিজাবি কোন কাহিনী ছাড়াই দিনের পর দিন চলতে থাকে তার চাইতে একটা উপন্যাস নিয়া ধারাবাহিক বানাইলে অন্তত একটা কাহিনী থাকে। আর গত কয়েক বছরে এক ঘন্টার নাটক এরবড় অংশ ছিলো ইংলিশ সিনেমা আর পশ্চিম বঙ্গের "শুধু তোমারি জন্য" এর বিভিন্ন পর্বের নকল। আর মেগাসিরিয়াল গুলা হিন্দি সিরিয়ালের নকল অথবা ভাই ব্রাদারদের উচ্চসরে একি মদ একি বোতলে ঢাইলা খাওয়ানোর চেষ্টা, সেইখানেও তো কোন বাংলাদেশ খুইজা পাওয়া যায় না
এই পোষ্টে সকালে কমেন্ট দিমু। অহন ঘুমানো দরকার। নজরুল ভাইয়ের কমেন্ট ভালা লাগচে। এইডা কই যাই।
বেলা বোস নিয়াও একটা বিচ্ছিরি নাটক হইছে।
@নজরুলঃ বিভূতিভূষণের কোন গল্প ধরতেছেন? একটা গল্প আছে 'তিরোলের বালা', পইড়া দেখতে পারেন।
সেটা এখন বলবো না। অথবা কানে কানে বলতে পারি। ফেসবুকের মেসেজ পাইবেন
আমরাবন্ধুতে অলৌকিক হাসানকে স্বাগতম।
আপনার এই বিষয়ের লেখা নিয়ে কথা বলার পূর্ব অভিজ্ঞতা খুব সুবিধার না :P। যাই হোক, সেই ঐতিহাসিক পোস্ট থেকেই নিজের একটা কমেন্ট কপি করি।
কাছের মানুষ নিয়ে একটা ঘটনা।
)। অনেকরকম প্রতিক্রিয়ার পর ওই পরিকল্পনা থেকে তখন জোট সরকার সরে আসে।
আমরা তখন সিলেটে থাকি। জাফর ইকবাল স্যারের সিলেটের বাসায় টিভি নেই। স্যার মাঝেমধ্যে আমাদের বাসায় এলে টিভি দেখতেন; মজার ব্যাপার প্রতিবারই কোন না কোন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু তখন স্যারের নজরে চলে আসত (যেটা এমনিতে পরদিন পেপার থেকেও উনি জানতেন)। সেরকম একবার একমুখী শিক্ষাব্যবস্থা (এসএসসি পর্যন্ত সবাই সব সাবজেক্ট পড়বে, কলেজে গিয়ে বিজ্ঞান-মানবিক-বাণিজ্য ভাগ হবে) চালুর পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ছাত্রছাত্রীদের অসন্তোষের দৃশ্য দেখলেন স্যার। পরদিনই বিষয়টা জেনে প্রথম আলোয় সেটা নিয়ে কলাম (আমাদের কথাও একটু করে থাকতো
বেশ কিছুদিন পর আবার একবার স্যার-ম্যাডাম এলেন। তখন টিভির পর্দায় কাছের মানুষের ঐ পর্বটা- যেখানে মেয়েগুলো কলেজে ভর্তি হবে। কলকাতার শিক্ষাব্যবস্থা অনুযায়ী উপন্যাসে সেরকম আছে; কলেজে উঠে সায়েন্স-আর্টসে আলাদা হয়ে যাবে ওরা। নাট্যরূপ দিতে গিয়ে সেটা তো আর বদল হয়নি (ধর্ম আর আত্মীয়তার সম্বোধন বদলানোর ব্যস্ততাই কম না
)। স্যার দেখে অবাক। আমি মজা করে ম্যাডামকে বললাম, একমুখী শিক্ষাব্যবস্থার বিরুদ্ধে স্যারের এত আন্দোলন তো বৃথা গেল!
কলেজে উঠে সায়েন্স-আর্টসে আলাদা হয়ে যাবার ঢাকাই সমস্যা বা সমাধানটা একটু বলবেন? জানতে আগ্রহী
কোন সমস্যা নাই। ঢাকায় কিন্ডারগার্টেনে টুলো পণ্ডিত নস্যি টেনেও ক্লাস নিতে পারে। নাটকই তো, বিনোদন।
না বস, নাটকের জন্য না, আমি সত্যি সত্যিই জানতে চাইছি উপন্যাস থেকে নাট্যরূপের সময় কী পাল্টানো জরুরী ছিলো। ভুল হতেই পারে, আমি নিজে এক গোমূর্খ ব্যক্তি।
তাই বলে সারাজীবন ভুল জেনে বসে থাকলে তো হবে না। প্লিজ তথ্যটা জানান।
ব্রিটিশ শাসিত ভারতবর্ষে শিক্ষাব্যবস্থায় এন্ট্রান্স বা প্রবেশিকা পরীক্ষা বলে একটা কিছু ছিলো। স্কুল সমাপ্তির পরীক্ষা, সবাই একই সিলেবাসে পড়তো। তারপর কলেজে গিয়ে সায়েন্স কমার্স আর হিউম্যানিটিজ আলাদা হতো। আমাদের এখানে এটা সংশোধিত হয় সম্ভবতঃ পাকিস্তান আমলে, স্কুল পর্যায়ে ক্লাস নাইন থেকে বিভাগগুলো আলাদা হয়ে যায়। ভারতে বেসিকটা পাল্টায়নি, অন্ততঃ কলকাতার গল্পউপন্যাসে সেই নমুনা পাওয়া যায়।
স্কুল পর্যায়ে নাইন-টেনে বিভাগগুলো এক করে সবাইকে অভিন্ন সিলেবাসে পড়তে ও পরীক্ষা দিতে হবে (খেয়াল করুন, কলকাতা বা ভারতে এমন নিয়ম চালু) এইরকম একটা প্রস্তাব নিয়ে গত জোট সরকার অনেকদূর এগিয়েছিলো। শিক্ষকরা মিশ্র প্রতিক্রিয়ায় ছিলেন, বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকরা প্রাইভেট পড়ানোর বাড়তি সুযোগ পেতেন বলাই বাহুল্য। কিন্তু ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের প্রতিক্রিয়া ছিলো বিরূপ। আন্দোলনের মুখে সরকার সিদ্ধান্ত স্থগিত বা বাতিল করে।
ওই ঘটনার কাছাকাছি সময়ে কাছের মানুষের নাট্যরূপে এই বিষয়টা খেয়াল করলে ভালো হতো।
তাহলে সম্ভবত আমরা ভুল করিনি।
আমাদের এখানে ক্লাস নাইন থেকে আলাদা হয়ে যায়, আমি নিজে যেহেতু এই তরিকায় পড়েছি, তাই ভুলে যাবার কথা না। ভুলে যাইনিও।
কিন্তু এসএসসি পর্যন্ত সায়েন্স নিয়ে পড়ার পর কলেজে উঠে অনেকেই আর্টসে বা কমার্সে শিফট করে।
নাটকে সেই ব্যাপারটাই ঘটেছে। কলকাতার কিছু না।
দর্শকের ভুল বোঝার দায় নাট্যকারকে নিতে হয় মাঝে মধ্যে... (কান্দিবার ইমো)
ভুল কিন্তু করছেনই নজুভাই, সেটা নাটক দেখে বোঝাও যায়, যতোই বেনিফিট অফ ডাউট নিতে চান না কেন।
তবে অস্বীকার করার উপায় নাই, আপনি চিন্তাভাবনার পরিশ্রম অনেক করছেন। সন্ন্যাসী হতে চাওয়া তিতিরের ইচ্ছায় ভ্যালেরি টেলরকে নিয়ে আসছেন, তার জন্য একটু গল্পও ফাঁদছিলেন মনে আছে। আমার কথা হইলো, এতো খাটনির কিছুটা বাংলাদেশের গল্পউপন্যাসের জন্যও দেন না। এখন ইন্সট্যান্ট সবকিছু চায় বেশীরভাগ মানুষ, পাঠকের চেয়ে দর্শকই বেশী। আপনি একটা ভালো নাটক বানালে সে সুবাদে কোন নতুন পাঠক যদি অচেনা মাহমুদুল হক, শাহরিয়ার কবীর, রাহাত খানের গল্পউপন্যাসের দিকে হাত বাড়ায়, তার চেয়ে ভালো আর কী হতে পারে। তারেকের সুবাদে অনেক বছর পর আবার কালো বরফ আর খেলাঘর পড়লাম, কালো বরফ নিয়ে নাকি একটা নাটক বা ফিল্ম কিছু বানানো হয়েছে গ্লিটজে খবর দেখেছি, খেলাঘর নিয়ে কিছু করেন না কেন! শুধু বর্ষাকাল আর জলমগ্ন গ্রাম দরকার, বাকী সব তো আপনাদের জন্য পান্তাভাত (পনের বছর আগে হলে আন্নার চরিত্রে ত্রপা মজুমদার কী দারুণ চয়েস হতে পারতো)!
ওরে, আমি তো বেনিফিট অফ ডাউট চাইতেছি না, ভুলটা কী করছি সেটা জানতেই চাইতেছি।
এতো খাটা খাটনির সব কোলকাতার পিছে ব্যায় করি এইটা ভাবলেন? বারো বছরে মোটে একটা কলকাতা মারছি, বেশিরভাগই মৌলিক...
সত্য কথা কিন্তু আগেই বলছি, আমি ভালো উপন্যাসগুলো নাটকে খরচ করতে আগ্রহী না। বড় হলে ফিল্ম বানাবো। মাহমুদুল হক, শাহরিয়ার কবির তো আছেনই। রাহাত খানের 'অমল ধবল চাকরী' তো চোখে লেগে আছে। আবুল খায়ের মুসলেহউদ্দিনের চর আতরজান নিয়ে অনেক আগে ভাবনা ছিলো... বা শওকত আলীর দক্ষিণায়নের দিন... এরকম অসংখ্য উপন্যাস পড়ে চোখে লেগে গেছে... কিন্তু আমি নিজেকে এখনো প্রস্তুত মনে করি না। তাই এগুলো রেখে দিয়েছি। আমি সত্যিই মনে করি এগুলোকে নষ্ট করার অধিকার আমার নাই। ক্ষ্যাপ মেরে খাই, সেগুলো ক্ষ্যাপই থাকুক। যখন নিজেকে প্রস্তুত দেখবো, তখন এগুলো নিয়ে কাজ করবো।
তবে এখন আমি দুটো উপন্যাস নিয়ে কাজ করছি। দুটোই আমার অনেকদিনের স্বপ্ন। একটার কথা আগে বলেছি- বিভূতিভূষণ... আরেকটা একেবারেই বাংলাদেশের... চমক আছে... নামটা এখন বলছি না... কপিরাইটের ব্যাপারে কথা চলছে।
আচ্ছা ঠিক আছে, আগামী বারো বছর আর কলকাতা "মাইরেন" না
রাহাত খান, শওকত আলীর দু'টোই ক্লাস! এমনকি আবুল খায়ের মুসলেহউদ্দিনেরও কিছু কিছু লেখার নাট্যরূপ আকর্ষণীয় হবার কথা।
বিভূতিভূষণ এবং ... এর লেখা থেকে কাজের জন্য
দেখার অপেক্ষায় থাকলাম।
"কলেজে উঠে সায়েন্স-আর্টসে আলাদা হয়ে যাবে ওরা।" -- আমরা মানে বংলাদেশের বর্তমান শিক্ষা ব্যাবস্হায় নবম শ্রেণীতেই সায়েন্স-আর্টস আলাদা হয়ে যায়, অবশ্য সায়েন্স এর স্টুডেন্টদের সুযোগ থাকে কলেজে উঠে আর্টস বা কমার্সে সুইচ করার। তাই "কাছের মানুষ" যখন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এডাপ্ট হইছে স্হান ও পাত্রপাত্রীর নাম চেন্জ হইছে তখন সেই সময়ের প্রেক্ষিতে কলেজে উঠে সায়েন্স-আর্টস আলাদা হওয়াটা একটা ভুল তথ্য সেটাই বোধয় আপু বলতে চাইছে (আমার মনে হইলো আর কি)
ধন্যবাদ নুশেরা। কলকাতার উপন্যাস নিয়ে বাংলাদেশে টিভি নাটক নির্মাণ বিরোধিতায় আপনিই ছিলেন প্রথম সমর্থনকারী।
আমি মনে করি এ বিষয়ে নির্মাতারা তাদের মেধার অপচয় করছেন।
আমি আমাদের নজরুলভাইয়ের কাছ থেকে মাহমুদুল হক অথবা শাহরিয়ার কবীরের লেখা থেকে নির্মিত নাটক/টেলিফিল্ম দেখবো, এমন আশা রাখতে চাই। আমার বিশ্বাস, এই লেখাগুলো আমাদের আত্মার অনেক কাছাকাছি অবস্থান করে।
ভালো কথা বলেছেন।
গর্ভধারিণী বানাবে বলে দোদুলের ইন্টারভিউ যখন পত্রিকায় পড়লাম তখন আমি ভাবার চেষ্টা করলাম কেন দোদুল এটা বেছে নিল ...
ধারণা করলাম কৈশোরের মুগ্ধতা। অথচ এই বাম ঘরানা এবং তরুণদের শ্রেণিবদলের সংগ্রামের ইতিহাস নিয়ে শাহরিয়ার কবীর একই ঢংয়ের 'ওদের জানিয়ে দাও' লিখেছেন ১৯৭৪ সালে গর্ভধারিণীর আগে। দোদুল হয়তো এটা পড়েনিন অথবা তার মনে পড়েনি।
তেমনি সুমন যখন কফি হাউজ গান নিয়ে (শুনেছি বেলা বোস গানটি নিয়েও নাটক হয়েছে) সিরিয়াল বানাল তখন আফসোস করেছি ৭১ এর কতো গান নিয়েই তো কতো সিরিয়াল হতে পারত।
এগুলোই আমাকে হতাশ করে।
অলৌকিক হাসান,
আপনিতো দীর্ঘদিন ধরে নাটক তৈরীর সঙ্গে যুক্ত ।
আপনি নিজেই এরকম কিছু তৈরী করেন না কেন ।
শাহরিয়ার কবীরের 'ওদের জানিয়ে দাও' নিয়ে ইচ্ছে আছে। দেখা যাক ...
শুভকামনা রইলো।
শাহরিয়ার কবীরের অভিযানমূলক কিশোর উপন্যাস নিয়ে কিছু করবেন? হয়তো প্রযুক্তির কিছু ব্যাপার একটু আনতে হবে, বেশ আগের তো... তারপরও, দীপু নাম্বার টু এখনও দেখে ছেলেমেয়েরা এতো আগ্রহ নিয়ে, কিশোর বয়সী দর্শকরা মনে হয় বেশ অবহেলিত আমাদের মিডিয়ায়।
কিশোর বয়সী দর্শকরা মনে হয় বেশ অবহেলিত আমাদের মিডিয়ায়।
ভয়ানক রকমের একমত। এই একটা ব্যাপারে আমার খুব আফসোস। অনেক ভাল ভাল গল্প কিংবা কিশোর উপন্যাস আছে কিন্তু। ব্যবসা হবে না বলে মনে হয় কেউ তেমন এগিয়ে আসে না। মানে আছে আমি "দীপু নাম্বার টু" মধুমিতায় গিয়ে দেখে এসে আফসোস করছিলাম এরকম ছবি আর হয় না কেন।
ওনারাতো আমাদের বাংলাদেশী খেলোয়ার থেকে শুরু অভিনেতা - অভিনেত্রীদের নামটা শুদ্ধ করে লেখবার সৌজন্যতা, ভদ্রতা এবং কষ্টটুকু করেন না ।
এতো খেটে খুটে তাদের গল্পকে নাটকের আকার দেবার চে' আমাদের প্রবীণ -নবীন লেখকদের দিকে মনোযোগ দিতে নাট্যকারদের প্রতি অনুরোধ করি । দুর্দান্ত সব ছোটগল্প এখন আসছে যেগুলো থেকে এক পর্বের চমৎকার নাটক হতে পারে !
দীর্ঘ সিরিয়ালের জন্য লেখার মতো লেখকও নিশ্চয়ই আছেন ।
কয়েকটা লিংক দিচ্ছি। বিশেষ করে নুশেরার। এতে অন্যান্য ব্লগারদের মতামতটাও জানা যাবে ...
ঢাকা- কলকাতা- উপন্যাস- সিরিয়াল: মেলবন্ধন, আগ্রাসন, বাণিজ্যমনস্কতা, অবনমন - নুশেরা
এখন আমিই ‘জয়িতা’ - বলেছেন অভিনেত্রী তিশা। হায়! তিশাদের কেন আমরা ‘পূরবী’ সাজাই না!? - অলৌকিক হাসান
কলকাতার উপন্যাসিকদের উপন্যাস নিয়ে বাংলাদেশে টিভি সিরিয়াল বানানোর তীব্র প্রতিবাদ করছি - অলৌকিক হাসান
কিছু মনে নিয়েননা বস্, দুইটা কথা বলতে চাই
আমার কাছে এরকম বিষয় নিয়া পক্ষ-বিপক্ষ তৈরীর চিন্তাটারে একটু উগ্র জাতীয়তাবাদের প্রতিচ্ছবি মনে হয়
এই কথা বললে আমি গণশত্রু হয়ে যাইতে পারি, তবে অন্ততঃ আমার ব্যক্তিগত অবজারভেশন বলে কোলকাতার সাহিত্যিকদের উপন্যাসগুলো মানে ও বিষয়বস্তুতে বাংলাদেশের সাহিত্যিকদের (অন্ততঃ যারা জনপ্রিয় তাদেরগুলো বিবেচনায় আনলে) চেয়ে অনেক বেটার ... কোলকাতার লেখকদের লেখা পড়ে আমার ওভারঅল বিশ্লেষণ হলো, মান ভালো খারাপ যাই হোক, তাঁরা পরিশ্রম করেন ... কোলকাতার উপন্যাসে বানানো নাটকগুলোর কোনটা আমার দেখা হয়নাই, তবে কাছের মানুষ উপন্যাসটা পড়েছি ... আমার মনে হয়েছে যে একজন মহিলার জীবিকার সাথে ফাইটের চিত্র লেখিকা খুব ডিটেইলসে নিপুনভাবে তুলে ধরছেন... এত নিপুন কাজকে নাটকনির্মাতা অবশ্যই লুফে নেবে ...
কাজেই চাহিদার দিকটা ভাবলে দুই বাংলা পরস্পরের সমান্তরাল ট্রিটমেন্ট পাবেনা
যেমন, বই পড়ার ব্যাপারটাই ভাবার চেষ্টা করেন যে, আমরা যে হারে কোলকাতার লেখকদের বই পড়ি, কোলকাতার লোকজন কি সেই হারে পড়ে? পড়েনা...এইটা কি তাদের উন্নাসিকতা? ... আমার মনে হয়না ... আমার মনে হয় আমাদের লেখকরা কলকাতার পাঠকদের মন জয় করতে পারেননাই ... এখানে কিন্তু ব্রাদার সরকারী বাঁধা নিষেধের ব্যাপার নাই ... বাংলাদেশে কোলকাতার লেখকদের বইয়ের মূলতঃ পাইরেটেড কপি বিক্রী হয় ... চাহিদা না থাকলে তো পাইরেটেড হওয়ার কথা না
আরে অলৌকিক যে।
জ্বিবার সাথে একমত পক্ষ বিপক্ষ ট্যাগ করার বিষয়ে।
কোলকাতার উপন্যাস নিয়ে নাটক হওয়াতে আমি কোন সমস্যা দেখি না। তবে বাংলাদেশিরা যে হুজুগে, একটা কিছু কেউ শুরু করলে দল বাইধা সবাই সেইটা নিয়া ঝাপায় পরে। দেখা যাইব সবাই কলকাতার উপন্যাস নিয়ে নাটক বানান শুরু করছে এবং জিনিসটারে পুরা ল্যজেগোবরে করে ফেলছে।
কোলকাতার উপন্যাসের দিকে ঝুকার কারণ অবশ্যই নাটক করার মত যোগ্য উপন্যাস বাংলাদেশে কয়টা আছে? এইখানে ভালো ভালো ক্লাসিক কয়েকটা নাম নুশেরা বা অন্যরা দিয়ে দিছে। কিন্তু সমকালীন, সাধারণ দর্শকদের আকৃষ্ট করার মত পর্যাপ্ত লেখা কি এখানে আছে?
এই জাতীয় আলোচনায় কোলকাতায় বাংদেশের চ্যানেল কেন দেখা যায় না এই নিয়ে অনেকেই আফসোস করেন। এই বাঁধা সেই প্রতিবন্ধকতার কথা বলা হয়। আসলে প্রধান কারণ হল দর্শকদের আগ্রহ। সেখানকার দর্শকদের বাংলাদেশের চ্যানেল দেখার আগ্রহ থাকলে ক্যাবল অপারেটররা যেভাবেই হোক সেটা দেখাত। আমরা যেমন আরতলার চ্যানেল দেখতে আগ্রহী না তেমন ওরাও বাংলাদেশের চ্যানেলে আগ্রহি না। চাহিদা থাকলে অবশ্যই ক্যাবল ব্যবসায়ীরা বসে থাকত না। বেদের মেয়ে জোসনা দর্শক খাবে বুঝেই সেখানে রিমেক হয়েছিল। সেইদিন দেখলাম মনপুরার রিমেক সেখানে মুক্তি পাচ্ছে।
জ্বিনজী, অচিন্দা- সমকালীন গল্প নিশ্চয়ই আছে। কাছের মানুষের কেন্দ্রীয় চরিত্রের কথা বলেছেন জ্বিনের বাদশা। এই প্রসঙ্গে হয়তো নাবিলাচরিতের নাম করা যায় (গর্ভধারিণীর পরিপ্রেক্ষিতে অলৌকিক হাসান শাহরিয়ার কবীরের উপন্যাসের নাম দিয়েছেন)। মশিউল আলমের লেখা আশা করি আপনাদের মতো পাঠকের চোখ এড়ায়নি। সুচিত্রা ভট্টাচার্য আর মশিউল আলমের লেখার তুলনায় যাওয়া নিষ্প্রয়োজন, উপরে কোন এক মন্তব্যে নজরুল ভাই নিজেই বলে দিয়েছেন, উপন্যাস হিসেবে কাছের মানুষকে তিনি কীভাবে বিচার করবেন আর সিরিয়ালের উপাদান হিসেবে কীভাবে দেখবেন।
চিত্ররূপায়ণের বিনিয়োগের অঙ্ক অবশ্যই একটা বড় ফ্যাক্টর। স্পন্সর কোন নাম দেখে উৎসাহিত হবেন, নির্মাতার বিবেচনায় সেটা থাকে নিশ্চয়ই। নজরুল ভাইয়ের তিনটা কাজের কথা আমার জানা, অফ বিট, কাছের মানুষ আর ভালোবাসার হলুদ বৃষ্টি। কাছের মানুষ যে পরিমাণ অর্থানুকূল্য পেয়েছে, সুদীর্ঘ সময় ধরে চলেছে, তার ধারেকাছে আর কোনওটা মনে হয় যায় নি। তারপরও, ভালো কাজ হলে, সাপ্লাই ক্রিয়েটস ইটস ঔন ডিমান্ড। ডিশ যুগের আগে কিন্তু কলকাতা আর আশেপাশের অঞ্চলে অ্যান্টেনা লাগিয়ে লোকে বিটিভির নাটক দেখতো।
সমকালীন গল্প অবশ্যই আছে। পর্যাপ্ত আছে কীনা সেইটাই প্রশ্ন। আমার নিজের মত হল বাংলাদেশে ভালো মানের উপন্যাসের সংখ্যা খুব কম। খুবই বাজে রকমের কম। এই বইমেলায় কম করে হলেও ১০০ উপন্যাস বের হয়েছে। কিন্তু পড়ার মত পাঁচটা উপন্যাসের নাম কি কেউ বলতে পারবে?
আম্মো সেইটাই বলি। তখন এইসব দিনরাত্রি, বহুব্রিহী, সংসপ্তকের মত নাটক কলকাত্তাইয়াদের কাছে আগ্রহ সৃষ্টি করেছিল তাই এন্টেনা লাগিয়ে হলেও দেখেছে।
অচিন্দার পয়েন্টটাই হয়তো ... সংখ্যা কম, ফোকাসে আসেনা -- এসব এপারের ভালো লেখার প্রবলেম
আরেকটা পয়েন্ট হলো, এপারে একই মানের লেখা থাকলেও একজন নাটক নির্মাতার ওপারের উপন্যাস নিয়ে নাটক তৈরী করাটাকে আমি খারাপ চোখে দেখিনা ... এটা নির্মাতার ইচ্ছে ...
ভালো একটা আলোচনা শুরু হলো ...
ধন্যবাদ অলৌকিক
স্বাগতম জানাইয়া গেলাম
আসল কথা হইলো বিদেশী নিয়া বানান আপত্তি নাই। তয় অন্ধভাবে না। আনুপাতিক ভারসাম্যটা বজায় রাইখেন। এবং সেই অনুপাতে দেশের ভাগটা অবশ্যই বড় থাকব এটাই কাম্য। আর ব্যবসায়িক স্বার্থের বাইরে দর্শকের রুচি উন্নত করন বা সামাজিক দায়বদ্ধতাও খানিকটা চিন্তু করন উচিৎ। রংচঙা স্কাট পরে হাতি সমান নায়িকার দাপাদাপি করা বাংলা সিনেমাও এদেশে ব্যাবসা সফল হয় এক শ্রেনীর দর্শকদের জন্য। আশাকরি আমরা কেউই সেই শ্রেনীর দর্শক হইতে চাই না। টিভিতে যা খাওয়ানোর চেষ্টা করব পাবলিক তা কম বেশি খাইব তাই স্বাভাবিক। তয় শুধু পয়সার দিকে না তাকাইয়া যদি উন্নত রুচির খাইদ্য পরিবেশন করা হয় তয় পাবলিকই লাভবান হইব। ছাইপাশ খাইয়া পাবলিকের রুচি নষ্ট হইয়া গেলে নজরুল ভাইয়ের ভবিষৎতের ভালা ভালা উপন্যাস নিয়ে ফিল্ম কেডায় দেখব? নাকি নাটক আর ভালা সিনেমা দেখার দর্শক আলাদা আলাদা?! ভালা সিনেমা দেখার দর্শকের সংখ্যা বাড়াইতে সনাতন ক্ষেম্টা নাচের বাংলা ছবির দর্শকদের মধ্যেও ভালা সিনেমার রুচি তৈরী করতে হইব।...
আমি বকলম মানুষ...তাও এই সুযুগে লিকচার দিয়া দিলাম...দুষ হইলে নিজ গুনে ক্ষমা করিবেন।
আমার মনেহয় এখানে নাট্য নির্মাতা এবং বর্তমান প্রজন্মের ভিতর যে কমিউনিকেশন গ্যাপটা আছে সেটা ফিলাপ করার একটা ব্যাপারও হয়ত কাজ করছে | [নির্মাতারাই ভালো বলতে পারবেন এই ব্যাপারে]
বর্তমান প্রজন্ম অনেকটাই ভিজুয়াল মিডিয়ার উপর নির্ভরশীল এখন, সো তাদেরকে যদি আমাদের/নির্মাতাদের কিশোর/তরুণ বয়সের ভালোলাগা গুলো জানাতে চাই তাহলে তাদের মত করেই আগাইতে হবে বলেই ভাবি | আমি জানিনা টার্গেট দর্শক কারা, তবুও আমার নিজের মতামত এখানে দিলাম |
আরেকটা কথা, যখন রোমিও জুলিয়েট অবলম্বনে নাটক হয় কোনো রকম উল্লেখ ছাড়াই তখন? নাকি আপনার এই পোস্টে শুধুমাত্র ভারতীয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিপক্ষে বলতে চাইতেছেন?
শেষ কথা হৈল [যদিও স্ববিরোধী শুনাইবো] আমি আসলে কোনো উপন্যাসেরই নাট্যরূপ বা ভিজুয়াল মিডিয়ায় দেখার বিপক্ষে | কারণ হৈল আমি ওই উপন্যাস পরার টাইমে যেরম ভিযুয়ালায়িজ করছিলাম নাটক কিংবা সিনেমায় সেইরকম দেখতে না পাইলে আবেদন অনেকাংশেই খারিজ হইয়া যাইবো বলেই আমার ধারণা |
এইটা একটা ভালো বিষয় বলছ। পদ্মা নদীর মাঝি খুব টেনশন নিয়া দেখতে গেছিলাম। মনের ভিতর যে একট চিত্রকল্প আঁকা হইয়া যায় উপন্যাস পড়নের পর সেইটা থেকে ভিন্ন রূপায়ন দেখলে মন নিতে চায় না। পদ্মা নদীর মাঝি দেখার পর অবশ্য আশংকা দূর হয়ে গেছিল। সেইরকম ট্রয় দেখার পরও আমি মোটামুটি সন্তুষ্ট। কিন্তু ফেলুদা দেখে হতাশ। এইটা আসলে নির্ভর করে নির্মানের মুন্শিয়ানার উপরে।
পদ্মা নদীর মাঝির ব্যাপারে আপ্নার সাথে এক্মত। কিন্তুক ট্রয়ের সাথে না। ফেলুদা আমার কাছে সিরিয়া দেখাইতো না? ঐটা ভালো লাগতো।
ট্রয়টা হলিউডিকরণ হইছিল তাও ভাল লাগছিল কেন জানি। বিমানে বইসা দেখছিলাম, সময় কটছিল ভালো এজন্য হয়ত। ফেলুদা সিনেমা দেখি নাই। সন্দীপের করা মনে হয়, মুখে দাগওলা একজনরে নিছিল ফেলু মিত্তিরের চরিত্রে একদম ভাল লাগে নাই। ফেলুদা পইড়া ছোট বেলা থেকে যেরম স্মার্ট বুদ্ধিমান ফেলুদারে কল্পনা করছিলাম তার সাথে মিলে নাই।
একটা উপন্যাস থেকে সিনেমা বানাতে গেলে পরিচালককে বেশ সতর্ক থাকতে হয় ,বিশেষ করে উপন্যাসটি যদি কালজয়ী হয় তবে তো কথাই নেই ।টিভি নাটুকের ক্ষেত্রে এই সতর্কতা বলি ,আর দায়বদ্ধতাই বলি ,কতটুকু বজায় থাকে সেটাও তলিয়ে দেখতে হবে বৈকি ।
আমি সিরিয়াল না দেখার পক্ষে। এইসব বস্তাপঁচা সিরিয়াল দেইখা টাইম ওয়েইষ্ট করার টাইম আমার নাই।
আমি সিরিয়াল না দেখলেও রঙের মানুষ, ভবের হাট, সাকিন সারিসুরি নিয়মিত দেইখা টাইম ওয়েইষ্ট বিস্তর আমোদ পাই। আমার বউ এইসব দেখা নিয়া টিটকারি মূলক কথা বার্তা বললেও রিমঝিম আমার সাথে এইসব(ওর ভাষায় নাকট) নিয়মিত দেইখা বিমলানন্দ লাভ করে।
মানুমিয়া, যারা বানায় তারা হয়ত জাইনা শুইনাই বানায়। (নজরুল ভাইয়ের কথায় তাই মনে হইলো। কারন হইল তারা পয়সার লাইগা বানায়, আর ভালা উপন্যাস নিয়া বানানোর মতো বড় তারা এখনো হন নাই, আর বড় হইলেও তারা তা দিয়া নাটক না বানাইয়া ফিল্ম বানাইবেন।) তাগো পয়সার দরকার। দেশে এই অখাদ্য খাওনের পাবলিক অনেক। এখনকার নাটক বানিয়ারা আমার আপনার রুচির থোরাই কেয়ার করে।
অট: নজরুল ভাই, মাইন্ড কইরেন না। আপনার কথাই আপনারে ফিরাই দিলাম।
এপার ওপার বাংলা নিয়ে প্রায়ই আমাদের বুদ্ধিজীবিদের আস্ফালন করতে দেখা যায় ,তারা প্রমাণ করার চেষ্টা করেন ,আদতে দুই বাংলার মধ্যে প্রভেদ খুব একটা নেই,।কিন্তু এই মেরুকরণের বিষয়টাকে এক লহমায় উড়িয়ে দেওয়ার জো কিন্তু আর নেই ।আজ আমাদের নাটক ওখানকার মিডিয়ায় অপাংক্তেয় ,আমাদের সাহিত্য নিয়ে কল্কাত্তাই সাহিত্যিকদের সবাই না হলেও কেউ কেউ উন্নাসিক ,কিন্তু তারপরও ওপারের গল্প উপন্যাস নিয়ে আমাদের কিছু সাহিত্যজীবিদের এই আদিখ্যেতার কারণ আমার কাছে অজানা ।দাদাগিরি বা ড্যান্স বাংলা ড্যান্স এর মত অনুষ্ঠানগুলো আমাদের দর্শক গোগ্রাসে গিলছে ,মানছি এটা আমাদের চ্যানেলগুলর দৈন্যকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে ,আর সেটারই অবধারিত ফলাফল হিসেবে ওদের চ্যানেলগুলোও আমাদের প্রাইমটাইম আস্তে আস্তে বগলদাবা করে নিচ্ছে ,কিন্তু এটা কি হলফ করে বলা যায় ,আমাদের চ্যানেল ওরা দেখলে এমনটা হতনা ??
নুশেরাপু তো বলেছেনই ,এককালে বহুব্রীহি ,এইসব দিনরাত্রি দেখতে ওরা মুখিয়ে থাকত ,তবে সেই আগ্রহে আচমকা ভাটা পড়ার কারণ কি ?? কারণ যাই হক ,এতে পরবর্তীতে ওই মানের নাটক নির্মাণে আমাদের ব্যর্থতা যেমন আছে ,তেমনি ওদের ভেতর একটা জুজুর ভয় কাজ করেছে ,এটাও বোধহয় বলে দেওয়া যায় ।
দুনিয়াটা এখন বেশ ছোট ।কিন্তু নিজের বাতায়নে রুদ্ধ করে কেউ যদি নিজেদের কুপমন্ডুক প্রমাণ করতে চায় ,তবে আমাদের সেক্ষেত্রে ওদের পুছবার দরকার বলে মনে হয়না ।
আমি ২ টা কথা বলি।
একসময় টিভিতে দেখেছি ইডীয়ট, মুখরা রমনী বশীকরনের মত বিদেশী কাহিনী নিয়ে এ দেশী নাটক। তখন বেশ নাটক হতো বিদেশী কাহিনী গুলা নিয়ে, এইগুলা চরম পছন্দ ও করতো লোকজন। তখন এরকম প্রশ্ন কিন্তু উঠে নাই।
তারপর ধারাবাহিকে হুমায়ুন আহমেদ এর একচেটিয়া দাপট এবং নাটক গুলাও ছিল উপভোগ্য।
এখন মেগা সিরিয়ালের যুগ, যদিও আমি মেগা সিরিয়াল দেখিনা। বন্ধন এর কয়েক পর্ব দেখেছিলাম আর কাছের মানুষের ২/১ পর্ব। কাছের মানুষের সেট দেখেই একটু ভিমড়ী খেলাম, নায়িকার বাসা আমরা ভিজ্যুয়ালাইজ করেছিলাম পুরনো আমলের স্যাঁত স্যাঁতে কোন বাসা, কিন্তু নাটোকে দেখি ঝক ঝকে তক তকে একটা বাসা।
আপনি ছোট ধারাবাহিক নাটকের জন্য এদেশী লেখকের অনেক ভালো লেখা পাবেন কিন্তু ভারতীয় লেখক দের যে বিশাল কাহিনী , যে বিশাল উপন্যাস - সেটা আমাদের দেশের লেখক দের ভিতর দেখা যায়না। উপন্যাসের ভিতর এরকম বিশাল ক্যানভাস আঁকা , আমাদের দেশের লেখকরা পারেনা। সুতরাং মেগা সিরিয়ালের জন্য এরকম জনপ্রিয় উপন্যাস যে জনপ্রিয় হবে, সেটা বলতে হয় না। আর দর্শকের ঐসব বই পড়ার ফলে একটা আগ্রহ সৃষ্টি হয় ভিতরে নাটক দেখার, এই বাণিজ্যিক দিকটাও নির্মাতারা চিন্তা করে নাটক বানায়।
এরকম বড় কোন আমাদের দেশী উপন্যাস আমার চোখে পড়েনি আমার। আর মেগা সিরিয়ালে ফারুকীর জগা খিচুড়ী মার্কা ডায়লগ আর পানি খিচুড়ী মার্কা কাহিনী দেখার চেয়ে ঐসব উপন্যাসের নাট্যরুপ দেখা অনেক ভালো।
যদি আমাদের দেশের উপন্যাস, কাহিনী নাট্যকারদের ক্ষুদা মেটাতে পারেন, তাহলে ভারতীয় লেখক দের উপন্যাস নিয়ে নাটোকের দিকে ঝোঁক কমবে।
ভারতে আমাদের দেশী কোন চ্যানেল দেখায় না , এটা নিয়ে আমারও আক্ষেপ আছে কিন্তু ভারতে নাকি কোন দেশী চ্যানেল দেখাতে হলে, ভারতেই ওদের অফিস/ভারতীয় ভার্সন খুলতে খুলতে হবে - এটা ওদের উগ্র জাতীয়তাবাদ বলেন কিংবা তাদের বিশাল মার্কেট কে ইউটিলাইজ করা বলেন, এটাই ওদের নিয়ম।
অলৌকিকরে দেখা ভালো লাগছে। স্বাগতম।
আমি পাইকারী হারে করার বিপক্ষে যেইটা এখন চলছে।
এখানে অনেক জ্ঞানী ব্লগারদের আলোচনার মাঝখানে আমি কলকাতার লেখক বা বাংলাদেশের লেখকদের তুলনামুলক কোনো আলোচনায় যাবার মত মুর্খতা দেখাবো না। আমি একটা কাহিনীর কথা অনেকবার বলেছি। আবার বলছি : আমি কখনো যদি নাটক বানাই বা সে যোগ্যতা অর্জন করি, তাহলে অবশ্যই জাফর ইকবালের সুঃস্বপ্নের দ্বিতীয় প্রহর বানাবো (যদি ততদিনে কেউ সেটার নাট্যরুপ দিয়ে না ফেলেন) ।
ওস্তাদ, আমারে একটা পার্ট দিয়েন।
হাছান ভাইকে হিরুর বাপের পার্ট দিয়েন মেজবা ভাই
আপনেরে নায়কের বাপের পাট দেওন যায়। নায়িকার বাপেরটাও দেয়া যাইতো। মাগার আপনের উপরে বিশ্বাস কী ? নায়িকারে বুকে জড়াইয়া সান্তনা দেওনের একটা সিন আছে। আপনে যদি একবার জড়াইয়া আর ছাড়তে না চান ? শেষে নায়িকা মাইন্ড খাইবো। রাগ কৈরা শিডিউল দিবোনা। আমার বারোটা বাজবো। নাইলে আমার কোনো আপত্তি আছিলো না....
না পার্ট দেওন লাগবোনা। আমার শখ মিটা গেছে। তুমিই কইরো নায়িকারে জাপ্টায়ে ধরণের পার্ট।
ওস্তাদ কি রাগ করছেন ? এক কাম করি লন, আমগো মুক্লারে নায়িকার বাপ আর আপনেরে নায়কের বাপের পাটটা দেই ? দুইজনে বেয়াই হইবেন....
ইয়াযাদ বুইড়া ভাই, আমার মত তরুণরে নায়িকার বাপের পার্ট দিতে চায়!

দুঃস্বপ্নের দ্বিতীয় প্রহর সম্ভবত বইটার নাম। নাটক হিসেবে অসাধারণ হবে গল্পটা। খরচও কম লাগবে। এক কামরায় কাহিনী শুরু, এক কামরাতেই শেষ।
আমি পক্ষে।
এইসব ভালো উপন্যাসগুলো যদি নাটক বা ফিল্ম হয়, সেটা তো আমার কাছে ভালোই লাগে। আপনি যেগুলোর নাম এখানে দিয়েছেন, বা যে উপন্যাসগুলো নাটক/ফিল্ম হচ্ছে, সেগুলো অনেক আগের। এখন যে অবস্থা তাতে অনেকে সেই উপন্যাস পড়া তো দূরের কথা নামই অনেকে জানে না, সো, সেখানে যদি নাটক বা ফিল্ম করে নতুন করে উপন্যাস এর গল্প কে ফুটিয়ে তুলে খারাপ কৈ?।
হাসান ভাইরে এখানে দেখে খুব ভাল লাগতাছে।
বিতর্ক দারুন লাগছে । আমি পক্ষে বিপক্ষে কিছুই বলবো না ।
তবে সত্য কথা হইলো 'কাছের মানুষ' বইটা পইড়া যতটা ভাল্লাগছিলো নাটকটা দেইখা ততটাই বিরক্ত হইছিলাম।
বিতর্ক চলুক .. গ্যালারীতে বইসা রইলাম।
আমার পোস্ট পড়ে যদি মনে হয় বিদেশী সাহিত্যের বাংলাদেশীকরণ নিয়া আপত্তি জানাচ্ছি তাহলে ভুল বোঝা হবে।
আমি হুজুগের বিরুদ্ধতা করছি। কৈশোরের মুগ্ধতা নিয়ে এসব উপন্যাসের বাংলাদেশী সিরিয়াল বানানোর হিড়িক ভালো কিছু দিচ্ছে না।
নির্মাতারা সামাজিক দ্বন্দ্বে ভরপুর কাহিনি খুঁজে পাচ্ছেন না এটা খোড়া অজুহাত। চোখনাক খোলা রাখলে বাংলাদেশী সাহিত্যে এসব অনেকই আছে।
বিভূতি-রবীন্দ্র দিয়া সমরেশ-সুনীলরে তুলনা নিয়ে যাওয়াটা বোকামি।
আগে নিজেরটা শেষ করে নিই। তারপর পাশের ঘরের দিকে তাকালেই হয়।
৮০র দশকে কলকাতার লোক এ্যানটেনায় বাটি-বুটি লাগায়া এইসব দিনরাত্রি, ঢাকায় থাকি দেখতো বলে আউপরণা শ্যান (যেই বানানরীতিতে শমী কাইজার, তানবির মকাম্মল লেখা হয় সেই বানানরীতিতে লেখলাম)এর শানানদাতে পড়সিলাম। আর আইজ আমরা যার যা আছে তা নিয়া কলকাতার সাহিত্যের উপর ঝাপায়া পড়সি।
শিল্প-সাহিত্য ওয়ালারা যদি এত লাভ লোকসানের কথা বলেন তাহলে নিজেদের নাট্য নির্মাতা না বৈলা নাট্যবেপারী বললে ভালো হয়না?
আমার কলকাতার সাহিত্য নিয়ে কোন এলার্জি নাই, তবে শিল্প-সাহিত্যে টেমপ্লেট/হুজুগে সমস্যা আছে।
আমার কাছে এখনকার নাটক ভাল্লাগেনা। আমার জীবনের কোন প্রতিফলন পাই না। অহেতুক ভাঁড়ামী, বড়লোকীপনা, ড্রয়িংরুম নির্ভরতাছাড়া আর কিছু দেখি না। তাই পারতপক্ষে টিভিই দেখি না এখন আর।
হ
নিয়মিত টিভি দেখি না অন্তত একযুগ হবে। অনিয়মিতও দেখা ছাড়ছি কয়েক বছর। তবু মাঝেসাঝে চোখ পড়লে দেখি, দর্শক হিসেবে মোটেও সিরিয়াস না, কিন্তু অখাদ্য মুখে রোচে না। যেসব ভারতীয় সিরিয়াল দেখার জন্য আমাদের অনেকের মা বোনদের ঘুম হারাম হয় আমি জীবনেও সেগুলোর কোন পর্ব পনের মিনিটও হজম হয়নি, বমি চলে আসে। আমার কাছে যা বমি আসে তাই দেখি প্রচুর সুশীল মানুষ গোগ্রাসে গিলছে। এই যে অখাদ্য গেলাচ্ছে সেটা কি আমাদের রুচির দোষ নাকি পরিচালকের সুপক্ক রাধুনীর গুন, ঠিক বুঝি না। কিন্তু মানুষের মন ভাঙ্গিয়ে বাজার তৈরী করার কৌশলটা ভারতীয় চ্যানেলগুলো যেমন জানে, তেমনি জানে কোলকাতার আনন্দবাজারগোষ্ঠী।
আমাদের চ্যানেলগুলো কোলকাতার 'মন' জয় করতে পারেনি বলে যারা ধারনা করেন, তাদের সাথে আমি মোটেও একমত নই। আমাদের টিভি নাটকের মান যে কোন ভারতীয় মেগা সিরিজের চেয়ে অনেক উন্নত। ভারত চলচ্চিত্রে যতটা এগিয়ে, টিভি নাটকে ততটা পিছিয়ে। ভারতের চ্যানেলের মেগাসিরিয়ালগুলোকে বড়জোর আমাদের পুরোনো যুগের বিটিভির হীরামন সিরিজের সাথে তুলনা করা যায়, কেবল সাজগোজ আর বেনারসী শাড়ীগুলি, রান্নাঘর ড্রইংরুমগুলিই উন্নত।
সংসারের কুট কৌশল নিয়ে যারা মেগা সিরিয়াল বানায়, তারা কিন্তু ভারতের ভালো কোন উপন্যাস নিয়ে কাজ করে না। যেটা আমাদের নাট্যপরিচালকগন করেন। সেক্ষেত্রে আমাদের নাট্যকারগন তাদের চেয়ে বেশী পরিশ্রমী এবং শিল্পমন সম্পন্ন।
কিন্তু বর্তমান ভারতীয় লেখকদের উপন্যাস নিয়ে নাটক বানাবার বিতর্কটা আসতো না যদি ভারত আমাদের চ্যানেলগুলোর প্রবেশে বাধা সৃষ্টি না করতো। অনেকে বলেছেন কোন সরকারী বাধা নেই। আমি তাদের বলি, আরো একটু খোঁজ নিয়ে বলতে। বাধাটা কি আইনে নাকি ফাইলে নাকি আকাশে।
একটা উদাহরন দেই, আমার বস একবার একটা ইভেলুয়েশানের চার্ট দিয়ে আমার ছয়জন সহকর্মীর পারফরমেন্স রেটিং করতে দিল। গ্রেড হলো -A B C কিন্তু শর্ত দিল একজনের বেশী কাউকে গ্রেড A এবং দুজনের বেশী B দেয়া যাবে না। কিন্তু C গ্রেড যত ইচ্ছে দেয়া যাবে যত ভালো কাজই করুক ওরা। তার মানে আমাকে কমপক্ষে তিনজনকে সি দিতেই হবে। আমাকে স্বাধীনতা দিয়ে এভাবে পরাধীনতার শর্তে আটকে দিল। ভারতও সেভাবে বাংলাদেশকে তথাকথিত স্বাধীন প্রবেশের সুযোগ দিচ্ছে।
আমরা ভারতীয় চ্যানেলগুলো যে গিলি, সেটা কেবল নাটক নয়, সাথে বিজ্ঞাপনগুলোও গিলি। বাজার কিন্তু এভাবেই তৈরী হয়। দশ লাখ রূপীর নাটকের মাধ্যমে পন্য গেলানো হচ্ছে একশো কোটি রূপীর। সুতরাং খুব খিয়াল কৈরা। এই একই কারনে ভারত আমাদের চ্যানেলগুলোকে ওখানে ঢুকতে দিচ্ছে না। কারন ওদের ভয় আমরাও ওদেরকে প্রানজুশ আর স্কয়ারের সাবান খাইয়ে দেবো। নাটক ফাটক সব উসিলা। আসল কারন বৃহত্তর বানিজ্যিক ফায়দা।
আমরা ওদের উপন্যাসের নাটক দিয়ে যদি ওদের আকাশে প্রবেশাধিকার পাই তাহলে আমি গর্ভধারিনী বা কালবেলা কোনটাতেই আপত্তি করবো না। বানাও নাটক, করো কিস্তিমাত।
আর আমাদের চ্যানেল যদি ওদের আকাশে ঢুকতে না পারে, তাহলে ওদের উপন্যাসে মেগাসিরিয়াল বানাতে আমার প্রবল আপত্তি আছে। আমরাই বানাবো, আমরাই খাবো, তা হবে না। নাটক এখন আর কেবল শিল্পের ক্ষুধা নয়, বানিজ্যের ক্ষুধাও।
আমাদের চ্যানেল ওদের দর্শকদের মন জয় করলে ঐখানে আমাদের চ্যানেল দেখা যায় না কেন? সরকারী বাঁধা থাকলে দর্শকরাই তো আন্দোলন করে সেটা দূর করতো তাই না?
অচিন্দা, এক বাকের ভাইয়ের ফাঁসী ঠেকানোর দাবি ছাড়া আর কখনো কোন বিষয়ে আমাগো টিভি দর্শকরে আন্দোলন করতে দেখছেন। পৃথিবীর কোন প্রান্ত কখনো এইরকম আন্দোলনের উদাহরণ আছে ?
তাইলে ভারতীয় দর্শকদের কী ঠেকা পড়ছে ? তাগো কি চ্যানেল কম? অনুষ্ঠান মন জয় করলেও আন্দোলনের টাইম আছে তাগো ?
ঠিক আন্দোলন না । আসলে যেইটা বলতে চাইছিলাম দর্শকদের চাহিদা থাকলে এই বাণিজ্যের যুগে কেউ ঠেকাইয়া রাখতে পারতোনা। টাকা আসবে জানলে লোকজন নিজেদের উদ্যোগে এজেন্সি খুলে বসত বাংলাদেশের চ্যানেলকে গিয়ে বাসাতে হতো না। নিচের প্যারাটা পড়লে ক্লিয়ার হবে কেন বলছি চাহিদা থাকলে সেইটার প্রাপ্তি আটকায় থাকেনা ।
গতকাল পশ্চিম বাংলায় একটা ছবি মুক্তি পেয়েছে নাম অচিন পাখি। এইটা আসলে মনপুরার কাহিনী, সংগীত হুবহু একদম এক। মনপুরা ব্যবসা সফল হওয়ার পর পশ্চিম বাংলা থেকে এইটার কাহিনী সনহগীত কিনে রিমেক হয়। গত দশ পনের বছরে পশ্চিম বাংলায় কম করে হলেও ত্রিশটার মত ছবি হয়েছে যেগুলি আসলে বাংলাদেশের ছবির রিমেক। এইসব ছবি প্রায়ই কোলকাতার চ্যানেলে দেখা যায়। এমনকি এইসব ছবির পাত্র পাত্রি অনেকই বাংলাদেশের। রোজিনা, অন্জু, ফেরদৌস, রাজ্জাক প্রচুর ছবিতে অভিনয় করেছেন। এভাবে বাংলাদেশে বাণিজ্য সফল অনেক ছবিই ওখনে রিমেক হয়েছে। কেন হেয়েছে? কারণ দর্শক চাহিদা ছিল।
বাংলাদেশি ছবির কাহিনী নিয়া ছবি হয়ে ভইরা গেল কিন্তু কেউ বাধা দেয় নাই বা বাধা দিলেও টিকে নাই। আর চ্যানেলের বিরুদ্ধে সবাই উইঠা পইড়া লাগল সেইটা কি বিশ্বাসযোগ্য?
বস, আন্দোলন করে এসব জিনিস হবে না। ওদের প্রচুর চ্যানেল আছে দেখার। কিন্তু যে বাধার কথা বলছি সেটা কিন্তু ওদের জাতীয় আইনের আওতায় পড়ে। ওরা আইন করে কিছু ব্যাপার নিয়ন্ত্রনে নিয়ে নিয়েছে। বানিজ্যিকভাবে নিয়েছে আর কিছু।
আমাদের দেশে পাইরেটেড ডিভিডির মতো অনেক কিছুই উন্মুক্ত। ভারতের চেয়ে অনেক ব্যাপারে আমরা উন্মুক্ত। যার কারনে আমাদের দেশের রাস্তাঘাটে যেমন বিদেশী জিনিসের ছড়াছড়ি, বিদেশী গাড়ীর জ্যাম। ওদের তেমন না। ওদের নিয়ন্ত্রন অনেক শক্ত যেখানে আটকে গেছে আমাদের চ্যানেলগুলো। যে আইন মেনে ওখানে একসেস পেতে হবে সে আইনের ঝক্কি পোহানোর সামর্থ্য আমাদের চ্যানেলগুলোর আছে কিনা যথেষ্ট সন্দেহ আছে। এটা দুই সরকারের মধ্যে আপোষে করতে হবে। আমাদের দেশে কেবল অপারেটর চাইলে যে কোন ফ্রী চ্যানেল টিউন করে আমাকে দিয়ে দিতে পারে। কিন্তু ওখানে পারে না। ওটাই নিয়ন্ত্রন। ওই নিয়ন্ত্রনের ভেতর সিষ্টেমে এগোতে হবে আমাদের সরকারকে। সরকারী সিদ্ধান্ত ছাড়া ব্যক্তি উদ্যোগে কোন সফলতা আসবে না। দর্শক চাহিদা আছে কিনা সেটা উন্মুক্ত করে দিলেই বোঝা যাবে।
আরেকটা সমস্যা। ওটা আমাদের সরকার কিংবা ক্যাবল অপারেটরের ব্যর্থতা। আমাদের দেশে যতগুলো চ্যানেল দেখি তার ৯৫ ভাগ কিন্তু ভারত থেকে নিয়ন্ত্রিত। ফ্রান্সের টিভিমন্ডে, জার্মানীর ডয়েচ্চে ভেলে, চীনের সিসিটিভি বাদ দিলে আর একটা চ্যানেলও নাই যেগুলা ভারত নিয়ন্ত্রন করে না। ষ্টার মুভিজে আগে বিজ্ঞাপনবিহীন ছবি দেখতে পেতাম। এখন ওখানেও ঢুকে গেছে ভারতীয় মিডিয়া মুগল। আমরা হংকংএর ষ্টার মুভিজের বদলে দেখি ভারতীয় ষ্টার মুভিজ। আমাদের বিনোদনের রাজ্যেও অন্য দেশের আগ্রাসন।
মন্তব্য করুন