ভাবনায় সমাজ বাস্তবতা।
আমি ভেবে অবাক হই। কয়েক দশক বছর সংসার করার পরেও কি করে সংসার ভেঙ্গে যায়? দুজন মানুষ একসাথে এতদিন থাকার পরেও কি দুজনের দুজনকে বুঝতে সমস্যা হওয়ার কথা? এই যদি বাস্তবতা হয় তবে লুকিয়ে যার সাথে প্রেম করছি , তাকে নানা ভাবে বোঝার চেষ্টা করছি এই বিশ্বাসের নিশ্চয়তা কোথায়?
ভাবনাটা এসছে দাঙ্গার কথা ভেবে। আরাকান রাজ্যের রোহিঙ্গারা কখনোই হয়তো সম্প্রীতির ভেতর ছিলনা। কিন্তু ১৯৪৬ সালে কলকাতায় এবং আমাদের দেশে যে দাঙ্গা দেখা দেয় তার কারণটা কি? হাজার বছর ধরে হিন্দু মুসলমান বাঙ্গালীরা এক সাথে বসবাস করে আসছে। এক মাঠে খেলে শিশু বড় হয়েছে। এক পাঠশালায় বিদ্যা শিখেছে। বন্ধু হয়েছে, বন্ধু করেছে। সেই সেই মানুষরা কি করে এমন দাঙ্গায় লিপ্ত হয়?
সমাজের অধিকাংশ মানুষই শান্তি প্রিয়। পারতপক্ষে তারা দাঙ্গা,হাঙ্গামা জড়ায় না। আমরা তো এমনই জেনে এসেছি। কিন্তু যখন দাঙ্গা লেগে যায় তখন কি করে এই শান্ত মানুষ গুলো অশান্ত হয়ে উঠে? কি ভাবে বর্বরতা প্রকাশ করে? কি ভাবে প্রতিবেশীর বাড়িতে আগুন দেয়, লুট করে। কি ভাবে নারীকে টেনে এনে ধর্ষণ করে? এই সমাজের মাঝে এই নিরীহ মানুষের মাঝে এই বর্বরতা এতদিন কোথায় ছিল? প্রজন্মের পর প্রজন্ম আমরা কি এই দাঙ্গার বর্বরতার জিন বহন করে চলেছি? যা সুযোগ পেলেই মাথা চাড়া দিয়ে উঠে? সমাজের সম্প্রীতির মাঝে,ভালবাসা,মমতার মাঝে কোথায় বাস করে এই বর্বর পশু? এই যে আমি এই কথা গুলো বলছি আমার ভেতরেও কি এমন একটি পশু লুকিয়ে আছে? অপেক্ষা করছে তার উপযুক্তি সময়ের? হতে পারে। আমি সেই সময় পেরিয়ে যাই নি বলে দেখতে পাইনি সেই পশুকে। মানুষ কি তার নিজের পশুত্ব কখনো দেখতে পায়? আমি কেবল প্রশ্নই করে যেতে পারি। উত্তর জানি না।
যে মাতাব্বর সাহেব সমাজে দাপটের সাথে সবাইকে থমকিয়ে চলেন। যে মেম্বার সাবরে সবাই চেয়ার ছেড়ে দেয়। যে মাস্টার সাহেবের জন্য পথ ছেড়ে দাঁড়ায় মানুষ। এরা হচ্ছে সমাজের শৃঙ্খল। মানুষের মাঝে মানুষের শৃঙ্খল টা একটা সৌজন্যে নিয়ে আসে এই সমাজ কাঠামো। আমি সুযোগ পেলেই করিমের কাছ থেকে চানাচুর নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছি না। যদিও আমি জানি করিমের চেয়ে আমিই বেশি শক্তিশালী। তবু করছি না। কারণ আমি জানি সে তার বাবাকে বলবে, তার বাবা হয়তো আমার বাবাকে বলবে। আমি যদি আরো বাড়াবাড়ি করি তবে হয়তো মেম্বার চ্যারম্যান আসবে। সমাজে কাঠামোগত প্রাতিষ্ঠানিক ভয়ে হয়তো আমি কিছু করতে সাহস পাইনা। আমি বলছি না এটাই একমাত্র কারন।
এবার ভাবা যাক সমাজের এই কাঠামোটা যদি ভেঙ্গে পড়ে। কেউ কাউকে মানছে না। কেউ কার কথা মানছে না। লোভের আগুনে সবার চোখ জ্জ্বলজ্জ্বল করছে। সমাজের তোয়াক্কা করছে না কেউ। কারন কিছু বিষয়ে সমাজ বাধা দেবার শক্তি হারিয়ে ফেলেছে। এবং এই বিশৃঙ্খল অবস্থার মাঝেও কিছু নেতৃত্ব তৈরী হয়ে যাবে। তাদের মাঝে কিছু দল উপদল তৈরী হবে। এবং এই দলগত বিভাজনটা হবে প্রত্যেকের নিজস্ব স্বার্থের ভিত্তিতে। কেমন হবে অবস্থাটা? এবং এই দল গুলাই অন্ধ হয়ে অন্যের বাড়িতে লুটপাট চালাবে কারন সমাজের কোন আইন তাদের উপর তখন কার্যকর হবে না। তারা কাউকে তোয়াক্কা করবেনা। দলগত ভাবে আক্রমন করলেও লুটেরা সমাজ কিন্তু টিকবে না। হয়তো জোট হবে।কিন্তু এসব কেবল ক্ষণস্থায়ী লোভের প্রয়োজনে।
বাবরি মসজিদ ভাঙ্গার সময় আমাদের দেশের যে সব মন্দির ভাঙ্গা হয়েছিল । যে সব হিন্দুদের বাড়ি আক্রমন হয়েছিল তখন কি মুসলমানদের সমাজের কোন শৃঙ্খল ছিল? আক্রমনকারী সমাজে তাদের বশ করার জন্য কি কোন নীতি কাজ করেছিল? আমার ধারনা ছিলনা। তখন সাহস করে তাদের থামানোর চিন্তা মাথায় আসেনি। কেউ হয়তো চিন্তা করলেও সাহসে পেরে উঠেনি। অথচ এই বিবেকবান মানুষটা অন্য সময়ে সবাইকে ধমকে বাড়ি পাঠিয়ে দিতে পারতো। কিন্তু আজ মেম্বার সাব জানে কথায় কোন কাজ হবে না। বাধা দিতে আসলে লাঠি তার মাথাতেও পড়তে পারে।
সমাজের ভেতরে যখন সমস্যা দেখা দেয় বাহির থেকে তখন সহায়তা করে তাকে টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পরে। দাঙ্গার সময় পুলিশ,সেনা সদস্যরা অনেকটা অসহায় হয়ে যায়।এই পুলিশ সদস্য,সেনা সদস্য তারাও সমাজের মানুষ। যে ইস্যুতে দাঙ্গা হয় সেই ইস্যুতে বাহিনীর সদস্যদেরও একটা মতামত আছে। কর্তব্য করতে গিয়ে তারা তাদের সেই সামাজিক আবেগের কাছে অনেক সময় মাথা নত করেন। ব্রিটিশ আমলে আমাদের দেশের মানুষদের তৈরী পুলিশ বাহিনী দিয়েই আমাদের নির্যাতন করা হলো। জালিয়ানওয়ালাবাগ যে বর্বরতা চালানো হয়েছিল সেই সেপাইরা বেশির ভাগই দেশী ছিল। কিন্তু সিপাহি বিদ্রোহ কিংবা আমাদের দেশের সেনারা যখন পাকিস্তানিদের বশ্যতা স্বীকার না করে মুক্তি যুদ্ধে সহযোগিতা করেছে আমরা তাকে বীর বলি। আমাদের বীর শ্রেষ্ঠ মতিউর এর কথাই ধরা যাক। আইন নয়,চাকরি নয়,দেশ মাতৃকার টানে ছুটে এসছেন।তার বড় অফিসারদের কমান্ড নয় তার নিজের ভালবাসা,আবেগ কে তিনি বিসর্জন দিতে পারেন নি। যদিও এটা বৃহত্তর ইস্যু।কিন্তু উগ্র জাতীয়তাবাদের ক্ষেত্রও এমন দেখা যায়। বলা চলে মায়ানমারে রোহিঙ্গাদের যারা মারছে তারা উগ্র জাতীয়তাবাদী।
আমার ধারনা বৃহত্তর সম্রাজ্য আমেরিকার পতন ঘটবে অনেকটা এই নিয়মে। তাদের দেশের অভ্যন্তরে যখন কোন বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে। তাদের নিজেদের কমান্ডিং দুর্বল হয়ে যাবে। অভ্যন্তরীন গোলযোগে ই যখন তারা পতিত হবে। তখন রাতারাতি দখল হয়ে যাবে বিদেশে তাদের ঘাঁটি গুলো। প্রত্যেকটা দেশ মুখ ফিরিয়ে নেবে আমেরিকা থেকে। সুযোগ মতো দখল করে নেবে সব কিছু। যেসব দেশে আমেরিকার ঘাঁটি আছে রাতারাতি সেই দেশ তা দখলে নিয়ে নেবে। পতনটা হবে খুবই দ্রুত গতিতে। নিজেদের সহায়তার জন্য বিদেশে অবস্থান করা ঘাঁটি গুলো ব্যবহার করতে পারবে না এমন কি নিয়ন্ত্রণ ও করতে পারবে না।





প্রথম লেখা?
বাহ !!
স্বাগতম আমরাবন্ধুতে।
মতামত পরে দেবো।
এখানের কয়েকটি ইমু আগে দেখি নাই। অন্তত এই মগ ইমুটি। হা হা হা...।
মতামতের অপেক্ষায় রইলাম।
আপনার ভাবনা ভাল লাগছিল কিন্তু শেষে এসে হঠাত্ থেমে গেলেন যে?!
এবি তে সুস্বাগত।
পড়তে থাকুন, লিখতে থাকুন।
ভাল থাকুন।
ইচ্ছে ছিল আর একটু লেখার কিন্তু খুব ঘুম পেয়েছিল। আর লিখতে পারছিলাম না।
যে সমাজকাঠামোতে থাকুক মানুষ আসলেই 'মানবীয় গুনাবলী' নিয়ে বেঁচে থাকে। দাঙ্গা-হাঙ্গামা অধিকাংশ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করে থাকেন সেই মানুষদের অমানুষ নেতারা।
ভাই, আপনার মতো আমিও সাম্রাজ্যবাদীদের পতন আশা করি।
আর
দেশ নিয়ে দুই একটা লেখা দিন না।
স্বাগতম, আপনাকে।
কেবল পিঠ চাপরানো হলে এই ব্লগে বেশিদিন লেখা যাবে না। আমি সমালোচনা ই আশা করি। এবং সমালোচনা কে লেখার অনুপ্রেরণা বলে মনে করি।
খ্যাকজ !!

আমার উপরের লেখার উত্তর দেন নাই কেন?
নতুন আইছেনতো... তাই আপ্নার পিঠটা নরম আছে...
... একটু চাপ্রাইয়া লই
স্বাগতম এবিতে... হাত খোলার দর্কার নাই... হাত দিয়াই লেইখাযান নিয়মিত
ঠিকাছে
অগোছালো লেখা মনে হয়েছে। সত্যি কমেনট চেয়েছেন, তাই দিলাম
হুম। আরো একটু সময় নিয়ে লেখা দরকার ছিল।
ধন্যবাদ সত্য মন্তব্য করার জন্য।
আপনার লেখাটা অগোছালো হলেও লেখার থিম টা ভাল লেগেছে।
মন্তব্য করুন