সক্রেটিসঃ মাঝ-মাঠের সঙ্গীত

ডাক্তার সাহেবের নাম সক্রেটিস ব্রাসিলিয়েরো সাম্পাইও দিসুজা ভিয়েরা দি অলিভেরা, সংখেপে সক্রেটিস। স্মরণাতীতকালে একই সাথে পেশাদার ফুটবলার আর পাশ করা ডাক্তার আর খুঁজে পাওয়া যায় না। সেই ’৮২ তে প্রথম সরাসরি বিশ্বকাপ ফুটবল দেখার সুযোগ। ’৮২ মানে জিকো, ফালকাও, এডার আর সাথে দলপতি সক্রেটিস। সবার মাঝে দু’পায়ের সমান কারুকাজের এই দাড়িওয়ালা খেলোয়াড় আলাদা ভাবে চোঁখ কাড়ে। তার অসাধারাণ থ্রু পাস, প্লেমেকিং আর যে কোন রক্ষনভাগ তছনছ করে দেয়ার ক্ষমতা ভোলার নয়। সেবার ইতালীর সাথে ড্র করাই যথেস্ট ছিল ব্রাজিলের, তবুও অত্যাধিক আক্রমনাত্বক খেলতে গিয়ে সেবারের চ্যাম্পিয়ান রোসির ইতালীর কাছে ৩-২ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয় ব্রাজিলকে। ’৮২র সেই ব্রাজিল টিমকে বলা হয় বিশ্বকাপ না জেতা শ্রেষ্ঠতম দলের একটি।
এরপর ’৮৬ তে, জিকোর পেনাল্টি মিসের পরে ফ্রান্সের কাছে টাইব্রেকারে হেরে আবার ব্রাজিলের কোয়ার্টার-ফাইনালে বিদায় নেয়, পাঁচবার বিশ্বকাপ জেতা ব্রাজিলের খেলোয়াড় হয়েও সেটা অধরাই থেকে যায় সক্রেটিসের কাছে। তবু সর্বকালের অন্যতম সেরা মধ্যমাঠের খেলোয়াড়, অনায়াস শৈলী আর ঠাণ্ডা মেজাজের প্রতীক হিসাবে একটি প্রজন্মের কাছে নিজের স্থান করে নেন।
চে-কাস্ত্রো-লেননের আজীবন ভক্ত ছিলেন সক্রেটিস। সিগারেট আর মদ্যপানে দ্বিধাহীন স্নেহ ৫৭তেই এই মাঝমাঠের সঙ্গীতকে থামিয়ে দিলো। আমার মত অনেককেই ব্রাজিলিয়ান সাম্বার সাথে প্রথম চাক্ষুস পরিচয় করিয়ে দেন তিনি, তাই স্বশ্রদ্ধ কৃতজ্ঞতা।
~





আফসোস, সেই ব্রাজিলের খেলা দেখা হয়ে উঠেনি।
স্বশ্রদ্ধ কৃতজ্ঞতা
মন্তব্য করুন