ইউজার লগইন

জীবনের শেষ শুকনা খাওয়া

নিরান্নব্বই সালের শ্যাষ সপ্তায় দুই দোস্ত মিল্যা ঠিক করলাম নয়া সেঞ্চুরিতে আর শুকনা ধরামু না। আরেক দোস্ত আছিলো খুলনাত, তারে দিয়া শুকনা আনাইলাম তিরিশ টেকার। সেই টাইমে তিরিশ টেকায় বহুতগুলা শুকনা পাওন যাইতো। যাই হউক, শুকনা সাইজ করনের দায়িত্ব পড়লো আমার উপরে। অইটাইমে শুকনা ভালোই সাইজ করতে পারতাম। তো আটানা দামের সান-মুন সিগ্রেটের সুকা ফালায়া দিয়া পুরা শুকনা দিয়া তিনটা লোড দিলাম। সান-মুন সিগ্রেটের ফিল্টার দামী সিগ্রেটের ফিল্টারের থাইকা ছোট আছিলো, যার লাইগা বেশি ধুমা ফিল্টার হইতোনা :হুক্কা:।

অদ্যই শ্যাষ সাইঞ্জা, কইয়া একত্রিশ তারিখ তিন দোস্তে মিল্যা গেলাম আশুলিয়ায়। তিনংডা সিগ্রেটো খায় না। হেরে লইছিলাম আমরা যদি উল্টা-পাল্টা করি তৈলে সাম্লানির লাইগা। আশুলিয়া তহন এত্ত আধুনিক হয়নাই। কিছু চা-চটপটির দোকান, নৌকা-ফৌকা লয়া যৌবন পাওনের পথে হাটতেছিল। যাউজ্ঞা। পুরাণ সেঞ্চুরির সূর্য মিয়া ডুব দিলে আমরা এক্টু সাইডে চইলা গ্যালাম। মাশাল্লা ঠাণ্ডাও পরছিল সেইদিন। সাইডে বইয়া দুইজনে দুইটা স্টিক খালাস কৈরা দিলাম। আমার চউখ মউখ ছোড হইয়া আস্তে শুরু কৈরা দিছিলো। মরতুজা কয় বাকিডাও ধরায়া ফালা। আমি কই নাহ রাইখা দে। আরেকটু পরে ধরাই। অই হালায় মানবো না। হের ঠেলা গুতানিতে বাকিডাও ধরায়া ফেলাইলাম। খেইল শুরু হইলো তারপর থেইকাই।

আমি নিয়মিত কড়া শুকনা খাইয়া অভ্যস্ত আছিলাম, মরতুজা আছিলোনা। হের লাগা শুরু করলো গরম। জুয়েইল্যা কয় চল যাইগা ঠাণ্ডা লাগে, মরতুজা নিজের জামা কাপড় খুইলা জুয়েইল্যারে দিয়া কয় এইডি পর। আমিতো ট্যার পায়া গেছি মরতুজার ব্রেনে শুকনা কারবার শুরু কইরা দিছে। জুয়েইল্যাও বুঝছে। মরতুজায় যদি পাগলামি শুরু করে এই ভাইবা আমার নিশা ছুইটা যাওনের দশা। জুয়েলে কয় ল চা খাই। আমি কই আমি চা খামু না, চানাচুর থাক্লে তাই খামু। গেলাম একটা দোকানে। কাঠের ফোল্ডিং চেয়ার আছিলো। আমি বইলাম, জুয়েইল্যাও বইলো; মরতুজায় বইতে গিয়া হুড়মুড়ায়া পইড়া গেলগা। উইঠা গায়ের ধুলা ঝাড়তে ঝাড়তে কয় হারামজাদায় আমারে ভাঙ্গা চেয়ার দিছে। মাইর দে হালারে। কইয়া উইঠা যায় দোকানদারেরে মারতে। আমি আর জুয়েইল্যায় মিল্যা কোনোরকম ঠেকাইছি। আমরা কই তোর চা খাওন লাগতোনা, তুই চানাচুর খা নইলে ক্লোজআপ মিনি পেস্ট কিনা দেই সেইডা খা। নাঃ, হেয় চা খাইবই খাইব। এইদিকে মরতুজার কায়-কারবার দেইখা দোকান থেইকা বাকি কাস্টমার সব উইঠা চইলা গেছে। দোকানদার একবার আমগো দিকে চায়, একবার মরতুজার দিকে। মরতুজায় চা খাইতে গিয়া জামারে আদ্দেক চা খাওয়াইয়া চেয়ার থাইকা উইঠা খাড়াইছে, তাকাইয়া দেখি বিটের পুলিশগুলা কি জানি সন্দ কইরা আমগো দিকে আগায়া আসবার লাগছে। কোনমতে চা-চানাচুরের দাম চুকাইয়া দুইজনে মরতুজারে টানতে টানতে দৌড়াইয়া রাস্তা পার হইছি। জুয়েইল্যায় এক বাস আসতে দেইখা দুইহাত তুইলা খাড়ায়া গেছে রাস্তায়। কোনভাবেই পুলিশের হাতে পড়ন যাইব না। বাসঅলায়ও খাড়াইছে। মরতুজারে পয়লা উঠাইতে গেছি, হালায় মুখ থুবড়াইয়া পইড়া গেছে বাসের পা দানিতে। কন্ডাক্টরে বুজছে ক্যারফা আছে, বাসঅলারে সিগনাল দিতে বাসঅলা দিছে টান। এদিকে মরতুজা পইড়া রইছে মাটিত। জুয়েইল্যায় ধরছে হের কান্ধ, আর আমারে ধরতে কইছে হের পাও। টাইনা সরাইয়া আনতে পারছি একটু, এর ভিত্রে বাসের পিছনের চাকা মরতুজার পাওয়ের দুই ইঞ্চি দূর দিয়া পাস করছে। এর মইধ্যে আবার আমার হাত গেছে ফসকাইয়া। আমিও হালায় চিল্লায়া জুয়েইল্যারে কইতেছি এই হালার পায়ের ওজনওতো কম না। এরপর দুইজন মিল্যা কোনোরকমে হেরে খাড়া করছি, দেখি হেয় কি জানি চাবায়। আমি জিগাই কি খাস? হেয় কয় তুই না চানাচুর খাইতে দিলি? আমি তখন বুঝছি হালায় চাবায় কি। বাসের পা দানিতে পইড়া গিয়া হের মুখে বালু ঢুকছিলো, হেয় সেইডারেই চানাচুর ভাইবা চাবায়। এরপর জুয়েইল্যায় কেমনে কেমনে জানি এক বাস থামাইছে, তারপর মরতুজারে টাইনা হেঁচড়াইয়া তুলছে বাসের ভিত্রে। মহিলা সিটে বসাইয়া দেওনের পর দেখি যে কয়জন মহিলা বইয়াছিলো অই সিটে হেরা সব ফুস কইরা ভাইগা গেছে। এরপর হেরে বাসায় পৌঁছাইয়া, পেস্ট খাওয়াইয়া, বমি করাইয়া তারপর ফিরছি আমার বাসায়।

জীবনের শ্যাষ শুকনা খাওনের অভিজ্ঞতা পুরাই লেইখা রাখনের মতো অভিজ্ঞতা হইয়া গেছে। আমি যদিও আর শুকনায় নিয়মিত হইনাই, কিন্তুক মরতুজায় এর পরেও প্রায় নিয়মিত শুকনা চালাইয়া গেছে বছর পাঁচেক। অখন বিয়া কইরা খানিক ভদ্র হইছে।

পোস্টটি ১৫ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

রাসেল আশরাফ's picture



এইটাইপের গল্প শুনছি আমার এক দোস্তের কাছ থেকে তার রুমমেটরে নিয়া।

হাসান রায়হান's picture


জটিল হইছে। আমার শুকনা সেবনের গল্পোও লেখমু। আয় বাবা মতিঝিল.. >)

নাজমুল হুদা's picture


[আমি ১৮+ না , ভুল করে পড়ে ফেলেছি । শুকনা জিনিষটা কি ? মনে হয় খেতে অনেক ভালো ! টেস্ট করে দেখতে হয় - - -]
স্মৃতিচারণ ভালো লেগেছে, বর্ণনা অতি উপাদেয় । হাসান রায়হানেরটার জন্য অপেক্ষায় থাকলাম ।

তানবীরা's picture


টিপ সই

আমরা এগুলোতে টিপ সই পার্টি। মাইনষের গল্প শুনতে ভালো লাগে। মেজরের গল্পের আশায় রইলাম, পথ চেয়ে

নাজ's picture


মি যদিও আর শুকনায় নিয়মিত হইনাই

ধইন্যা পাতা

সাহাদাত উদরাজী's picture


এ ওয়েটিং ফর নেক্সট ভিজা!
(এসবে না যাওয়াই ভাল, পরিবারের জন্য মঙ্গল)

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

গ্রিফিন's picture

নিজের সম্পর্কে

খুচাখুচি আর চুখাচুখি Tongue