ভালো কাজে বাড়াবাড়ি ভালো নয়
১.
আমরা মাটির মানুষ। প্রকৃত ও রূপক, দুই অর্থেই কথাটি সত্য। মাটির পৃথিবীতে, মাটি থেকে আমাদের জন্ম, শেষ শয্যাও মাটিতেই। অনন্ত মহাকালের একটি বিন্দুতে বিজলির মতো আমাদের জীবন, ক্ষণিক। বাঁশি বাজলেই খেলা শেষ। এ সকলেই জানি। কিন্তু মনে রাখি না। মনে রাখি না বলেই অন্যকে ধাক্কা দিই। ধাক্কা দিয়ে কাউকে খাদে ফেলে দিতে পারলে ভাবি, জয়ী হলাম। ভুল। বাইরে এ জয়টা যখন পাই, তখন দেখি না যে আমাদের ভেতরের মানুষটা কী লজ্জাজনকভাবে হেরে গেলো। মানুষ দেহে প্রাণী, হৃদয়ে মানুষ। সেই হৃদয়ে আঘাত করলে মনুষ্যত্বের মৃত্যু ঘটে।
হৃদয়-মন সবারই আছে। কিন্তু সব মানুষ হৃদয়বান ও মননশীল নয়। কারণ হৃদয় থাকলেই হৃদয়বান এবং মন থাকলেই মননশীল হওয়া যায় না। হৃদয়বান হতে চাই বিকশিত হৃদয় আর মননশীল মানুষ হতে লাগে জাগ্রত মন। আত্মার জাগৃতি ও মননশীলতার উদ্বোধনের ফলে সাধারণ মানুষ পরিণত হন মহত্তম মানুষে। এ বিকাশ ও জাগৃতি, নানা কারণে, সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে ঘটে না। এতে পরিমাণগত তারতম্য যেমন আছে, তেমনি আছে বিষয়গত বৈচিত্র। এ সবকিছু, সমস্ত ঊনতা-পূর্ণতা-তারতম্য-বৈচিত্র সমন্বিত হয়েই গড়ে উঠেছে মানুষের সমাজ।
মনন ও হৃদয়বৃত্তির বিকাশের ঊনতা কাঙ্ক্ষিত না হলেও স্বীকার্য, কিন্তু শূন্যতা তা নয়। কিছু ব্যক্তির বোধের বিকাশ একেবারেই ঘটে না, অনুকূল পরিবেশ পাবার পরেও না। একই মান ও পরিচর্যার মধ্যকার কিছু বীজ অঙ্কুরিত না হবার মতো এর কারণটি দুর্বোধ, তবু ঘটনাটি সত্য এবং দুঃখজনক। গভীর দুঃখের সঙ্গেই ওই অবিকশিত মনের লোকগুলিকে আমরা বলি হৃদয়হীন। হৃদয়হীন লোক নীরস, নিষ্ঠুর, মতান্ধ, অসহিষ্ণু ও প্রতিক্রিয়াশীল হয়ে থাকে। সে ইতিবাচক চিন্তা ও গঠনমূলক কাজ করতে পারে না। এরকম লোক অশিক্ষিত হলে উগ্র ও ঝগড়াটে এবং শিক্ষিত হলে ছিদ্রান্বেষী, উন্নাসিক ও বিশেষ মত বা ব্যক্তি-গোষ্ঠির অন্ধ অনুসারী হয়ে থাকে। যুক্তির পরিবর্তে আবেগের দ্বারা চালিত হয় বলে এরা নিজের মতকে জোঁকের মতো কামড়ে ধরে থাকে এবং কোনো অবস্থায়ই কাউকে একচুল ছাড় দিতে রাজি হয় না। এ মূঢ়তার অনিবার্য পরিণাম খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে বাড়াবাড়ি ও চরমপন্থা অবলম্বন। সমাজে ও প্রতিষ্ঠানে যতো রকম বিশৃঙ্খলা, আচরণগত বৈষম্য ও প্রতিক্রিয়াজাত অশান্তির ঘটনা ঘটে, তার অধিকাংশের অনুঘটক এরাই।১আমরা মাটির মানুষ। প্রকৃত ও রূপক, দুই অর্থেই কথাটি সত্য। মাটির পৃথিবীতে, মাটি থেকে আমাদের জন্ম, শেষ শয্যাও মাটিতেই। অনন্ত মহাকালের একটি বিন্দুতে বিজলির মতো আমাদের জীবন, ক্ষণিক। বাঁশি বাজলেই খেলা শেষ। এ সকলেই জানি। কিন্তু মনে রাখি না। মনে রাখি না বলেই অন্যকে ধাক্কা দিই। ধাক্কা দিয়ে কাউকে খাদে ফেলে দিতে পারলে ভাবি, জয়ী হলাম। ভুল। বাইরে এ জয়টা যখন পাই, তখন দেখি না যে আমাদের ভেতরের মানুষটা কী লজ্জাজনকভাবে হেরে গেলো। মানুষ দেহে প্রাণী, হৃদয়ে মানুষ। সেই হৃদয়ে আঘাত করলে মনুষ্যত্বের মৃত্যু ঘটে।
হৃদয়-মন সবারই আছে। কিন্তু সব মানুষ হৃদয়বান ও মননশীল নয়। কারণ হৃদয় থাকলেই হৃদয়বান এবং মন থাকলেই মননশীল হওয়া যায় না। হৃদয়বান হতে চাই বিকশিত হৃদয় আর মননশীল মানুষ হতে লাগে জাগ্রত মন। আত্মার জাগৃতি ও মননশীলতার উদ্বোধনের ফলে সাধারণ মানুষ পরিণত হন মহত্তম মানুষে। এ বিকাশ ও জাগৃতি, নানা কারণে, সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে ঘটে না। এতে পরিমাণগত তারতম্য যেমন আছে, তেমনি আছে বিষয়গত বৈচিত্র। এ সবকিছু, সমস্ত ঊনতা-পূর্ণতা-তারতম্য-বৈচিত্র সমন্বিত হয়েই গড়ে উঠেছে মানুষের সমাজ।
মনন ও হৃদয়বৃত্তির বিকাশের ঊনতা কাঙ্ক্ষিত না হলেও স্বীকার্য, কিন্তু শূন্যতা তা নয়। কিছু ব্যক্তির বোধের বিকাশ একেবারেই ঘটে না, অনুকূল পরিবেশ পাবার পরেও না। একই মান ও পরিচর্যার মধ্যকার কিছু বীজ অঙ্কুরিত না হবার মতো এর কারণটি দুর্বোধ, তবু ঘটনাটি সত্য এবং দুঃখজনক। গভীর দুঃখের সঙ্গেই ওই অবিকশিত মনের লোকগুলিকে আমরা বলি হৃদয়হীন। হৃদয়হীন লোক নীরস, নিষ্ঠুর, মতান্ধ, অসহিষ্ণু ও প্রতিক্রিয়াশীল হয়ে থাকে। সে ইতিবাচক চিন্তা ও গঠনমূলক কাজ করতে পারে না। এরকম লোক অশিক্ষিত হলে উগ্র ও ঝগড়াটে এবং শিক্ষিত হলে ছিদ্রান্বেষী, উন্নাসিক ও বিশেষ মত বা ব্যক্তি-গোষ্ঠির অন্ধ অনুসারী হয়ে থাকে। যুক্তির পরিবর্তে আবেগের দ্বারা চালিত হয় বলে এরা নিজের মতকে জোঁকের মতো কামড়ে ধরে থাকে এবং কোনো অবস্থায়ই কাউকে একচুল ছাড় দিতে রাজি হয় না। এ মূঢ়তার অনিবার্য পরিণাম খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে বাড়াবাড়ি ও চরমপন্থা অবলম্বন। সমাজে ও প্রতিষ্ঠানে যতো রকম বিশৃঙ্খলা, আচরণগত বৈষম্য ও প্রতিক্রিয়াজাত অশান্তির ঘটনা ঘটে, তার অধিকাংশের অনুঘটক এরাই।
(অসমাপ্ত)।
─────────────────────────────
a-haque@live.com





অসমাপ্ত রেখেছেন কেন? লেখাটা কিন্তু বেশ গতিশীল। একটানে পড়ে এসে শেষে আরো কিছু কথা শোনার একটা ইচ্ছা, অপূর্ণ রয়ে গেলো।
যাক্ এবিতে আপনাকে
লিখে যান হাত খুলে। শুভকামনা রইলো।
"আমরা বন্ধু"-তে নিবন্ধন করতে গিয়ে পড়লাম মুশকিলে, একজন বন্ধুর নাম লিখতে হয় যিনি আগে থেকেই এর সদস্য। কিন্তু আমার তেমন কেউ নেই। অগত্যা প্রথম পাতা খুলে প্রথম যে নামটি চোখে পড়লো, তা-ই লিখে দিলাম। নামটি ছিলো "মীর"। কাকতালীয় ব্যাপার হলো এই মীরই আমার প্রথম পোস্টে প্রথম মন্তব্যকারী!
জনাব মীরকে ধন্যবাদটা কীভাবে জানাবো, ভেবেই তো পাচ্ছি না....!
আপনি কি আমারব্লগের সেই আব্দুল হক?

চোখ টিপির মানে কি?
মন্তব্য করুন