ইউজার লগইন

ও নদীরে (২)

কথা আমি রেখেছিলাম মেঘনার কাছে। আমাদের এক সনাতনধর্মী বান্ধবী হঠাৎ সপরিবারে ভারত চলে যাবার কথা শুনলাম। আমরা সেই ক্লাস ফাইভ থেকে একসাথে পড়েছি। এইচএসসির পর যখন শুনলাম আমার জুটি ভাঙ্গতে যাচ্ছে তখন মনে মনে ভাবলাম এতবছরের স্মৃতিকে মেঘনাতেই না হয় দাফন করব। কষ্ট কম হবে। নাগালের ভেতর থাকা সব বন্ধু বান্ধবীকে ল্যান্ডফোনে ফোন দিলাম। ২২ এপ্রিল ১৯৯৭, বাইরে একটা নিদারুণ রোদাক্রান্ত দিন। রোদে ভাজা ভাজা যাকে বলে। সাড়ে ৯টার ভেতর সব মীরপুর দশ নাম্বার গোল চক্করে জড়ো হয়ে গেলাম। গোণাগুণতি করে দেখা গেল জেরীন ছাড়া সবাই-লিমা, মাবরুকা,কাজলা, শর্মিলা,সোহাগ, জিমি, শামীম,রিপন, খালেদ,শর্মিলার কাজিন পলাশী এবং আমি লোচন;-ওরে বাবা এ তো বিরাট বহর। আমরা একটা বাসে উঠলাম- উদ্দেশ্য গুলিস্তান যাওয়া। পকেটের অবস্থা সবার যা ইচ্ছা তাই। ৫০- ১০০ এভাবে করে যা টাকা পাওয়া গেল সব একসাথে একজনের কাছে দিলাম। গুলিস্তান পৌঁছতে পৌঁছতে গরমে ঘেমে নেয়ে সবাই একাকার। খালেদের স্বাস্থ্য ভালো সে বেচারা একেবারে হাঁসফাঁস করছে গরমে। কিছু যে কিনে খাবো সে অবস্থাও নেই। টাকার সংকট।
এবার মেঘনা যাবার বাসে উঠতে হবে। বাসে উঠলাম, খালেদ শেষ পর্যন্ত সবার জন্য শশা কিনে আনলো, আমাদের যে টাকা আছে তাতে এর চাইতে সস্তা আর কোন খাবার নেই। সবাই সেটাই গোগ্রাসে খেলাম। বাসে বসা নিয়ে গ্যাঞ্জাম লেগে গেল। পলাশীর পাশে খালেদের সিট পড়েছে সে কোনভাবেই পলাশীর পাশে বসবে না। এটা নিয়ে ব্যাপক হাসাহাসি হলো। আমরা ঠিক করলামনৌকা নিয়ে যথন চরে যাব খালেদকে আর পলাশীকে পাশাপাশি পানিতে ডুবাবো।
মেঘনার পাড়ে পৌছে দেখি সুর্য একদম মাথার উপরে। নৌকা ভাড়া করলাম অনেক দরদাম করে। রোদ যেন মগজ ভেদ করে ঢুকে যাবে। ওমা চরে যেতে যেতে একটু মেঘ হলো, আমাদের ও স্বস্তি। যারা সাঁতার জানে চরে নৌকা ঠেকানোর আগেই পানিতে ঝাঁপ দিলো। প্ল্যান মতো খালেদকে সোহাগ শামীম চুবানো শুরু করতেই বেচারা হাউমাউ করে উঠলো। সে শপথের মতো করে বললো ফেরার পথে সে অবশ্য অবশ্যই পলাশীর পাশে বসবে। খালেদকে ছেড়ে দেয়া হলো-ঢাকায় ফিরে এক প্যাকেট গোল্ডলিফ দেবে সোহাগ আর শামীমকে এ শর্তে।
ভেজা গায়ে সবাই গিয়ে মেঘনা সেতুর নীচে গিয়ে বসলাম। উপর দিযে গাড়ি গেলে সেতু কাঁপে, আমাদের ফূর্তি বাড়ে।
আড্ডা হলো, চা বিস্কুট খেলাম। ভেজা গা শুকালো, শেষ পয়সা দিয়ে আবার মীরপুর এসে নামলাম সবাই। ফিরতে ফিরতে আমি মেঘনাকে বললাম মনে রেখ তোমার কাছে আমি কত কি গচ্ছিত রাখলাম- বন্ধুত্ব ভালোবাসা প্রেম, আমাদের তুমুল হৈ হল্লার দিন। মেঘনা এসব আমাকে আবার ফেরত দেবে আমি কি তা জানতাম!

পোস্টটি ১৪ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


বাহ! চমৎকার!

আরও বড় হলে আরও ভাল হতো।

আরাফাত শান্ত's picture


ভালো লাগলো। লিখেন বেশী বেশী!

অনিমেষ রহমান's picture


পড়লাম।

নিভৃত স্বপ্নচারী's picture


টিপ সই

সবুজ পাহাড়ের রাজা's picture


মেঘনার ফেরত দেয়া সেই সৃত্মিগুলো পড়তে চাই, পরের পর্ব তাড়াতাড়ি লিখুন।

টুটুল's picture


মাঝে মাঝে কৈ চৈলা যান?

মেঘকন্যা's picture


বেবি সিটিং...Smile, অফিস, সারারাত জাগা...এখন জীবন এমন...

উচ্ছল's picture


ভালো। Smile

তানবীরা's picture


মেঘনা এসব আমাকে আবার ফেরত দেবে আমি কি তা জানতাম!

তাই নাকি? তাড়াতাড়ি পরেরটা চাই Laughing out loud

১০

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


অত ফাঁকিবাজি কই শিখে সবাই?! Stare

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

মেঘকন্যা's picture

নিজের সম্পর্কে

ব্লগিং করছি 2005/2006 থেকে। এখানে এসে দেখলাম কেউ আগে থেকেই আমার "মেঘ" নিকটা নিয়ে নিয়েছে, যা আমি এত বছর ব্যবহার করছি।
ভালোবাসা লেখালেখি।নিয়মিত লিখতে চাই। জীবনের কোন একসময় শুধুই লেখক হিসেবে স্বীকৃত দাবী করব Smile এই আশায় বেঁচে থাকি...