ইউজার লগইন

যাপিত দহনের গল্প - ২

জীবনের অন্যতম অর্থ সম্পর্কে আমি কৌতূহলী বহুদিন ধরে। কি কারণে 'জীবন' তার সাড়ে তিন বিলিয়ন বছরের পথ পাড়ি দিয়ে আজকের অবস্থায় এসেছে? কিসের আশায়? মানুষও তো তিনশ হাজার বছরের ইতিহাস পেছনে ফেলে এসেছে। কোন উদ্দেশ্যে?

বংশবিস্তার জীবনের একটি অন্যতম উদ্দেশ্য- গবেষকদের কথা এটি। কিন্তু বংশবিস্তারের দ্বারাই বা কি এমন বিরাট কার্য সম্পাদিত হয়েছে? সাড়ে তিন বিলিয়ন বছর ধরে নানান প্রজাতি জীবনের জয়গান গাইছে। অদ্যবধি তাতে করে সাড়ে ছয় হাজারের মতো স্যাটেলাইট, হাতে গোণা কিছু মহাকাশযান ও মহাকাশচারী ছাড়া বলার মতো কিছু নেই। এইসবে বিজ্ঞানের যা উন্নতি হয়েছে তাতে আমাদের চলার পথে মসৃণতা এসেছে। কিন্তু সত্যিকারের লাভ কি কিছু হয়েছে?

আজও বিশ্বের কোণায় কোণায় বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে ক্ষুধা, দারিদ্র, যুদ্ধ আর সাম্প্রদায়িকতার বিষ। উন্নত বিশ্বের মানুষ প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে একটু আরামের জীবন যাপন করছে ঠিকই, কিন্তু তারচেয়ে বেশি কিছু তো কোথাও হচ্ছে না। সেই কবে দাসপ্রথার বিলুপ্তি দাপ্তরিকভাবে ঘোষণা করে পৃথিবী সামনে এগোনোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিল। আজও কি কোথাও দাসপ্রথা বিলুপ্ত হয়েছে?

হয়তো এখন আর জাহাজে করে দাসদের এক দেশ থেকে আরেক দেশে নিয়ে গিয়ে নিলামে বিক্রি করা হয় না কিন্তু অন্য উপায়ে একই কাজটি ঠিকই হয়। বর্ণ বৈষম্যও এখন নতুন রূপ পেয়েছে। সম-অধিকার আজও এক প্রপঞ্চ হয়ে আছে সারা বিশ্বে। বিশ্বের সেরা ধনীদের তালিকা নামের এক প্রহসন এখনও মাসকাবারি ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়। সারা পৃথিবীর মানুষের মধ্যে সে তালিকার গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণ করে মানুষ এখনও আসলে কোথাও-ই পৌঁছুতে পারে নি। তো আমরা আসলে করছিটা কি? কেনই বা করছি?

পৃথিবীর গরীব দেশগুলোর জন্য, গরীব মানুষগুলোর জন্য কোনো সুসংবাদ নেই কোথাও। অথচ গত দুই বা তিন শতকে আমরা শিল্প, সাহিত্য, প্রযুক্তিসহ সম্ভাব্য সকল খাতে প্রভূত উন্নতি অর্জন করেছি বলে দাবি করি নিজেরাই! আসলে কি একটি প্রকল্প হাতে নিয়ে সকল সংকটের নিরসন দুই বা তিন শতকে ঘটাতে পারতাম না?

পারতাম, কিন্তু তাহলে দেখা দিতো আরেক নতুন সমস্যা। যারা মোড়ল তারা আর মোড়ল থাকতে পারতো না। যখন সবাই সমান হয়ে যায়, তখন অন্যকে ঠকানোর চিরায়ত প্রবৃত্তি চরিতার্থ করা সম্ভব হয় না। তাই ঠকবাজরা এটা কখনো হতে দেবে না। বিশ্বব্যাপী বিজ্ঞানের উন্নতি আজও মানুষের চরিত্র থেকে লোভ দূর করার মতো কোনো টিকা আবিস্কার করতে সমর্থ হয় নি।

আমি আসলে খুব সহজে বিষয়টি দেখতে চাই। সারা ব্রহ্মাণ্ডকে আমাদের ব্যবহারের সুযোগ ছিল। বাসস্থান হিসেবেই ব্যবহার করতে হবে এমন না। অন্য অনেক উপায়েও করতে পারতাম। যদি পৃথিবীর সব সীমান্ত মুছে দিয়ে, সব বিভেদ ভুলে গিয়ে সকলে একসাথে সবার জন্য কিছু একটা করতে পারতাম।

এত উন্নত একটি জাতির জন্য এমন একটি সহাবস্থানে আসা একইসাথে সম্ভব ও অসম্ভব ছিল। ব্যাপারটি ছিল দৃষ্টিভঙ্গির। এবং আমরা ব্যাপারটিকে অসম্ভব হিসেবেই দেখেছি। তাই আমাদের সার্বিক অবস্থা আজ যেমন দেখা যাচ্ছে তেমন হয়েছে। আমরা স্বার্থপর, দুরভিসন্ধিমূলক, অযাচিত কর্মকাণ্ডের তাড়নায় ভরপুর পঙ্কিল এক জাত হয়েছি।

অথচ এমন না হলেও হতে পারতো!

হায় জীবন। এ এক ভীষণ দাহ্য পদার্থ!

---

মীর রাকীব-উন-নবী
অফেনবুর্গ, ১৪/১০/২০২১ ইং

পোস্টটি ৪ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

মীর's picture

নিজের সম্পর্কে

স্বাগতম। আমার নাম মীর রাকীব-উন-নবী। জীবিকার তাগিদে পরবাসী। মাঝে মাঝে টুকটাক গল্প-কবিতা-আত্মজীবনী ইত্যাদি লিখি। সেসব প্রধানত এই ব্লগেই প্রকাশ করে থাকি। এই ব্লগে আমার সব লেখার কপিরাইট আমার নিজেরই। অনুগ্রহ করে সূ্ত্র উল্লেখ না করে লেখাগুলো কেউ ব্যবহার করবেন না। যেকোন যোগাযোগের জন্য ই-মেইল করুন: bd.mir13@gmail.com.
ধন্যবাদ। হ্যাপি রিডিং!