তোমাকে পাওয়ার জন্যে
তোমাকে পাওয়ার জন্যে কি প্রবল তৃষ্ণাটাই না আমি পুষে রেখেছিলাম। মরু সাহারায় পানির অভাবে মৃতপ্রায় মানুষ যেমন এক ফোঁটা পানির জন্যে হাহাকার করে, তোমার জন্যে আমি তারচেয়েও বেশি হাহাকার করেছি। ভালবাসা-হীনতায় এই বুক ফেটে গ্রীষ্মের শুষ্ক মাঠের মত শত ফাটা হয়ে চৌচির রূপ ধরেছে- এক আজলা ভালবাসার পরশে তুমি তাকে কখনো সিক্ত করো নি। দু হাতে আচল মেলে তুমি তাকে এক মূহুর্তে জন্যে ছায়া দাও নি। প্রতিটা মূহুর্তে আমি তোমার অপেক্ষায় ছিলাম, তোমার প্রত্যাশায় ছিলাম। কিন্তু দুরের কন্যা তুমি- দুরে ছিলে, দুরেই রয়ে গেলে। দুরের মানুষ এই জীবনে কোনদিন কাছের হলে না।
তারিন, তারিন- অধরা তারিন!
আজ থেকে অনেক বছর পরে হয়তো তুমি আমাকে পরিপূর্ণ ভাবে ভুলে যাবে। আমার কথা তোমার আর একটুও মনে পড়বে না। ছেলে-মেয়ে আত্মীয় স্বজন নিয়ে সুখের সংসার হবে তোমার। অনেক অনেক দুরের কোথাও একা নিঃসঙ্গ কাটবে তখন আমার সময়। আমি জানি তখনো আমি তোমাকে ভুলতে পারবো না। মানুষের মন দীর্ঘ বিরতিতে কষ্টের স্মৃতি ভুলিয়ে দেয়, শুধু আনন্দের কথাগুলোই মনে রাখে।
আজ থেকে অনেক দুরের দেশে, অচেনা কোন জায়গায় অন্য কোন সময়ে হয়তো সেদিনও আকাশে চাঁদ উঠবে, সেই পূর্ণচন্দ্রের দিকে তাকিয়ে আমার মনে হবে ঐ চাদের মত সুন্দর একটা মেয়েকে আমি ভালবাসতাম। আমার প্রেয়সীর রূপের কাছে ঐ চাঁদ আমার ম্লান মনে হতো। নির্ঘুম রাতের শেষ প্রহরে আমার কানে তখন বাজবে তোমার গানের সুর। আমার তখন মনে পড়বে আমি একটা মেয়েকে ভালবাসতাম। যার ছিলো চমৎকার গানের গলা। আমার সেই ভালবাসা আমাকে সুন্দর সুন্দর সব গান শোনাত।
ঝমঝমিয়ে যখন দশদিক অন্ধকার করে বৃষ্টি হবে তখন আমি জানালার পাশে বৃষ্টির দিকে হাত বাড়িয়ে ভিজবো। তখন মনে পড়বে আমার ভালবাসার মেয়েটি এই রকম জানালায় দাঁড়িয়ে হাত বাড়িয়ে বৃষ্টিতে ভিজত। আর এই বৃষ্টি-ভেজা বালিকার রূপ কল্পনায় আমি কবিতা লিখতাম। তার জন্যে আমার অনেক অনেক কবিতা, গল্প আছে। তার সাথে আমার বিয়ে হলে বাসর রাতে তাকে উৎসর্গ করা আমার একটি উপন্যাস আমি তার হাতে উপহার দেবার প্লান করেছিলাম। সেই উপন্যাস হয়তো সেদিনও পাণ্ডুলিপিতেই থাকবে। প্রেসের ছোঁয়া পেয়ে পৃথিবীর মুখ সে দেখবে না।
সেদিনও পৃথিবীতে ভালবাসা থাকবে। মানুষের চমৎকার সব ভালবাসার দৃশ্য দেখে আমার তোমাকে মনে পড়বে। তোমাকে আমি একদিন বাইরে খেতে নিয়ে গিয়েছিলাম। চমৎকার পাঁচটি গোলাপ দিতে পেরে আনন্দিত হয়েছিলাম।
নিঃসঙ্গ জীবনে আমার মনে পড়বে একদিন আমিও একটা মেয়েকে সেই গল্প উপন্যাসের মত জীবন দিয়ে ভালবাসতাম। সেই ছিলো আমার প্রথম ও একমাত্র ভালবাসা। তাকে আমি অনেকগুলো গোলাপ দিয়েছিলাম। সেই ছিলো প্রথম মেয়ে যে আমার হাত থেকে গোলাপ পেয়েছে।
তখন হয়তো তোমার কথা ভেবে আমার চোখের কোনে এক ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়বে। সেই গড়ানো জলের প্রতিটি কণাই তোমার প্রতি আমার ভালবাসার সাক্ষী হয়ে থাকবে।
একদিন টুপ করে মরে যাবো। কেউ হয়তো আর আমাকে মনে রাখবে না। আমাকে নিয়ে কেউ গল্প- কবিতা রচনা করবে না, আমার জন্যে কেউ আত্মজীবনীও লিখবে না। চুপে চুপে হারিয়ে যাবো, একা এবং অভিমানে। নীরব হয়ে চলে যাবো নিভৃতে।
কেউ জানবে না তখন এই একা মানুষটি একটা মেয়েকে ভালবেসেছিল। তাকে নিয়ে গভীর আবেগে সে অনেকগুলো কবিতা লিখেছিল। সব কিছু হারিয়ে সে মেয়েটিকেই চেয়েছিল। কিন্তু মেয়েটিকেই সে পায় নি। না পাওয়ার গভীর আক্ষেপ নিয়ে সে এই পৃথিবী থেকে চলে গেল।
অনেক বছর পরে কেউ আর আমাকে মনে রাখবে না। তখন তুমিও থাকবে না, আমি ও থাকবো না। আমাদের সময় অতীত হবে। তখনও পৃথিবীতে ভালবাসা থাকবে। তখনও মানুষ ভালবাসবে। তখনো আকাশে চাঁদ উঠবে, বাগানে ফুল ফুটবে। বসন্তে কোকিল ডাকবে। তখনও গল্প-উপন্যাস, সাহিত্য হবে।
যুগের পর যুগ এভাবে শেষ হয়ে যাবে।
শুধু তোমাকে না পাওয়ার আক্ষেপ আমার কোনদিন শেষ হবে না।





বাপরে!
উক্ত কারনে আপনার লেখাটি ব্লগের প্রথম পাতা থেকে সরিয়ে নেয়া হইলো! নীতিমালা মেনে পোস্ট করার অনুরোধ রইলো!
মন্তব্য করুন