দেশ প্রেমিক
আমি যুদ্ধ দেখি'নি। গল্প শুনেছি। শুনেছি ওরা নাকি অনেক খারাপ ছিল। আমাদের কোণঠাষা করে রাখতো। অনেক ছোট ছিলাম, কোন স্মৃতি নেই তখনকার সময়ের।স্বাধীন দেশে বড় হয়েছি। দেশের নাম করা সরকারী স্কুল, কলেজ আর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বলতে গেলে একরকম বিনে পয়সায় পড়াশুনা শেষ করার সুযোগ পেয়েছি ( বেতনের পরিমান খুবি কম ছিল)। দেশের
স্বাধীন দেশে বিনে পয়সায় সর্বোচ্চ ডিগ্রি (যা কিনা পৃথিবী'র আর কোন দেশে আছে কিনা আমার অন্তত জানা নাই) নিয়ে দেশ ছেড়ে নিজের জীবন আরো সুন্দর করার জন্য বিদেশে পাড়ি জমিয়ে দেশের কথা বেমালুম ভুলে গেলাম।বিদেশে আছি , ভাল কামাই, ভাল থাকি, আর ফেসবুকে জ্ঞ্যান গর্ব স্ট্যাটাস লিখি। দেশ আমাকে সব কিছুই দিলো বিনে পয়সায় কিন্তু আমি কিছুই দেই না তার বিনিময়ে। আমি প্রয়োজন হলে হুন্ডি করে টাকা পাঠাই, সোনালী একচেঞ্জে যাইনা, হুন্ডি করলে বেশি লাভ পাওয়া যায়।
আমি দেশের জন্য কিছু করিনা, নিজের জন্য কিছু করার চেষ্টা করি , আর তাই বিদেশে বসেও দেশের রাজনিতি;র সাথে সম্পর্ক রাখি যদি কখনো কাজে লেগে যায়।
দেশের অর্থনিতি'র বিরাট অংশ আসে রেমিট্যান্স থেকে সেখানে আমার মত দেশ থেকে বিনে পয়াসায় পড়াশুনা করে আসা শিক্ষিত মানুষের কোন অবদান নাই, কারন ওইযে বলেছি আমি হুন্ডি করে পাঠাই যাতে দেশ কোনভাবেই আমার কাছ থেকে এক পয়সাও না পায়।
দেশ থেকে কিছু পাওয়া আমার নাগরিক অধিকার, কিন্তু বিনিময়ে দেশের জন্য কিছু করা আমার দায়িত্ব নয়, কারন দেশের প্রতি আমার আসলেই কোন প্রেম নাই, কিন্তু মুখে অনেক বড় বড় কথা কিন্তু আমি ই বলি।
দেশে বসে আমার মত চুনোপুটির কখনই কোন বড় নেতা, মন্ত্রি, এম,পি এদের ধারে কাছে ঘেষার সুযোগ হত না। কিন্তু আমি এখন বিদেশে থাকি, দল বাজি করি, সংঘঠনের বড় পদে থাকার জন্য গিরিঙ্গি করি, চাঁদাবাজি করি, আর তার সুবাদে দেশ থেকে যখন কোন নেতা আসেন, আমি তাদের সাথে মঞ্চে পাশা পাশি বসার সুযোগ পাই, পত্রিকায় মন্ত্রীর সাথে আমার ছবি ছাপা হয়, বাংলা টি,ভি তে আমাকে দেখা যায় স্যুট টাই পরে মন্ত্রির পাশের চেয়ারে বসে থাকতে।
দেশে কোন দুর্যোগ হলে আমরা এখানে দেশের জন্য চাঁদা উঠাই অনেক টাকা, তারপর নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করি বেশির ভাগ, সামান্য কিছু দেশে পাঠিয়ে দিয়ে।
দেশে গিয়ে কি করে তৃতীয়মাত্রায় যাওয়া যায় তার জন্য লাইন খুঁজি, খুব বেগ পেতে হয়না আমার, কারন ওরা তো বিদেশে গেলে আমি আমার গাড়ি দিয়ে ওদের শহর ঘুরিয়ে দেখাই, শপিং করে দেই, পিপ শো দেখাতে নিয়ে যাই।
দেশের রাস্তা জ্যাম করে যখন গার্মেন্টস এর মেয়েরা লাইন দিয়ে কাজে যায় কিংবা কাজ থেকে ফিরে, ওদের দিকে বিরক্ত হয়ে তাকাই, ভাবি এই ঝঞ্জাল্ গুলি ঢাকা শহরের বিউটি নষ্ট করে ফেললো। মিডল ইষ্ট হয়ে দেশে যাবার সময় , ফেরার সময় যখন শ্রমিক'রা প্লেন বোঝাই করে আসে , যায়, খুব বিরক্ত হয়ে এয়ারহোস্টেস কে রিকোয়েস্ট করে যদি আমাকে বিজনেস ক্লাসে আপগ্রেড করে দেয়া যায়।
আমি কখন ই ভাবিনা রাস্তা জ্যাম করে হাটা ওই গার্মেন্টস কর্মিরা আর প্লেন বোঝাই করে বুকের সাথে নাম্বার লাগিয়ে যেসব মানুষ গুলি মধ্যপ্রাচ্যে যাচ্ছে, যাদের দেখলেই বিরক্ত লাগে,ঐ মানুষগুলি ই আসোলে দেশের মেরুদন্ড, ওরাই আসল দেশপ্রেমিক, ওরাই দেশের অর্থনিতির চাকা সচল রাখে। আর আমার মত শিক্ষিত মানুষেরা আসলে দেশের আগাছা, বিষ ফোড়াঁ। আমি হলাম চরম ভন্ড, প্রতারক, মিথ্যুক। আমাকে দিয়ে দেশের সমস্যা ছাড়া আর কিছুই হবেনা।
তবুও আমি স্বীকৃত দেশ প্রেমিক, স্বাধীনতার স্বপক্ষের মানুষ, সুশীল সমাজের একজন। দেশ আমার মত ভন্ড মানুষদের হাতেই বন্দী আছে এবং থাকবে আরো বহুদিন।





ভাইয়া, আপনি একেবারে সত্যটা অপকটে স্বীকার করছেন। প্রতিটি বর্ণ শতভাগ সত্য।
সত্য কথার মজাই আলাদা !
আমিও যে একই গোয়ালের -------
শুনে খুউব আনন্দিত হলাম! অনেক ধন্যবাদ
তা যা বলেছেন, আমরা তাই, কেউ বলে কেউ বলে না
মন্তব্য করুন