এলোমেলো কথা
ছোটবেলায় নামায পড়া, আরবী পড়া এসব বাধ্যতামুলক ছিল আমাদের বাড়িতে।
ছোটদের জন্য রোযা রাখা বাধ্যতামুলক না হলেও আমি রাখতাম কারণ বাড়িতে যারা রোযা রাখতো তাদের জন্য অনেক মজা'র খাবার তৈরি হত, আর যারা রোযা রাখতো না তাদের খেতে হত আগের দিনের বাসি খাবার, তাই ভাল খাবারের লোভেই সব সময় রোযা রাখতাম।
যুদ্ধের সময় আমরা ঢাকা ছেড়ে গ্রামে চলে গেলাম সবাই। তখন নতুন নতুন এক অভিজ্ঞতা হল। মসজিদে ইফতার করলে অনেক রকমের ইফতার, সরবত, মিষ্টী, বিরিয়ানি এসব খাওয়া যেতো।
তাই আমি কখনোই মাগরেবের নামাযের সময় মসজিদ ছাড়া অন্য কোথাও থাকতাম না,যদি ইফতার মিস হয়ে যায় এই চিন্তায়।
সেই থেকে রোযা রাখার অভ্যাস আর নষ্ট করি নাই, যদিও নামায পড়ার বেলায় আমি অনেক অলস। আমার দুই ছেলে আমার স্ত্রী'র বদৌলতে ভিন দেশে জন্ম নিয়েও নামায রোযা আর হালাল খাবারের প্রতি যত্নবান। তবে আমি খুব খেয়াল করি আর সব সময় ছেলেদের বলি যেন ওরা স্কুলে কিংবা অন্য কোথাও কোন ধর্মিয় আলোচনায় অংশ না নেয়। কারণ অনেক কিছু হতে পারে।
আমার শৈশব আর আমার ছেলেদের শৈশব ভিন্ন। আমি বড় হয়েছি অনেক ভাইবোন আর বাড়ি ভর্তি মানুষের মাঝে। সারাক্ষন নজরদারি থাকতো। আমার ছেলেরা বড় হচ্ছে অনেকটাই একা একা। দিনের শেষে হয়ত কিছুক্ষন আর ছুটির দিনে ওদের দেখতে পাই, তাও যদি ওরা দয়া করে আমাদের সাথে কিছু সময় কাটায় ওদের হোম ওয়ার্ক, খেলাধুলা, ঘর বন্ধ করে কম্পিউটারে থাকার মাঝে।
আমার ছোটবেলায় মক্তবে হুজুর কায়দা পড়ানো ছাড়া বাড়তি ধর্মিয় কথা বলতো না।কিন্তু দেশের বাইরে এখন মসজিদ গুলিতে অনেক বেশি অন্য ধর্মের প্রতি বিদ্বেষ্ মুলক কথাবার্তা বলা হয় আর এই ভয়ে আমি আমার ছেলেদের মসজিদে পাঠাই না। নিজে বাঁচলে বাপের নাম। আমি খুব স্বার্থপর আর বাস্তব বাদী মানুষ। আমি মনে করি যার যেমন খুশি ধর্ম পালন করবে। আমি আমার ছেলেদের যতটুকু দরকার তার বেশি ধর্ম নিয়ে মাথা ঘামাতে দেই না, যদিও তাতে আমার স্ত্রী আমার উপর অনেকটাই নাখোস।
দেশের বাইরে আমাদের বাঙালি ভাইরা যেভাবে ধর্ম নিয়ে মাতা মাতি করেন আমি দেশে কখনই এমন দেখি নাই।ধর্ম করার অর্থ কি শুধুই নামায, রোযা , হজ্ব আর নামমাত্র যাক্কাত দেয়া ? কি জানি! আমিতো জানতাম ধর্ম মানেই আর্তের সেবা, হিসাব করে যাকাত দেয়া, সবাইকে সমান চোখে দেখা, বাবা মা, আত্মিয়স্বজনের প্রতি দায়িত্ব পালন করা। আমরা ওসব ঠিকমত পালন না করে আস্তিক নাস্তিক, হালাল হারাম আর সবার বাড়ির কোনায় একটা করে মসজিদ বানানোর প্রতি এত ঝুকে পড়ছি কেন? এসব আমার মহা বিরক্ত লাগে, খুব আপত্তি এত বাড়া বাড়িতে। আর তাই মনে হয় আমাকেও নাস্তিক খেতাবে ভুষিত করে ফেল্বে আমার কাছের মানুষেরা। কি আর করা! 





আমার ছোটবেলায় মক্তবে হুজুর কায়দা পড়ানো ছাড়া বাড়তি ধর্মিয় কথা বলতো না।কিন্তু দেশের বাইরে এখন মসজিদ গুলিতে অনেক বেশি অন্য ধর্মের প্রতি বিদ্বেষ্ মুলক কথাবার্তা বলা হয়
@ অন্য ধর্মের প্রতি কোন মসজিদে যদি বিদ্বেষ মূলক কথা বলে তবে ঐ মৌলানা সাবকে বলবেন, সুরা বাকারার ২৮৪,২৮৫,২৮৬ নম্বর আয়াত এবং বুখারী শরীফের ৭০৩৯ নম্বর হাদিসটি পড়ে দেখতে। এগুলোর অর্থ বুঝলে উনি কোন ধর্মকে গালি বা বিদ্বেষ মূলক কথা বলতে পারেন না। আর যদি তাও দেন তবে তিনি আল্লাহ ও রসুলের হুকুম তরফ করার অপরাধে অপরাধী হবেন। ভাল থাকবেন। সাবধানে থাকবেন। কোন দেশে আছেন?
আহসান হাবীব ভাই, অনে ক ধন্যবাদ! আমি নিউইয়র্ক শহরে টোকাইগিরি করি,
যারা আপনাকে উপাধি দেবে তাঁদের নিয়ে আমার একটি রচনা রয়েছে। পড়ার আহবান জানাই
মন্তব্য করুন