একটি কৌতুক, দুটো নগদ পাইরেটেড পদ্য এবং এক চিমটি ভ্রমনাচার
নিউ ইয়র্কে হাজব্যান্ড ষ্টোর নামে একটা দোকান খোলা হয়েছে যেখানে খোলাখুলি স্বামী বিক্রি করা হয়। ছয়তলা দালানে নানান ক্যাটাগরীর সোয়ামী ভাগ করা আছে। একেকতলায় একেকরকম স্বামী বিক্রি করা হয়।
কড়াকড়ি নিয়ম হলো ক্রেতা যে কোন ফ্লোর থেকে স্বামী পছন্দ করতে পারবে, তবে একজন একবারই পছন্দ করতে পারবে, এবং সেই পছন্দ অপরিবর্তনীয়। আরেকটা নিয়ম হলো নীচতলা থেকে উপরে যাওয়া যাবে, কিন্তু উপর থেকে নীচে নামা যাবে না।
এক মহিলা স্বামী কিনতে গেছে ওখানে।
প্রথমে একতলায় ঢুকে দেখলো, সব চাকরীজীবি এবং খোদাভক্ত স্বামী সারি সারি সাজানো। পছন্দ হলো না আধুনিকার।
এরপর গেল দোতলায়, দেখলো সব চাকরীজীবি আর বাচ্চাকাচ্চা ভক্ত স্বামী। নাহ, এটাও পছন্দ হলো না তার।
গেল তেতলায়, দেখলো সবগুলা সুদর্শন, চাকরীজীবি এবং বাচ্চাকাচ্চা পছন্দ স্বামী। তবুও পছন্দ হলো না তেমন।
গিয়ে উঠলো চারতলায়, দেখলো এখানে সুদর্শন, চাকরীজীবি, বাচ্চাপছন্দ, গৃহকর্মে আগ্রহী স্বামীগন। যাক এটাকে সেরা মনে হচ্ছে আপাততঃ। তবে আরো একটু ভালো হলে মন্দ হয় না।
গেল পাঁচতলায়, ওরেবাপস। এটা তো সুদর্শন, চাকরীজীবি, বাচ্চাপছন্দ, গৃহকর্মে আগ্রহী, এবং জব্বর রোমান্টিক পুরুষের আস্তানা। এর চেয়ে ভালো হতেই পারে না.... তবু মনটায় খচখচ। যদি আরেকটু বেটার কিছু মেলে।
চুড়ান্ত আশা বুক ভরে নিয়ে উঠলো ছয়তলায়। এবার বেছে নিতেই হবে। কিন্তু ছয়তলায় উঠে দেখলো কিছুই নাই। গ্যালারী শূণ্য। কেবল একটা ডিজিটাল সাইনবোর্ড.... পর্দায় যে লাইনগুলো ভেসে উঠেছে ডিজিটাল অক্ষরে তা হলো -
"আপনি ৪,১২৪,৩৫৬ নম্বর ভিজিটর। এই ফ্লোর রাখা হয়েছে সেই মহিলাদের জন্য যাদেরকে কিছুতেই তৃপ্ত করা যায় না। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ হাজব্যান্ড ষ্টোরে পদার্পনের জন্য। ওইদিকে বেরুবার এলিভেটেড পথ আছে, সাবধানে নেমে যান।"
###########################################
গালি দিয়েন না। এটা বহুল পঠিত একটা পাইরেটেড কইতক। আসলে লিখতে যাচ্ছিলাম নগদে সংগৃহীত দুটো কোবতে। শিবের গীত হয়ে গেল ৫০ শব্দ পুরণ করতে গিয়ে।
###########################################
গতকাল কাপ্তাই যাচ্ছিলাম কয়েক সাময়িক ব্যাচেলর (!) বন্ধু মিলে। খানিক আগে এক পশলা বৃষ্টি হয়ে গেছে। ঝকঝকে পাহাড়ের ছবি তোলার জন্য ক্যামেরা তৈরী করছিলাম। কিন্তু পাহাড় আসার আগে আগেই লাগলো এক বিশাল ঝামেলার যানজট। জ্যামে আটকে থেকে অতিষ্ঠ হয়ে গাড়ী থেকে বেরিয়েই সামনে দাঁড়ানো একটা সিএনজির দুই পিঠে নজর পড়লো কবিতা দুটো। দেখামাত্র পাইরেটের সিদ্ধান্ত-
১।
পাখিরা উড়ে যায়
পাখিদের বাসায়
মেয়েরা দাড়াই থাকে
সিএনজির আশায়
২।
গাছের জীবন লতাপাতা
মাছের জীবন পানি।
পুরুষের জীবন টাকা-পয়সা
নারীর জীবন স্বামী।
ভাবতেছিলাম, কথা সত্য কিনা......এবং কতটা...।
যাবার আগে সতর্কবানী কই, উপরের কইতক এবং নীচের কোবতের মধ্যে কোন সম্পর্ক দেখলে নিজ দায়িত্বে দেখবেন। ঈদ মোবারক!





চুপচাপ পড়ে গেলাম।
উদরাজী ভাই, আপনার এই 'চুপচাপ পড়ে গেলাম' কথাটা আমার দারুণ মনে ধরছে
পড়ার পর কিন্তু আর চুপচাপ থাকতে পারেন নাই
কোনটা পড়ে চুপ হয়ে গেলেন??
পরজনমে সিএঞ্জি হইয়া জন্মাইতে চাই
হ একলগে চারজনরে চড়াইতে পারবা, দু্ইচারজনরে চাপা দিবা, ধাক্কার তো কথাই নাই
গাছের জীবন লতাপাতা
মাছের জীবন পানি।
পুরুষের জীবন টাকা-পয়সা
নারীর জীবন স্বামী।
এই কোবতে যে লিখছে তারে ১ ঘন্টা কান ধইরা দাঁড় করায়া রাখা দরকার।
ড্রাইভারের কাছে জিগাইছিলাম কবির ঠিকানা বা মোবাইল দিতে, দিলনা, নইলে মোবাইলে কান ধরে দাড় করিয়ে রাখা যেতো।

সত্যি করে বলেন নীড়দা, কবতে কি আপনি লিখছেন?সন্দ লাগতাছে লুকজনের কথায়।
ছবি কেমনে এডায় বুঝতেছিনা, নইলে ফটু দিতাম
আমি শিউর এইডি নীড়ুদার নিজেরই লেখা পদ্য শরমে কয়না

চ্রম ফাজিল পদ্য রে
কইছে তোমারে...
ফটুক তোলা আছে পদ্যের
জটিলস!
সতী নারীর পতি
ছাড়া নাই কোনো গতি।
যেমুন সৎ পুরুষের বউ ছাড়া উপায় নাইক্কা
গাছের জীবন লতাপাতা
মাছের জীবন পানি।
পুরুষের জীবন টাকা-পয়সা
নারীর জীবন স্বামী।
একমত।
আগামী বসন্তে প্রমান করে দেন

আমাদের অফিসের শামীম ভাইয়ার বউ নিউইয়র্ক থাকেন। উনাকে কৌতুকটা পড়তে দিলাম। উনি ব্যাপক আনন্দিত হয়েছেন। আমি আরো ভাবলাম, হাজবেন্ড স্টোরের কথা পড়ে মুখটা আমসত্ত্বের মতো করবেন, তা নয় উনার মতো শান্তশিষ্ট মানুষ হেসে ফেললেন!
আর আমার ক্ষেত্রে যা হয়, বেশির ভাগ কৌতুকের শেষ লাইন বুঝিনা, অন্যদের দেখে হাসির ভঙ্গি করি। আজও বুঝিনি, পরে যখন বুঝলাম কিঞ্চিৎ গোস্বা হলাম। জগতের অধিকাংশ কৌতুকই মেয়েদের হেয় করে বানানো। অবশ্য এও জানি এসব কৌতুকের রচয়িতা কখনোই কোনো মেয়ে নয়। (চুপচাপ থাকেন, চিক্কুর পাইরেননা। তালগাছ আপনারে দিয়ে দিলাম!)
চিক্কুর পারতেছি না, কিন্তু তালগাছ দিয়া আমার কি কাম ভাবতেছি

রশীদা'পার মন্তব্য পড়ে মজা পাইলাম।
নীড়দা' একটি কৌতুক, দুটো নগদ পাইরেটেড পদ্য এবং এক চিমটি ভ্রমনাচার দারুণ লেগেছে। এক কেজি টাটকা ধইন্যাপাতা আপনার জন্য।
হুমমম...এই তাহলে কাপ্তাই ভ্রমন

ভালোই...
এটা ভ্রমন নয়, ভ্রমন পথের আচার। ভ্রমন আরো পরে হয়েছে সেটা ভিন্ন কাহিনী।
হাসলেন নাকি দাঁত খিচাইলেন???
আপ্নেতো দেখি ণূঢ়া ভাইয়ের চুশমিশ লাগাইছেন... এর জন্য হাসিটারে এরম লাগছে
ক্যামন আছেন?
ণূঢ়া ভাই কই, হজ্জ্বে গেছে নাকি? হাসান ভাইরে দিক্কার ণূঢ়া ফ্যান ক্লাব টিকাতে না পারার জন্য

আমিও চুপচাপ পড়ে গেলাম, হাসি নাই একটুও।
মেয়েরা সি।এন।জির আশায় দাঁড়িয়ে থাকে ??? আর কোন আশা নাই মেয়েদের জীবনে?

মেয়েরা যে কারণেই দাঁড়ায়ে থাকুক, সিএনজি মনে করে ওরা তারই অপেক্ষায়
====================
পদ্য শেয়ার করার জন্য ধইন্যা। কৌতুকটা বোধহয় ছেলেদের খুব পছন্দের। মাসুম ভাইও একবার ব্লগে লিখছিলেন, উনার প্রিয় চরিত্র শেফালি রাণীর ভার্সন।
সব ক্লাসিক জিনিসের প্রতি মাসুম ভাইয়ের আগ্রহ
মন্তব্য করুন