বড় দেরিতে বুঝতে পারা কাগজের নৌকো
ঘরের চালে কত ফুটো ছিল আমাদের, বর্ষাকে আমরা অনুভব করেছি জীবনযাপনের মধ্য দিয়ে। সাহিত্যের বর্ষা নয়, আমাদের ঐশ্বর্যময় করেছে জীবনযাপনের বর্ষা। বিকেল থেকেই টিপটিপ বৃষ্টি, তারপর কত রাত যে মুষলধারে নামা বৃষ্টির শব্দে ঘুম ভেঙে গেছে আমাদের! তারপর ব্যস্ত হয়ে পড়েছি বিছানা সরিয়ে নিরাপদে নিয়ে যেতে। ব্যস্ত হয়ে পড়েছি বালতি-গামলা-বাটি-গরুর দুধ দোয়ানোর দোনা, গ্লাস_এসব টিনের চালের ফুটো বরাবর বসিয়ে বৃষ্টির পানি থেকে ঘর বাঁচাতে। আমাদের ঘরের ডোয়া বেয়ে উঠে আসত প্রাকৃতিক লাঙ্গলের দল_অসংখ্য কালো মোটা কেঁচো, ছিপছিপানো লালচে কেঁচো। পায়ের আঙুলের ফাঁকে ঘা হয়ে যেত কাদার ভেতর হেঁটে হেঁটে এখান থেকে ওখানে যেতে যেতে_এ বাড়ি থেকে ও বাড়ি যেতে যেতে। কোনো কোনো দিন কী ভীষণ খুশি হয়ে দেখা দিত বাড়ির বুড়ো কামলা ফয়েজ জোয়ার্দার_রনপা বানিয়ে তাতে চড়ে সারা গাঁ ঘুরে বেড়াত সে বর্ষার ওই পিছল পথে। ক্ষেত থেকে আউশ কেটে আনার কাজে ব্যস্ত সবাই। তাদের সবার শরীরের ঘাম লোপাট করে দিত বর্ষার বৃষ্টি। দিনের পর দিন বৃষ্টি নেমে থাকত। প্রথম বৃষ্টির আনন্দ ভুলে একসময় মানুষ বিরক্ত হতে শুরু করত_কর্মহীন আর থাকতে চায় না তারা। তারা চায় রোদ, তারা চায় মেঘমুক্ত আকাশ_না হলে যেন পৃথিবীর সব কিছুই নিরানন্দের।
আমাদের তবু আনন্দ ছিল, আমাদের শৈশব ছিল আক্ষরিক অর্থেই বর্ষার শৈশব, কাগজের নৌকো বানানোর শৈশব, বাতাবি অথবা খড়বল খেলতে খেলতে, বর্ষার নতুন পানির সঙ্গে আসা মাছ ধরতে ধরতে অনাস্বাদিত নিজেকে খুঁজে পাওয়ার শৈশব। আহ্, পৃথিবীর ঐশ্বর্য ও সৌন্দর্য, মানুষের অনিঃশেষ প্রাণশক্তি ও ভালোবাসা খুঁজে পাওয়ার সেই শৈশব! আমি জানি, প্রতিটি শৈশবই আনন্দ খুঁজে পায় নিজের মতো করে_আবার এক দিন সেই অপার আনন্দ হারিয়ে ফেলার বেদনায় জ্বলতে জ্বলতে মৃত্যুর দিকে হাঁটতে থাকে। আবার প্রতিটি শেষ বয়সই চায় তাদের সেই ঐশ্বর্য সবাই দেখুক, সেই ঐশ্বর্য হারিয়ে ফেলার বেদনা একটু বুঝুক_বুঝুক বয়সের ভারে ন্যুব্জ সে একেবারে নিঃস্ব নয়_সে-ও এক দিন খুঁজে পেয়েছিল পৃথিবী ও মানুষের কত কিছু। এ এমন এক বেদনা, যার কাছে অন্য বেদনার কোনো মূল্যই নেই; এ এমন এক বেদনা, যা অন্যের কাছে ঐশ্বর্যহীন এবং ক্লান্তিকর। অনন্য প্রতিটি মানুষের শৈশব; কিন্তু বাংলার শৈশবের নৃতত্ত্বে বোধ করি বর্ষাই একমাত্র ঋতু, যা এক মহৎ বেদনায় গ্রন্থিত করে সব শৈশবকে_একমাত্র বর্ষারই বোধ হয় এমন শক্তি ছিল, যা সামাজিকভাবে উদ্বোধন ঘটাতে পারত সব শৈশবের। পৃথিবীর মুখোমুখি হতে হতে একেক শিশুর কাছে একেক ঋতু প্রিয় হয়ে উঠতে থাকে; কিন্তু মৃত্যুময় ভালোবাসার ঋতু হয়ে চিরকাল বেঁচে থাকে বর্ষা।
আমাদের গ্রামজনপদে_সলপজুড়ে বর্ষা আসত সাড়া জাগিয়ে। পথের ধারে, পুকুরের পাড়ে সর্দারবাড়ি_এখন যেমন, তখনো কোনো বাড়ি ছিল না সেখানটাতে, দূর অতীতে সেখানে পালকি নামিয়ে বিশ্রাম নিত সর্দাররা। সেখানে প্রতিদিন সময় নেই, অসময় নেই_বুকটান আমগাছের নিচে জড়ো হতেন হরফ আলী দাদা, কালু দাদা, দরবেশ দাদা, নজাবত আলী দাদা, মুন্সী কাকা, সামাদ কাকা, জামাত কাকা, মঞ্জু কাকারা। জড়ো হতাম আমরা_বড়দের মুখ থেকে বিস্ময়কর, আনন্দময় অজানা কিছু জানার আশায় আগ্রহী আমরা। আর শুনতাম, আসছে, বর্ষা আসছে, হুরা সাগর জেগে উঠছে, ফুলঝোরে পানি এসেছে, হুটহাট আকাশ হচ্ছে কালো, ঝরছে হঠাৎ বৃষ্টিধারা এবং পরাস্ত করছে কাঁঠালপাকানো উত্তাপকে_এভাবেই বর্ষা তার আসার খবর জানাত সলপজুড়ে। আমরা ছিলাম নদী থেকে খানিক দূরের গ্রামের; বর্র্ষা তবু কত কৃপাময় তখন, নদী উপচে সে ছুটে আসত সেই গ্রামের দিকে। একটা দুটো তো নয়, কত যে গ্রাম, ছড়ানো ছিটানো গ্রাম_সব গ্রামেই বসতি ছিল আমাদের; ছিল বন্ধুত্বের বসতি, প্রতিদ্বন্দ্বিতার বসতি। রামগাঁতী, আটবাকি, বাগানপাড়া, দিয়ারপাড়া, ছোট ভাবকী, বড় ভাবকী, কাজীপাড়া, বন্যাকান্দি, গোবিন্দপুর, হাড়িভাঙা, শ্রীবাড়ি, চরপাড়া, কানসোনা_সব গ্রামে বন্ধু আমাদের। কত যে প্রতিযোগিতা ছিল আমাদের_মাজুলের বাসা দখলের, গাছের সবচেয়ে উঁচু ডালে চড়ার, শাসনকারী মুরবি্বদের বাড়ি থেকে মুরগি চুরি করার, বর্ষার পানি সবচেয়ে আগে দেখার...। বর্ষা এসে গ্রামগুলোকে দ্বীপ বানাত। আমাদের কোনো বন্ধুই তখনো রবিনসন ক্রুসো জানি না, ট্রেজার আইল্যান্ড জানি না, থ্রি মাস্কেটিয়ার্স বুঝি না_বর্ষা আর বন্যা এসে আমাদের রবিনসন ক্রুসো বানাত, ট্রেজার আইল্যান্ডে নিয়ে যেত, কারাবন্দির মতোই জলবন্দি হয়ে মুক্তির পথ খুঁজতাম আমরা। বিচ্ছিন্নতা ও সঙ্গহীনতার বেদনা আমরা প্রথম অনুভব করতে শিখি বর্ষার মধ্য দিয়ে, কী ভীষণ ঝুম বৃষ্টি নেমেছে যে উপায় নেই এ ঘর থেকে ও ঘরে যাওয়ার! শিখি বিচ্ছিন্নতা ভাঙার আকুলতাও, বন্ধুতার জন্য নিরুপায়তাও_কলার ভেলা ভাসাতে শিখি, শিখি খানিক হেঁটে, খানিক পানি খচে, খানিক সাঁতরে বন্ধুর গাঁয়ে পেঁৗছে যাওয়া। বর্ষার পানিতে ভেসে যেত আমাদের নিচু জমি, সড়ক লাগোয়া হালট আর আশপাশের ডোবানালা পাগাড়গুলো। জল আসত কলকলিয়ে, দেখতে দেখতে হারিয়ে যেত পায়ে চলার পথগুলো। আমাদের বাড়িলাগোয়া পুকুরটার জান দিয়ে জল গড়াতে শুরু করলে মানুষের ঢল নামত পুকুরের পাড়জুড়ে। বর্ষার পানির সঙ্গে আসত মাছ_পুঁটি, মৌছি, ট্যাংরা, খলিসা ধরতে ধরতে প্রাণান্ত হতো সবাই। ভিটার গড়ান উজিয়ে উঠতে শুরু করত কৈ মাছের দল, মুড়ির শূন্য টিন ভরে উঠতে থাকত তরতাজা কৈ মাছে। ধরতে ধরতে একসময় ক্লান্ত হয়ে মাছ ধরায় ক্ষান্তি দিয়ে লোকজন চলে যেত যার যার বাড়িতে। এখন এসব মনে হয় রূপকথা।
একটি মাত্র নৌকা ছিল আমাদের সেই গাঁয়ে_বড় চাচার নৌকা। আমরা ডাকতাম জ্যাঠা মিয়া বলে আর সুযোগ পেলেই খুলে দেখতাম তার হোমিওপ্যাথির ওষুধভর্তি ব্যাগ। শখ করে হোমিওপ্যাথি চর্চা করতেন তিনি, ওষুধের দাম নিতেন না। হাটবাজারে যাওয়ার ওই একটাই বাহন ছিল প্রতিটি বর্ষাজুড়ে। জ্যাঠা মিয়া নৌকায় এসে বসতেন একটা টুলের ওপর, ছাতিটা খুলে মেলে ধরতেন মাথার ওপর। জিজ্ঞেস করতেন, বাজারে যারা যেতে চায় তারা সবাই এসেছে কি না। তারপর নৌকা চলতে শুরু করত নুহের নৌকার ক্ষুদ্র সংস্করণ হয়ে। জ্যাঠা মিয়ার নৌকায় চড়া আশপাশের মানুষদের জন্মগত অধিকার_দ্বীপ হয়ে যাওয়া গ্রামগুলোর কিনার থেকে নৌকা দেখার সঙ্গে সঙ্গে ভেসে আসত উল্লাসমাখা চিৎকার। আর সে চিৎকারে সাড়া দিয়ে নৌকা তীরে থামানোর সঙ্গে সঙ্গে কেউ হয়তো লাফ দিয়ে উঠত এক ধরা পাট নিয়ে, কেউ আবার উঠত ছোটখাটো ছাগল অথবা কাঁঠাল নিয়ে। নুহের নৌকার ক্ষুদ্র সংস্করণ এগিয়ে চলত বাজারের দিকে। শ্রেণীদূরত্বগুলো আড়াল করার জন্য দক্ষ পায়ে বর্ষা এগিয়ে আসত_ডুবু-ডুবু আউশের ধান কেটে ফেলার জন্য কামলার খোঁজে হন্যে হয়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরত ধানি জমির মালিকরা। কিন্তু কামলা পাওয়া কি তখন অতই সহজ!
বর্ষার বৃষ্টিতে অস্পষ্ট হয়ে থাকত আমাদের সারা দিন। আর এখন অস্পষ্ট হয়ে ওঠে স্মৃতি। আঙুল দিয়ে হিজিবিজি টেনে আমি সেই অস্পষ্ট জলজ বৃষ্টি সরাই_দেখি, খড় দিয়ে বানানো এক বল নিয়ে স্কুলের মাঠের খোলা প্রান্তরে খেলতে নেমেছে সবাই। তাদের কোনো দল নেই, দল বানানোর মতো অত খেলোয়াড়ও নেই গাঁয়ে, বল নিজের দখলে রাখাই বড় কৃতিত্ব বৃষ্টির সেই বাতাবিবল ও খড়বল খেলাতে। দুপুরে রেডিওর নব ঘোরাতেই বৃষ্টি ও বর্ষায় বিপর্যস্ত বিজ্ঞাপন তরঙ্গের ঘ্যারঘেরে সংগীত, তবু আমি কান পেতে রাখি শব্দযন্ত্রের কাছে, শুনি, সাবিনা ইয়াসমীন 'হারজিৎ' ছবির গান গাইছেন; অথবা শুনি না_দেখি, বৃষ্টির নদীতে ডুবসাঁতাররত জলপরী ববিতা_পৃথিবীর সব রাঙা রাজকন্যার বিষণ্নতা ঝরে পড়ছে তাঁর কণ্ঠস্বরে, 'এখানে বৃষ্টি ঝরে রিমঝিম শ্রাবণের সেতারে/কুমারী নদীর বুক কেঁপে ওঠে প্রণয়ের জোয়ারে/যদি কখনো খুঁজতে সাধ হয়, আমার মনের এ চঞ্চলতা/তবে বরষার কোনো নদী দেখে নিও।' শুনতে শুনতে বর্ষা আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়, পৃথিবীর রাঙা রাজকন্যার কষ্ট জাগিয়ে বর্ষা আমাদের মধ্যে অমরতা পায়। পুরনো চায়ের সুবাস ভেসে আসে হঠাৎ করে, তার মানে জ্যাঠা মিয়া, বড় মা অথবা আলতাফ কাকারা কেউ এসেছেন বাবা-মায়ের কাছে। পুরনো বাড়ি, এটি তাদের পুরনো বাড়ি_বাবার কাছে বিক্রি করে চলে গেছেন সেই কবে আরো এক বিস্তৃত ভিটায়। কিন্তু পুরনো বাড়ির টান বর্ষার বৃষ্টিতে জেগে ওঠে সুতীব্র হয়ে_তাই ক্ষমাহীন চোখে বৃষ্টির দিকে তাকাতে তাকাতে চলে আসেন তাঁরা এ বাড়িতে। প্রতিদিন সন্ধ্যায় শোলা পুঁতে রাখি আমরা বাড়িপাড়ের বর্ষাজলে, আর সকালে উঠে মেপে দেখি কতটুকু বাড়ল বর্ষার জল, আর কতটুকু বাড়লে তলিয়ে যাবে পুকুরের পাড়! বয়োজ্যেষ্ঠরা আতঙ্কিত, অথচ আমরা রোমাঞ্চিত_ডুববে, এবার নিশ্চয়ই ডুবে যাবে বাড়ির পুকুর, বর্ষার পানি উঠে আসবে আমাদের উঠোনগুলোয়, আর আমরা ভাসব, আমরা অবগাহন করব, আমরা ডুবসাঁতার খেলব উঠোনজুড়ে।
সেবার ভয়াবহ বান আসেনি, তবু পানি আমাদের পুকুর ছুঁইছুঁই হয়ে গেল। আর সেই বর্ষার জলে উন্মত্তের মতো ভাসতে শুরু করলাম আমরা সবাই। কারা কারা যেন ছিলাম, এখন আর মনে পড়ে না। আমাদের মধ্যে কেউ কেউ দৌড়ে উঠে যাচ্ছে বুকটান নামের আমগাছটিতে_একটুও আঁকাবাঁকা না হয়ে গাছটি আকাশের দিকে উঠে গেছে বলে কে যে কবে একে বুকটান নামে ডাকতে শুরু করেছিল, কেউ জানে না। পুকুরের পাড়ে একই সারিতে আরো সব গাছ_এখন মনে হয়, কী সুন্দর নাম ছিল সেসব গাছের_একটির নাম শ্রাবণ_কেননা সেটিতে আমই আসে শ্রাবণ মাসে, সব আম ফুরিয়ে গেলে। আরেকটির নাম ঝাপড়া_কেননা প্রচণ্ড ঘন তার ডালপালা আর আমও ধরে যেন পাতায় পাতায়। একটির নাম মালদহ, আরেকটির নাম কাঁচামিঠা_কাঁচা অবস্থায়ই মিষ্টি লাগে বলে। এক সারিতে পাঁচ-পাঁচটা গাছ, একেবারে শুরুতে বুকটান গাছ। সেটির গোড়া থেকে অথবা কোনো ডালে উঠে শৈশবের আমরা লাফিয়ে পড়ছিলাম বর্ষার জলের ভেতর। সাঁতার কাটতে কাটতে আমরা আজাহার কাকাদের পুকুরের পাড় পর্যন্ত যাচ্ছি, তারপর আবারও ঘুরে আসছি এ দিকের পুকুর পাড়ে। হঠাৎ দেখা গেল, কচি আর জয়া নেই_জ্যাঠা মিয়ার মেয়ে আমাদের জ্যোৎস্না বুবু_তার ছেলেমেয়ে কচি আর জয়া নেই। আতঙ্কে আমরা স্তব্ধ হয়ে গেলাম। পুকুরের ধারে, গাজী কাকার বাহিরবাড়িতে দাঁড়িয়ে অনন্ত বেদনা জাগানো চিৎকার তুলে কাঁদতে শুরু করল গ্রামের মেয়েরা। বাশার, যাকে কাকা বলে ডাকার কথা থাকলেও আমরা শুধু বাশারই বলি, হাই স্কুলে পড়ে আমাদের বাড়িতে লজিং থেকে, তা ছাড়া গায়েগতরেও বেশ বাড়ন্ত আমাদের থেকে_সেই পানির নিচ থেকে খুঁজে নিয়ে এলো কচি আর জয়াকে_ডুবে যেতে যেতে ভাইবোন পরস্পরের কাছে আশ্রয় খুঁজেছে, নিঃশ্বাস নেই তাদের_তবু একজন আরেকজনকে জড়িয়ে ধরে আছে পরম নির্ভরতায়। তারপর শুরু হলো প্রাণান্ত এক চেষ্টা গাজী কাকার বাড়ির সামনে খোলা জায়গায়_চেষ্টা করা হলো পেট চেপে ফুসফুসে ঢুকে পড়া বর্ষার পানি বের করে ওদের জ্ঞান ফিরিয়ে আনার। বাশার, আগেই বলেছি, গায়েগতরে বেশ বাড়ন্ত হাই স্কুলের ছাত্র হলেও_সে একে একে কচি আর জয়াকে মাথার ওপরে ঠেস দিয়ে ধরে ঘুরাতে লাগল চড়কির মতো করে। পেটের ওপর মাথার চাপ ধাক্কা মারছে ফুসফুসে, আর নাকমুখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ছে পানি, উদ্বেগ-আতঙ্ক-কান্না ভুলে অপলক চেয়ে আছি আমরা। তারপর ফুসফুসে ঢোকা সবটুকু পানি গড়িয়ে পড়তেই উঠে এলো নতুন এক নিঃশ্বাস। কান্নাময় আনন্দে ভরে উঠল পুকুরের পাড়।
এখনো কি বর্ষা আসে? না, আসে না। আমাদের বাড়িপাড়ের মাটি ভেজে না। আমরা অনায়াসে ভ্যানে চড়ে বাজারে যেতে পারি সড়ক দিয়ে, হাঁটতেও হয় না। মৃত্যু ঘটেছে জ্যাঠা মিয়ার সেই নৌকার, সলপের সব নৌকার। উত্তাল যমুনার দিকে এই গ্রামজনপদের আলাউদ্দিন চাচারা কিংবা বরাত আলীরা কবে পানসি নিয়ে নৌকাবাইচে যেতেন, কোন সে নৌকার গলুইয়ের নিচে ত্রিনয়ন আঁকা ছিল_সবই এখন গল্প। অথবা গল্প নয় এবং এখনো বর্ষা আসে; এই নগরেও সন্ত্রাসের মতো বৃষ্টি এলে কারো কারো কাছে বর্ষা ফিরে আসে, ঘুমের মধ্যে ডুবে যেতে যেতে কেউ অনুভব করে বৃষ্টি রিমঝিমিয়ে নেমে আসছে 'টিনের চালে গাছের ডালে', কোথাও তিনকন্যে দান হচ্ছে, একলা কোনো পথিক হেঁটে চলেছে পথিকহীন পথের পরে, বৃষ্টির শব্দের সঙ্গে জড়াজড়ি করে কারো অস্পষ্ট সংগীত ভেসে আসছে, 'বর্ষার কোনো নদী দেখে নিও...', আমরা এবার বর্ষায় নদীতে যাব, হয়তো যাব, রেডিওতে গান হচ্ছে অথবা কেউ মাটির বারান্দায় বসে ভাসিয়ে দিচ্ছে উঠোনের নদীতে 'কাগজের এই নৌকো আমার', কেউ বোধ হয় গাইছে, 'বড় দেরিতে তুমি বুঝলে, কেউ নিজেকে ছাড়া ভাবে না...'
খুব দেরিতে বুঝি আমরা_পৃথিবীর সব কাগজের নৌকো ডুবে গেছে বর্ষাজলে, বর্ষা চলে গেছে নিজেকে নিয়ে নিরুদ্দেশে এবং আমাদের গ্রামে কিংবা এই নগরে আমরা আর কারো চঞ্চলতা খোঁজার উপমাবতী বর্ষার কোনো নদী আর খুঁজে পাই না, কোনো ভাবনা বা বর্ষা ছাড়াই আমরা ডুবে যেতে থাকি শৈশবের বিষণ্ন বর্ষায়।
আমার ব্লগে স্বাগতম





লেখাটি আজকের কালের কন্ঠের শিলালিপিতে প্রকাশিত। আপনি কী ইমতিয়ার শামীম?যদি তাই হতেন তাহলে লেখাটির নীচে একটু বলে দিতেন।
আর লেখার মাঝে মাঝে আপনার ব্লগের লিংকের মাজেজা বুঝলাম না।
আপনার কাছ থেকে উত্তর আশা করছি
গল্পের মাঝে এমনি করে গানের কি রিলেটেড লিঙ্ক দিতে দেখেছিলাম আগে, আপনি দেখি নতুন জিনিস দেখালেন!! হয়তো আপনার সংগত কারন আছে এমনি করার, জানাবেন আশা করছি। তবে একটা ব্যাআর বুঝলাম না, যদি আপনি ইমতিয়ার শামীম হয়ে থাকেন, এবি'তে এসে কেন নিলিমা হয়ে গেলেন!!
মডারেটরের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
মূল লেখকের নাম ও আপনার ব্লগ নামের সাথে মিল না থাকার দরুন পোস্টি প্রথম পাতা থেকে সরানো হলো!
লিখার শুরুর লিংকটাতো একেবারেই অপ্রাসঙ্গিক
আজকে বিকালে লেখক ইমতিয়ার শামিমের সাথে দেখা হয়েছে। উনি কনফার্ম করেছেন যে নীলিমা খান নামে তাঁর কোন ব্লগ আইডি নেই। আমার কথা হল তাঁর মত লেখকদের এমন আইডি থাকার প্রশ্নই ওঠে না, যেখানে তিনি নিজের নামে লিখতে পারেন।
বোঝা যাচ্ছে আপনি একটা চোর! শুধু চোর না কাঠালপাতা খোর! সোনাব্লগেও আপনার আইডি আছে।
মডারেটরদের কাছে অনুরোধ একে ব্যান করুন প্লিজ।
কমেন্টে ঝাঁ ঝাঁ।

এই পোস্টের মূল উদ্দেশ্য তার সাইটের লিংক দেয়া, আর কিছুই নয়।
মন্তব্য করুন