ঐশী
একদল বৃদ্ধ শকুন বা গন্ডার আছে যারা বছরের পর বছর ধরে এই দেশে বেঁচে আছে । কোন একটা ঘটনায় সুযোগ পেলেই তারা দুইপায়ের ফাঁকে চুলকাতে চুলকাতে বলেন,'আমাদের সময় আমরা এমন ছিলাম না।আমাদের সময়ে আমরা এই সাহসই পাইতাম না। আমরা এত হ্যান ছিলাম, ত্যান ছিলাম ইত্যাদি।
ঐশীর এই সুইসাইড নোটটা পড়ার পর থেকে মনে হচ্ছে দোষটা কি শুধু ঐশীরই ছিল ?
প্রিয়
আমি জানি না এই চিঠি আমি কাকে লিখছি। তারপরও কাউকে না কাউকে কিছু একটা বলতে খুব ইচ্ছে করছে। আমি আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। খুবই কঠিন সিদ্ধান্ত। এই সিদ্ধান্ত নেয়ার পর আরো কঠিন মনে হচ্ছে। বুক ভেঙে যাচ্ছে। আত্মহত্যার কারণ আমি কাউকে বলতে চাইছি না। একজনের দুঃখ সাধারণত আরেকজন কখনোই মন থেকে বুঝতে পারে না। আমার আত্মহত্যার কারণ তোমার কাছে খুবই অপ্রয়োজনীয় ও হাস্যকর মনে হতে পারে। সুতরাং সেই ঝামেলায়ই গেলাম না। আমার এই চিঠিটাকে সুইসাইডাল নোট বলা যেতে পারে। তুমি নিশ্চয় অবাক হচ্ছো, জীবনের শেষ কথাগুলো আমার আত্মীয়-স্বজন, বাবা-মাকে না জানিয়ে কোনো অপরিচিত কাউকে কেন জানাচ্ছি! তারা কোনোদিনও আমাকে বুঝতে পারেনি। আমার অনেক খারাপ দিক আছে- সেই খারাপ দিকগুলো চালাকি করে বুঝে ফেলা ছাড়া ভালো দিকগুলো কখনোই তারা বোঝার চেষ্টা করেছে কি-না সন্দেহ!
আমার এই চিঠিটি তাদের দেখাতে লজ্জা এবং ঘৃণা লাগে। কারো প্রতি আমার কোনো রাগ নেই। মানুষকে দোষ দিয়ে কী লাভ বলো! প্রত্যেকেরই তো নিজস্ব চিন্তাধারা, আশা থাকে। প্রত্যেকেই চায় তার ইচ্ছা পূরণ হোক। শুধু যেটা বুঝতে পারে না অন্য মানুষের যে আশা-আকাঙ্ক্ষা থাকতে পারে। আনন্দের একটি নির্দিষ্ট কারণও থাকতে পারে। আমি জানি তারা আমাকে অনেক ভালোবাসে। তাদের ভালোবাসা নিয়ে প্রশ্ন তোলার বা দোষ ধরার ইচ্ছা, রাগ, শক্তি কোনোটাই আমার এখন আর নেই। শুধু একটাই আফসোস থেকে গেল- জীবনে অনেক স্বপ্ন ছিলো কোনোটাই পূরণ করতে পারলাম না। এ পৃথিবীর মানুষ সবাইকে বুকের মাঝে নিয়ে যে স্বপ্নগুলো দেখেছিলাম সবই কেমন যেন ধুয়ে-মুছে গেল, সব শেষ। আচ্ছা সব কিছু এমন হয়ে গেল কেন, বলোতো?
ভাইয়া/আপু
আমিতো মানুষকে ভালোবাসতে চেয়েছিলাম! পৃথিবীকে ভালোবাসতে চেয়েছিলাম! মানুষের হাসি-কান্না, আনন্দ ভালো লাগা, অনুভূতি, প্রেম, সবচেয়ে বড় কথা- মানুষকে ভালোবাসা। পৃথিবীর নানা জায়গার সৃষ্টি এতো সুন্দর যে বেহেস্তকেও যেন হার মানায়। কেন শেষ পর্যন্ত এখানে বাস করে যেতে পারলাম না! কেন এসব উপভোগ করে যেতে পারলাম না শেষ সময় পর্যন্ত! আমি জানি, এর উত্তর একমাত্র ঈশ্বর ছাড়া আর কারো কাছে নেই। হয়তো বা ঈশ্বরের কাছেও নেই! আমি সবসময় শুনে আসছি, তুমি যদি মন দিয়ে কোনো কিছু চেয়ে থাকো তবে অবশ্যই তা পাবে। আমার স্বপ্ন আশা-আকাঙ্ক্ষাগুলো আমি কী মন দিয়ে চাইনি! শুধু মন দিয়ে চাওয়া এই স্বপ্নগুলো পূরণকরার জন্য কত কষ্টই না করলাম। মানসিকভাবে, শারীরিকভাবে। শারীরিক কষ্টটা হয়ত অন্যের দৃষ্টিতে এত বেশি হবে না। আমার জন্য তা অনেক ছিলো। আহ, ওহ, মানসিককষ্টের কথা বলতে গিয়ে আমার হাত কাঁপছে। একটা সময় ছিলো, এমন কোনোদিন যেত না যে আমি কাঁদতাম না। জীবনের দুইটা বছর নষ্ট হয়ে গেল। দুইটা বছর একা একা কাটালাম। এ দুইটা বছর যে কিসের ভিতর দিয়ে গিয়েছি, আমি আর ঈশ্বর ছাড়া আর কেউ জানে না। হাজার কষ্টের মধ্যেও একটা জিনিস চিন্তা করে স্বস্তি পেতাম। অন্তত আর কেউ না থাকুক ঈশ্বর আমার পাশে থাকবে। আর কেউ না বুঝুক অন্তত উনি আমার কষ্টটা বুঝবেন। আমি এখনো জানি তিনি আমার পাশে আছেন। যা হোক এসব কথাবার্তা
বলা এখন অর্থহীন। মনের ভিতর এক অজানা উল্লাস হচ্ছে। কেন জানি মনে হচ্ছে, মৃত্যুর পর আমার পছন্দের জায়গায় চলে যাব। জায়গাটা পৃথিবীর মতোই হবে। কিন্তু এই পৃথিবীতে আমার স্বপ্নগুলো এখনো পূরণ হয়নি। যেগুলো পূরণ করতে হবে। মানুষ কেমন আজব প্রাণী তাই না! আশা (হোপ)মানুষ ছাড়তে পারে না। মরতেও চাই আশা নিয়ে। আমি জানি না মৃত্যুর পর কী হবে! দেখা যাক কী হয়! আসলে হয়তো মৃত্যুর পরের জীবন বলতে কিছুই নেই! শুধুই মাটির সঙ্গে মিশে যাবো। তাহলে তো সবই শেষ। যা হোক, মৃত্যুর পর যদি কিছু নাও পাই এই পৃথিবীতে যতটুকু সময় কাটিয়েছি, আমার এ ছোট্ট জীবন, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। তুমি হয়তো বা মনে করতে পারো, এ পৃথিবীতে এসে তো কিছুদিন পর আত্মহত্যাই করলাম।সময় নিশ্চয় ইহকালে ভালো কাটেনি, তাহলে কৃতজ্ঞ হওয়ার কী আছে? ন্যাকামির আর জায়গা পাই না!কি জানি!
ভাইয়া/আপু,
কেন জানি ভালো লাগে। পৃথিবীতে এসে অনেক কষ্ট পেয়েছি ঠিকই, সবচেয়ে বড় কষ্টটা হলো আশা শেষ হয়ে যাওয়ার কষ্ট। তীব্র হতাশা মাথার উপর ভেঙ্গে পড়ার কষ্ট। মানুষ কি আশা ছাড়া বাঁচতে পারে বলো, এই একটা জিনিসই তো আছে! যা কি-না বহুদিন পর্যন্ত আঁকড়ে ধরেরাখা যায়। কিন্তু আমি যদি বলি পৃথিবীতে আমার জীবনের সময়গুলোতে কোনো সুখ স্মৃতি নেই-তাহলে তো মিথ্যা বলা হবে। কত ভালো, কত আনন্দ, কত কি-ই না আছে! কত সুন্দর মানুষের হাসি, সেই সুখগুলো, কোনো ছেলেকে প্রথম ভালো লাগা- সেই অনুভূতিগুলো। পছন্দের আত্মীয়-স্বজন বা বন্ধু-বান্ধবের সাথে জমিয়ে আড্ডা দেয়ার সেই সময়গুলো, পৃথিবীর ইতিহাস পড়ে, সুন্দর জায়গার দৃশ্য দেখে অভিভূত হওয়ার সময়গুলো….কত কি-ই না আবিষ্কার করলাম! পৃথিবীর ব্যাপারে, মানুষের জীবনের ব্যাপারে। মানুষের জীবন সম্বন্ধে কত সুন্দরসুন্দর তথ্যই না জানলাম। এর থেকে সুন্দর জিনিস আর কি-ই বা হতে পারে! মানুষের তৈরি কত অদ্ভুত-চমত্কার জিনিসই না দেখার সৌভাগ্যহলো। ঈশ্বরের বিশাল ও তুলনাহীন সৃষ্টি দেখতে পারলাম। এই জায়গাটায় না আসলে এসব কীভাবে জানতাম! কীভাবে দেখতাম! মরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ার পর এখন সবকিছুই সহজ মনে হচ্ছে। এক ধরনের স্বস্তি বোধ করছি। সবচেয় বেশি স্বস্তি বোধ করছি জীবন যুদ্ধ আর আমাকে করতে হবে না।....
আসলে এই চিঠিটা পড়ার পর মনে হচ্ছে দোষটা কার?ঐশীর?আমার তো মনে হয় ওর বাবা মাই ওকে দিয়ে তাদের খুন করিয়েছে।কারন ঐশীকে তারা প্রথমে লাখ লাখ টাকা দিয়ে একটি অন্যরকম জীবন দিয়েছে।অতঃপর তার জীবন থেকে সেইসব অর্থবিলাস ও কেড়ে নিয়েছে তাড়াই।
কৃতজ্ঞতা:লিমন আহমেদ





আসলেই ঐশীকে তৈরি করা হয়েছে
অনেক কথা ভাবা যায় বলা যায় বাস্তবতা অন্য জায়গায়। বুঝবেনা কেউ কি খুত কোথায় সমস্যা। যারা ভুক্তভোগী শুধু তারাই ভোগে তারাও সংগা পায় না সবারই শুধু প্রশ্ন আর প্রচন্ড কষ্ট।
এ থেকে পরিত্রান কিভাবে সম্ভব যানি না। যার টাকা আছে সে নষ্ট হচ্ছে যার টাকানেই সে হচ্ছে যার প্রতিপত্তি আছে সে হচ্ছে যার নেই সে হচ্ছে যারা এসবের মাঝামাঝি তারাও হচ্ছে। বাবা/মা যত্নশীল হলেও হচ্ছে না হলেও হচ্ছে সচেতন হলেও হচ্ছে।
বাবা/মা যে কষ্ট পায় তা কেউ বুঝবে না। প্লিজ বাবা/মাকে ঢালাও দোষারোপ নয়।
এই সমাজ ওদের অস্থির করেছে।
এই ধরনের চিঠি আত্মহত্যার আগে প্রতিটি নষ্ট বাচ্চাই লেখে।
শুধু সন্তান জন্ম দিয়ে অর্থ আর ঐশর্য দিয়ে ভাসিয়ে দিলেই বাবা মা'র কর্তব্য শেষ হয়ে যায় না।প্রপার প্র্যারেন্টিং না দিলে যে কেউ বখে যাবে এটাই স্বাভাবিক। আজকালকার বাবা মা রা সন্তানদের অনেক বেশি ডিজিটাল বানিয়ে ফেলে নিজের অজান্তেই নষ্ট করে ফেলছে।
তাছাড়া এই যুগের বাবা মাদের ও যেন বয়স বাড়ে না। সন্তানদের কথা না ভেবে নিজেদের নিয়েই মহা ব্যস্থ থাকছে আর অন্যদিকে সন্তান বাবা মা'র স্নেহ বঞ্চিত হয়ে অভিমানে হৌক আর রাগবশতঃ হোক অনেক দূরে সরে যায় ।
ঐশি একটা উদাহরন যা আমরা দেখতে পেলাম। এমনহাজার ঐশি আছে যারা হয়ত বাবা মা কে খুন করতে চাচ্ছে না, কিন্তু বাবা মার কাছ থেকে অনেক দূরে সরে গেছে মানষিক ভাবে।
আমি কেন যেনো মেয়েটার দিকে কোন সিমপ্যাথি আনতে পারি না
প্রপার প্র্যারেন্টিং এর মাপ কাঠি কি? আমরা সেটা কতোদূর পেয়েছি? প্রপার প্র্যারেন্টিং পেলেই সব গাছে ফুল হয় তাহলে বনফুলের ব্যাপারটা?
প্রপার প্যারেন্টিং বলতে আমি যা বলতে চেয়েছি সেটা আপনি যেমন পেয়েছেন , আমি যেমন পেয়েছি আমাদের পরিবারের কাছ থেকে ঠিক সেটা। আমরা বড় হয়েছি কঠিন অনুশাসনের ভিতর। বাবা কি সারাদিন আমাদের উপর খবরদারি করতো? মোটেও না। কিন্তু পরিবারের কিছু বাঁধা ধরা নিয়ম ছিল ,যা আমরা কখনোই ভাঙ্গার কথা ভাবতেও পারতাম না। কঠিন অনুশাসনে বড় হয়ে আমরা হয়ত রকেট সাইন্টিস্ট হই নাই, কিন্তু বখেও যাই নাই, যাওয়ার কোন সুযোগ ছিল না।
কি রকম জীবন যার যত টাকা তার তত সমস্যা।
মন্তব্য করুন