"দেভদাস"
বিমানের আসনে বসিয়া দেভু নিজের নখ নিজে কামড়াইতেছিল। বিমান বলিলে অনেকে আবার বাংলাদেশ বিমান মনে করিয়া থাকে। উহা বাংলাদেশ বিমান নহে, বিদেশী কোন এক বিমান হইবে।
বিমান ঢাকার আকাশে ঢুকিয়াছে, কিছুক্ষনের মধ্যেই বিমানবন্দরের মাটি স্পর্শ করিবে। দেভু জানালা দিয়া ঢাকার আকাশ দেখিতেছিলো। তাহার মন অসম্ভব রকমের ভার হইয়া আছে। বিলাত ওরফে লন্ডনে ১০ বৎসর কাটাইয়া দেশে আসিয়াছে। অনেক চেষ্টা করিয়াছিলো বিলাতেই থাকিয়া যাইবে। কিন্তু কপালে ছিলো না বলিয়া আর থাকা হইলো না, বরং তাহাকে এক প্রকার জোর করিয়াই দেশে ফেরত পাঠাইয়া দেয়া হইলো।
স্টুডেন্ট ভিসা লইয়া দেভু বিলাতে পাড়ি জমাইয়াছিলো। ভাবিয়াছিলো, অন্য সকলের ন্যায় পড়ায় ফাঁকি দিয়া, ছাত্র জীবন লম্বা করিয়া এক সময় ইমিগ্রেশনের জন্য আবেদন করিবে । নয়-দশ বছর বিলাতে কাটাইয়া এই আবেদন করিলে নাকি বিলাতবাসি হইয়া যাওয়া যায়। কিন্তু তাহার কাগজে কি সব খুঁত দেখিতে পাইয়া বিলাতের সরকার তাহা প্রত্যাখ্যান তো করিলোই উপরন্ত তাহাকে দেশে ফিরিয়া যাইবার সময় বাঁধিয়া দিল। মনঃক্ষুন্ন হইয়া দেভু তাই নিতান্তই অনিচ্ছা স্বত্বেও দেশে ফিরিতেছে। দেশে আসিবার আগেই শুনিয়াছে এখানে ভয়াবহ লোড শেডিং, ট্রাফিক জ্যাম, এই কয় বছরে আরো নোংরা হইয়াছে শহর। ভাবিতে ভাবিতে একা একাই ''শিট" বলিয়া উঠিলো।
পাশ দিয়া তখন বিমানবালা হাঁটিয়া যাইতেছিলো, দেভুর কন্ঠে শিট শুনিয়া চমকাইয়া তাকাইলো।
বিমানবন্দর হইতে বাহির হইতেই দেখিলে দেভুর পিতা মাতা বড় ভাই একখানা মাইক্রোবাস ভাড়া করিয়া আনিয়া তাহার জন্য অপেক্ষা করিতেছে লোহার বেড়ার ভিতরে। বেড়ার বাহিরে অজস্র মানুষ। বাহির হইতে সবাই তাকাইয়া রহিয়াছে ভিতরে। নিজেকে চিড়িয়াখানার পশু বলিয়া মনে হইতেছিলো তাহার। আর বাহিরে দাঁড়ানো লোক গুলি তাহাকে ঢাকা চিড়িয়াখানার প্রথম খাঁচার প্রাণী মনে কড়িয়া দেখিতেছিলো।
সে যাহাই হউক, কোন রকমে মাইক্রোবাসে উঠিয়া বন্দর এলাকা ত্যাগ করিলো তাহারা।
ঢাকার জিগাতলাতে দেভুদের বাসা। সে বিলাত যাইবার পূর্বে উহা একতলা টিনশেড ছিলো, পরে দেভুর বাবা বুদ্ধি করিয়া ডেভেলপার কে দিয়া উহা বহতল ভবন করাইয়া লইয়াছে। উক্ত ভবনের দুই তলায় তাহার বসবাস করে। তাহাদের ভাগে বাকী যে ফ্ল্যাটগুলো পড়িয়াছে, তাহা ভাড়া দিয়া দেভুর পিতা এক পদের উপর আরেক পদ রাখিয়া দিন পার করিতেছে। দেভু ফিরিয়া আসাতে কিঞ্চিত মনঃক্ষুন্ন হইলেও খোদা যাহা করেন, মঙ্গলের জন্য করেন ভাবিয়া নিশ্চুপ রহিয়াছেন।
তাহাদের মাইক্রোবাস খানি ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক ট্রাফিক জ্যামে ঘন্টার পর ঘন্টা আটকাইয়া রহিয়াছে। দেভুর মা তাতেও খুশী, এতদিন পর পুত্রকে কাছে পাইয়া। দেভুর পিতা চিন্তিত মুখে বাহিরে লোকজনের চলাচল দেখিতেছে। আর দেভু কিছুক্ষন পর পর বিড় বিড় কড়িয়া "ওহ শিট ম্যান" বলিতেছে। বসিয়া থাকিতে থাকিতে হঠাৎ করিয়া তাহার পারুর কথা মনে পড়িলো।
- পারুরা কেমন আছে মা ? তাহার মা'র দিকে ঘাড় ঘুরাইয়া জিজ্ঞাস করিলো।
দেভুর মা পারুর সহিত দেভুর ঈষৎ টাঙ্কি মারার ঘটনা জানিতো। হঠাৎ করিয়া পারুর কথা শুনিয়া মুখখানি ডেকোরেটরের পাতিলের ন্যায় করিয়া উদাস হইয়া কহিলো - ভালৈ আছে মনে হয়।
পারুদের বাসা ছিলো দেভুদের বাসার সম্মুখেই। দেভু তখন ইন্টারমিডিয়েটে পড়িতেছিল। দেভু সময় পাইলেই পারুর সহিত টাঙ্কি মারিত। তাহাদের টিনের চালে ঢিল মারিতো। তাহাদের বাড়ির চালে উঠিয়া পারুর জন্য অপেক্ষা করিতো। পারু কে দেখিলে মুচকি হাসিতো । জবাবে পারুও ইশকুল হইতে আসিবার বা যাইবার পথে দেভুর সহিত দেখা হইলে আড় চোখে দেখিতো আর মিট মিট কড়িয়া হাসিতো। কখনও বা তাহার কোন বান্ধবী টিপ্পনি কাটিতো। বিলাতে থাকিতে একটিবারের জন্যেও পারুর কথা তাহার মনে আসে নাই। আজ হঠাৎ কি ভাবিয়া তাহার কথা ভাবিতে লাগিলো।
পারুর সেই শ্যাম বর্ণ চেহারার কথা ভাবিতে ভাবিতে তাহারা জিগাতলা আসিয়া পৌছাইলো।
[চলিবে]





অতিশয় উত্তম
ধন্যবাদ । সঙ্গেই থাকুন।
চলুক। ভালো লাগলো এই পর্বটা। এই যুগের দেবদাস কেমন হয় দেখি।
এ যুগের মতই এ যুগের দেবদাস।
চলুক
ধন্যবাদ ।
পুরা অস্থির অবস্থা। কপিরাইটের মামলা খান কীনা তাই ভাবতেছি।
এহ , এত সস্তা ???? আমি কি দেব্দাস লিকি নাকি? দেভদাস লিকি।
দেখি পরবর্তীতে কি হয়
আপনার এই লেখাগুলো দুর্দান্ত হয়
ধন্যবাদ ভাইজান ।
সত্যিই চমৎকার। চলুক
ধন্যবাদ । সাথেই থাকুন ।
মনে হয় তাহারা হবে।
দারুনজ
অনেক ধইন্যা গো খালা। বানাম ভুল হইছিলো ।
চলুক। বেশ হচ্ছে!
চলুক তাইলে ।
চলুক।

আইচ্ছা ।
শিরোনাম 'দেভদাস' না হৈয়া 'দেববাঁশ' হৈলেই বরং বেশি উপাদেয় হৈতো।
চলিতে থাকুক কাহানী... ঘর ঘর কি
বেশ উমদা লাগতেছে
বাঁশ কেন দাদাভাই ???
শিরোনাম "ডেভডাস" করিলেন না যে!!
কাহিনী উত্তমরুপে বিন্যস্ত হইয়াছে, চলিতে থাকুক .।।।
এটা ডেভডাস ই , তবে দেশে আসাতে ডেভ দেভ হয়ে গেছে আর কি
পরের পর্ব পড়ে আসি
হিঃ হিঃ
অনেক দিন পর দেখলাম আপ্নেরে। ভাল আছেন, সাঈদ ভাই?
বিষন্ন বাউন্ডুলে না কি ?
জ্বি ভাই!
আগের নামটাই বেশী ভালো ছিলো ।
কি করুম কন?এই নাম জন্মের পর থিকাই শুন্তাছি!
মন্তব্য করুন