"দেভদাস" - ২
দেভু তাঁহার পিতা মাতা সহ জিগাতলার বাড়িতে আসিয়া পৌছাইলো। গাড়ী হইতে নামিয়া বিস্ময়ে চারিদিকে দেখিতে লাগিলো। চারি পাশে উঁচু উঁচু দালান। সব বাড়ির গ্রিলের ডিজাইন একই, বাড়িগুলার ডিজাইন বাহির হইতে দেখিতে একই রকম । সামান্য উনিশ-বিশ আর কি !!! বেলা না গড়াইতেই সুর্যালোক ঢাকিয়া গিয়াছে। ফুটপাতে সেই আগের মতই টং দোকান, আর মানুষ ফুটপাত ছাড়িয়া রাস্তা দিয়া হাটিয়া যাইতেছে। সেই মানব স্রোতের ভিতর দিয়া ঠেলিয়া রিকশা কিংবা ছোট গাড়ী কোনক্রমে যাইতেছে। এই দশ বছরে এই শহরে যেন কয়েক সহস্রাধিক গুন লোকসংখ্যা বাড়িয়াছে।
দেভু তাহাদের ফ্ল্যাটে প্রবেশ করিলো। ঝা চক চকে মেঝে, কারুকার্য মন্ডিত সদর দরজা। দেখিয়াই তাঁহার আত্মা ভরিয়া গেল। সদর দরজা পেরিয়ে বসার ঘর। তাহাতে সব চাইনিজ সৌন্দর্য সামগ্রী দিয়া ঠাসা। দেখিলে মনে হইবে জাদুঘর। সব দেখিয়া শেষে দেভু তাঁহার জন্য বরাদ্দ করা কক্ষটিতে প্রবেশ করিলো।
স্নান করিয়া, নাস্তা খাইয়া দেভু তাঁহার ল্যাপটপ খানি খুলিলো। আসিবার আগেই সে আন্তর্জাল এর ব্যবস্থা করিতে বলিয়াছিলো তাঁহার অগ্রজ ভ্রাতা কে। সে সেই মোতাবেক মোডেম কিনিয়া দেভু কে দিয়া গিয়াছে। দেভু মোডেম লাগাইয়া তাহার প্রাথমিক কাজ সমাধা করিয়া প্রথমেই ফেসবুক খুলিলো।
দেখিলো তাঁহার অগনিত বিলাতি বান্ধবী তাঁহার পূর্বের বিলাত হইতে যাওয়া মূলক স্ট্যাটাস খানিতে "মিস ইউ ডেভ, মিস ইউ ডেভ" লিখিয়া ভরাইয়া ফেলিয়াছে। কেহ আবার চুম্বনের ইমো প্রদান করিয়াছে , মন্তব্যের সহিত। তাহাকে সকলে এত মিস করিয়াছে দেখিয়া খুশী হইলো দেভু।
বিলাত যাইয়া দেভু নিজের নাম বদলাইয়া ডেভ ড্যাস রাখিয়াছিল। তাহা উচ্চারনের ত্রুটির কারণে দেভজ নামে প্রচলিত হইছিলো। দেশে থাকিতে সকলে তাহাকে দেব দাস ওরফে দেব বলিয়া ডাকিতো সকলেই। কালের বিবর্তনে এখন দেভু বলিয়া সম্বোধন করিয়া থাকে সকলে।
দেভু তাঁহার নোটিফিকেশন চেক করিয়া নতুন স্ট্যাটাস দিলো - " Dhaka , my sweet Dhaka <3 <3 "
স্ট্যাটাস দিয়া ল্যাপটপ বন্ধ করিয়া জানালার ধারে গিয়া দাড়াইলো। তাঁহাদের সামনের বাড়িটাই পারুদের। দেখিলো পারুদের বাড়ি আগের মতই রহিয়াছে। আগের মতই টিনশেড বাড়ি। বরং আরো রুগ্ন হইয়াছে। দুই পাশ দিয়া বহুতল ভবন যেন চাপিয়া ধরিয়াছে। সূর্যালোক আসিবার সকল পথ যেন রুদ্ধ। পারুদের বাড়ি দেখিয়া দেভুর পুরানো প্রেম আবার জাগিয়া উঠিলো। পারুর সহিত দেখা করিবার জন্য আকুলি বিকুলি করিতে লাগিলো।
সন্ধ্যা হইতেই দেভু নতুন সিম তুলিয়া তাঁহার দেশী মোবাইল নম্বর চালু করিলো। কিন্তু ফোন করিয়া কাহার সহিত কথা বলিবে , ভাবিয়া পাইলো না। কোনমতে সেদিন পার করিলো দেভু।
পরদিন সকালে উঠিয়া নাস্তা করিয়া গুটি গুটি পায়ে পারুদের বাড়িতে গমন করিলো দেভু। বাড়িতে ঢুকা মাত্রই পারুর মাতার সহিত সাক্ষাৎ হইলো।
- ওমা , দেবু দেখি। কত বড় হয়ে গেছে !!! পারুর মা কপট আন্তরিকতা দেখাইয়া কহিলো।
- আদাব মাসিমা। কেমন আছেন আপনারা , দেখতে এলাম । দেভুর জবাব।
দেভু কে তাহাদের বসার ঘরে নিয়া বসাইলো। ভালো মন্দ আলাপচারিতার চলিবার ফাঁকে দেভু জানিলো , পারু এখন একটা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে এম বি এ করিতেছে। এখনও অবিবাহিত পারু। পারুর মাতা কথায় কথায় এও বুঝাইলো , দেভুর সহির পারুর বিবাহতে তাহাদের আপত্তি নাই। আলাপচারিতা শেষ করিয়া পারুর মাতাকে নিজের মোবাইল নম্বর দিয়া বাসায় ফিরিলো দেভু।
বাসায় ফিরিয়া দেভু আবার ফেসবুক নিয়া ব্যস্ত হইয়া পড়িলো। তাঁহার বিলাতি বান্ধবীদের সঙ্গ না পাইয়া দেভুর অতি কষ্টে দিন কাটিলো। শুধু ফেসবুকে তাহাদের ছবি দেখিয়া কি মন ভরে !!!
সন্ধ্যা বেলায় একটি অপরিচিত নম্বর হইলে দেভুর মোবাইলে একটা কল আসিলো।
তাহাকে কে ফোন করিতে পারে ? ভাবিতে ভাবিতে দেভু কল রিসিভ করিলো -
- কেমন আছো ? মোবাইলের ওপাশ থেকে মিষ্টি একটা কন্ঠ।
- কে ? দেভু কহিলো
- চিনতে পারলে না ? আমাকে ভুলেই গেলে একেবারে।
- না স্যরি চিনতে পারি নাই। মিষ্টি কন্ঠের এরকম ন্যাকামো শুনিয়া দেভু বিরক্ত হইলো। বিরক্ত চাপিয়া কহিলো - কে বলছিলেন ? আপনাকে আমি চিনবো কি করে ? মাত্র দেশে এলাম।
- পারু। তোমার পারু। ওপাশ থেকে শব্দ এলো।
[চলিবে]





দেভ দেখি দেভু হয়ে গেছে।
এই ইমো কোনটা?
আপনে কাউরে দিতে চান?
না সাঈদ ভাই মাঝে মধ্যে বালিকাদের স্ট্যাটাসে কমেন্টের পরে ইমো দেয়। তাই জেনে রাখছিলাম আর কী
আপ্নে আর শিক্ষা কি করবেন.. দুইদিন বাদেইতো সব শেষ
কেন তুমি আজ পর্যন্ত পাও নাই এই ইমো ?
জোশ...
আসলেই...
ধইন্যা
চলছে জোশ, চলুক
চলুক তাইলে , হেইও
এই লাইনটা মার খেয়েছে। আরো নাটকীয় করা দরকার ছিল এটাকে।
জোশ, হচছে
নাটক টা তো পরের পর্বের জন্য রেখে দিয়েছি
জোশ হচ্ছে। দেখি পারুর সাথে কি হয়! জলদি দেন পরের পর্ব। পারলে আজই। পিলিজ লাগে।
এক দিনে ২ টা পোষ্ট দেখলে মডু মারবো
এতো মর্মস্পর্শী হচ্ছে, বাহ্!
মর্মস্পর্শী

বাহ এতোক্ষনে দেভু পার্বতীর স্বর শুনিল।
দেখা হইতে এখনও অনেক বাকী
বাম্পার...চলছে পুরোদমে.....
~
চলবেই চলবে
এইটা ভালো হইছে!
ধইন্যা পাতা ৯৯৯ গ্রাম
আরো চলুক, , ,

চলিতেছে
জট্টিল অবস্হা ! পরের পর্বের জন্য বাইসা রইলাম
শীধ্রই আসিবে
পরের পর্ব কই?
ই যে লিখা শুরু করলাম
মানে কি? আজ দেন পরের পর্ব।
যাই পরেরটা পড়ি
সেরাম হচ্ছে। যাই পরেরটা পড়ি।
মন্তব্য করুন