"দেভদাস" ৩
- পারু , তোমার পারু ,ওপাশ থেকে শব্দ এলো। অনেকটা ফিসফিসিয়ে যেন কহিলো পারু।
- পারুউউউউউ বলিয়া একটা হালকা চিৎকার করিলো দেভু।
তবে পারুর কন্ঠ শুনিয়া তাহার ভিতরে কোন ঝড় বহিলো না, বজ্রপাত হইলো না, সুনামি আঘাত করিলো না, জমিন ফাটিয়া চৌচিরও হইলো না। শুধু বিলাতি টোনে ইংরেজী তো কহিলো - dude... whazz up ? how is going on? um so glad ...... " ইত্যাদি ইত্যাদি।
দেভুর কন্ঠে এরুপ ইংরেজী শুনিয়া পারু স্তম্ভিত হইয়া রহিলো, কথার খেই হারাইয়া ফেলিয়া মিন মিন করে কহিলো - i m pine , u ?
পারুর কথা শুনিয়া দেভু দীর্ঘশ্বাস গোপন করিয়া কহিলো - কেমন ছিলে এতদিন? তোমাকে কত যে খুঁজেছি, তুমি জানোনা।
-আমাকে কোথায় খুঁজেছ ? আমার কথা কি কখনও মনে পড়তো তোমার বিলাত গিয়া?
- পারু ফেসবুকে তোমাকে খুঁজেছি কত। পাইনি। পার্বতী দিয়া সার্চ করতে করতে আমার আঙ্গুল ব্যাথা হয়ে গেছে, আমি পাইনি। আর তোমার কথা আমার প্রতিদিন একবার হলেও অন্ততঃ মনে পড়তো ।
- ফেসবুকে কি করে পাবে, পাবলিক সার্চ বন্ধ করে রেখেছি যে, আর তোমার আই ডী দাও, আমিই তোমাকে এড কড়িয়া নিবো। প্রতিদিন মাত্র একবার মনে করতে আমাকে? পারু আহ্লাদ করিয়া কহিলো।
- তুমি আমাকে কেন এতদিনে এড করোনাই পারু ? কপট রাগ দেখাইয়া কহিলো দেভু। আর তোমাকে মনে পড়িতো .............. " কহিতে গিয়া কহিলো না, চিন্তা করিয়া কখন মনে পড়িতো কহিতে হইবে। পারুর কথা তো বেমালুম ভুলিয়াই গিয়াছিল।
- ইশশ, মেয়েরা বুঝি ছেলেদের এড রিকোয়েস্ট পাঠায় ? বুদ্ধু কোথাকার। এই, বলো না, কখন আমার কথা মনে পড়িতো ?
দেভু কথা ঘুরাইয়া লইলো। পারুর ফেসবুক আইডি চাহিয়া লইলো। ফোনে আলাপরত অবস্থাতেই সে পারু কে এড রিকোয়েস্ট পাঠাইলো।
আরো খানিক ক্ষন তাহার ফোনে খুনসুটি আলাপ করিয়া অতঃপর ফোন রাখিলো। তাহাদের মধ্যে কথা হইলো রাত্রি ১২ টার পর তাহার আবার ফোনে আলাপ করিবে।
দেভু ফেসবুক ওপেন করিয়া বসিয়া রহিলো পারুকে দেখিবে বলিয়া। পারুর প্রোফাইল পিকে দেখিলো ঐশ্বরিয়া রাই এর ছবি। এই ছবি দেখিয়া দেভু ভাবিলো, ফ্রেন্ড হইলে নির্ঘাৎ তাহার ছবি দেখিতে পাইবে। ভিতরে কোথাও লুকাইয়া রাখিয়াছে তাহার ছবি। পারু তাহা হইলে অসম্ভব রূপবতী হইয়াছে, যে কারণে তাহার ছবি লুকাইয়া রাখিতে হয়।
ভাবিতে ভাবিতেই নোটিফিকেশন আসিলো " Paaru Parvati accepted your friend request"
দেভু উৎফুল্ল হইয়া উঠিলো, তাহার ভিতর এক রকমের বিদ্যুৎ তরঙ্গ খেলিয়া গেল। এতদিন পর পারু কে দেখিবে। দেভু ধীরে ধীরে পারুর প্রোফাইলে গমন করিলো। তাহার ছবির এলবাম গুলি খুলিলো। যত ছবি ছিলো সব খুলিয়া দেখিলো। সে দেখিতে পাইলো তাহার আলবাম জুড়িয়া শুধু দেশী আর ভারতীয় নায়িকাদের ছবি দিয়া ঠাসা। তাহার নিজের কোন ছবি নেই। আর দেখিলো ওয়াল ফটো তে ছাকিব খান নামক এক দেশী নায়কের ছবি দেয়া, সেখানে ক্যাপশনে লিখা - ম্যারি মি।
এসব দেখিয়া দেভু যাহারপর নাই হতাশ হইয়া আবার নখ কামড়াইতে লাগিলো। ভগ্ন মনোরথে সে পারুর স্ট্যাটাস দেখিতে লাগিলো। দেখিলো পারু কিছু না লেখিয়া ................ চিহ্ন প্রদান করিলেও তাহাতে শতক খানি লাইক পায়, অর্ধশত কমেন্টও পাইয়া থাকে। দেভু বুঝিলো লুল দেশে দেশে যুগে যুগে রহিয়াছে একই ভাবে।
তাহাদের পূর্বের কথা মতন রাত্র ১২ ঘটিকায় আবার তাহার মোবাইল ফোনালাপ শুরু করিলো। দেভু জানাইলো , পারুর কোন ছবি দেখিতে না পাইয়া সে বড়ই কষ্ট পাইয়াছে। খুব আশা করিয়া তাহার ছবি দেখিতে গিয়াছিলো।
পারু জবাবে কহিলো - "এত ব্যস্ত হবার কি আছে। সময় আসুক দেখবে। পারু তো পালিয়ে যাচ্ছে না। এতদিন অপেক্ষা করলে, আর কয়টা দিন করতে সমস্যা কি, মিস্টার?"
পারুর জবাবে খুশী হইলো না দেভু। বিদেশ থাকিয়া তাহার খাছলত খারাপ হইয়া গিয়াছে । সেখানে এত অপেক্ষা করিবার সময় কাহারো নাই। ধর মার কাট গতিতে তাহারা ডেটিং এ যাইয়া থাকে। ভাবিয়াছিলো পারুর সহিত একই নিয়ম খাটাইবে। দেশে আসিয়া তো এখনো কাহারো সাথে সুবিধা করিয়া উঠিতে পারে নাই।
তবু পারুর মন রক্ষার্থে একটা লম্বা শ্বাস ছাড়িয়া কহিলো - "তুমি বুঝিবে কি এই অপেক্ষার কষ্ট" ।
গভীর রাত অবধি তাহাদের আলাপ চলিলো। আলাপ সারিয়া দেভু ভাবিয়া দেখিলো বাস্তবিক সে পারুর কন্ঠ এই প্রথম শুনিলো। তাহার কন্ঠ শুনিয়া দেভু মুগ্ধ হইয়া পারুকে কল্পনা করিতে করিতে ঘুমাইয়া গেল। কন্ঠ যাহার এত সুন্দর , না জানি সে কত সুন্দর হইবে ভাবিয়া পুলকিত হইলো সে।
কেহ জানিলো না সে রাতে উঠিয়া দেভুর কাপড় পাল্টাইতে হইলো।





তাতাপু খুশি হয়ে এক টেকা দিছে। হি হি
এত কষ্ট কইরা লিকে মাত্র ১ টাকা পেলুম !!!
কলিকাল কলিকাল
কই থেইকা কই গিয়া শেষ করলেন?
পারু কেন এত্ত সহজে পাত্তা দিতাছে দেভুরে? ভাব দেখাইব না? আজব!
পারু কেন পাত্তা দিতাছে সামনেই বুঝবেন
পারুরে দেখিবার মন চাইতাছে.....
আগামী পর্বেই দেকবেন
এখন পর্যন্ত এইটাই সেরা পর্ব ... চলুক
~
থ্যাঙ্ক্যু
ধর মার কাট গতিতে সিরিজটা আগাচ্ছে একদম।
খিক খিক খিক করে হাসলাম। কন্টিনিঊ রাখেন ভালো হচ্ছে!
কথা দিলাম
হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খেলাম।
গড়াগড়ি কি মাটিতে না বিছানায় খাইলা ?
পারুউউউউউউউউউউউউউউউউউউউউউউ ও পারুউউউউউউউউউউউউউউউউউউউউউউউ
এসব দেখিয়া দেভু যাহারপর নাই হতাশ হইয়া আবার নখ কামড়াইতে লাগিলো। ভগ্ন মনোরথে সে পারুর স্ট্যাটাস দেখিতে লাগিলো। দেখিলো পারু কিছু না লেখিয়া ................ চিহ্ন প্রদান করিলেও তাহাতে শতক খানি লাইক পায়, অর্ধশত কমেন্টও পাইয়া থাকে। দেভু বুঝিলো লুল দেশে দেশে যুগে যুগে রহিয়াছে একই ভাবে।
নাহ সাঈদ, আপনের প্রতি আস্থা হারাইতে হারাইতে আবার ফিরা পাইছি। আপনেরে দিয়া হৈবো... চালান মশাই
আস্থা হারায়ছিলেন বইলা কষ্ট লাগলো
পড়তাছি, দেব ডি নামে দারুণ মুভি আছে। দেখছেন?
না মুভি টা দেখা হয় নাই
পরের পর্ব কবে দিবেন? দিয়া দেন।
দিছি
মন্তব্য করুন