কোলকাতায় প্রথম ভ্রমণ এবং দাদাবাবুদের কীর্তিকাহিনী ।
আমার অনেক দিনের শখ ছিল কোলকাতায় যাবার।শখটা একটু বেশি পরিমাণেই পূর্ণ হয়েছিল।তবে প্রথম বারের কথা এখন ভুলিনি ।কারন প্রতিটি পদে পদে তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছিল ।তারই কিছু আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম । যারা প্রথম বারের মত যাবেন তাদের কিছুটা সহায়ক হতে পারে।
সমরেশ, সংকর , সুনীল , বুদ্বদেবের কল্যানে খুব ছোট বেলা থেকেই পরিচয় হয় কোলকাতা বাবুদের সাথে। সেই পরিচয় ঝালিয়ে নেবার সুযোগ এলো পেশাগত কারনে । একটি কোর্স করতে যাই কোলকাতা সেন সী মেরিন ইন্সিটিউট এ । সত্যি বলতে কি বোম্বে যাবার সুযোগ থাকলেও নিজের ইচ্ছাতেই কলকাতাকে বেছে নেই । এয়ার পোর্টে নেমেই প্রথম ধাক্কা টা পেলাম কাস্টম দাদা বাবুদের কাছ থেকে । বাংলাদেশ থেকে যারা কোলকাতা যান তারা সবাই জানেন ধাক্কা টা কি রকম । এর পরই আপনাদের স্বাগতম জানাবে বাইরে অপেক্ষমাণ দালাল বাহিনী । ট্যাক্সি ভাড়া হতে শুরু করে হোটেল সবখানেই এরা কমিশন পাবে । হোটেল উঠে যদি ভাবেন সব সমস্যার সমাধান হয়েছে তাহলে আবারও ধরা খেলেন ।এই হোটেল গুলোকে প্রতিদিন লোকাল থানাকে জানাতে হয় কতজন বাংলাদেশী আছেন এবং তাদের পাসপোর্টের ফটোকপি দিতে হয় ।যারা কলকাতা যেতে চান( প্রথম বার ) তাদেরকে বলছি আপনারা কোন অবস্তাতেই বুঝতে দেবেন না যে কলকাতাতে এটাই আপনার প্রথম সফর । একবার বুঝতে পারলে পদে পদে আপনাকে হয়রানি করবে ।আর হোটেল থেকে যখন বলবে থানার রিপোর্ট করার কথা বলবেন এটা তাদের ব্যাপার । তানাহলে এজন্য নিয়মিত টাকা দিতে হবে । আর চেষ্টা করবেন বাস, ট্রাম , মেট্রো জাতীয় লোকাল ট্রান্সপোর্ট ব্যাবহার করতে কারন পুরা ইন্ডিয়া জুরে ট্যাক্সি চালকদের দুর্নীতি কুখ্যাতি অর্জন করেছে ।ইন্ডিয়ানরা নিজেরাই যেখানে ভুক্তভুগি সেখানে বাইরের লোকজন কিছুই না । আর যে সব ট্যাক্সি চালক একজন সহকারী নিয়ে ট্যাক্সি চালায় ভুলেও তাদের ট্যাক্সিতে উঠবেন না । ডলার ভাঙ্গানর সময় খুবই সাবধান থাকবেন । অনেক দালাল চক্র আপনাকে বেশি রেট দেবার লোভ দেখাবে , বলবে সাথে কাগজও ( Documents ) দিব বাবু ! কিন্তু তাদের হাতে দিবেন তো হাওয়া !। একবার আমাদের এক সহকর্মী মুম্বাইতেও এরকম ধরা খেয়েছিল । তাছারা Fake Dollar বলে পুলিশের কাছে নিয়ে যেতে চাইবে ভঁয় দেখনোর জন্য । অনেক সময় নিজেকেই পুলিশ বাহিনীর লোক পরিচয় দিয়ে বলবে Illegal উপায় আপনি Dollar ভাঙ্গাচ্ছেন ইত্যাদি । Dollar ভাঙ্গানোর কাগজ গুলো এয়ারপোর্ট পর্যন্ত সাথে রাখবেন । কারনে ওখানে দেখতে চাইবে । মানিব্যাগে কোন রুপীই রাখবেন না আসার সময়। বিবিধ কারন দেখিয়ে কাস্টম দাদারা রেখে দিতে চাইবে । সবচেয়ে ভাল হয় যদি ইন্টারন্যাশনাল কোন কার্ড থাকে । সকল প্রশ্নের উত্তর কার্ডটি দেখিয়ে দিবেন । প্রথম বার যখন কলকাতাতে গিয়েছিলাম অনেক ঝামেলা হয়েছিল । তাই আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম । আর একটি কথা । যারা বাই রোডে আসা যাওয়ার কথা ভাবছেন তারা অবশ্যই বেশ কিছু ভাংতি টাকা(রুপি) সাথে রাখবেন। কারন সীমান্ত পর্যন্ত পুর রাস্তা জুড়েই আপনাকে দিতে হবে পুঁজর চাদা । একটু পরপরই আপনার ট্যাক্সি আটকাবে এবং চাদা চাইবে না দিলে যেতে দিবে না । আর ট্যাক্সি ড্রাইভার ও এদের সাথে জড়িত । কারন অন্যান্য ট্যাক্সি আটকাবে না কিন্তু আপনার ট্যাক্সি ঠিকই আটকাবে । আমার লেখা পড়ে আবার বেশি ভড়কাবেন না । কারনে একটু সতর্ক থাকলে আর সমস্যা হয় না । পেশাগত কারনে ইন্ডিয়ার অনেক শহরেই ভ্রমণের সুযোগ হয়েছিল । বিচিত্র সেই অভিজ্ঞতা । দলবল নিয়ে নিয়ে গেল ভালই লাগবে । একই দেশে এত বিচিত্র আচার সংস্ক্বতি আর কোঁথাও পাবেন না । সময় ও সুযোগ পেলে তাও ব্লগে লেখার আশা করছি ।





জানলাম মেলা কিছু!যদি যাই কখনো মনে থাকবে আশাকরি।
১:১২ পূর্বাহ্ন
(|:এত রাতে মন্তব্য ? অবাক হইলাম ।ধন্যবাদ 
জানলাম এবং ভালো লাগলো।
আমার বউ শুধুই আমাকে বকে
। বলে কিনা আমি রাতে আজাইরা কাজ করি(ব্লগিং)
জেগে থাকলে দেখাতাম এত রাতেও কমেন্ট পাওয়া যায় ।
ধন্যবাদ । 
যারা রাত জেগে ব্লগিং করে তারা ব্যাচেলর।আপনি বিবাহিত আপনি রাতে ঘুমাবেন।ব্লগে কি করেন??

দিনের বেলায় আমার ৩ বছরের পুত্রের দখলে থাকে কম্পিউটার ।
ধরার চেষ্টা করলেই
তাই রাত ছারা উপায় নাই । 
আমারও এরকম ছোট বড় অভিজ্ঞতা হয়েছিল। ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য। অনেকেরই কাজে দেবে
সেই উদ্দেশ্যেই লেখা ।
শালারা সব হারামজাদা
বুঝলাম আপনেও খাইছেন ধরা ।
ধরা যাকে বলে সেটা হয়নি। অনেক বার ভারতে যাওয়া হয়েছে নানা কারনে। আশ পাশ দেখে মনে হয়েছে।
আমাকে ভারতে অনেক পোর্টেই যেতে হয়েছে ।ওদের আচারন নিয়ে লিখলে দুই তিনটা ব্লগ লেখা যাবে ।
খারাপ অভিজ্ঞতা।
কলকাতায় আমার অভিজ্ঞতা এরকম না অবশ্য। যেবার গ্রীনলাইন বাসে করে গিয়েছিলাম, সীমান্তে কোন ঝামেলাই হয়নাই। ডলার এক্সচেঞ্জও করেছিলাম সীমান্তের কাছেই গ্রীনলাইনের কাউন্টারের পাশের একটা জায়গা থেকে বেশ ভালো রেটে। অন্যবার বিমানবন্দর থেকে ট্যাক্সি ঠিক করে হোটেলে ঠিকঠাকই পৌছেছিলাম। তবে টাকা চেঞ্জ করার জন্য ব্যাঙ্কে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ, সেটা যেকোন দেশেই হোকনা কেন, তাহলে প্রতারিত হতে হয়না। তবে হ্যা, একবার এক ট্যাক্সিওয়ালা বহু জায়গা ঘুরিয়ে ৪৫ টাকার ভাড়া ১২৫ উঠিয়েছিলো। তাতে আমার পয়সা কিছু বেশী গেসে সত্যি, তবে পুরা কলকাতা দেখে ফেলসি বাতাস খাইতে খাইতে।
আমি প্রথম বার ভাল ধরা খেয়েছি । তবে তার পর থেকে দৌড়ের উপর রাখছি /
হুমম.....আপনি তো অনেক জায়গায় ঘুরছেন। এইরকম পোস্ট দিতে থাকেন, যাতে আমরা উপকৃত হই। কোলকাতায় যাওয়ার সময় মোটামুটি সবাইই এমন ঝামেলা পোহায়। দেখি আমার অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা দিব
সত্যি বলতে আপনি আর কোথাও এমন পাবেন না । তবে আফ্রিকার দেশ গুলো ছাড়া ।কিন্তু আমাদের মাঝে মধ্যে কোলকাতা যেতে হয় , তাই লেখটা দিলাম । বিশ্বের অন্নান্য দেশে বিদেশীদের সাথে খুব ভালই ব্যাবহার করা হয় ।
আমার কাস্টমস অভিজ্ঞতা খানিকটা খারাপ, বাই রোডে ফেরার সময়। এছাড়া আমার তিক্ত অভিজ্ঞতা কোথাও তেমন নাই
আমাদের দেশের কাস্টম অফিসারও অনেক সময় এরকম করে ।
অনেকবার সড়ক পথে যাওয়ার অভিজ্ঞতায় বলতে পারি, আমাদের কাস্টমস অফিসাররা ভারতের কাস্টমস অফিসারদের তুলনায় অনেক অনেক গুন ভাল আর ভদ্র । আমাদের বিডিআর/বিজিবি আর ভারতের বিএসএফ এর তুলনায়ও একই কথা প্রযোজ্য ।
ভারতে দেখার আছে অনেক কিছু...কিন্তু মানুষগুলো.....................................
~
কিন্তু মানুষগুলো..........................
এ জীবনে কলিকাতা টাও দেখা হইলো না
অগ্রিম শুভ কামনা রইল ।
দাদাবাবুদের কীর্তিকাহিনী যা শোনালেন, দাদারাও এদেশে এলে অনেকসময় আমাদের এরকম কীর্তিকাহিনীর খপ্পরে পড়েন। আমাদের এদিকেও দালাল দূর্ণীতি কম নেই। দাদারাও আমাদের নিয়ে এরকম পোস্ট লিখতে পারে।
যে কারোই উচিত অপরিচিত কোনো দেশে গেলে একটু চোখ কান খোলা রেখে চলা, যাওয়ার আগে একটু খোঁজ খবর নিয়ে যাওয়া।
আর বাংলা ব্লগে এতো রোমান হরফের ছড়াছড়ি চোখের জন্য আরামের না
চোখ কান খোলা না থাকলে দেশেও ধরা খেতে হবে। আমি বেশ কয়েকবার কোলকাতা গেছি তেমন উল্লেখযোগ্য বাজে কিছু দেখি নাই। ট্যাক্সিওয়ালারা আন্তর্জাতিকভাবে সব জায়গায় এক। একজন দালালের কাছে ডলার ভাঙ্গাবে আর ধরা খাবে না? লল অসৎ ব্যবসায় সততা?
মন্তব্য করুন