ইউজার লগইন

আমরা সবাই তাদের মৃত্যু কামনা করছি

2010_06_30_1_5_b.jpg
স্কুলে থাকতে সমাজ বিজ্ঞান বলে একটা বই ছিল যেখানে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে একটা চ্যাপটার সবসময় থাকতো। সরকার পরিবর্তন হলেই এই চ্যাপটারটায় ব্যাপক পরিবর্তন হতো। প্রথম যখন বিএনপি ক্ষমতায় এলো, তখন দেখা গেলো জিয়াউর রহমানের নাম ছবি সহ বেশ ফলাও করে লেখা হলো স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে। এরপর '৯৬ তে এলো আওয়ামী লীগ। তখন এই চ্যাপটারটায় আমূল পরিবর্তন। জিয়াউর রহমানের নাম বেমালুম গায়েব। বঙ্গবন্ধুর নাম এলো বেশ ফলাও করে। এরপর আবার বিএনপি এলো, আবারো আমরা বইয়ের এই চ্যাপ্টারটায় পরিবর্তন দেখলাম। এবার আবারো জিয়ার নাম ফিরে এলো।

আমার জন্ম আশির দশকের প্রায় মাঝামাঝি, তাই বঙ্গবন্ধু বা জিয়া কারো শাসন আমলই দেখা হয় নি। তাই আওয়ামী লীগ বা বিএনপির পরিচয় আমার কাছে সমাজ বিজ্ঞান বইয়ের ওই একটা চ্যাপ্টার পরিবর্তন ছাড়া আর কিছুই না। সম্ভবত আমার প্রজন্মের প্রায় সবার কাছেই। কিন্তু এ প্রজন্মটা কিন্তু বঙ্গবন্ধু বা জিয়াকে ভুল চিনে না। আমরা জাফর স্যার , হুমায়ূন আহমেদ, শাহরিয়ার কবির আর শহীদ জননী জাহানারা ইমামের বই পড়ে ঠিকই চিনে নিয়েছি তাদের। তাই বঙ্গবন্ধু কিন্তু আমাদের কাছে একজন স্বপ্নবাজ নেতার নাম। যিনি একটি ভাষন দিয়ে পুরো জাতিকে স্বপ্ন দেখাতে পারে। হ্যামিলনের বাঁশিওয়ার মতো যার একটি নির্দেশে সাবাই যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পরতে পারে। তাই '৯৬ তে আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় এসে এই বঙ্গবন্ধুকে গনহারে বাজার জাত করতে শুরু করলো, তখন সেটা আমার একদম ভালো লাগেনি।

মজার ব্যাপার হলো এরপর বিএনপি এসে জিয়াকে বাজার জাত করা শুরু করলো। জিয়া একজন মুক্তিযোদ্ধা। স্বাধীনতার অন্যতম ঘোষক। তাই বিএনপির এই ব্যাপারটাও খুব নোংরা ছিলো যখন তারা জিয়াকে নিয়ে বেশী মাতামাতি শুরু করলো। তবে বিএনপির সবচেয়ে বড় সমস্যা সম্ভবত ছিলো জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে সরকার গঠন করা। খুব অবাক লাগে যখন দেখলাম অধ্যাপক বদরুদ্দোজা, কর্ণেল অলি, মীর শওকতের মতো মানুষ যারা কিনা বিএনপির গোড়ার দিকের মানুষ, যারা জিয়ার পাশে থেকে এই দলটাকে গড়েছে, তারাই এক এক করে হারিয়ে যেতে থাকলো। ভেতরের রাজনীতি কি জানি না, তবে জামায়াতে ইসলামী যে ভেতরে ভেতরে বিএনপির ভিতটা নাড়িয়ে দিয়েছে সেটা বোঝা যায়। তাই এক এক করে বিএনপিতে সুবিধাভোগী মানুষের ভীড় বাড়ে। দেশের গনতন্ত্রের জন্য যেখানে অন্তত দু'টো রাজনৈতিক দল থাকা জরুরী সেখানে একটি দল প্রায় ধ্বংসের মুখে এসে দাঁড়ায়।

এবারই আমি প্রথম ভোটার। রাজনীতি সম্পর্কে কি বুঝি তার কিছুটা বর্ণনা দিলাম। তাই ভোটার হিসেবে যখন ভোট দিতে যাই তখন কাকে বাছাই করবো সেটা একটা সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। তারপরও আমার ভোটটা কিন্তু আওয়ামী লীগেই যায়। সেটা এই দলটার প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধু বলে নয়। এর একমাত্র কারন ছিলো, আওয়ামী লীগের প্রতিজ্ঞা, সেটা হলো, যুদ্ধোপরাধীদের বিচারের প্রতিজ্ঞা। সমাজ বিজ্ঞান বইতে না থাকলেও ঠিকই ততদিনে চিনে গেছি এ দেশের সবচেয়ে বড় শত্রু কারা। আমি বিশ্বাস করি, দারিদ্র, কষ্ট, প্রাকৃতিক বিপর্যয়, দু'টি প্রধান দলের হানাহানির পরও হয়তো আমাদের এই প্রিয় দেশটা ধুকতে ধুকতে একদিন ঠিকই উঠে দাঁড়াবে। কিন্তু যদি গোলাম আজম, সাইদী বা মুজাহিদরা থাকে তাহলে সেটা কখনোই সম্ভব নয়। তার জলন্ত প্রমান দেশের অন্যতম একটি প্রধান দলকে প্রায় পঙ্গু করে ফেলা। তাই ভোট দিতে গিয়ে আওয়ামী লীগের এই প্রতিজ্ঞাটাই সবার আগে স্থান পায়। ভোট দিয়ে তাই যতটা না আওয়ামী লীগকে "হ্যাঁ" বলি, তার চেয়ে অনেক বেশী "না" বলি জামায়াতে ইসলামী কে।

এই সরকারের দেড় বছরের মাথায় অবশেষে বহু কাঙ্খিত সাইদী,মুজাহিদ, নিজামী গ্রেপ্তার হলো। নিঃসন্দেহে আশার কথা। সবাই আশা দেখছে এইবার বিচার হবে। আর সবার মতো আমিও। এই সরকার যদি ২০১৩ এর মাঝে এক মেগাওয়াট বিদ্যুতও উৎপাদন না করতে পারে, একটি ফ্লাইওভারও বানাতে না পারে তারপরও যদি কেবল এই যুদ্ধোপরাধীদের ফাঁসিতে লটকাতে পারে, আমি জানি আমি আবারো তাদের ভোট দিবো। আমরা সবাই চাই, সাইদী,মুজাহিদ, নিজামী আর তাদের সহযোগীরা এরপর আর জীবিত জেলখানার বাইরে আসবে না। কারো মৃত্যু কামনা করা ঠিক না। তারপরও এবার আমরা সবাই তাদের মৃত্যু কামনা করছি।

পোস্টটি ৯ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

টুটুল's picture


এই সরকার যদি ২০১৩ এর মাঝে এক মেগাওয়াট বিদ্যুতও উৎপাদন না করতে পারে, একটি ফ্লাইওভারও বানাতে না পারে তারপরও যদি কেবল এই যুদ্ধোপরাধীদের ফাঁসিতে লটকাতে পারে, আমি জানি আমি আবারো তাদের ভোট দিবো। আমরা সবাই চাই, সাইদী,মুজাহিদ, নিজামী আর তাদের সহযোগীরা এরপর আর জীবিত জেলখানার বাইরে আসবে না। কারো মৃত্যু কামনা করা ঠিক না। তারপরও এবার আমরা সবাই তাদের মৃত্যু কামনা করছি।

কঠিন ভাবে সহমত...

পারলে এদের ছবিটা পোস্টের নিচে আইনা দেন... অথবা ছোট করে দেন... ক্যান জানি এদের ছবি দেখলেও গা ঘিন ঘিন করে

জ্যোতি's picture


এদরে ছবি দেখলে ঘিন্না লাগে। এটাই বলতে এসে দেখি টুটুলও বললো। একমত।

সাঈদ's picture


ভাই ডুয়েল পোষ্টিঙ নিষেধ আমরা বন্ধু তে।

মুহম্মদ জায়েদুল আলম's picture


একটা মুছে দিছি Smile

রাসেল আশরাফ's picture


কিন্তু ছবি গুলা দেখে মনে হচ্ছে এবার সত্যি ডরাইছে কুত্তার বাচ্চাগুলা।

নিজামী -মুজাহিদরে মন্ত্রী বানানোর দায়ে খালেদারেও গ্রেফতার করা উচিত।

মামুন হক's picture


সোজা ক্রসফায়ার! আইন-আদালত-বিচার মানুষের জন্য, মানুষরূপী হায়েনাদের জন্য না।

সাঈদ's picture


আমারো একমত , এদের স্বাভাবিক মৃত্যু না , এদের মারা হোক ফাঁসি তে ঝুলায়ে কিংবা গুলি করে - সেটাই চাইছি।

নুরুজ্জামান মানিক's picture


পোষ্ট ভাল হয়েছে তবে আপনার এই লেখাটি সামুতেও প্রকাশ করেছে কিন্তু এবিতে ডুয়েল পোষ্টিং নিষিদ্ধ ।

গ. "আমরা বন্ধু" তে শুধু নতুন লেখাই প্রকাশিত হবে। পুরনো লেখা রিপোস্ট করা যাবে না। অন্য কোনো কম্যুনিটি ব্লগে প্রকাশিত লেখা এবিতে প্রকাশ নিষিদ্ধ। এবিতে প্রকাশিত কোন লেখা ৪৮ ঘন্টার মধ্যে অন্য কোনো কমিউনিটি ব্লগে প্রকাশ করা যাবে না। ব্যক্তিগত ব্লগ এবং পত্রিকা এই নিয়মের আওতার বাইরে।

লীনা দিলরুবা's picture


শাস্তি কামনা করি।

১০

মডারেটর's picture


গ. "আমরা বন্ধু" তে শুধু নতুন লেখাই প্রকাশিত হবে। পুরনো লেখা রিপোস্ট করা যাবে না। অন্য কোনো কম্যুনিটি ব্লগে প্রকাশিত লেখা এবিতে প্রকাশ নিষিদ্ধ। এবিতে প্রকাশিত কোন লেখা ৪৮ ঘন্টার মধ্যে অন্য কোনো কমিউনিটি ব্লগে প্রকাশ করা যাবে না। ব্যক্তিগত ব্লগ এবং পত্রিকা এই নিয়মের আওতার বাইরে।

সম্মানিত ব্লগার উপরোক্ত ধারাটি ভঙ্গের জন্য লেখাটি প্রথম পাতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হল।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.