টিলো
দেয়ালের দিকে মুখ করে শ্যামার ত্রিশ গোনা শেষ। আর বিশ গোনার আগেই আমাদের লুকিয়ে পড়তে হবে। আমি লুকানোর জন্য দেয়াল টপকাতে গেলাম। কিন্তু পেছন থেকে তুমি আমার সার্ট টেনে ধরলে। তোমাকেও সঙ্গে নিতে হবে। হাত বাড়িয়ে দিলাম। উঠে এলে দেয়ালের উপর। তারপর হাত ধরাধরি করে এক সঙ্গে লাফিয়ে পড়লাম নিচের কচু বাগানে। তুমি একটু ভয় পাচ্ছিলে। সাপ জাতীয় কিছু এসে না কামড়ে দেয়। ভয় কাটাতে তোমার মনোযোগ নিয়ে গেলাম গঙ্গা ফড়িঙ এর দিকে। একটা ফড়িঙ তোমার হাতে ধরিয়েও দিলাম। সবুজ-হলুদের মিশেল একটা ফড়িং। তুমি কপট রাগ দেখিয়ে ফড়িঙটা ছেড়ে দিতে বললে। বললাম আমার যে একটা ফড়িঙ দরকার। তুমি বললে আছে তো। বললাম কই। উত্তর না দিয়ে হলুদ ফ্রক উড়িয়ে দেয়াল টপকালে। আমি এপার থেকে শুনতে পেলাম- টিলো।
এরপর অনেকদিন খেলতে নামা হয়নি। স্কুল থেকে আসা যাওয়ার পথে কিংবা তোমাদের কোয়ার্টারের ব্যালকনীতেও দেখা যায়নি তোমাকে। ভেবেছিলাম হয়তো তুমিও পরীক্ষার চাপে আছো। পরীক্ষা শেষে আবার খেলতে নামি । ল্যাম্পপোষ্টের দিকে ফিরে এক দুই তিন গুনতে থাকি। আড় চোখে খেলার সাথীদের খুজে বেড়াই। সবাই আছে কেবল তুমি নেই। এভাবে দিন যায় তুমি ফেরোনা। শ্যামা'র কাছে জানতে পারি আমার ফড়িঙ শহর ছেড়েছে। এখন শহরে শহরে ঘুরে বেড়াই। কাজে- অকাজে। কিন্তু কান পেতে রাখি কখন তুমি পেছন থেকে বলে উঠো -টিলো!





আপ্নেই বললেন টিলো??? ঘটনা কি?
বাহ!
+++++
খুব খুব সুন্দর লিখেন আপনি। আর একটু বড় করে দেন
হা হা
কান পেতে রাখেন, শুনতে পেতে পারেন ...টিলো।
এত সুন্দর লেখেন... কিন্তু এত্ত ছোট
... পড়ার আগেই শেষ হয়ে যায় 
অনেক বছর পর আপনার লেখার দেখা মিললো। আরেকটু বড় করে লিখলে ক্ষতি কী! টিলো, ফড়িং শৈশব, কৈশোরের কথা মনে করিয়ে দিলো।
আপনার সব লেখার মত এটিও, সুন্দর!
"টিলো"
আহহারে !
টিলো ?!
মন্তব্য করুন