সম্পাদকীয় নীতির পরাধীনতা
সাংবাদিকতা পেশাদার বিতার্কিক এবং রাজনীতিবীদদের জন্য উপযুক্ত জায়গা হয়ে উঠছে।কেবল সাংবাদিকতা করার ব্রত নিয়ে যারা এই পেশাতে আছেন, আসছেন বা আসবেন,তাদেরপক্ষে প্রকৃত সাংবাদিকতা করাটা ক্রমেই অসম্ভব হয়ে পড়ছে।বিতার্কিকদের প্রসংগ আনলাম এ কারনে যে, বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিতার্কিককে যে কোন বিষয়ের পক্ষে- বিপক্ষে বলার জন্য তৈরি থাকতে হয়। লটারির উপর নির্ভর করে কোন দল পক্ষে বলবে আর কোন দল বলবে বিপক্ষে। এছাড়া একই বিষয়ের উপর ভিন্ন দিনে বিতার্কিক দুটি অবস্থানে থেকে বক্তব্য রাখতে পারেন।রাজনীতিবীদরাতো একই বিষয়ের পক্ষে- বিপক্ষে বলতে আরো সিদ্ধহস্ত। একই ইস্যুতে দলীয় অবস্থান পাল্টানোর সংগে সংগে, রাজনীতিবীদের বক্তব্যও পাল্টে যায়। আবার দলের সংগে তার সম্পর্কের টানাপোড়ন বিবেচনাতে পাল্টে যায় বক্তব্যের সুর। বিতর্ক যারা করেছি, বা দর্শক হিসেবে দেখার অভিজ্ঞতা আছে, তারা জানি বিতর্কের বিধিমালা।আর রাজনীতি থেকে যারা দূরে, সেই আমজনতারও জানা আছে- রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই।তাই কে কখন দাগের কোন পাড়ে দাড়িয়ে কথা বলছে, তা নিয়ে জনগন এখন চমকিত হয়না।সাংবাদিকতা প্রসংগে বিতর্ক এবং রাজনীতিকে নিয়ে আসাকে অপ্রাসংগিক ভেবে বসতে পারেন অনেকে। কিন্তু সাংবাদিকতার সংগে যুক্ত আছেন যারা, তারা এটাকে প্রাসংগিকই ভাববেন। বলা ভাল ভাবা উচিত। দুটি দিক থেকে প্রাসংগিক ভাবতে হবে। এক.ব্যক্তিগত অবস্থান থেকে দুই. প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থান থেকে।
ব্যক্তিগত অবস্থান থেকে বিষয়টি আলোচনা করা যায় এভাবে-রুটি, রুজির স্বার্থে ব্যক্তিগত আদর্শের অবস্থান থেকে সরে যেয়ে একজন সাংবাদিককে যে কোন সম্পাদকীয় নীতির গণমাধ্যমে কাজ করতে হচ্ছে।হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া বাকিদের আপোষ করেই চাকরি বা সাংবাদিকতা করে যেতে হচ্ছে। তাই প্রতিষ্ঠানের সম্পাদকীয় নীতি অনুসারে কাল কে সাদা, আর সাদা কে কাল বলে যেতে হচ্ছে। দেখা যাচ্ছে একজন সাংবাদিক একমাস আগের মিডিয়া হাউজটিতে কাজ করার সময় যে ঘটনাটির বিপক্ষে রিপোর্ট করেছেন। এক মাস পরে হাউজ বদল হওয়া মাত্র তাকে ঐ ঘটনারই পক্ষে সাফাই গেয়ে রিপোর্ট করতে হচ্ছে।এখানে রিপোর্টের নৈতিক অবস্থান নেয়ার সুযোগ খব কমই থাকে। যারা তার নৈতিক অবস্থানকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান, তাদের চাকরি ঐ হাউজটিতে দীর্ঘায়িত হয়না।এর যে ব্যতিক্রম ঘটেনা তা নয়। কিন্তু ব্যতিক্রমতো কোন ক্ষেত্রেই সাধারনের জন্য উদাহরন হতে পারেনা। কেউ কেউ আপোষ না করে চাকরি ছেড়ে চলে গেছেন। দুই-একজন যে একেবারে মিডিয়াকেই বিদায় জানাননি তা নয়। কিন্তু মধ্যবিত্ত আর নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার থেকে যারা সাংবাদিকতায় এসেছেন, তাদের পক্ষে আপোষ করা ছাড়া আর উপায় থাকেনা। তখন প্রতিষ্ঠানের ইচ্ছে মাফিক আজ পক্ষে তো কাল বিপক্ষে বলে যেতে হয়।টিকে থাকতে অনেকে নিজেকে পক্ষে-বিপক্ষে বদলে নেয়ার যোগ্য করে তুলেছেন। সাংবাদিকতার বাজারে এরা এখন আছেন ভালই। বাজার দরও তাদের কম নয়। কিন্তু সমস্যা হলো সাংবাদিকতার মূল ধারা কিংবা বলা যায় প্রকৃত সাংবাদিকতা থেকে তারা অনেক দূরত্বে অবস্থান করছেন।কিন্তু সংখ্যায় যেহেতু তারা বেশি, তাই তাদের দেখে সাধারনের মধ্যে সাংবাদিকতা সম্পর্কে ভুল ধারনা তৈরি হচ্ছে।
প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থান থেকে দেখা যাবে- প্রত্যেক মিডিয়া হাউজই সময়ে সময়ে তার রং বদল করে।অর্থাত তার সম্পাদকীয় নীতি থেকে সরে আসে।এই নীতি থেকে সরে আসাটা প্রধানত হয় রাজনৈতিক কারনে।প্রথমত নির্বাচকে সামনে রেখে মিডিয়া গুলো অনুমান করার চেষ্টা করে কারা ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনার দিক থেকে এগিয়ে আছে, এগিয়ে আছে যারা তাদের প্রতি কোন মিডিয়া একটু দূর্বল থাকে। তবে মিডিয়া হাউজের মালিকের যদি রাজনৈতিক পরিচয় থাকে, তখন সেই হাউজটির অবস্থান সাধারনের কাছে স্পট থাকে অনেকটা।কিন্তু রাজনৈতিক পরিচয় বা অবস্থান স্পষ্ট নয়, তারা নির্বাচনের আগে বুঝে শুনে দূর্বলতার পরিমানে ছাড় দেয়। কোন মিডিয়া মালিক আবার ভবিষত ব্যবসার কথা মাথায় রেখেও নিরব সমর্থনটা কোন দিকে যাবে তা ঠিক করে। আর নির্বাচন পরবর্তী সময়ে যে দল ক্ষমতায় এলো, সেই দল প্রথমে ক্ষমতার দশ হাত দিয়ে মিডিয়া গুলোকে তার বন্দনায় বাধ্য করার কর্মসুচি নেয়। কেউ নিজ থেকে আগ বাড়িয়েই গলা পেতে দেয়। কেউ প্রথমে ধরা দিতে রাজি হয়না। কিন্তু নানামুখি চাপের মুখে পরে বাধ্য হয়। এরই মধ্যে আবার দুই-একটি চ্যানেল ধরি মাছ না ছুই পানির চরিত্র ধারন করে। মিডিয়ার টাকার উতস ব্যবসা বা ব্যবসায়ী। আর খুব সামান্য কারনেই ব্যবসায়ীদের আয়কর, শুল্ক, ব্যাংক ঋনসহ নানা ছুতোয় জালে আটকানো যায়। আর ব্যবসায়ীদের কয়জন আছে কেবল সাংবাদিকতার ব্রত নিয়ে মিডিয়া হাউজ খুলে বসেছেন। সবারতো একই কৌশল অন্য ব্যবসার সাইনবোর্ড হিসেবে মিডিয়াকে ব্যবহার করা। তাই এই সাইনবোর্ড ব্যবসার জন্য অন্য ব্যবসা জলাঞ্জলী দেবার সাধ ও সাধ্য নেই কারো।তাই ছাড় দিতে হবে মিডিয়া হাউজকেই। বদলে যেতে হয় পত্রিকা, রেডিও, টেলিভিশনের চরিত্র। কয়দিন আগেও যে রাজনীতিবীদকে পাত্তা দেয়ার প্রয়োজন মনে করেনি, বা তার বিরুদ্ধে খবর তৈরি করেছে। ক্ষমতা বদল হওয়া মাত্র তার দিনমান কভারেজ দিতে ব্যস্ত দিন কাটাতে হয় সংবাদ কর্মীকে।জিয়াউর রহমানকে যারা মরহুম রাষ্ট্রপতি বলছে আজ, কাল তারা শহীদ জিয়াউর রহমান বলতে বলতে অজ্ঞান। শেখ মুজিবর রহমানকে, বঙ্গবন্ধু বলো হতো না যেই মিডিয়ায় তারাই আবার তাকে নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠান, ক্রোড়পত্র বের করছে।১৫ আগস্টের অনুষ্ঠান সরাসরি প্রচারের প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়। অর্থাত প্রাতিষ্ঠানিক ভাবেও কোন মিডিয়া হাউজ তার সম্পাদকীয় নীতিতে অনড় অবস্থানে থাকতে পারেনা। সর্বশেষ তত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে দেখা গেছে মোটামুটি সম্পাদকীয় নীতিতে অবস্থান নেয়া একটি দৈনিক পত্রিকাকে কিভাবে মৌলবাদীদের কাছে ক্ষমা চাইতে হয়েছিল।অথাত আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি মিডিয়াকে স্বাধীন একটি সম্পাদকীয় নীতিতে অভ্যস্ত হতে দিচ্ছে না।যদিও সকল সরকারের একই বুলি- মিডিয়া স্বাধীনতা ভোগ-উপভোগ করছে আগের সকল সময়ের চেয়ে বেশি। কিন্তু এই বুলি বায়বীয়ই বলা যায়।কারন সরকারের প্রধান ব্যক্তি দূরে থাক। সরকার দলীয় অনেক চুনোপুটি নেতার কভারেজ না হলেও মিডিয়াকে চাপ অনুভব করতে হয়। জানিনা সরকারী দল একে স্বাধীনতা উপভোগ করা বুঝাবে কিনা।তবে এই কাজটি করতে সকল রাজনৈতিক দলই একট্টা।কারন মিডিয়া গুলো যদি সম্পাদকীয় নীতির একটি দৃঢ় অবস্থান তৈরি করতে পারে, তাহলে মিডিয়াকে নিয়ে তারা আর পুতুল নাচ খেলতে পারবেনা। আর তাদের ক্ষমতার ভেতর- বাইরের যেমন খুশি তেমন খেলার সুযোগও থাকবেনা।
রাজনৈতিক দল গুলোর সংগে যোগ হয়েছে করপোরেট হাউজ সদৃশ্য সামন্ত। তারাও মিডিয়ার দখল চায়। হতে চায় মিডিয়া মোগল বা প্রভু। যেহেতু মিডিয়ার টাকার ক্ষুধা অসীম। সেই অসীম ক্ষুধা মেটাতে করপোরেট হাউজে ধর্ণা দিতেই হয়। এরই মধ্যে অনেক বনিক বা করপোরেট হাউজ নিজেরাই মিডিয়া খুলে বসেছেন। যারা নিজেরা মিডিয়ার মালিক বনে গেছেন,তারাতো সম্পাদকীয় নীতিতে টুটি চেপে ধরবেনই। কিন্তু যারা মালিক হতে পারেননি। তারাও কিন্তু টুটিটি বেশ শক্ত করেই ধরে রাখেন। সেই ধরে রাখার জোর হচ্ছে বিজ্ঞাপণ। বিজ্ঞাপনের কাছে মিডিয়া যেন বারবনিতা। বিজ্ঞাপন দেবার আগে যাকে বলা হতো ভূমি দস্যু। বিজ্ঞপান পাওয়ার পর তার গুন বিচারে ব্যস্ত হয়ে পড়ছে মিডিয়া গুলো। রাজনৈতিক দল বা সরকারের কাছে হয়তো লাল ফিতার ভয়ে ত্রস্ত থাকে মিডিয়া হাউজ। কিন্তু তারল্যের জন্য বিজ্ঞাপনের কাছে কাংগালিপনার সীমা-পরিসীমা নেই। অতএব সাংবাদিকতা যখন অন্যের ইচ্ছাতে পক্ষে- বিপক্ষে চলে যায়, টালমাটাল সম্পাদকীয় নীতি। সেখানে প্রকৃত সাংবাদিকতার যোদ্ধাদের অবস্থান কোথায়?
১৯.৮.২০১১





তুষার ভাই, আপনার সঙ্গে একমত। আমি মনে করে, গণমাধ্যম ঘোর অন্ধকারে নিমজ্জিত হচ্ছে। এক সময়ে জান্তার ফোনে যেভাবে সাদা কালো বলতে হতো, এখন পরিস্থিত আরো ভয়াবহ। পাঠক তথা জনগণ চরমভাবে বিভ্রান্ত। এভাবে চললে গণমাধ্যম থেকে মানুষ মুখ ফিরিয়ে নেবে।
তবে এটুকু আশাবাদী হতেই হয়, আপনাদের মতো মনোভাব যাঁরা পজ দিয়ে রেখে হলেও নীতিতে ধরে রাখবেন, তারাই এই ঘোর অন্ধকার থেকে আলোর দিকে নিয়ে যাবেন।
অনুরোধ, আপনারা অভিমান করে হলেও নিজেকে এই ইন্ডাষ্ট্রি থেকে সরিয়ে রাখবেন না। সুদিন আসবেই। কীভাবে তা এখনই আমরা পুরোপুরি জানিনা।
নষ্টদের অধিকারে চলে গেছে দেশ আজ। আর কিছুই অবশিষ্ট নাই নষ্ট হতে ।
গত কদিনে মিডিয়ায় যেসব কথাবার্তা হতে দেখছি তাতে
তে কিছুটা ভিন্নচিত্র ফুটে উঠেছে। গতকালকে রাতে এটিএন নিউজে 'নিউজ এক্সট্রা' অনুষ্ঠানে মুন্নি সাহা মন্ত্রীদেরকে যেভাবে তুলোধুনো করলেন তা দেখে মুগ্ধ হৈছি। এটা ঠিক কর্পোরেট হাউজগুলোর বিষয়ে তাদের নীতি যথেষ্ট নতজানু।
মূলত টাকার কাছেই মিডিয়া জিম্মি... কর্পোরেট হাউজের টাকায় মিডিয়া চলতেছে... সারা বিশ্বেই একি অবস্থা...
আমি অবশ্য একজন সৎ সংবাদকর্মী। কখনো অসৎ হই না কোনো কারণে। তবে প্রতিষ্ঠান আমাকে অনেক কম টাকা দেয়। যে কারণে মাঝে মাঝে খুব মেজাজ গরম হয়। তারপরও আমার কাজটুকু উঠিয়ে দিয়ে আসি।
আর জামাত-শিবির-রাজাকারদের কোনো এ্যসাইনমেন্টে যাই না। ওদের পক্ষে কোথাও কিছু লিখি না। লিখলে সেটা তীব্র গালাগালের পর্যায়ে চলে যায়।
এই রকম একটা চর্চা আরো বেশ কিছুদিন চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা আছে। তারপরে হয়তো পেশা বদল করবো। পরিব্রাজক হবো কিংবা সিনেমা বানাবো।
+++++++++++++++++++
যোগ চিহ্নের বিপুল সমাহার দেখে কিঞ্চিৎ কনফ্যূজড্। আগে-পরে কোনো সংখ্যা তো দেখা যাচ্ছে না। আর এত যোগ চিহ্ন তো বড় ধরনের সরল অংক ছাড়া আর কোথাও ব্যবহার হয় বলেও জানি না। এগুলো বাংলা ব্লগে চলে আসলো কিভাবে?
আমি অবশ্য একজন সৎ সংবাদকর্মী। কখনো অসৎ হই না কোনো কারণে।
ওদের পক্ষে কোথাও কিছু লিখি না। লিখলে সেটা তীব্র গালাগালের পর্যায়ে চলে যায়।
এই রকম একটা চর্চা আরো বেশ কিছুদিন চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা আছে। তারপরে হয়তো পেশা বদল করবো। পরিব্রাজক হবো কিংবা সিনেমা বানাবো।
++++++++++++++++++++++++
আপনের বাংলা বাক্যে ম্রাত্মক হারে গাণিতিক চিহ্ন ব্যবহারের এ সাময়িক প্রবণতা আমাকে ক্রমাগত কনফ্যূজড্ করেই চলেছে।
সিনেমা
সিনেমা বানাইলে দুইটা টিকিট দিয়ো ব্যালকনী না ডিসি কি জানি কয়!! সেইখান কার।
নষ্টদের অধিকারে চলে গেছে দেশ আজ। আর কিছুই অবশিষ্ট নাই নষ্ট হতে ।
বাই দ্যা ওয়ে, আপনি পাঠকদের সাথে ইনটার্যাকট করেন না কেন?
তানবীরা,ধন্যবাদ আপনাকে এবঙ যারা মন্তব্য করেছেন তাদের সবাইকে।
মন্তব্য করুন