স্মৃতির সড়ক
ইচ্ছে হলেই ভেজা যেতো। তুমুল বৃষ্টিতে ঘর বেসামাল। নিম গাছে চড়ুইর আনন্দ স্নান আরো লোভাতুর করে। হাত বাড়িয়ে এক মুঠো জল নিতে পারি। হাত বাড়িয়েও ফিরিয়ে আনি। বৃষ্টির ছটায় কেপে উঠছে বারান্দার ক্যাকটাস। যখন তোমার অপেক্ষায় কলেজ গেইটে, তখনো আকাশে ঝলমল রোদ। রোদে পুড়ছি আমি। আসছো তুমি তোমার কলেজ থেকে। এলে দেখি তোমার নাকে বিন্দু বিন্দু মুক্তো দানা। রুমাল দিয়ে মুছে নিতে চাইলে। বললাম থাকনা। বললে-এমনিতেই ঝরে পড়বে। বললাম- মুক্ত আনন্দে দেখবো মুক্ত ঝরা। তাল গাছে হেলান দিয়ে দাড়ালাম। আবদার করলে রিকশা বিহারের। চলছে রিকশা সবুজের খোজে। আমাদের ভাবনার রং, কথার রংও সবুজ। মনে পড়ে? আমাদের রিকেশা গিয়ে থেমে ছিল এক মেঠো পথের শেষ প্রান্তে। শহরে এমন মেঠো পথ আছে তা তোমার ভূগোলে ছিলনা। আমাকে ছেড়ে অনেকটা সামনে চলে গিয়েছিলে। এদিকে মেঘওযে কখন আমাদের পিছু নিয়েছিল জানতে পারিনি। জানলাম যখন সে নেমে এরা সর্বস্ব নিয়ে। আর ততোক্ষনে তুমি মেঠো পথে পাখা মেলেছো। কাছের চায়ের দোকানে ঢুকে পড়লাম। সামনে অবারিত সবুজ। সজনে , নিম, আম কাঠালের ফাকে ফাকে লাউ আর কুমড়োর মাচা। আর মেঠো পথটায় শুধু তুমি। সাদা পোশাকের তুমি কখনো কখনো বৃষ্টির সাদা সুতোর আড়ালে চলে যাচ্ছিলে। সেই আড়াল থেকেই হঠাত বের হয়ে এসে তুমি আমাকে হাত ধরে নামালে। আমাকে নিয়ে তুমি দৌড়ে যাচ্ছো একবার এদিক তো আরেকবার ওদিক। চায়ের দোকান থেকে হাততালির আওয়াজ্ও এলো। বৃষ্টি বিশ্রামে গেল এক সময়। তুমি আমার কাধে হেলান দিয়ে রঙধনু দেখছো। সাতরঙ মিলিয়ে যাওয়ার আগেই আমরা ফিরে এলাম। ফেরার পথে কোন শব্দ নেই। কেবলই অনুভব।
বৃষ্টি ফিরে আসে। কখনো সখনো রঙধনুও। মেঠোপথটা এখন পিচ ঢালা পথ। সে এখন কাউতে পাখা মেলার ফুরসত দেয়না। আমি স্মৃতির সড়কের পথচারী। আর ইচ্ছে হলেই মাতাল হতে পারি তুমুল বৃষ্টিতে। কিন্তু কেনো হবো? তুমি যে নেই পাশে!





যথারীতি দারুণ!
অসাধারণ!!!
লেখাটা খুব ভালো লেগেছে।
আর ইচ্ছে হলেই মাতাল হতে পারি তুমুল বৃষ্টিতে। কিন্তু কেনো হবো? তুমি যে নেই পাশে!
আপনার লেখা চমৎকার...
মাঝে কয়দিন ছিলেন না...
ইচ্ছে হলেই মাতাল হতে পারি তুমুল বৃষ্টিতে। কিন্তু কেনো হবো ? তুমি যে নেই পাশে...
ঠিকইতো কৈছেন... তা তিনি কোথায় গেছেন ? আসবেন কবে, বলে যাননি ? মোবাইল কি বন্ধ ? একটা ফোন কল করে দেখেন্না ব্রাদার ! বৃষ্টিটা থেমে যাবেতো !
সে নেই তো কী হইছে, তিনি তো আছেন
মন্তব্য করুন