প্রিয়, ফুল খেলবার সময় নয় অদ্য
অঙ্ক বিষয়টার প্রতি আমার একটা অমূলক ভীতি কাজ করতো ছোটবেলা থেকেই। সবচেয়ে কম নাম্বার এইটাতেই পেতাম। সাথে আরো পেতাম মায়ের বকুনি, টিচারের স্কেলের বাড়ি। হিসাবে এত কাঁচা ছিলাম যে দুই হাতের দশ আঙ্গুলে যোগ-বিয়োগ করে কুল পেতাম না। বড় আপা চশমার ফাঁকে কঠিন চোখে তাকিয়ে বলে, “সাত তেরো কত??” আমি বেকুবের মত তাকিয়ে থাকি আনলাকি থার্টিনের রহস্যভেদের আশায়। ক্লাস ফাইভে ফাইনাল পরীক্ষায় একশতে পেলাম উনচল্লিশ। বাসায় ফিরে আম্মুর কোলে ঝাঁপায় পড়ে বলেছিলাম – আমার কী দোষ, আমার হাতে কিছুতেই হিসাব মিলে না।
আজকে বুঝি, জীবনের সব অঙ্ক সবসময় মেলে না। হিসাবের খাতায় সব ইকুয়েশান সলভড হওয়া অনাবশ্যক। সম্পাদ্যের বিন্দুগুলো না হয় থাকুক একলা হয়ে – কী যায় আসে! নিয়মের বেড়া দিয়ে ক’জনাকে আটকানো যায়? থাকুক না কিছু কথা নিপাতনে সিদ্ধ।
কিন্তু এ তো স্রেফ আমার কথা। অভিমানী ফেলটুস ছাত্রের জীবনদর্শন। এই দর্শনে তো প্রজ্ঞা নেই, নেই যুক্তির শাণিত বচন। কিভাবে, কোন লজ্জায় এই উপলব্ধির কথা শোনাই আপনাদের?
আহা যুক্তি! জ্ঞানের অমৃত বচন, বহু অধ্যয়নের সাধানার ফল। কত যুক্তিতে মানুষ প্রমাণ করে ইশ্বরের অস্তিত্ব, কেউবা পালটা কথায় নস্যাৎ করে দেয় এই সব অসাড় ধারণা। আমি শুধু চিন্তা করি – সন্তানের মঙ্গল কামনায় মা রোজা রাখে, মানত করে। কবে-কোথায়-কোন্ বৈজ্ঞানিক প্রমাণ করেছে এর কার্যকারীতা? কোনো যাচাই করা তত্ত্ব নেই, কো্নো ল্যাবের এক্সপেরিমেন্টে স্ট্যাটিস্টিকালি সিগ্নিফিকেন্ট রেজাল্ট নেই, তবু পরীক্ষার সময় অন্ধ বিশ্বাসে দাদু দোয়া পড়ে বুকে ফুঁ দিয়ে দেয়। অংকে তবু পাশ করা হয় না, কিন্তু পাশে আছে কেউ – চিন্তা করতেই ভালো লাগে খুব!
আমার অ্যাপার্টমেন্টের উলটো দিকে একটা বাস স্টপ। সেখান থেকে বাস ধরে চারটা স্টপেজ পেরুলেই বিখ্যাত এক রেঁস্তোরা “Scaramouche Restaurant”। অবিশ্বাস্য মূল্য দিয়ে জামাই-বউ দুইজনে ডিনার খেলাম। খারাপ না। কিন্তু মায়ের হাতের রান্না? এ কী আশ্চর্য মায়াময় সুখদ স্মৃতি – মস্তিষ্কে জমা হওয়া সুখের বুদবুদ। পৃথিবীর সব মা-ই ভালো রাঁধেন? এইটা ধ্রুব সত্য কিভাবে হয়? Culinary guru ক্যাভিয়ার দিয়ে যা বানান, ইলিশ ডিমের ঝোলের কাছে তা এত ম্লান লাগে কেন? এ তো স্রেফ আবেগের ফুলঝুরি মশাই। আদতে তা জিভের কথা নয়। সিদ্দিকা কবীরের বই খুলে দেখিয়ে দিব – মায়ের রেসিপিতে ভুল আছে বিস্তর। ডাক্তারের মতে অতটা তেল স্বাস্থ্যকর নয়, তবু মায়ের রান্না বলে কথা।
আমাদের স্কুলে রোজ সকালে অ্যাসেম্বলিতে জাতীয় সংগীত গাওয়া হত। সাত সকালের এই সংগীত সাধনায় বেশিরভাগ ছাত্র-ছাত্রীরই আগ্রহ ছিল না। এরাই কিন্তু বিজয় দিবসে গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে “আমার সোনার বাংলা” গাইতো। তাতে সুরের বিচ্যুতি ঘটতো, তাল কেটে যেত তবলচির। কিন্তু আবেগের কমতি থাকতো না।
কিন্তু এই গানের সুর তো মৌলিক না। গগন হরকরা থেকে ধার করা। গানের কথাও এমন আহামরি কিছু না। বড় সাদামাটা। তানসেন মিয়া, একটু খেয়াল করে দেখেন – এই গানে নেই কোন অলংকার, কোন সূক্ষ্ম কারুকার্য। তবু বড় ভালো লাগে ভাই, প্রাণে বড় লাগে।
আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি – কোন গ্র্যামি জিতে নি। রচয়িতা আব্দুল গাফফার এখন নষ্ট রক্তের দালাল। তবু প্রভাত ফেরিতে ফুল হাতে যখন গাই – বুকটা ছম ছম করে উঠে। ভাষা শহীদেরা কী আমাদের কন্ঠ শুনতে পায়? ওরা তো জানে না, এই গানের সুর আসলে কিছুই না। উচ্চাঙ্গ সংগীতের অনেক রাগ-রাগিণী আছে যা সুরের মূর্ছনায় বোদ্ধা কানকেও অবশ করে দেয়। লালন ফকিরের গানে অনেক গভীর দেহতত্ত্বের কথা আছে – অথচ আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশ? এতে নেই কোন দার্শনিক বয়ান। স্রেফ একটা প্রশ্ন – আমি কি ভুলিতে পারি ?
বলেন তো দেখি - আমি কি ভুলিতে পারি?
না ভুলতে পারি না। এজন্য যখন মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কেউ কটাক্ষ করে তখন মাথায় রক্ত উঠে যায়। তীব্র আক্রোশে ছিন্ন ভিন্ন করে দিতে ইচ্ছা হয় প্রতিপক্ষের কন্ঠনালী। ফ্রিডম অফ স্পিচের গুষ্টি কিলাই আমি। .....আবেগ সর্বস্ব বাংলাদেশি মধ্যবিত্ত! এই আবেগের তাড়নাতেই পোয়াতি বউ ফালায় যুদ্ধে গেছে লোকে, আম্রিকার উচ্চ শিক্ষার মুখ ছ্যাপ ফ্যলায় রুমি হাতে তুলে নেয় রাইফেল – আর আমি যুক্তির কোন মাপকাঠিতে বিচার করবো সেই রূপকথার ছায়াছবিকে?
গঁদার, আকিরা কুরোশওয়া, হিচকক বা হালের স্পিলবার্গ – জেনে রাইখেন পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র “স্টপ জেনোসাইড”। এই ছবি কোন অস্কার জিতে নি। বাফতার ঝলমলে অনুষ্ঠানে মঞ্চে আসে নি জহির রায়হান। তবু এই ছবি আমার অস্তিত্বের কথা বলে, আমাদের কথা বলে, এক কিংবদন্তীর কথা বলে।
জেনে রাইখেন জেমস ক্যামরন – Titanic এর লাস্ট সিন কোন ট্র্যাজেডির চূড়ান্ত চিত্রায়ণ নয়। ট্র্যাজ়েডি হল আমার বোনকে ধর্ষণ করে বেয়নেট দিয়ে চিরে রেখে যাওয়া। সেই ধর্ষণ নিয়ে রূপালী পর্দায় যখন ন্যাক ন্যাকা সংলাপ দেওয়া হয় তখন আমি পোস্ট মর্ডান কাউন্টার ন্যারেটিভ খুঁজি না। আমার শুধু আক্রোশ হয় , কান্না পায়।
আমি যদি যাদুমন্ত্রে ফিরে যেতে পারতাম অদূর অতীতে, তবে বিঠোভেন, মোৎসার্টের মুখের উপর চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতাম। পারলে বানিয়ে দেখান “ মুক্তির গান” এর সমতুল্য আরেকটা মিউজিকাল। কিসের singing in the rain, west side story ?? সেলুলয়ডের তাবৎ musical ছবিকে টেক্কা দিবে আমার “মুক্তির গান।”
শুইনা রাখেন লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি, আপনের মোনালিসা লুভরে ঝুলছে ঠিকই কিন্তু চিত্রকলার ইতিহাসে শ্রেষ্ঠতম নিদর্শন সাহাবুদ্দিনের আঁকা রাইফেল হাতে মুক্তিযোদ্ধা।
শুইনা রাখেন সক্রেটিস, তদশিষ্য প্লেটো, তদশিষ্য অ্যা্রিসটেটল – আপনাদের যুক্তির ঝুলিতে আমি ছ্যার ছ্যার করে পেচ্ছাপ করে দেই। আপনেরা শিল্পের সুলুক সন্ধান করেন, অথচ জানেন না মহত্তম শিল্পের নিখুঁত হওয়া লাগে না। শিল্পীর তুলির টানে ভুল থাকতে পারে, ক্যামেরার পিছে থাকতে পারে দুর্বল হাত – কিন্তু কলিজাটা বড় হওয়া চাই, রক্তটা হওয়া চাই লাল। যেই শিল্প মানুষের অস্তিত্বের কথা বলে না, সত্যের কথা বলে না – তা কোন শিল্প নয়, স্রেফ বর্জ্যপদার্থ। যদি কোন গান/সিনেমা/আলোকচিত্র মানুষের চেতনাতে ঘাঁই মারে, উত্তাল আবেগের বন্যায় ভাসিয়ে দেয় হৃদয়ের গোপন বন্দর - মূর্খ মানব সন্তানদের ওতেই প্রাণ জুড়ায়, বোদ্ধাদের ভ্রুকুটিকে ওরা থোড়াই পাত্তা দেয়।
আজকে রাতে তাই আমি ঘুমের মধ্যে একটা সিনামা বানাবো। আমার সিনেমায় থাকবে শুধু নির্যাতনের নয় মাস, বীরত্বের নয় মাস। আমার চরিত্রেরা সুপারম্যানের মত আকাশে উড়বে, স্পাইডারম্যানের মত লাফিয়ে লাফিয়ে তছনছ করে দিবে শত্রুসেনার শিবির। চিৎকারের চোটে আবহসংগীতের বারোটা বাজবে, সংলাপে থাকবে পাকি সেনা আর তাদের দোসর আল-বদরদের প্রতি অশ্লীল খিস্তি খেউড়। আমার এডিটিংয়ে কোন কাট্ থাকবে না; আমার কোন ট্রলি, ডলি কিংবা ক্রেইনের দরকার নাই। ফ্যান্সি ফ্ল্যাশব্যাকে আমি অতীতের কোন গল্প বলবো না। আমার একটা হ্যান্ড হেল্ড ক্যামেরা হলেই চলবে। আমার হাতে শুধু ঐ ক্যামেরা কাঁপবে না, হলের দর্শকও থরথর করে কাঁপবে। প্রতিটা দৃশ্যের সাথে থাকবে তাদের স্বতঃস্ফুর্ত শ্লোগান “জয় বাংলা”।
লাস্যময়ী কোন ষোড়শী নায়িকার বদলে আজকে রাতে এইটাই আমার ফ্যান্টাসি। দেখি এইবার সীমাবদ্ধতার কোন সূত্রে, ভুলের কোন ব্যাকরণে, শিল্পের কোন মানদণ্ডে বোদ্ধারা এর বিচার করেন।





শিরোনামের ঋণস্বীকার - সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের "পদাতিক" কাব্যগ্রন্থ।
লাইক দিলাম, আপনার সেন্টিমেন্ট কে সম্মান।
আমার কাছেও মুক্তিযুদ্ধ সবার আগে। এইটা নিয়া কোনো আপোষ নাই। আল্লা, ধর্ম বা কোনো কিছু হাজার হাজার বছরের গোলাম আবাল জাতিকে রাষ্ট্র দেয় নাই। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমেই কেবল স্বাধীন দেশ পাওয়া গেছে।
কিন্তু ইদানিং চিন্তার পাওয়ার কে প্রধান্য দিতে চাইছি। বলতে মারেন মুক্ত চিন্তা। কোনো কিছুর দ্বায়বদ্ধতাকে দুরে রেখে যুক্তি নির্ভর সত্যানুসন্ধান। যাতে আবেগের বশবর্তীতায় সত্য আড়াল না হয়।
বাস্তবতা জানতে মুক্তিযু্দ্ধের কোনো বিষয় নিয়া প্রশ্ন করা কি কটাক্ষ করা?
রায়হান ভাই,
একটা মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত করতে কতো চিন্তার ক্ষমতা প্রয়োজন হইছিলো সেইটা একটু ভাইবা দেখেন। চিন্তা ছাড়া কি সভ্যতাও পাল্টাইছে নাকি কখনো? ডগমা বরং মানুষের অগ্রগতিরে থামাইয়া দেয়। মুক্তিযুদ্ধ কখনো ডগমা কিম্বা আবেগের বিষয় হইতে পারে না। যদি হয় তাইলে সেইটা বরং মুক্তিযুদ্ধের অবমাননা। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এই দেশের মানুষের চিন্তা আর বাক স্বাধীনতার লড়াইও ছিলো। পাকিস্তানি হানাদাররা যখন মুক্তচিন্তা আর বাক স্বাধীনতা হরণ করতেছিলো তার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের চিন্তাও কাজ করছে আমাদের মুক্তিযুদ্ধে। একটা মুক্তির যুদ্ধে আমাদের যেই অর্জন তারে কেবল ডগমাটিক আবেগে পরাজিত হইতে দেওয়াটা অসম্মান প্রদর্শন...
তারপরের আমি মুক্তিযুদ্ধের সেন্টিমেন্টকে সম্মান করি। কারণ আমিও আবেগী লোক।
আবেগতো আমারো আছে! কিন্তু এই আবেগ যখন আমার যুক্তির পরিসররে ছাপাইয়া যায় তখন সেই আবেগরে শ্রদ্ধার চাইতে পরিহার করাটা প্রয়োজনীয়...
@ ভাস্কর ভাই: কিছু মনে করবেন না, চট করে ট্যাগ লাগায় দিলেন "ডগমাটিক" আবেগ। একটা জার্গান ব্যবহার করতে বোধকরি আরেকটু সতর্কতা প্রয়োজন। অস্থানে আরোপিত বিশেষণ বক্তব্যকে যে স্রেফ ধোঁয়াটে করে তাই না, ব্যবহারকারীর উদ্দেশ্য সম্পর্কেও সন্দেহ জাগায়।
আপনেরে কওনের আগে দুই চার পাতা ঘাঁইটা নিশ্চিত হইয়াই মন্তব্যটা করলাম। আপাতত উইকির থেইকা কোট করি -
Dogma is the established belief or doctrine held by a religion, or by extension by some other group or organization. It is authoritative and not to be disputed, doubted, or diverged from, by the practitioner or believers. The term derives from Greek δόγμα "that which seems to one, opinion or belief" and that from δοκέω (dokeo), "to think, to suppose, to imagine". The plural is either dogmas or dogmata , from Greek δόγματα.
মা, মাতৃভাষা, দেশপ্রেম, স্বাধীনতা, মুক্তি সংগ্রাম- এইগুলান নিয়া মানুষের (আরো ব্যাপক অর্থে ধরলে পশুপাখির ও বটে) আবেগ প্রবৃত্তিজাত, authoritive না।
আমার লেখায় ডগমা সিল মারার আগে একটু চিন্তা করলে মন্দ হইত না। আপাতত ধইরা নিলাম এইটা আপনের স্লিপ অফ পেন।
------------------------------------------------------
যাই হোক চিন্তা করতে তো দোষ নাই। খালি চিন্তার মধ্যে যুক্তিটা যাতে সাদা-কালো না হয়। মাঝখানে যাতে একটু আবেগের ধূসর বর্ণ থাকে।
আমি বুইঝাই শব্দ কিম্বা জার্গন প্রয়োগ করি। মুক্তিযুদ্ধ নিয়া আওয়ামিরা আমাগো দেশে যেই তত্ত্ব বা ধারণা প্রচলন করে তাতে বিষয়টারে ডগমা'ই বানাইয়া ফেলা হয়। এইটা একান্তই আওয়ামি রাজনীতির ব্যবসায়িক সাফল্য। আমি নিজে বুঝতে পারি মুক্তিযুদ্ধ কখনো ডগমাটিক কোনো ফেনোমেনন হইতে পারে না। মুক্তিযুদ্ধ ছিলো একটা জাতির শোষণ-বঞ্চনার প্রতিবাদে সংগঠিত আর সংঘটিত যুদ্ধ। যাতে সবাই এককাট্টা হইছিলো ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে। ব্লাসফেমি টাইপ আবেগ দিয়া মুক্তিযুদ্ধের চেতনা উপলব্ধি সম্ভব না।
আর মা, মাতৃভাষা সম্পর্কীত আবেগ অনেক আপেক্ষিক। মা মানেই ভালোবাসতে হইবো তারে কখনো ঘৃণা করন যাইবো না বিষয়টা এমন কইরা দেখার নৈতিকতা জারী করলে তো ঝামেলা। আমার মা যদি সমাজবিরোধী হয় তাইলেও তারে আমার রক্ষা করতে হইবো প্রাণ দিয়া...মানে আমারেও সমাজবিরোধী হইতে হইবো। মাতৃভাষা যদি আমার ভাব প্রকাশের জন্য যথেষ্ঠ না হয় তা'ও আমারে সেই মাতৃভাষারে শ্রেষ্ঠ কইতে হইবো এইরম মানদণ্ড আমার ভাষারে সমৃদ্ধ করবো না এইটা আমি বুঝতে পারি। বিষয়টারে প্রবৃত্তি কইয়া দায় এড়াইতে চাইলে তো হইবো না।
ভাষা অথোরেটেটিভ না হইলে তো পাহাড়িদের সাথে আমাগো কালচারাল কনফ্লিক্ট হইতোই না। আমরা পাহাড়িগো সাথে যেই আচরণ করতেছি সেইটা পাকিস্তানিরাও আমাগো সাথে করছে। এই আচরণগুলি নেশন স্টেইট কনসেপ্টের ডগমাটিক পজিশনিঙেই ঘটে। আমরা বাঙালি, বাংলা আমার ভাষা কইয়া আমরা তাদেরও বাঙালি হইয়া যাইতে কই...এইখানে আবেগের সাথে আমাগো নেতার ডগমাটিক অবস্থানও খেলা করে।
@ রায়হান ভাই, (২ নং মন্তব্য)
আমার এই লেখাটা ইচ্ছেকৃতভাবেই হাইপার টোনে লেখা।
মুক্ত চিন্তা ও সত্য অনুসন্ধানের সাথে এর কোন সংঘাত নেই। কেউ যদি নির্মোহভাবে সমালোচনা করতে চায় - তথাস্তু। কিন্তু তাচ্ছিল্যের সাথে ফালতু কিছু বুলি আউড়াইলে সেটা হবে সত্য আড়াল করার আরেকখানি অপচেষ্টা মাত্র।
আমি রায়হান ভাইয়ের মতোন আপনের সেন্টিমেন্টের প্রতি অনেক বেশি শ্রদ্ধাশীল হইতে পারলাম না বিধায় দুঃখিত। মুক্তিযুদ্ধরে কেবল একটা বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তানের ক্রিকেট খেলা হিসাবে দেখতে চাই না আমি। যেই খেলাতে আমরা চার ছয় পিটাইয়া ছত্তরখান কইরা দিছি আর তারা সব শূন্য রানে আউট হইয়া প্যাভিলিয়নে ফেরত গেছে। মুক্তিযুদ্ধ একটা ধারাবাহিক সংগ্রাম আমার কাছে, যেই সংগ্রাম রুমিরে মোটিভেইট করে আমেরিকায় পড়তে যাওনের অফার লেটার ইগনোর করতে। এই সংগ্রাম কেবল নয় মাসের নির্যাতিত হওয়া আর বীরত্ব গাঁথায় সমাপ্য হইতে পারে না। যদি তাই হয় তাইলে বুঝতে হইবো এই জাতি একটা যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা খেলছিলো ১৯৭১'এ।
আপনে যেই ফ্যান্টাসীতে আছেন সেইটা নেহায়েতই একটা আবেগের খেলা, যেই আবেগ টুটতে যুক্তির ধার কিম্বা ভার লাগে না, আরেকটা বিচ্ছিন্ন আবেগেই যার সমাপ্তি ঘটতে পারে। ভুল আর সুযোগসন্ধানী দ্বিজাতি তত্ত্বের প্রভাবে আরেকটা ঔপনিবেশিক চক্করে ফালাইছিলো পাঞ্জাবীরা এই জাতিরে। যার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রয়োজন অব্যবহিত পরেই বোধ করছিলো এই দেশের সচেতন আন্দোলনকারীরা। যেই কারনে ১৯৪৮'এই মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু হয়।
আমি বেশি তেলে কিম্বা রসুনে ইলিশ মাছের স্বাদ নষ্ট করতে দিতে চাই না আমার মা'রেও...যেমন মুক্তিযোদ্ধার ভেক ধইরা আমার অধিকার হরণ করতে দিতে চাই না আওয়ামি সুবিধাবাদীদেরও...
ভালো থাইকেন আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়-প্রেরণায় বাঁইচেন...
দুঃখিত হওয়ার কারণ দেখছিনা। মতের পার্থক্য থাকতেই পারে।
আমি একমত। মুক্তিযুদ্ধ একটা ধারাবাহিক সংগ্রাম তো বটেই। কিন্তু সেই ধারাবাহিকতার সার্থক (হতে পারে চূড়ান্ত নয়) বহিঃপ্রকাশ হল নয় মাসব্যাপী যুদ্ধ।
সরলীকরণ ভালো, কিন্তু তরলীকরণ না।
আপনিও ভালো থাইকেন আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়-প্রেরণায় বাঁইচেন...
নয়মাস ব্যাপী যুদ্ধটা বহিঃপ্রকাশ না বইলা পরিণতি বললে ভালো হয়।
যেই কারনে এই পোস্টের উৎপত্তি সেইটা নিয়া বলতে পারি, গেরিলা সিনেমাতে যা করা হইছে সেইটারে আমি যেইভাবে বুঝি তা হইলো ঐ ছবিটা যতোটা না মুক্তিযুদ্ধের তার চাইতে অনেক বেশি ব্যক্তিগত স্বার্থান্বেষী চিন্তার প্রতিফলন। কেবল নয় মাস দিয়া মুক্তিযুদ্ধরে বুঝানোর চেষ্টাটা আসলেই আওয়ামি একটা এজেন্ডা। একটা সিনেমা দুইঘন্টার গল্পও হইতে পারে কিন্তু তাতেও আসলে বাকী সময়ের ইতিহাস আসতে পারে। গেরিলাতে সেইসবের স্কোপ থাকা সত্ত্বেও আমরা ফেরদৌস নামের পুতুলের নাচ দেখি কেবল অপ্রয়োজনে...
মুক্তিযুদ্ধের ৪০ বছর পর এই সব কন্সপিরেসীর এই জায়গাগুলিরে বাদ দিয়া মনে হয়না আর ঐ সময়টারে বোঝা সম্ভব। নাইলে আগাচৌ'রেই বিশ্বাস করতে হইবো, সে কইছিলো ৫২'তে নাকি শেখ মুজিবর জেলখানার বাথরুমের চিপা দিয়া চিরকুট ফালাইছিলো। যেই চিরকুট পইড়া ভাষা আন্দোলনে ঝাপাইয়া পড়ছিলো ছাত্র সমাজ।
আমি মনে কর্তাম আপনি ঢাকায় থাকেন।
যাক্ রাতের বেলায় কি শুধু সিনেমা বানালেই চলে? তাইলে তো মনে হয় সুখেই আছেন।
এই কয়টা লাইন মনে ধরছে উলটা দা।

আমি যতদূর জানি লাইন টা এমন "প্রিয়, ফুল খেলবার দিন নয় অদ্য" ।
আপনার আবেগের প্রতি শ্রদ্ধা থাকলো, কিন্তু এই অতি আবেগে সমর্থন নেই। ভালো থাকবেন ।
ভালো থাকুন সবসময়। আবেগ ধরে রাখতে পারাও একটা বিশাল ব্যাপার। ইদানিং আবেগ গুলো ইট কাঠের মোড়কে হারিয়ে যায়।
পড়লাম বিষয়টা, অযথাই একটা সীমারেখা নির্ধারণ করে দেওয়ার পুরোনো আব্দারের বাইরে নতুন কিছু চোখে পড়লো না, সীমারেখা নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে পারলে হয়তো আরও সুখপাঠ্য হতে পারতো লেখাটা কিন্তু তেমন কোনো প্রয়োজনীয়তা উদঘাটন না করেই একটা সিদ্ধান্ত আরোপ করে দেওয়ার পর বিষয়টা শেষ পর্যন্ত দুর্যোধনমাতা সিন্ড্রোমে পরিণত হলো, যার চক্ষু থাকা সত্ত্বেও স্বামীর অন্ধত্বকে সম্মান করতে গিয়ে সারা জীবন চোখে পট্টি লাগিয়ে তিনি কাটিয়ে দিলেন অকারণেই।
দেশপ্রেম , মাতৃভাষার প্রতি আলাদা পক্ষপাতিত্ব কিংবা অন্য যেকোনো সামাজিক শুভবোধ মানুষের সহজাত নয়, সেটা আরোপিত এবং সেটা কোনো নির্দিষ্ট ইজম কিংবা মতাদর্শে মানুষকে নিয়ন্ত্রন করবার চাহিদা থেকেই তৈরি হয়, আমার দেশকে ভালোবাসবার কোনো বাধ্যবাধকতা থাকে না, আমার মাতৃভাষাকে সম্মান করবার, সশ্রদ্ধ বিনম্রতায় তাকে চর্চা করবার বাধ্যবাধকতাও থাকে না, সেসব জিনিষ নির্ধারণ করে, প্রচার করে এবং মানুষের ভাবনায় ঢুকিয়ে দেয় রাজনীতি, এই রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্ন করা যায়, কখনও কখনও রাজনীতিকে প্রশ্ন করতে হয়, সেটা আবেগ দিয়ে সম্ভব না।
যদি অতিআবেগে আপনার মনে হয় আপনার বিকলাঙ্গ পুত্রকে ভালোবাসা কিংবা শ্রদ্ধা প্রকাশের জন্য সবাই খুঁড়িয়ে হাঁটবে সেটা বাড়তি আবদার, আপনার ক্ষমতা চর্চার কেন্দ্র তেমন শক্তিশালী হলে আপনার রাজ্যের সবাই খুঁড়িয়ে হাটতে বাধ্য, যদি আপনি শূলে চড়ানোর নীতি নির্ধারণ করেন তাহলে লোকজন বাধ্য হয়েই তা করবে।
গেরিলার নির্মাণের সীমাবদ্ধতা, কিংবা অন্য কিছুর সমালোচনা করতে চাইলে সেটা রাজদ্রোহিতার সমতুল্য করতে চাওয়াটা তেমন নিয়ন্ত্রনকামনার বহিঃপ্রকাশ বলেই চিহ্নিত হবে। সে মাণদন্ড নির্মিত হয়েছে গত কয়েক বছরে, মানুষ প্রশ্নাতীত আনুগত্যে অভ্যস্ত হয়েছে, সে কারণে যারা ছবির মানে সন্তুষ্ট নয় তারাও বাক্যে সংযত থেকে আলোচনা করতে চেয়েছে, পলিটিক্যালী কারেক্ট থাকবার বাসনাটূকু এখানে ছিলো, একটা যুথবদ্ধতার দাবী সেখানে ছিলো, সেই যুথবদ্ধতার বাধ্যবাধকতায় মানুষ ভাবনার অংকুশ স্মৃতির গভীরে গেঁথে রেখে বলেছে চলো আমরা সবাই প্রশংসা করি।
কাউকে না কাউকে বলতে হতো রাজা তুমি ন্যাংটা, সেই অপ্রিয় কাজটা কিংবা অযাচিত অবাঞ্ছিত কাজটা আমি করবার পর বিষয়টা ভাবনায় এসেছে হয়তো, আপনার জন্য শুভ কামনা, ন্যাংটা রাজা রাস্তায় রেকি করলে কেউ না কেউ আঙ্গুল তুলবেই,
কিছু কিছু বিষয়ে আমি যুক্তিও মানতে আগ্রহী না।
অঙ্ক আমিও ভয় পেতাম তাই পরে আর্টসে পড়তে গিয়েছিলাম। আর নিয়তির নির্মম পরিহাস যে আমি এখন সারাক্ষণ অঙ্ক করে খাই
আপনার আবেগের প্রতি অশ্রদ্ধা প্রকাশ করছিনা। কিন্তু এরকম অন্ধ আবেগই কি উল্টোপথে পাকিস্তানিদের ব্রেইনওয়াশ করা হয়নি? পাকিস্তানি আর্মীদের বলা হইছে তোমরা হিন্দুয়ানী বাঙালদের সাথে যুদ্ধ করতেছ, ইসলাম রক্ষা করতেছ। যেমন আমাদের আর্মীকে বলা হয় তোমরা পাহাড়ীদেরকে অত্যাচার কর, কারন তারা "র"-এর ষড়যন্ত্রের জন্যই সৃষ্টি। জাতীয়তাবাদী ঘৃণার চাষাবাদ আর ধর্মীয় মোল্লাবাদী হয়ে অন্যায়ভাবে জিহাদে ঝাপিয়ে পড়ে অন্যধর্মাবলম্বীকে কচুকাটা করা, সবই তো এই অন্ধ-আবেগের ফল। কোন জাতির মুক্তির জন্য, অন্যায়কারীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য অবশ্যই আবেগের দরকার আছে, কিন্তু সেই আবেগটা অন্ধ না, সেই রুমীর আবেগ অন্ধ না, সেটা অন্যায় দেখে সেটার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের মানসিকতা থেকে আবেগ। সেই আবেগের উৎস্য ন্যায়-অন্যায়ের, সুবিচার-অবিচারের স্পষ্ট সংজ্ঞা থেকে উদ্ভুত। সেটা যুক্তিগ্রাহ্য আবেগ, সেই আবেগ অত্যাচারীকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। পক্ষান্তরে অযৌক্তিক, অন্ধ আবেগ, মৌলবাদী আবেগ, এসব অত্যাচারীদের পক্ষেই যায়, এই আবেগ ধর্মভিত্তিক দাংগা-হাঙ্গামা লাগায়, জাতিবিদ্বেষের উন্মেষ ঘটায়। এই আবেগ স্বতস্ফুর্ত না, এই আবেগ রাষ্ঠ্রযন্ত্র এবং শাসক-শোষক শ্রেণীর মগজ-ধোলাই থেকে উতসারিত। এই আবেগ ন্যায়-অন্যায়ের স্পষ্ট সংজ্ঞা বা সুবিচারের মানদন্ড থেকে উৎসারিত না। সব রাষ্ঠ্রই তার পতাকা, জাতীয় সংগীত ইত্যাকার রাষ্ঠ্রীয় চিহ্নকে উসিলা ধরে তার জনগনকে মগজ-ধোলাই করে, তাই আপনি যেমন সোনার বাংলা শুনলে আবেগায়িত হচ্ছেন, যদি দেশটা পাকিস্তান হত, তাহলে পাক-সার-জমিন-বাদে আবেগায়িত হতেন, আমাদের পূর্বপুরুষরা সেরকমই হয়েছেন। আপনার এই আবেগ আপনার রাষ্ঠ্রযন্ত্র অন্যকোন জনগোষ্ঠীর উপর অন্যায় করলে, রাষ্ঠ্রের সার্বভৌমত্বের দোহায় দিয়ে তখন আপনার আবেগ মনে করবে সেটাই ভাল। পাকিস্তানিদের প্রতি আমার ঘৃণা তারা পাকিস্তানি বলেই না, বরং তারা অত্যাচারী বলেই। এই অত্যাচারী যদি আমার স্বদেশীয় কেউ হয়, তখন আমি তাকেও ঘৃণা করব, তার বিরুদ্ধে যদ্দুর সম্ভব লড়াই করতে চেষ্টা করব। আমার রাষ্ঠ্রযন্ত্র যদি বার্মার সাথে বা হাইপথেটিকালি মেঘালয়/আসাম কোন রাষ্ঠ্র হত এদের সাথে অন্যায় করত তখন আমি আবেগতাড়িত হয়ে আমার রাষ্ঠ্রকে সমর্থন করবনা, আমি মেঘালয়ের পক্ষে বলব।
সবার উপরে সুবিচারই গুরুত্বপূর্ণ। অন্যায়ের বিরুদ্ধে স্বতস্ফুর্তভাবে উতসারিত আবেগকে স্যালুট, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সংগ্রাম সেরকই আবেগ। রাষ্ঠ্রযন্ত্রের মগজ-ধোলাইয়ের মাধ্যমে উতসারিত পতাকা বা জাতীয় সংগীত বা জাতিভিত্তিক আবেগ শুধু অত্যাচারীদেরই হাতিয়ার, সেই আবেগকে কোন আলোকিত মানুষ প্রশ্রয় দিতে পারে না।
দারুণ। একদম মনের কথা।
লেখা ভালো লাগলো।
গণিত বললেই মনে পড়ে সেই বানরের কথা, যে একটা বাঁশ বেয়ে ওঠে, আর পিছলা খায়...
আপনার লেখাটা পড়ে মুগ্ধ হলাম। পুরো।
'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি' এই গানটা তো আসলে শুধুই একটা গান নয়, আমাদের সবার আবেগ আর ভালোবাসায় সিক্ত একটা মহৎ কিছু। এই গানটা যতবার শুনেছি/শুনি কেঁপে উঠবার ব্যাপারটা আর চোখে জল জমে যাবার ব্যাপারটা প্রতিবারই নতুন রূপে ধরা দেয়/দিয়েছে।
খুব খুব খুব চমৎকার লেখা। খুবই ভালো লেগেছে। মুক্তিযুদ্ধ আমার কাছেও আবেগের জায়গা। অন্য সবার মত আমারো নিচের লাইনগুলোই ভালো লাগছে।
হুমম.. আসলেই জীবনের সব অঙ্ক সবসময় মেলে না
মন্তব্য করুন