উপলব্ধি
অনেকদিন পর লিখছি।
অনেকদিন পর লিখছি।
কিন্তু ফাঁকে ফাঁকে ব্লগ পড়তে ভুলিনি।
ভুলিনি পছন্দের লেখাগুলোকে বুক মার্ক দিতে।
"আমরা বন্ধু"র ব্লগারদের মিস করেছি খুব। এই পোস্টটা তাই ব্লগার এবং ব্লগ নিয়ে।
-----------------------
"আমরা বন্ধু" ব্লগ দিয়েই আমার ব্লগিং জীবনের সূচনা। কেন এই ব্লগ বেছে নিলাম তা নিয়ে হা-বিতং করে বলার কিছু দেখি না। এখানকার পরিবেশ আমাকে যে স্বাচ্ছন্দ্য দেয় তা দুর্লভ।
আমার পোস্টে আমি এমন কিছু লিখি নাই। এই ব্লগে উপচে পড়ে ভালো লেখার ঢল।
এমন কোন ছবি পোস্ট দেই নাই যা সাধারণের সীমা অতিক্রম করতে পারে। এবি'র ফটুগফুরদের তুলনায় নস্যি।
কিন্তু ব্লগের মানুষজন আপন ভেবে সুন্দর সব মন্তব্য করেছেন। উৎসাহ দিয়েছেন। পরীক্ষা কেমন হলো জানতে চেয়েছেন। এই সময়ে এমন আন্তরিকতা দুর্লভ। অন্য ব্লগে মানুষ যখন অতি অল্পতেই চরম প্রতিক্রিয়া দেখায়; টেনশানের, প্রতিযোগিতার স্পষ্ট চাপে ভুলে যায় ভদ্রতা জ্ঞান - সেখানে এবিতে এখনো সৌহার্দ্যের স্নিগ্ধতা।
এজন্য মডারেটারের ভূমিকা গৌণ। ব্লগাররাই মুখ্য চলক। মীর, লীনা স্কয়ার, জেবীন, জয়িতা, তানবীরা, নুশেরা, নীড়, রায়হান, সাঈদাসুম, শর্মি, বকলম, নরাধম, মৌসুম, নাজ, রাসেল আশরাফ, আনিকা, ভাস্কর (ভাই, আপা জায়গামত) ওনাদের লেখার মান ও মিথস্ক্রিয়ার ধরন চমৎকার। বিশেষ করে সামছা আকিদা আপুর মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা আর নাজমুল হুদা ভাইয়ের মননশীলতা ও ভদ্রতাবোধ আমাকে প্রেরণা দেয়।
এবির পোস্টের মান ভালো। কিন্তু এর মত বা এর থেকেও ভালো পোস্ট অনেক ব্লগেই আসছে। কিন্তু এবির মন্তব্য, পেচ্ছাপেচ্ছি - অসাধারণ!! আমার অতি প্রিয় কাজ হচ্ছে পুরানো পোস্টের শুধু মন্তব্যগুলো মন দিয়ে পড়া।
আজকেও তাই পড়ছিলাম। এবং তাই করতে গিয়ে মনে হচ্ছিল যে আমি কয়েকটা পোস্টে কিছু রূঢ় মন্তব্য করেছি যা অনাবশ্যক ছিল। আমি এমনিতে একটু তর্ক প্রিয় মানুষ। সমালোচনা করতে ও সইতে কখনোই দ্বিধা করি না। পিঠ চুলকে দেওয়ার থেকে গঠনমূলক সমালোচনা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সমালোচনা করতে গিয়ে আমি মাঝে মাঝে একটু বেশি ঝাঁজালো কথা বলে ফেলি।
আমি তো নিক নিয়ে লিখি। মানুষ আমাকে চেনে না। আমি কি এই আড়ালটুকুর সুবিধা নিচ্ছি?
যেমন: ডট ডট রাসেলের পোস্টে দুই-একটা মন্তব্য করেছি যা কটু। উনি বয়সেও বড়। যদি আমাকে সামনা সামনি চিনতেন এভাবে কি বলতে পারতাম? ওনার জামাত-শিবিরের প্রতি দুর্বলতা আমার মনে ক্ষোভের জন্ম দেয় এবং এজন্য আমি ওনাকে ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ করি না। ভীষণ সীমিত পর্যবেক্ষণ নিয়ে পোস্ট দেন! সেই পোস্টের বিষয়বস্তুও হয় একটু উস্কানিমূলক। কিন্তু তাই বলে আমার পালটা ঝাঁজ দেখানো ঠিক হয় নাই। যুক্তি দিয়েই ঘায়েল করা যেত। আর ওনার লেখার হাত ভালো। বইমেলার সিরিজটা বেশ পছন্দ হয়েছে আমার।
তবে মারজুক প্রসঙ্গে এইটা খাটে না । ঐ ব্লগারের মনটা ভীষণ নোংরা। উনি যাদের সম্পর্কে বাজে কথা বলেছেন তাদের আমি খুব শ্রদ্ধা করি।
উদরাজি ভাই মজা করতে গিয়ে সীমা অতিক্রম করেছেন। এই ত্রুটি মারাত্মক। বাংলাদেশে অনেক ফ্রিক ব্লগার আছে যারা এই ছবি কপি করে পর্নো ওয়েব সাইটে প্রকাশ করতে পারতো। এই ধরনের বালখিল্যতার মানে হয় না।
কিন্তু উনি এরপর লেখা বন্ধ করে দিয়েছেন। নাকি ওনাকে ব্যান করা হয়েছে? উনি ওপেন ফোরামে কিভাবে ব্লগিং করতে হয় বুঝেন নাই। কিন্তু উনি তো দুধের বাচ্চা নন। বোঝা উচিত ছিল।
যাই হোক উনি কিন্তু মানুষ হিসেবে আমার খুব প্রিয়। ওনার জীবন-সাথী পোস্ট, খাওয়া নিয়ে পোস্ট খুব ভালো লেগেছিল। যদি ওনাকে ব্যান করা হয়ে থাকে তাহলে মডারেটারকে আনব্যান করার ব্যাপারটা বিবেচনা করার অনুরোধ করা যায় কি? (বাই দ্য ওয়ে, মডারেটার ওনার পোস্ট মুছতে দেরী করেছেন। এরপর আরো সতর্ক হওয়ার জন্য বলছি। এইটা আমার ফিডব্যাক।)
আপাতত নিকের আড়াল থেকে ব্লগিং করতে উৎসাহ পাচ্ছি না। মনে হচ্ছে আমি যদি সবার সাথে একভাবে মিশতে পারতাম! ব্লগিং করে অভ্যস্ত না তেমন। "নিক"টাকে ঝামেলা মনে হচ্ছে। আমু-সামুতে নিক লাগে। এখানে নিজ নামেই দেখি সবাই ব্লগিং করে। অন্তত পরিচয় জানান দিয়ে। কিন্তু আমি অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি যে বেশি পরিচিত হলে মানুষ সঠিক সমালোচনা করে না। কিছুটা হলেও মিথ্যা প্রশংসা করে। আমি সেই্টা করতেও চাই না, পেতেও চাই না। মহা বিপদ।





হ।
সঠিক সমালোচোনাটা কি জিনিস?
মনে হয় সিদ্ধআলু্রে সঠিক আর সমপরিমান মাত্রায় লবন/তেল/শুকনা মরিচ দিয়া আচ্ছাছে ছানতে হ্বে, মানে সঠিক মাত্রায় আলুছানা বুঝাইছেন লেখক
সঠিক সমালোচনা বলতে আমি পোস্ট সম্পর্কে গঠনমূলক পরামর্শকে বুঝি। যেমন: কেউ গল্প, কবিতা লিখলে স্রেফ কাহিনিকে নিয়েই কথা নয়, লেখার কাঠামো সংক্রান্ত ফিডব্যাক দেওয়া ইত্যাদি। তেমনি আবার কেউ যদি ফটোগ্রাফি নিয়ে পোস্ট দেন, তাহলে ছবিটা ভালো লাগলে কেন ভালো লাগলো, খারাপ লাগলেই বা কেন এগুলো একটু ব্যাখ্যা করলে ভালো হয় (ব্যক্তিগত মত)।
তেমনি মাত্রাজ্ঞান থাকাটাও জরুরী। আমি বলছি না যে একেবারে খড়্গ হাতে তাড়া করতে। পোস্ট বুঝে মন্তব্য করাটাও সমীচিন। যেমন: কেউ যদি তার পরিবারের ছবি/গ্রামের বাড়ির ছবি/ ছোট খাটো ভ্রমণের ছবি নিয়ে পোস্ট দেয়, আমি কখনো সেখানে ছবির টেকনিকাল ব্যাপারগুলো নিয়ে কথা বলবো না। কিন্তু কেউ যদি সিরিয়াসলি ফটোগ্রাফি করে ও তা নিয়ে পোস্ট দেয় মন্তব্যে টেকনিকাল সমালোচনা আসতেই পারে।
পোস্টের টোন বুঝে গঠনমূলক সমালোচনা করা আমার মতে win-win situation.
নিকের আড়াল থেকে বের হয়ে আসেন তারপরে দেখেন সঠিক সমালোচনা কাকে বলে কত প্রকার ও কি কি??

তাইলেতো বেরিয়ে আসতেই হয় দেখি!!
ভাল পর্যবেক্ষণ, ধন্যবাদ
কেমন আছেন বলেন তো! অনেকদিন পর আপনার পোষ্ট। আপনি সত্যি ম্রাত্নক ছবি তুলেন। লিখেন না কেন? নিয়মিত হোন।
পোষ্ট ভাল্লাগছে। তবে আমার নামের বানাম্ভুল।
আমি আছি ভালোই। আশা করি আপনিও ভালো আছেন। ছবির প্রশংসার জন্য ধন্যবাদ।
আপনার নামের বানান ভুল করার জন্য আন্তরিক ভাবে দুঃখিত ও লজ্জিত।
ভাল পর্যবেক্ষণ, ধন্যবাদ
চইলা আসেন নিজ নিকে... সব কিছুরইতো ভালো মন্দ আছে.. থাকবেই.. এত ভাইবা ফয়দা কি?
এই দেখেন আমি সামহোয়ারইনব্লগে প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব নিকে ব্লগিং করতাম ... বাকি সব জায়গায় নিজের নামে
... আমাগোর প্রিয় রায়হান ভাইরে পুরানা নিক জানেন?
রাসেল.... বিষয়ে ভাবছিলাম অন্য কেউ কিছু বলবে... আমিই না হয় বলি ...
ওনার জামাত-শিবিরের প্রতি দুর্বলতা আমার মনে ক্ষোভের জন্ম দেয় - আপনার এই ক্ষোভ... এই স্পিরিটকে স্যালুট জানাই... কিন্তু রাসেল কোন কালেই জামাত-শিবির ছিল না ... এবং এটা সম্ভবও না... রাসেলের অবস্থানটা অনেকেই ধরতে পারছে না। শুধু একটা কথা বলি... আমরা যারা নেট এ গলা ফাটাইয়া ফেলি মুক্তিযুদ্ধ মুক্তিযুদ্ধ বৈলা তাদের দৌড় ওই পর্যন্তই... বরং রাসেলকে রাস্তায় পাওয়া যায়... বিভিন্ন এক্টিভিটিতে... সেটা হোক ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির প্রোগ্রামে... সেটা হোক প্রজন্ম একাত্তরের কোন প্রোগ্রামে... সেটা হোক যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গনস্বাক্ষরের প্রোগ্রামে...
সেই পোস্টের বিষয়বস্তুও হয় একটু উস্কানিমূলক - আমার ধারনা এইটা রাসেল ইচ্ছা কইরাই করে
অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। নতুন অনেক কিছু জানলাম যা আগে জানা ছিল না।
বরং রাসেলকে রাস্তায় পাওয়া যায়... বিভিন্ন এক্টিভিটিতে... সেটা হোক ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির প্রোগ্রামে... সেটা হোক প্রজন্ম একাত্তরের কোন প্রোগ্রামে... সেটা হোক যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গনস্বাক্ষরের প্রোগ্রামে...
- আসলে শুধু লেখা পড়ে একজন মানুষকে চেনা যায় না।
ঠিক তাই।
রাসেল একজন নিভৃতচারী উপকারী মানুষ, যারা আমাদের সমাজে হাতে গোনা। রাসেলকে নিয়ে বিশাল গদ্য লিখলেই বোঝানো সম্ভব সে মানুষ হিসেবে কেমন অসাধারণ। রাসেলের কোন কোন লেখার সাথে আমি নিজে দ্বিমত রাখি, কিন্তু দেশপ্রেম-মানবিকতা এই সমস্ত ইস্যুতে রাসেল প্রশ্নাতিত। একটা ইস্যুতে রাসেলকে জেনেছিলাম, ফেরেসতা কিসিমের মানুষ।
জেনে সত্যি খুব ভালো লাগলো। আসলে আমি ওনার পুরানো কিছু লেখা পড়েছি যা আমার কাছে উস্কানিমূলক ও অত্যন্ত রূঢ়/ কর্কশ মনে হয়েছে।
মানুষের মধ্যে কন্ট্রাডিকশান থাকতেই পারে।
জামাত-শিবিরের প্রতি রাসেলের দুর্বলতা প্রকাশ করে এমন কোনো পোস্ট আমি আজ পর্যন্ত পড়ি নাই। আপনে এইটা কোন জায়গায় পাইছেন এইটা বুঝি নাই। রাসেল কিছু পোস্টে পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের প্রতি ঘৃণা প্রকাশের ধরণ নিয়া লিখছিলো সেইটা মনে আছে। আর ঘৃণার রাজনীতির বিরুদ্ধে তার লেখায় কিছু প্রসঙ্গ আলোচিত হইছে বইলা মনে পড়ে। আপনেতো রাসেলের উল্লেখিত বিষয়টারে ঠিক মতোন বুঝেনই নাই তারমানে, যুক্তি করবেন কেমনে তাইলে!?
ভাস্কর ভাই, উনি সরাসরি কিছু বলেন নাই, but his write-up implied. আমি ওনার লেখা (সচলায়তন, আমার ব্লগ) পড়ে তারপরেই বলছি। আমি তো বলছিনা উনি জামাত-শিবির করে বা তাদের সমর্থক। বলছি ওনার লেখা যে ভাবটুকু প্রকাশ করে, তার সাথে জামাত-শিবিরের সমর্থকদের ভাবের ঐক্য আছে।
আপনি শুধু লেখার সারাংশ এক লাইনে তুলে দিলে তো হবে না। এরকম খন্ডাংশ বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে বরং।
যাই হোক, আমি ওনার লেখা পড়েছি এবং শুধু লেখা পড়েই (যেহেতু ব্যক্তিগত পরিচয় নেই টুটুল ভাইয়ের মত) ওনাকে নিয়ে আমার উপলব্ধির কথা লিখেছি। এ নিয়ে আমি সরাসরি ওনার ব্লগে মন্তব্যও করেছি।
ধন্যবাদ।
আপনার আসল নামটা বলে ফেলেন ঝটপট, নাইলে কিন্তু ঋহান অনেক নাগ কব্বে
আপনার 'উপলব্ধি' পড়লুম
পোস্ট এত কম দেন কেন? ব্লগে নিয়মিত হন না কেন?
আপনার বিষয়ে বলি, আপনি মনোযোগী পাঠক এবং জানার পরিধি বিশাল এইটা আমার উপলব্ধি
ধন্যবাদ আপা। আমি পড়াশোনা নিয়ে একটু ব্যস্ত ছিলাম। তাই লেখা হয়ে উঠে নি। তবে ব্লগে ঢুঁ মারি ঠিকই।
আপনি প্রশংসা করে বললেন আমার জানার পরিধি বিশাল। আমি বিনয়ের সাথে আপনার কথার সাথে দ্বিমত করলাম।
মন্তব্য করুন