হুজুগে বাঙাল...
জাপানের পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রে বিস্ফোরণের পর বাংলাদেশের মোবাইল ফোনগুলোতে আতঙ্ক-ছড়ানো মেসেজের ঢল বয়ে গেছে। কোনো গণমাধ্যমে কোনো খবর নেই, কিন্তু মোবাইল ফোনে এই মেসেজের উৎস কী?
অনেকের এবং আমারও ধারণা যে, রক্তচোষা মোবাইল অপারেটরদের কেউ অথবা সকলেই এই আতঙ্ক-ছড়ানো মেসেজের উৎস। কতো কিছু নিয়ে যে এরা ব্যবসা করবে।
বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়ে গেলাম।





এইটা শুধু বাংলাদেশে না, এশিয়ার অনেক দেশে এই টেক্সট মেসেজ প্যানিক তৈরি করছে, বিশেষভাবে ফিলিপিনসে। যে কোন বড় ধরনের দুর্যোগের পরে এই ধরনের হোক্স স্বাভাবিক ঘটনা। একজন ইমেইলে দেখল এই সতর্কতামূলক বানী, আতংকিত হয়ে সেইটা তার কন্টাক্ট লিস্টের সবাইকে টেক্সট করে দিল, সেই টেক্সট পাওয়া ৫০% লোক আবার তাদের কন্টাক্ট লিস্টের সবাইকে এটা পাঠায়ে মহান দায়িত্ব পালন করল, এইভাবে চলতে চলতে জিনিষটা একটা ম্যাস প্যানিকে পরিনত হয়। পরশু থেকে ফেইসবুক খুললেই সিধু বিষয়ক নানান প্যারোডি, গালি, ছবি এইসবের পাশাপাশি চলতেছে এই এ্যাসিড রেইনের ভবিষ্যৎবানী আর দরজা জানলা বন্ধ করে বাসায় বসে থাকার আকুল আবেদন। ইন্টারনেটে ব্যাপারটা মিটে গেছে হয়তো, আজকে দেখি পুরা ব্যপারটা যে হোক্স সেই লিংক সবাই শেয়ার করতেছে। কালকে টিভির খবরে দেখলাম বলল যে এইটা ভুয়া, কেউ যেন প্যানিক্ড না হয় এইটা নিয়ে। এখন শুরুটা যে কে করে এইসব সেইটা ট্র্যাক করা আসলে কতটা সম্ভব, সেইটা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায়। আর এইসব ফাইজলামি নতুন তো না, সবসময়েই হয়। 'এই মেসেজ যদি আগামী এক ঘন্টার মধ্যে ২০ জনের কাছে ফরোয়ার্ড না করো তাহলে তোমার মাথার উপরে বিল্ডিং ভাইংগা পড়বে' এই ধরনের ব্যাপারের সাথে খুব একটা পার্থক্য নাই এই হোক্সের।
আরো আছে। অনেক আগে এক ধরনের হাতে লেখা লিফলেট টাইপের জিনিস মাঝে মাঝেই চোখে পড়তো। তাতে মহানবী'র কোনো এক পাক কালাম বা সেরকম কিছু বক্তব্য থাকতো। সেই লিফলেট পড়ে কপি করতে হবে। করে অন্তত ৮ জনকে পড়াতে হবে। মাস্ট। তাহলে মনের আশা পূর্ণ হবে। আর ৮ জনকে পড়াতে না পারলে উপর থেকে আল্লার গজব পড়বে।
ছোটবেলা বুদ্ধি-শুদ্ধির কোনো বালাই ছিলো না। তারপরও কেমনে কেমনে জানি এই জোকটা ধরতে পেরেছিলাম।
আমার বুদ্ধি শুদ্ধি নাই কিন্তু আমি চরম আইলসা। মাথায় বিল্ডিং ভাইঙ্গা পড়ার অপেক্ষায় থাকি কিন্তু মেল ফরোয়ার্ড করতে চ্রম বিরক্তি লাগে।
গুজবে বিশ্বাষ করে আমরা আমাদের যুক্তিহীন আচরনের প্রকাশ ঘটাই সব সময়ই।
এই টাইপের নতুন এক কান্ড হয়েছিলো সেদিন।
আমি বছর দুয়েক আগে একটা মেইল পেয়েছিলাম সেটা বারো জনরে ফরোয়ার্ড করলে নতুন একটা ল্যাপটপ পাওয়া যাবে লটারীর মাধ্যমে। সেদিনও একি মেইল পেলাম আমার ইয়াহু গ্রুপে।এই মেইল দেখে পটাপট আমার কিছু বন্ধু আমারে এই মেইল পাঠায় দিলো।তাদের একজন দেখলাম তার ছোট ভাইরেও ফরোয়ার্ড দিসে সেই মেইল। আমি সেটা দেখে আমার ঐ বন্ধুরে বললাম তোর বাপের এতো টাকা একটা ল্যাপটপ তোর ছোট ভাইরে কিনে দিলেই পারিস হুদাই কামে ফ্রীর দিকে এত নজর ক্যান?সে বন্ধু পুরা ক্ষ্যাপা আমার উপর। পরে যখন ওর সেই মেইলের নীচের আসল মেইলটার তারিখ দেখালাম তখন সে ঠান্ডা হলো। এই হচ্ছি আমরা বাংগালী।চিলে কান নিছে বললেই হলো।দৌড় চিলের পিছে.।।
আরেকটি বহুল পরিচিত মেইল, যাতে লেখা থাকতো
যেটা একদা আমিও পাইয়াছিলাম
ভালো বলেছেন।হৈতেও পারে
মন্তব্য করুন