ইউজার লগইন

সংশয়যুক্ত অভিনন্দন!

এ সপ্তাহে দু-দুটো গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হলো। পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণীর পড়ালেখা শেষ করার পর শিক্ষার্থীদেরকে যথাক্রমে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা এবং জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) বা জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। দুটো পরীক্ষাই তুলনামূলকভাবে নতুন হলেও সেগুলো যথেষ্ট সাড়া জাগিয়েছে। বিশেষত এসএসসি কিংবা এইচএসসি পরীক্ষার আদলে অনুষ্ঠিত হওয়া এই নতুন পাবলিক পরীক্ষাগুলো শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকদের কাছে সমাদৃত হয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। এবার প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় পাশের হার ৯৭ শতাংশ (এবতেদায়ীতে ৯১ শতাংশ) এবং জেএসসি/জেডিসিতে ৮৩ শতাংশ ছাড়িয়েছে। শিক্ষার্থীদের এই পাশের হার যথেষ্টই আশাপ্রদ এবং তারা যদি এ ধরনের ফলাফল ভবিষ্যতে ধরে রাখতে পারে, তাহলে তা দেশের জন্যই মঙ্গলজনক হবে। যে সমস্ত শিক্ষার্থী এবারের প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা এবং জেএসসি/জেডিসিতে উত্তীর্ণ হয়েছে তাদের সবাইকে অভিনন্দন। অভিনন্দন তাদের শিক্ষক ও অভিভাবকদেরও, যাদের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় আজকের এই সফলতা। অন্যদিকে বিভিন্ন কারণে যারা পরীক্ষার আগেই ঝরে পড়েছে কিংবা পরীক্ষা দিয়েও উত্তীর্ণ হতে পারে নি, তাদের জন্যও শুভকামনা রইলো। নিশ্চয়ই তারা আগামীবার চমকপ্রদ ফলাফল করে সবাইকে দেখিয়ে দিবে যে, এবারের ফলাফলটা নেহায়েৎই দুর্ঘটনা!

এবারের পরীক্ষাদুটোর ফলাফল বিশ্লেষণ থেকে দেখা যায়, সারা দেশে পাশের হার যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও। শতভাগ পাশ করা বিদ্যালয়ের সংখ্যা বেড়েছে। অন্যদিকে কমেছে শতভাগ ফেল করা বিদ্যালয়ের সংখ্যাও। তবে মেয়েদের তুলনায় ছেলেরা এবার তুলনামূলকভাবে ভালো ফলাফল করেছে। বিদ্যালয়ের পারফরম্যান্স মাপার জন্য শিক্ষা বিষয়ক মন্ত্রণালয়গুলোর কিছু নির্দিষ্ট সূচক রয়েছে যার মধ্যে পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে শতভাগ পাশ করার সূচকটি অন্যতম। সেদিক দিয়ে আমাদের বিদ্যালয়গুলোর অবস্থা দিন দিন ভালো হচ্ছে- তা বলতেই হবে। এদেশে পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে একসময় নকলের মহোৎসব হলেও সাম্প্রতিক সময়ে নকলের প্রবণতা একেবারেই কমে গেছে। এজন্য সংশ্লিষ্ট সবাই ধন্যবাদ পাবার যোগ্য। নকলমুক্ত পরীক্ষা ও গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করার যে দায়িত্ব সরকারের, সেখানে পুরোপুরি সফলতা আসতে এখনো অনেক দেরি; তবে এই বিষয়গুলোতে সরকারের প্রচেষ্টা সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য।

উপরের কথাগুলোর পাশাপাশি এ দুটো পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে কিছু সংশয়ের কথাও এখানে বলা দরকার। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেখা যাচ্ছে, যে কোনো পাবলিক পরীক্ষাতেই শিক্ষার্থীদের পাশের হার উল্লেখযোগ্য হারে প্রতি বছরই বাড়ছে। পরীক্ষা অংশ নেয়া প্রত্যেক শিক্ষার্থীই পাশ করুক- এটা সবারই চাওয়া। কিন্তু বাংলাদেশের শিক্ষার যে বাস্তব চিত্র প্রতিনিয়ত আমরা অবলোকন করি, তাতে কি এটাকে বাস্তবসম্মত মনে হয়? বাংলাদেশের শিক্ষার মান নিয়ে অনেক কথাবার্তা বলা হয়। প্রাথমিক শ্রেণীতে ভর্তি কিংবা ঝরে পড়ার হার কমানো- এই ক্ষেত্রগুলোতে অনেকটা সাফল্য আসলেও দেশের শিক্ষার মান যে উল্লেখযোগ্য হারে বদলে যায় নি, সেটা সম্ভবত সবাই অনুধাবন করি। যদি তাই হয়, তাহলে এতো বিপুল শিক্ষার্থী পাশ করে কীভাবে? প্রতি বছর জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ছে। এবার জেএসসি/জেডিসিতে গত বছরের তুলনায় তিন গুণ বেশি শিক্ষার্থী এই জিপিএ ৫ পেয়েছে। গত বছরের সাপেক্ষে এবারের শিক্ষায় এমন কি কোনো পরিবর্তন এসেছে যাতে জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংখ্যা তিন গুণ বেড়ে যেতে পারে?

এসব পাবলিক পরীক্ষার খাতা কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে, সে সম্পর্কে শিক্ষকদের নিকট সুস্পষ্ট নির্দেশনা যায় মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে। খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু কিছু পরিবর্তন এসেছে। এখন পরীক্ষার খাতা দেখে বুঝার উপায় নেই কোনটি কার খাতা বা কোন বিদ্যালয়ের খাতা। ফলে পরীক্ষকের পক্ষপাতদুষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটা কমেছে আগের তুলনায়। কিন্তু শিক্ষার্থীদের খাতা তুলনমূলকভাবে সহজ করে দেখার কি কোনো নির্দেশনা থাকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে? কিংবা পাবলিক পরীক্ষার জন্য যে মানের প্রশ্নপত্র তৈরি করা দরকার, প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা বা জেএসসি/জেডিসিতে কি সেই মান অনুসরণ করা হয়? নাকি তুলনামূলকভাবে সহজ প্রশ্ন করা হয় যাতে শিক্ষার্থীরা সহজেই ভালো ফলাফল করতে পারে? এই বিষয়গুলো আরো বেশি বেশি আলোচিত হওয়া দরকার। এগুলো নিয়ে বিশেষভাবে গবেষণা হওয়া দরকার। গবেষণা থেকে যদি সত্যিই দেখা যায়, আমাদের শিক্ষার্থীরা এমন বিপুল পরিমাণ পাশের জন্য প্রতিনিয়ত যোগ্য হয়ে উঠছে, তাহলে সেটি অবশ্যই দেশের জন্য সুখবর হবে। দেশে রাজনৈতিক কারণে পরীক্ষার পাশের হার বাড়িয়ে দেয়ার ঘটনা যে অতীতে ঘটে নি বা বর্তমানে ঘটছে না, সে ব্যাপারে অনেকেরই সন্দেহ রয়েছে। কোনো সরকারই চায় না, তার আমলে পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল খারাপ হোক; কারণ তাতে পরবর্তী সরকার কিছু কথা বলার সুযোগ পেয়ে যায়। ফলে এক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃতভাবে ফলাফল ভালো দেখানোর ঘটনা ঘটলেও ঘটতে পারে। এসব কারণেই এই বিষয়গুলো নিয়ে গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

ফলাফলের পাশাপাশি যে সমস্ত শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে নি কিংবা পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ফেল করেছে, তাদের ব্যাপারেও আলোচনা হওয়া দরকার। যেহেতু পাবলিক পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হয় সদর উপজেলার নির্দিষ্ট সেন্টারে, সুতরাং প্রত্যন্ত এলাকার অনেক শিক্ষার্থীর অভিভাবকের পক্ষে সদরে এসে পরীক্ষায় অংশ নেয়ার মতো সামর্থ্য থাকে না। ঠিক একই কারণে অনেক শিক্ষার্থী একটি বা দুটি পরীক্ষা দিয়ে ঝরে পড়েছে- এমন রিপোর্টও ছাপা হয় প্রতি বছর খবরের কাগজগুলোতে। অন্যদিকে যেহেতু এই পরীক্ষার ফলাফলের ওপর বিদ্যালয়ের গ্রেডিং অনেকটা নির্ভর করে, সুতরাং কোনো কোনো বিদ্যালয় তুলনামূলকভাবে দুর্বল শিক্ষার্থীকে নানা উপায়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ থেকেও বিরত রাখতে পারে। এ বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট মহলের গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করা উচিত। বিশেষত যারা অংশ নিতে পারে নি, তারা ঠিক কী কারণে অংশ নিতে পারে নি তা জানা থাকলে পরবর্তী সময়ের জন্য যথাযথ প্রস্তুতি নেয়া যাবে। পাশাপাশি যারা এবার অংশ নিতে পারে নি, তাদের সবাই যেন আগামীতে অংশ নিতে পারে, সে ব্যাপারেও জোরদার ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার। না হলে দেখা যাবে, এদের বিপুল অংশ পড়ালেখা থেকে ঝরে পড়েছে। পড়ালেখায় একবার ছেদ পড়লে পুনরায় স্বাভাবিক স্রোতে ফিরে আসা অনেকের পক্ষেই দুরূহ, সুতরাং সেই বিষয়টির প্রতিও লক্ষ্য রাখা দরকার।

যারা ফেল করেছে তাদের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া দরকার। শোনা যাচ্ছে, জেএসসি/জেডিসি পরীক্ষায় যারা তিনটি বিষয়ে ফেল করেছে, তাদেরকে নবম শ্রেণীতে ভর্তির সুযোগ দেয়া হবে; তবে আগামী বছর পরীক্ষা দিয়ে তাদের পাশ করতে হবে। এটি অবশ্যই ভালো উদ্যোগ। গত বছরও এরকম উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখন একটু হিসাব-নিকাশ করে দেখা দরকার, গত বছর এ সুযোগটি কতো শতাংশ শিক্ষার্থী গ্রহণ করেছিল এবং তাদের কত শতাংশ এ বছর পাশ করেছে। যে কোনো ব্যাপারেই সঠিক হিসাব-নিকাশ বা পরিসংখ্যান থাকলে তা পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় উভয়েরই এ ব্যাপারে গুরুত্ব দেয়া উচিত। যারা তিনটির বেশি বিষয়ে ফেল করেছে তারা যেন পুনরায় নতুন বছরে একই শ্রেণীতে পড়তে পারে, সেটিও নিশ্চিত করা উচিত। স্বাভাবিক পড়ালেখা নিশ্চিত করা ছাড়াও তাদের প্রতি বিশেষ জোর দিয়ে আলাদা কর্মসূচি গ্রহণ করা দরকার।

এ লেখার উদ্দেশ্য এটা নয় যে, যারা কৃতকার্য হয়েছে তাদের ফলাফলকে প্রশ্নবিদ্ধ করা। বরং তাদেরকে অভিনন্দন জানিয়ে, তাদের ফলাফলকে আদর্শ ধরে আমাদের শিক্ষা যেন এগিয়ে যায়- সেটি নিশ্চিত করার জন্য কিছু প্রশ্ন উত্থাপন করা এর উদ্দেশ্য। যে ভালো ফলাফল আমরা দেখছি, সেটি যেন সার্বিক মানদণ্ডে গুণগত শিক্ষারই প্রতিফলক হয়, সে ব্যাপারে নিঃসংশয় হওয়ার পাশাপাশি এরকম ফলাফল যেন আগামীতে অক্ষুণ্ন থাকে, সেই প্রত্যাশাও এ লেখার উদ্দেশ্য। যে প্রশ্নগুলো এখানে উত্থাপিত হলো, তার কোনোটিই নতুন নয়; বরং প্রতি বছর ফলাফল প্রকাশের পর এসব প্রশ্ন উঠে। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায় না বা সংশয় নিরসনে আলাদা কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ে না। আশা করা যায়, সরকার এসব প্রশ্ন বা সংশয়ের ব্যাপারে অবগত এবং তাদের কাছে এগুলোর যথাযথ উত্তরও রয়েছে। দেশের শিক্ষার মান নিয়ে মানুষ আশ্বস্ত হতে চায়, এবং গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানুষকে এ ব্যাপারে সংশয়মুক্ত করা সরকারেরই দায়িত্ব।

পোস্টটি ১৩ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

লীনা দিলরুবা's picture


শিক্ষাজীবনের এই পর্যায়ে, এতো সাড়ম্বরে পরীক্ষা নেয়ার এবং ফলাফল নিয়ে এমন উচ্ছ্বাস দেখানোর বিষয়ে আমি কোনো স্বার্থকতা খুঁজে পাইনি।

গৌতম's picture


ফলাফল নিয়ে উচ্ছ্বাসের ব্যাপারটা হয়তো ঠিকই আছে, কারণ ওরা ছোট, উচ্ছ্বাস করতেই চাইবে। কিন্তু সত্যিকার অর্থেই এই দুটো পাবলিক পরী্ক্ষার কোনোই দরকার নেই। ব্যক্তিগতভাবে আমি অন্তত অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত কোনো ধরনের পাবলিক পরীক্ষার পক্ষে নই।

জ্যোতি's picture


যে সমস্ত শিক্ষার্থী এবারের প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা এবং জেএসসি/জেডিসিতে উত্তীর্ণ হয়েছে তাদের সবাইকে অভিনন্দন। অভিনন্দন তাদের শিক্ষক ও অভিভাবকদেরও, যাদের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় আজকের এই সফলতা।

লেখাপড়ার মান ভালো হয়েছে বলে আমার ধারণা। আগে গ্রামের স্কুলগুলো অনেকটা ঢিলাঢালাভাবে চলো। এখন সেই দৃশ্য পাল্টে গেছে দেখেছি। শিক্ষক-অভিভাবক, শিক্ষার্থী সকলেই অনেক বেশী সচেতন, লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ বেড়েছে অনেক।
তবে , ৫ম শ্রেণীর সমাপণী পরীক্ষার কারণে ছোট ছোট বাচ্চাগুলোর উপড় লেখাপড়ার চাপ এত বেশী বেড়েছে যে খারাপই লাগে। এই পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা কি অনেক বেশী?

গৌতম's picture


১. পড়ালেখার মান ভালো হয়েছে এটা কীসের নিক্তিতে বলেন? ইনফ্যাক্ট কোয়ালিটি এডুকেশনের কোনো সংজ্ঞা তো আমাদের দেশের বিশেষজ্ঞরা এখনো তৈরি করতে পারেন নাই! লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ বাড়লেই মান বাড়ে না।

২. আমার ব্যক্তিগত মত হলো, এই পরীক্ষার কোনোই দরকার নাই।

ভাস্কর's picture


পরীক্ষার ফলাফল ভালো হওয়ার পেছনে মনে হয় শেষ মঞ্জুরী কমিশনের ঘোষণা আর শিক্ষক নিয়োগের নতুন নীতিমালা প্রভাব ফেলছে। শিক্ষার কারিকুলাম বা সিলেবাসে মনে হয় না কোনো পরিবতর্ন আসছে। তবে আমিও সংশয়ী থাকি এই দেশের যে কোনো ধরনের প্রাপ্তি বা সাফল্যে। নির্বাচনমূখী আয়োজন ঘটে সবকিছুতেই।

গৌতম's picture


শেষ মঞ্জুরি কমিশনের ঘোষণা কী ছিল মনে নেই, তবে মঞ্জুরি কমিশনের সাথে এই দুটো পরীক্ষার কোনো সম্পর্ক আবিষ্কার করতে পারলাম না। শিক্ষক নিয়োগের নতুন নীতিমালাও কীভাবে প্রভাব ফেলছে তাও স্পষ্ট নয়। তবে এটা আমার মতেও এক ধরনের নির্বাচনমুখী আয়োজন।

ভাস্কর's picture


শিক্ষকদের বেতন বাড়ানো আর ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা গ্র্যাজুয়েশন করছে না প্রাইমারীতে? একটার কারনে দায়বদ্ধতা আর আরেকটায় মানসম্মত শিক্ষার অনেক শর্তের একটাতো পূরণ হয় নাকি?

গৌতম's picture


না, এইটার তেমন কোনো প্রভাব নাই বলেই মনে হয়। কারণ প্রথমত প্রাইমারিতে এখনো গ্র্যাজুয়েশন বাধ্যতামূলক না। দ্বিতীয়ত, ব্র্যাক স্কুলগুলো এখনো চালাচ্ছে উচ্চমাধ্যমিক পাশ শিক্ষকদের দিয়ে। তাদের রেজাল্ট সবচেয়ে ভালো - ৯৯.৭৩ শতাংশ পাশের হার।

ভাস্কর's picture


আগেতো মাধ্যমিক পাস কইরাই প্রাইমারী স্কুলে মাস্টার নিয়োগ পরীক্ষা দেওয়ার বিধান ছিলো। আমি গাইবান্ধার এক স্কুলে এমন একজন টিচারের সাথে কথা বলছিলাম। সে ম্যাট্রিক পাস কইরাই প্রাইমারী স্কুলে মাস্টারী শুরু করছিলো। পরে ডিগ্রী পাস করছে চাকরী করা অবস্থায়। এরপর হাইস্কুলে নিয়োগ পরীক্ষা দিয়া কি এক কোটায় সে হাইস্কুলে যোগ দেয়। কিন্তু তার ভালো লাগতো প্রাইমারীতে পড়াইতে। পরে আবার সে ব্যাক করে প্রাইমারীতে। ২০০৪'এ সে ঐ স্কুলে হেডমাস্টার হিসাবে যোগ দেয়।

আর বেতনের ইনসেন্টিভ নিয়া আমি একেবারে নিশ্চিত না হইলেও কেনো জানি ঐটারে প্রয়োজনীয় লাগে। আমার এক খালা প্রাইমারী স্কুলের হেডমিস্ট্রেস। তো বেতন বাড়ার পরে উনার দায়িত্ববোধে খানিকটা হইলেও প্রভাব পড়ছে বইলা মনে হয়।

১০

গৌতম's picture


বেতন তো অবশ্যই প্রয়োজনীয়, এবং তা দায়িত্ববোধও বাড়ায়। আমি যেটা বলছি সেটা হচ্ছে- সাম্প্রতিক সময়ে এগুলোর কোনো প্রভাব স্কুলের পড়ালেখার উপরে পড়েছে বলে জানা নেই।

১১

স্বপ্নের ফেরীওয়ালা's picture


পাশের হার যতই উচ্চগামী লেখাপড়ার মান ততই নিম্নগামী হচ্ছে।

৫ম, ৮ম, এসএসসি, এইচএসসি এত্তো পরীক্ষার দরকার আছে কি?

আর পুরো শিক্ষা-ব্যবস্থা হয়েছে সার্টিফিকেট-কেন্দ্রীক। মানবিক গুণাবলী আর সামাজিক নিয়ম-কানুন শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে যেভাবে উঠে যাচ্ছে সেটা কোন সুস্থ রাষ্ট্রের লক্ষণ না...

~

১২

গৌতম's picture


এইচএসসি পর্যন্ত একটা পাবলিক পরীক্ষা হলেই চলে- যদি সিস্টেমটাকে ঠিকমতো কার্যকর করা যায়। যতো পরীক্ষানির্ভর পড়ালেখা হবে, ততোই শেখাতে ঘাটতি বাড়তে থাকবে।

১৩

তানবীরা's picture


কোনো সরকারই চায় না, তার আমলে পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল খারাপ হোক; কারণ তাতে পরবর্তী সরকার কিছু কথা বলার সুযোগ পেয়ে যায়। ফলে এক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃতভাবে ফলাফল ভালো দেখানোর ঘটনা ঘটলেও ঘটতে পারে।

ভানুর কৌতুকের ঠাকমার মতো বলতে ইচ্ছে করে, এখানেও পলিটিস

১৪

গৌতম's picture


পলিটিকস তো থাকবেই, কিন্তু সেখানে কে কাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে সেই চেষ্টা বদলে দেখি কে কার চাইতে বেশি নাম কামাতে পারে সেই চেষ্টার প্রতিযোগিতা, যা গুণগত মান অর্জনের বিষয়টিকে পিছিয়ে দেয়।

১৫

একজন মায়াবতী's picture


ঢাকা ভার্সিটি থেকে পাশ করা কাউকে যখন univercity লেখতে দেখি বা মাস্টার্স পাশ করা কেউ যখন বাংলা বানান ভুল লেখে, ভুলভাল ইংরেজি লেখে কেমন আফসোস লাগে। Sad
যাই হোক, সংশয়যুক্ত অভিনন্দন।

১৬

গৌতম's picture


মানুষ বোধহয় ইংরেজির চেয়ে বাংলাটাই বেশি ভুল করে!

১৭

রায়েহাত শুভ's picture


টিপ সই

১৮

গৌতম's picture


THNX

১৯

শওকত মাসুম's picture


আমি বিশেষজ্ঞ নই। খালি বলতে পারি, আমার মেয়ে ক্লাশ ওয়ানে যা পড়ছে, আমরা মনে হয় সেসব পড়িনি, পারতামও না

২০

গৌতম's picture


অবশ্যই, আর আপনার মেয়ে যা পড়ছে- তার সন্তান কিন্তু এর চেয়েও বেশি পড়বে যেগুলো আপনার মেয়েও হয়তো পারবে না। সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে এই চেঞ্জগুলো হবেই। কিন্তু কোয়ালিটিতে কতোটুকু পরিবর্তন এসেছে (যেটা সময়ের সাপেক্ষেই পরিমাপ করতে হয়, আগের জেনারেশনের কনটেক্সটের সাথে না), সেটা এখনো প্রশ্নযুক্ত।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

গৌতম's picture

নিজের সম্পর্কে

অনিশ্চয়তার মধ্যে আমার বসবাস। পৃথিবীর কোনো কিছু সম্পর্কেই আমি নিশ্চিত নই। এমনকি যা লিখি, যা পড়ি, যা বলি, সেগুলো সম্পর্কেও নয়।
সমাজতন্ত্র সম্পর্কে মোহ আছে, তবে সমাজের তান্ত্রিকদের কাছ থেকে দূরে থাকতে চাই।

আমার লেখার সব লাইসেন্স ক্রিয়েটিভ কমন্সের by-nc-nd-এর আওতায় রক্ষিত। বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে চাইলে অবশ্যই আমার সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে হবে।

শিক্ষাবিষয়ক একটি ওয়েব সাইট নিয়ে কাজ করছি কিছুদিন ধরে - www.bdeduarticle.com