ক্ষমা করো, ক্ষমা করো, বন্ধু
ছিকল ছিড়িতে না পারে
খাচা ভাংগিতে না পারে
পাখি ছটফটাইয়া মরে,
পাখি, ধর ফরাইয়া মরে।।
যতদুর মনে পড়ে ফারুক ও কবরি অভিনীত ঘর জামাই ছবিতে মরহুম আব্দুল আলীম এ গানটিতে প্লে বেক করেছিলেন।
গানটি শুনলেই বুঝা যায় একজন মানুষ কতটুকু শারিরিক ও মানষিক চাপে থাকলে, আর যে গীতিকার গানটি লিখেছেন তার সাড়ে তিন হাত দেহের পরতে পরতে কত আবেগ থাকলে তবেই দৃশ্যের বাস্তবতায় বিলীন হয়ে এম্ন গান লিখতে পারেন।
বন্ধু লতিফুল কবির তুমি লিখেছ, বেশ অকেকদিন থেকে আমার কোন কবিতা পাচ্ছ না।অতীব সৌন্দর্য ও মাধুর্য পূর্ণ কথা। তুমি হয়ত বলবে এখানে সৌন্দর্য ও মাধুর্য কোথায় পেলাম। আমাদের মত যারা সার্টেল ট্রেণ মার্কা লেখক বা কবি তারা তোমাদের মত বন্ধু বা পাঠকদের অনুপ্রেরণা পেলেই ধাক্কা খায় আর তখনি আবার লিখতে শুরু করে।কিন্তু আমার যে সে সুযোগও থাকে না।মাঝে মাঝে জীবিকার সন্ধানে এত ব্যস্ত থাকতে হয় যে কোন কিছু লেখার সময় ও শারিরিক সক্ষমতা থাকে না।
আমি আগেও বলেছি
আবার বলছি,
আমার ভাবনাগুলো
আমার আওলা ঝাউলা খুপড়িটার চারপাশে
সর্বদা ঘোরপাক খায়,
বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রংগে,
বিভিন্ন আকারে,
কখনও আনন্দে, কখনও বেদনায় নীল হয়ে,
কখনও আবার বুঝতেও পারি না,
কি মোডে তারা এসেছে?
তারা আমার সাথে খুন শুটি করে,
চিমটি কাটে
কখনও জিহবা কেলিয়ে ভেংচিও কাটে,
আমার কখনও রাগ লাগে
কখনও অসহায়ের মত তাকিয়ে থাকি।
তবুও হাত বাড়িয়ে ধরতে চাই,
পারি না, ধরতে পারি না,
ওরা অপারগ, অসহায় কে ধরা দেবে কেন?
গত রাতে আমি দৃঢ প্রতিজ্ঞ হলেম
আমাকে একটি কবিতা লিখতেই হবে,
বন্ধু লতু অপেক্ষায় আছে।
কম্পিউটার অন করে
লিখতে বসেছি,
মনে পড়ে গেল
আজ, ৭ই মার্চ
আজ কবিতা লেখবে
এ্মন সাধ্য কার আছে,
এ দিনটির কবিতা, গল্প, গান
সব, সবই লেখা হয়ে গেছে
এদিনটির সকল কিছুই লিখে
গেছেন একজন কবি,
তার নিজস্ব ভাষায়, নিজস্ব ঢঙ্গে, অংগ ভংগিতে,
ছোট্ট একখানি কবিতা
শ্রোতা সাড়া পৃথিবী,
না না ভুল বললাম,
পৃথিবী, আকাশ বাতাস, গ্রহ নক্ষত্র সব, সব।
কবি
তুমি তোমার লেখা কবিতা
আবৃত্তি করলে,
শ্রোতার মাঝে,
ছাত্র,
তার কলম হল তীর/বন্দুক
কৃষকের লাংগল, গাড়োয়ানের গাড়ি হ্ল কামান,
রিক্সাওয়ালার রিক্সা হল, রকেট লাঞ্চার,
বেষ্যার পবিত্র দেহখানি হল বিষ মাখানো তীর।
শতায়ু মুমুর্ষ বৃদ্ধ হল বংগ সার্দূল।
ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, উকিল, মোক্তার
অফিসের পিয়ন, মসজিদের ইমাম, মোয়াজ্জিন।
আরও কত কত,
আমি কজনের কথা লিখব।
কবি,
কিষের আকর্ষন ছিল তোয়ার সে কবিতায়,
শত-শত হাজার-হাজার, লাখো-লাখো,
জোয়ান বুক পেতে নিয়েছে
শত্রুর ছোড়া বুলেট।
মৃত্যু নামক বন্ধুটিকে নিয়েছে
পরম মমতায় আপন করে।
হ্যাঁ বুঝতে পেরেছি,
তা না হলে, তাদের উত্তসুরি,
আমরা
পেতাম না, লাল সবুজের গর্বিত পতাকা
আমার বন্ধু লতু,
কানাডা যাওয়া তো দুরের কথা,
সবুজ রংগের পাসপোর্ট খানি পেত কি না,
কেউ ব্লতে পারবে?
আমরা যা ভাবিনি
তার চেয়েও অনেক,অনেক বেশী
যে পাওয়া, তা পেতাম কি না।
তাই বন্ধু লতিফুল কবির
আজও আমি
তোমার জন্য কবিতা লিখতে পারলাম না।
তুমি আমাকে
ক্ষমা করো, ক্ষমা করো,বন্ধু।।
তবে সেই সে মহান কবির লেখা
কবিতার
দু’টি লাইন তোমাকে লিখে দিচ্ছি,
দেখো যেন অযত্ন না হয়,
রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেব,
এদেশকে মুক্ত করে ছাড়ব, ইনশাল্লাহ।।






তোমার বজ্র কন্ঠে ধ্বনিত হল স্বাধীনতা।
মন্তব্য করুন