অজ্ঞাত
মনখারাপের সাথেই মেঘ লেগে থাকে।
চায়ের সাথে যেমন বিস্কুট। অবধারিত
সম্পর্ক। নোনতা কে আমি চিনতাম। বিস্কুট
বানাত। দিনের বেলা। আর রাতের
বেলা শুরু হত বিড়ি বাঁধার কাজ। রাজ্যের
গান তখন গাইত ও। পাড়ার একমাত্র জ্যান্ত
রেডিও। বাবা- জ্যাঠাদের
চিৎকারে মাঝে মধ্যে ঢিলে দিলেও
রেডিও জাগত সারারাত। কারোর
বকুনিতে নোনতা মিষ্টি হাসত। ওই
হাসিতেই পাশের বস্তির দু-
তিনটে মেয়ে কাত।তবে হাসিটাকে কাত
করেছিল শ্রাবণী। সেও মিষ্টি হাসত ।
নোনতার একতলা বাড়িটার ঠিক
উল্টোদিকের দোতলায় দাঁড়িয়ে সে হাসত।
আর রেডিওর গানগুলো সব প্রেমের গান
হয়ে যেত। একতলা আর দোতলার
ফারাকটা না বুঝলেও নোনতা বুঝত মেয়ের
বাবা হেব্বি ট্যাঁস। তাই শ্রাবণীর
বাবার কাছে ঘেঁষত না বিশেষ।
পথে ঘাটে শ্রাবণীর
সাথে দেখা হলে হাসত বোকা বোকা।
শ্রাবণীর 'নোনতা দা ' ডাকটা যেন ওর
নামের সম্মান বাড়াত। অন্তত শ্রাবণীর
সাথে দেখা হওয়ার পর ওর মুখ দেখে তাই
লাগত। শ্রাবণীর হাসি ওর মনকে নরম
করেছিল। তাই হয়তো শ্রাবণীর ঠিকানায়
একটা চিঠি যায়।
যে চিঠি শ্রাবণী হাতে পায়নি। শুধু
নোনতাকে কদিন আর পাড়ায় দেখা যায় না।
দুদিন পর যখন দেখা যায় তখন মাথায়
ব্যান্ডেজ আর হাতে প্লাস্টার। পাড়ার
লোকেরা অনেক খোঁচালেও নোনতা চুপ।
রাতের বেলায় বিরহের গানে অনেক কুকুর
রেগে গেলেও নোনতা থামেনি। কদিন
পরে নোনতার সাথে বস্তির
একটি মেয়েকে ঘুরতে দেখা যায়।
ওরা ভালই ঘুরত একসাথে। তবু , কোনও এক
বিশ্বপ্রেম দিবসে নোনতা ও তার
প্রেমিকার
সামনে দিয়ে শ্রাবণীকে নিয়ে একটি বাইক
চলে যায়।সেদিন থেকে রেডিওর গানও
লোকে কোনও রাতে শুনতে পায়নি আর।
শোনা যায় নোনতার চোখ বাইক দেখে ছলছল
করেছিল। অবশ্য লোকেদের দেখার ভুলও
হতে পারে। কারণ সেদিন খুব মেঘ
করেছিল, শুধু বৃষ্টি পড়েনি...





অবশ্য লোকেদের দেখার ভুলও
হতে পারে। কারণ সেদিন খুব মেঘ
করেছিল, শুধু বৃষ্টি পড়েনি...
মন্তব্য করুন