অমিত চৌধুরী'এর ব্লগ
কিছু রঙ্গিন বাস্তব .………
(পর্ব -১)
অপরূপ সুন্দরী এক মেয়ে নাম না হয় নাই
বা দিলাম , না থাক একটা নাম না দিলে গল্পের
অপূর্নতা যেন থেকেই যায়।
নাম রবীন্দ্র কাকুর কবিতা টেনেই শেফালীমল্লিকাই
দিলাম। 
সুন্দরের কথা তো বলেই দিয়েছি আসলে তার
সুন্দরতা এতোই বেশি যে কথার মাঝে মাঝে তার
সুন্দরতা ঢুকেেই পরে।
ছোট বেলাই বড়দের মুখ থেকেই শুনা
যে প্রেমের চোখে নাকি পেত্নী রাও অপরূপ .
জানিনা এই গল্পে ও তার
কোনো ছায়া আছে কিনা কারন এই গল্পের নায়ক
আমি নিজেই। 
সে আমায় দিগন্ত বলে ডাকত.
আমি ভেবে নিয়েছিলাম
এটা কোনো সিকিউরিটি হতে পারে কিন্তু
সে তা ভুল প্রমাণিত করে একটা বর্ণনা দার
করিয়েছিলো . বর্ণনা টি --
আমার সাথে নাকি আকাশের এক অদ্ভুত মিল।
দুজনই অসীম তবে আমাদের মধ্যে নাকি একদিনেই
ভিন্ন ভিন্ন রূপ দেখা যায় .
( এখানে আকাশটা সংগে থাকায় আমাদের লিখা।) 
নাম টা আমার পছন্দ হওয়ায় কখনো বাধা ও
দেয়া হয়নি।
এবার সম্পর্কে আশা যাক--
আমদের সম্পর্ক বন্ধু দিয়ে শুরু হলেও পর্যায়
টা শেষ ধাপ অবদি পোছে গিয়েছিল ,
নিজেদের অজান্তেই .
হটাৎ কোনো এক সময় এসে আবিষ্কার করলাম
নতুন আমি ………
ইচ্ছে গুলো এলোমেলো হয়ে যাওয়ায় গুছাতে খানিকটা সময় লাগছে।
ওই লিখার ইচ্ছে টাও এলোমেলোর ভিড়ে হারিয়ে বসেছিলাম ,, গোছানো প্রবনতা প্রবল ভাবে শুরু করাই এই ইচ্ছে টাকেও আগের রূপে ফিরিয়ে আনলাম।

আজকাল অনেক কিছুই অবাক করছে আমায় কাছের বন্ধুরাও কথার মধ্যে সিকুরিটি গুজে গুজে চলছে . অবাক হচ্ছি ঠিকই তবে বিষয় গুলো মজা পাচ্ছি ভীষণ পুরনো কিছু কে নতুন রূপ দিলে ঠিক যেমনটি হয়।।
যাই হোক নিজের কথায় ফেরা যাক
হটাৎ অনেকটাই গোছালো হয়ে গেছি আমি যদিও কারণটা আমি নিজেই এখনো উদ্ধারে ব্যার্থ। কিছু লোকের ধারণা প্রেমে পরেছি আর কিছু লোকের ধারণা নিজেকে প্রেম করার উপযুক্ত করে তুলছি। 
আপাতত না বলে উড়িয়ে দিচ্ছি ঠিকি তবে কারনের উত্তর দিতে হালকা স্লিপ খাচ্ছি এই। 
আজ মাথা আর মন সংগ দিচ্ছে ঠিকি তবে জং লেগে যাওয়া লিখার ধরনটি যেন ফিরছে না তার আসল রূপে।
মনের মাধুরী মিশিয়ে লিখার এই মজা ,
ইতির দেখা পাওয়া টা মুশ্কিল হয়ে পরে। 
তবু ইতিকে টেনেই
অফ গেলাম। শুভ রাত্রি . 
স্বপ্নশ্বাবদ
আমার স্বপ্নে মাঝেমাঝে
বেড়াতে আসে একটা চিতাবাঘ
আমি দেখি ওর শব্দহীন হাঁ-মুখ
বিশাল তৃণপ্রান্তরে ও ছোটে
সন্ধ্যার গোলাপি মায়াতেও
স্পষ্ট দেখতে পাই ওর
আলো হড়কানো সোনালি চামড়া
চারপায়ে ঝড় তুলে
ক্রমাগত বদলে দেয় গতির ঠিকানা-
ঠিক যেভাবে আমরা পেরিয়ে যেতে চাই
অচেনা রাস্তার ধাঁধাঁ |
তারপর
একটা ছিটকে যাওয়া তীরের মতো
একটা খুলে যাওয়া স্প্রিঙের ঝটকায়
একটা প্রকান্ড বাতাসী উড়ান |
আমার ঘুম ভেঙে যায়
ঘামে ভেজা শরীরে
উঠে বসি অভ্যাসমতোই ;
আর শুকনো ঠোঁট চাটতে চাটতে ভাবি
আমি কি লাফাতে পারব
যা কিছু আমাকে মারে প্রতিদিন
সেইসবের বেয়াড়া ঘাড়েতে ?
অনুধাবন .
বিপর্যস্ত ভালবাসা, পর্যুদস্ত মন,
অবশেষে নিলাম বুঝে,
ধার করা ভালবাসায়, চলেনা জীবন।
তবু, নির্বোধ মন, ভালবাসা খুঁজে,
হেথা-হোথা, এদিক ওদিক,
নেশাগ্রস্ততায় অবিরাম ছুটে দিক-বিদিক।
শূণ্যতা তবু, উঠেনা ভরে পূর্ণতায়,
মধ্যনিশির নিঃসংগতায়,
মন যে তাই কেঁদে যায়, অসীম বেদনায়।
নিঁখুত ভালবাসা, মণিময় আশা,
কাংখিত সবার, তবু অনেকেরই,
অযাচিত ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধতায়, হৃদ্য়-মন
কাঁদে সংক্ষুব্ধতায়।
কাঁদে মন অপ্রাপ্তির জ্বালায়,
কখনও বঞ্চনায়, কখনওবা আত্মপ্রবঞ্চনায়।
মনোমাঝে নিরাশা, বাঁধে যে বাসা।
ভালবাসার স্নিগ্ধতা বড় বেশী প্রয়োজন,
এ জীবনে বুঝি হবেনা পাওয়া,
এভাবেই কাটবে কি সময়?
এমন অনন্ত প্রতীক্ষায়?
কখনও কি হবেনা শেষ, ভালবাসার অণ্বেষণ?
জ্বলবেই কি নিরন্তর দহনে, প্রেমপিয়াসী মন?
নেশাগ্রস্ত মন তো অবিরাম, ছুটে দিক-বিদিক।
শূণ্যতা তবু, উঠেনা ভরে পূর্ণতায়।
মধ্যনিশির নিঃসংগতায়,
মন যে তাই কেঁদে যায়, অসীম বেদনায়।
বাস্তবিক কিছু চাহিদা .……
এটা আমার
বাস্তবতাকে কেন্দ্র
করে লিখা।
প্রাণভুমি
আমি চিনি। এই শহরকে।
এর মানুষকে।পড়ন্ত
সূর্যের আলোয়
হেঁটে চলা এক মানুষের
ছায়া যতদূর যায় ঠিক
ততদুর আমি এ
শহরটা চিনি। শহর
আমাকে গল্প দেয়।
প্রতিদিন। রাস্তায়
হাঁটতে হাঁটতে অথবা সা
দেখে অবাক হই,খুশি,ভয়ও
পাই কোনওসময়। শহর
আমাকে চরিত্র চেনায়
হাতধরে। ছেলেবেলায়
মায়ের হাত
ধরে হাঁটতাম
অথবা বাবার। এখন
শহরের হাত ধরে হাঁটি।
হাঁটতে হাঁটতে তাদের
চিনি যারা আমার মতই
হাত
ধরে হাঁটছে শহরের।
তাদেরও
দেখি যারা হাত
ছেড়ে দিচ্ছে অবলীলায়।
ভাবি,
ভবিষ্যতে কি শহরের
আয়নায়
দেখা যাবে এদের?
বা এদের মনের আয়নায়
এই শহরটাকে? উত্তর
নেই। হয়তো এই প্রশ্নের
উত্তর হয়ও না।
আমরা বড্ড বড়
হয়ে যাচ্ছি প্রতিদিন।
মনের দিক থেকে।
চারপাশের দৌড়
দেখে তাই তাদের
টপকানোর জন্য
লোকেরা ছোটে। আমিও
ছুটতে যাই।
তখনি অবনীর বাড়ির
জানলায় আমার চোখ
পড়ে। থমকে যাই।
অবনীর পা নেই। বাড়ির
একমাত্র জানলা আর
অগাধ বইপত্তর ওর
সম্পদ। মাঠের পাশের
বটগাছে আটকানো ঘুড়ি আ
অনেকখানি আকাশে ও
নিঃশ্বাস নেয়।একদিন
ও আমাকে বলেছিল
কিভাবে ওর সূচীপত্রের
তালিকার ভিড়ে অনেক
বদলে গেছি আমি...
একসময় তাবিজ দোয়া/ মন্ত্র তন্ত্রে পরিমানের তুলনায় একটু বেশিই বিশ্বাস ছিলো .
পরীক্ষার সময় কলম টাও দোয়া - দূরতের কবলেই থাকতো ..
এতো কারসাজির পরও পরীক্ষার ফলাফল হতো যেই কধূ সেই লাউ। তখন দোষ টা পুরো পুরি আমার উপরি পরতো , আর যদি আমি হালকা কষ্ট করে কোনো ভালো রেজাল্ট করতাম তাহলে সেই ক্রেডিট পুরোটাই লুফে নিত ওই দোয়া দোয়ায় নিয়ন্ত্রিত কলমটি।
খারাপ কিছুটা লাগলেও কলমের প্রতি আত্মবিশ্বাস আরও গাড় হতো . 
হাতে ছিলো রং বেরং দামি দামি পাথরের আংটি .
আমার উপর নাকি শনির প্রভাব ছিলো , আংটির মাধ্যমে বৃহস্পতির সংস্পর্শে থাকবো যা শনির হাত থেকে আমায় রক্ষা দিবে।
আজ হটাৎ মনে পরলো সেসব কথা সত্যিই বদলে গেছি আমি এখন নিজেই শনি বানাই আর সুযোগ বুঝে নিজেই বৃহস্পতির ছায়ায় চলে যাই। এখন পাথর আর কলম আর দোয়া দূরত /মন্ত্র সন্ত্র তেমন এফেক্ট ফেলেনা আমার উপর্ .এখন সময়ের ঠেলায় নিজেই শিখে নিয়েছি কিভাবে গুনে ভাগে যোগ দিতে হয় এবং তার এলোমেলো ফলাফল কিভাবে গুছিয়ে নিতে হয়। সত্যিই বদলে গেছি আমি...
বাসস্টপে সেইমেয়েটা কবে নেমে গিয়েছিল
তুমি আনন্দ৷
তুমি বেদনা…. তুমি ধুসর কল্প৷
বাসস্টপে সেই
মেয়েটা কবে নেমে গিয়েছিল
ল্যাপটপে অসুখ জড়িয়ে ছিল সুনন্দ অপার৷
মাউসের একফুট দূরে উবু হয়ে বসে ছিল চাঁদ
পাশে ল্যাপটপ আলোয় ঘুমায় বিবশ
চাকরী আমার৷৷
কেউ বোঝেনি কোনোদিন দূরত্ব কত
যে রঙ্গিন হয়
দূরত্ব আপন করে সে কতবার
অথৈ জলে নেবেছিল৷
কে যেন বলেছিল…এক গ্লাস সকালের
বিশুদ্ধ গঙ্গা জলে
জলছড়া দিয়ে বিশ্বজয় করে এসে নিজেই
অবাক হয়েছিল৷৷
দুটো নাম আসলে আলাদা আলাদা কাজ করে
প্রেমের মাঝখানে একজোড়া লাল হলুদ
সুতো জোড়ে৷
দেহ বাঁধতে গেলে সুঁচের ডগায়
একফোঁটা যে রক্তবিষ
গোলাপী ভ্রমর ওড়ায় সে বিষ, এক
দি্স্তা কাগজের মোড়ে৷৷
বাসস্টপে সেই
মেয়েটা কবে নেমে গিয়েছিল
তুমি আনন্দ …..তুমি অন্তর গল্প।
দূরত্ব আপন করে আমি কতবার জলে নেবেছিল
তুমি বেদনা…. তুমি ধুসর কল্প।।
এলোমেলো অনূভুতি
অনেকদিন হলো লেখা লেখিতে তেমন একটা সময় দিই
না। আসলে দিই না বল্লে কিছুটা ভুল হবে ,সময়
আজকাল হয়েও ওঠেনা .যেন সমুদ্রের ঢেউ এর
মতো ব্যাস্ততার এক বোঝা এসে পড়েছে আমার উপর .
যদিও ভালোই
লাগছে আলসেমিতে জং লেগে যাওয়া জীবনটা নতুন
ভাবে তার নতুনত্ব খুজে পেয়েছে বলে।
ঘরে একটা নতুন অনুষ্ঠান হবে আগামী বৃহস্পতিবার
তা নিয়ে মানষিক ভাবে প্রস্তুত হলেও শারীরিক
ভাবে এখনো নিতে পারিনি।মানুষ মরলেও
নাকি অনুষ্ঠান করতে হয়। আসলে সবি বদ্ধ সমাজের
আবদ্ধ রীতিনীতি .
আমার মনে হয় জন্মের পর থেকে মা বাবা ভাত
খাওয়ানো শিখিয়েছেন বলেই আজ ভাত খাচ্ছি।
যদি তারা আমাদের জন্মের পর থেকে খর -
খুটো খাওয়ানো শিখাতো আমরা হইতো তাই ই খেতাম।
তাদের দোষ দিয়েও লাভ নেই কারণ তারাও
যে একি চক্রে ঘুরছে .
আজ রাতটা যেন ঘন কফিতে দু-তিন ফোটা দুধের মতো . নিজের
চেহেরা নিজের ছায়াতে খুজে পাচ্ছি অস্তিত্ব
হিসেবে।। কেমন একঘেয়েমি সভাব ওই চাঁদের ,,
এতো মেঘ আসছে তবুও যেন নিজের
পাতানো জাইগা সে ছাড়বেইনা। বিরক্ত
হয়ে দেখি শেষে মেঘটাই সরে যাচ্ছে।চাঁদের
মদ্ধে আমাদের রাজনীতিবিধদের কেমন যেন মিল
খুঁজে পাচ্ছি .যাক সেসব কথা, আমার
কলংকের কালঘুম
যে কাঙাল চলে গেছে তাকে আমি
শালিকের পিঠে
সহস্র স্বর্ণমুদ্রার মত রোদের ভিতর খুঁজি
কত বিরহ , কলংকের কালঘুম
যে আমাকে গুছিয়ে দিয়েছে, দিয়ে চলে গেছে
খুলে নিয়ে আলপিন, শিখিয়েছে পালক পরাতে
অগুনতি হাহাকারে-----
পাথর সরিয়ে শিখিয়েছে মর্ম
কুড়িয়ে নিতেও
মৃত্যু তুলে তুলে যে আমাকে দেখিয়েছে
আমিযে হতে চাই তার মতই
ছুরিতে আঙুল কেটে গেছে
দংশন কিছু বাকি
বুঝা পড়া বাকি
কিন্তু সে নিয়তি
কাঙাল করে না আমাকে
অন্ধরাজহাঁস ও সকাল
অন্ধ রাজহাঁসটি বেজে উঠলে সকাল আর
নামে না, নামেই না
সকালের আশায় আমি সামনের আমগাছটির মত
অপেক্ষায়,
গ্রীল ঠুকরাতে থাকা দু'টি চড়ূইয়ের মত আমিও
মাথা কুটি,
তারে ঝুলানো একটি নীল কাপড় চরাচর আড়াল
করে দাঁড়ায়,
গোড়ালি কামড়ালে আমার কীযে জলাতঙ্ক মত হয়,
টুকরো টুকরো হাড়,
সেই হাড় সাঁতরাতে থাকে দিঘি,
কুকুরটা রেগে গেল ত রাজহাঁসের জন্যেই, এত
দীর্ঘশ্বাস কী ধার করা যায়? অপূর্ব ব্যথার এ-
সকালটি আর নামতেই পারলো না
আমার ও আগের মতো লাগে না, বালু
মিশে গেছে চোখে
আশ্চর্য সহজযান
অন্যমনা ঝরা-
বর্ষা আকাশে আকাশে ছন্নছাড়া মেঘ অনাবিল
মুগ্ধ শরীর-মুগ্ধ বন্য হরিণী !!
বালিয়াড়ি ঝলমল তখনো, ভার ভার
মন্থর আবেশে আবেশে!
কৃষ্ণচূড়া ভাঁজে ভাঁজে বৃষ্টিবিন্দু নীল !!
ছমছমে মাঠ ভরে ওঠে ভরে ওঠে ... ছন্দময়
অপার বিস্তার!
চোখের তারায় আর্তি - ধানখেত কাশবন
সরিয়ে সরিয়ে মুগ্ধতায়
ঘরে ফেরা কার... ফেরা নিজস্ব
শব্দে নিঃশব্দে ... নগ্ন মহোৎসবে।
অজস্র ঢেউয়ে সফেন সফেন গাংচিল ওড়ে!
শিহরণ ছড়িয়ে ছড়িয়ে
উদ্দাম চিল-ডাকে ওড়ে স্বাধীন স্বাধীন আর
দেখে কিরকম নিরিবিলি
পাতাঝরা অরণ্যে অরণ্যে... বৃষ্টি-
জাগা সাড়া ... পাতাখসানোর, দেয়
শরীর শরীরেরা কোমল থেকে কোমলতম...কোমলতা
য়! সারি দেওয়া
সারি দেওয়া পাহাড়, দিগন্তরেখায় মেলা জল,
একফালি আনন্দ আয়না..
দেখে অমোঘ উথ্থান ও অভ্যুদয় রাতজাগা শিশির
মেশান বর্ষণে বর্ষণে
আর অনায়াসে কি অনায়াসেই যে স্বর্গ নাবে...
স্বর্গ নাবে মাটির উঠানে --
ঝুরি নামা শিকড়ে শিকড়ে আ
শূন্য এবং এক
একমেবাদ্বিতীয়ম তুমি
তাহলে আমি কে ?
এই অবধি লিখে
চুপ করে ভেবেছি অনেক
এই সমরেখ চিন্তাগুলো
আমাকে জানালো-
আমি তবে শূন্য হ'তে পারি |
এমন আনাড়ি আমি
তখন বুঝিনি
শূন্য ছাড়া একই বা কোথায় ?
সকালে সন্ধ্যায়
সেই থেকে এক ও শূন্যের
তুমুল তর্কের ঝড়ে আছি
শূন্য বলে - প্রসিদ্ধি আমার
অথচ একের ঘরে আজীবন
সিদ্ধির সংসার |
আসল কথাটি জানে কেউ ?
শূন্যের অনন্ত আছে
এক মানে চেতনার ঢেউ....
কোথায় যে আছে মন
কোথায় যে আছে মন ৷জলের কিনারে খুঁজেছি
খুঁজে পেতে দেখেছি বার বার ৷পাথরের
নুড়ি নাড়িয়ে এখানেই এসেছি
নদীর জলে জোৎস্না হারিয়ে চাঁদ
ঘুমালে খুঁজেছি ৷
নুড়ি এসে বল্লে..অন্ধকারেও মন নেই ৷
ঝরে যাওয়া শুকনো পাতায়
খুঁজেছি ৷খুঁজেছি নির্জন বনভূমি জুড়ে
খুঁজেছি পারাবত ডানা মেলে ৷ছায়াপথ
থেকে দূরত্বে চোখ তুলে
শুকনো পাতা এসে বল্লে... মর্মর'ও নেই ৷
চা বাগানে এলদ্রিন দেয়া গাছের
বাকলে খুঁজেছি
পোকা মাকড়ের সাথে সখ্যতা হয়েছিল
বহুবার
দুরে মিলেছিল ঘাসফুলের আদুরে পরশ
সবাই কে বলেছি..জানো কোথায় আমার মন
চা গাছ শক্ত ডালপালা নিয়ে হেসেছে
তোমাকে খুব জানি..তোমার মন কোথায়
জানি না ৷
ঘরের কোনে খুঁজে দেখেছি৷এক
কোনে দাঁড়িয়ে থাকা নিতান্ত মনের কোন
ঘুমের ঘোর দু হাতের পরশ
ঠেলে ঠেলে আমি এসেছি
যাওয়া আসার পথে শিশির
ভেঙ্গেছে পায়ে খালবিল
ছাড়িয়ে কাদা মাখা পায়ে এসেছি ঘরে
ঘরের ভেতর আমায় বল্লে ...
' কোথায় ছেড়ে এসেছ তোমার মন ৷'
মাঠের পাশে সেই উত্তরমুখো বেদীতে
যেখানে দক্ষিন হাতে তোমার কোমর
জড়িয়ে বসে থাকে শরীর
সেই বেদিতে ..সেই
শেফালিকা অপরাজিতার দেশে
যেন উজান বেয়ে স্বপ্ন আছে উষ্ণ পরশ
জড়িয়ে
অজ্ঞাত
মনখারাপের সাথেই মেঘ লেগে থাকে।
চায়ের সাথে যেমন বিস্কুট। অবধারিত
সম্পর্ক। নোনতা কে আমি চিনতাম। বিস্কুট
বানাত। দিনের বেলা। আর রাতের
বেলা শুরু হত বিড়ি বাঁধার কাজ। রাজ্যের
গান তখন গাইত ও। পাড়ার একমাত্র জ্যান্ত
রেডিও। বাবা- জ্যাঠাদের
চিৎকারে মাঝে মধ্যে ঢিলে দিলেও
রেডিও জাগত সারারাত। কারোর
বকুনিতে নোনতা মিষ্টি হাসত। ওই
হাসিতেই পাশের বস্তির দু-
তিনটে মেয়ে কাত।তবে হাসিটাকে কাত
করেছিল শ্রাবণী। সেও মিষ্টি হাসত ।
নোনতার একতলা বাড়িটার ঠিক
উল্টোদিকের দোতলায় দাঁড়িয়ে সে হাসত।
আর রেডিওর গানগুলো সব প্রেমের গান
হয়ে যেত। একতলা আর দোতলার
ফারাকটা না বুঝলেও নোনতা বুঝত মেয়ের
বাবা হেব্বি ট্যাঁস। তাই শ্রাবণীর
বাবার কাছে ঘেঁষত না বিশেষ।
পথে ঘাটে শ্রাবণীর
সাথে দেখা হলে হাসত বোকা বোকা।
শ্রাবণীর 'নোনতা দা ' ডাকটা যেন ওর
নামের সম্মান বাড়াত। অন্তত শ্রাবণীর
সাথে দেখা হওয়ার পর ওর মুখ দেখে তাই
লাগত। শ্রাবণীর হাসি ওর মনকে নরম
করেছিল। তাই হয়তো শ্রাবণীর ঠিকানায়
একটা চিঠি যায়।
যে চিঠি শ্রাবণী হাতে পায়নি। শুধু
নোনতাকে কদিন আর পাড়ায় দেখা যায় না।
দুদিন পর যখন দেখা যায় তখন মাথায়
মায়া কবিতা মায়া
রোজ একবার মনে হয়
জীবনটা একটা আধখানা ঢেউ
কবিতার কাগজ ভাঙ্গে … ভাসে…ঢেলে দেয়
নির্মাল্য জল ৷
সেই জলের কোলে কবিতার মানসী ঘুমায় ৷
কবিতা তোমার জন্য মরে যাই ৷
কবিতা তোমার জন্য ভেসে যাই ৷
কবিতা তোমার জন্য হেরে যাই ৷
হেরে আবার বাঁচার জন্য চেয়ে থাকি উদোম
আকাশের দিকে৷
সূর্যের দিকে চেয়ে চাঁদ খুঁজি
চাঁদের কাছে দাঁড়িয়ে তারা ছুঁয়ে আসি ৷
হাত চলে যায় হাতের উপরে
ঠোঁট ছুঁয়ে নামে প্রেম…চিরবুকে শুধু
জেগে থাকে একান্ন ঘুম
মায়া কবিতা মায়া
সেঁধে নিয়ে যাও এই উদোম শরীর
বাদবাকি সব নিঃঝুম ৷
সারারাত
টেবিলে পড়ে আছে সবুজ খাম ৷
খামের ভেতরে কবিতা মাঝরাত
খামের ত্রিকোনা বন্ধনী ধুয়ে যায়
কুয়াশায়
খুলে যায় সেই গোলাপী কাগজ…
বেরিয়ে পড়ে কবিতা আমার ৷
টুপটাপ টুপটাপ ঝরে পড়ে শব্দের
আগ্নেয়গিরি
উত্তাপ আর উত্তাপ …বিন্দু বিন্দু হাহাকার
শেষে কবিতা আমার নিজের ধরনে সাজে ..
চুমু খায় পুরুষ শব্দ সন্ভার ৷
শেষে রাতশেষে সুখনিদ্রা এসে যায় ৷
পড়ে থকে শব্দ পুরূষ…কমলিত কলম ৷
আমর কবিতা নিঃশ্চিন্ত ঘুমায় ৷