আমার খেলাধুলা এবং আমার খেলা দেখা..
খেলাধুলার ব্যাপারে সারাজীবনই একটা বিরাট প্রতিভা ছিলাম। যে কোন খেলার কথা শুনলেই আমার কাঁপুনি দি্যে জ্বর আসে। আমি মানুষ ভালো
নিজে খেলিও না কাউরে খেলাইও না।

তবে জীবনে যা খেলেছি, তা ছিল পঞ্চম শ্রেণীর আগে। কুমির কুমির, দুহাত বেঁধে বিস্কুট দৌড়, কুতকুত ইত্যাদি। জীবনে একবারই লম্বা দৌড় দিয়েছিলাম, কিন্ত তৃতী্য় পুরস্কার ছিনিয়ে নেবার আগেই-কে যেন ল্যাং মেরে ফেলে দিয়েছিল। আর এ জীবনে দৌড়ানো হলনা।
একবার খেলে প্রথম পুরষ্কার পেয়েছিলাম। খেলাটা ছিল দাবা। প্রতিযোগী ছিলাম মোটে দুজন। আমার প্রতিপক্ষ খেলার দিন বিনা নোটিশে হাজির হল না, তাই প্রথম পুরস্কার হিসেবে একটা কাঁচের জগ পেয়ে গেলাম।
ক্লাস ফাইভে দৌড়ে স্কুলে আসা যাওয়াও বন্ধ হয়ে গেল, যখন ফিরোজা আপা তার ঘরে ডেকে নিয়ে বললেন, "মাকে বলিস, এখন থেকে ফ্রকের সাথেই যেন তোকে ওড়না আর পায়জামা পরিয়ে দেন। আর বেশী দৌড়াদৌড়ি ঝাঁপাঝাঁপি করবি না। তুই কিন্তু এখন অনেক বড় হয়ে গেছিস।
ব্যাস খেলো্যার জীবনের সমাপ্তি ঘটলো।
দাবা খেলার পুরস্কার পাবার মত ইদানীং বছরে একবার বেশ দু নাম্বারী করতে হয়। খেলিনা কিন্তু দামী
(নাইকি'র) স্পোর্টস স্যুট পরে, চোখে রোদ চশমা লাগিয়ে মাথায় হ্যাট পরে ভাব মেরে খেলা দেখতে যাই। রাস্তায় যে কেউ দেখলে ভাবতে পারে, 'না জানি কত বড় খেলোয়ার!!!!!!!!

কি আর করা! আমি এইসব করতে চাই না কিন্তু এটাই চাকরীর শর্ত।
তবে নিজে ভং ধরে থাকলে কি হবে- আমি যখন বাচ্চাদের খেলা দেখি, সেটা কিন্তু আসলেই উপভোগ করি। জাপানে স্পোর্টস ডে মানে উতসব। বাচ্চারা খেলে। তা দেখার জন্য দাদা-দাদী/নানা-নানী/ বাবা-মা সবাই মিলে উপস্থিত থাকার চেষ্টা করেন।
আমার দরিদ্র ক্যামেরার কিছু ছবি দেখাই।

পুরো মাঠ জুড়ে সাজ সাজ রব। সবাই খেলার জন্য প্রস্তুত।

মিউজিক ক্লাবের বাচ্চারা তাদের বাদ্য যন্ত্র নিয়ে প্রস্তুত।
এদের খেলার মধ্যে ছিল, মেয়েদের ৮০০ মিটার দৌড়, ছেলেদের ১০০০ মিটার দৌড়,বিভিন্ন ধরণের রিলে রেস, আর কিছু এদের নিজস্ব খেলা। ৮০০ মিটার ১০০০ মিটার এবং রিলে রেসে, সাধারণতঃ যা ঘটে, সেটা হল-হঠাত করেই কয়েকজন শিক্ষক জুটে যায়, যারা কাজ ফেলে রেখে জান-প্রাণ দিয়ে বাচ্চাদের সাথে দৌড়ায় এবং ১০০০ মিটার দৌড়ে এসে আবার যে যার মত কাজ কর্ম করে।
এবার নাগই নামে এক তরুণ শিক্ষক, যে নামে নাগাই (দীর্ঘ) কিন্তু উচ্চতায় মিজিকাই (খাটো) কিন্তি নাদুস নুদুস। সে দৌড় শুরু করলো। তো সবাই যখন ২০০ মিটার মাঠ পাঁচবার প্রদক্ষিণ করে গোলে পৌঁছে গেল-তখন নাগাই কেবল চারবার দৌড়েছে। তো জাপানিজ টিচাররা সহজে কোনকিছু গিভ আপ করেন না, তাই নাগাই একা একাই পুরো মাঠ আরেক বার দৌড়ালো ----পুরো মাঠ জুড়ে তখন চিয়ারলীডার বাচ্চারা " নাগাই সেন্সি (শিক্ষক) গামবারে গামবারে (চেষ্টা করো চেষ্টা করো ) করে করতালি দিয়ে মাঠ সরগরম করে রাখলো।
এবার কিছু জাপানিজ খেলার ছবি।


বিছা (সেন্টিপেড) দৌড়। এটা নিয়ে ওদের একটা মজার গল্প আছে। আগেকার দিনে অনেক পা ওয়ালা এই বিষাক্ত পোকাটি নাকি জাপানিজদের জন্য সৌভাগ্যের প্রতীক ছিল। অনেক পা মানে সৌভাগ্য বহন করা। এই দৌড়টা সত্যি খুব কষ্টের এবং খানিকটা বিপদ্দজনকও বটে!

পরিবারের সবাই খেলা উপভোগ করছেন।
তবে এত খেটেখুটে খেলে এদের কোন লাভ নেই, কারণ এদের খেলা আমাদের দেশের মত শুধু প্রথম দ্বিতীয় নির্ধারন করে না, এরা যা করে দলগত ভাবে। পুরস্কারও নেয় দলগত ভাবে।
আমার মনে হয়, সেই জন্যই এরা যখন কিছু উন্নয়নের ভাবনা ভাবে তখন সবাই মিলে একই রকম ভাবে।

সারাদিন বাচ্চাদের আনন্দ এবং খেলা দেখে কাটালাম গত পরশুদিন সারাটা বেলা।





খেলাধুলা করা আর দেখা দুটোতে একে অন্যের দ্বিগুণিতক আনন্দ।

আমি মানুষ ভালো। খেলি না..
(মানে খেলতে পারি না)।
খেলা দেখতে সত্যি ভালো লাগে। আমি ক্রিকেটের বিশেষ ভক্ত।
এইটা একটা চিন্তা করার মতো ব্যাপার। মনোবিজ্ঞানীরা ভাল বলতে পারবে। এই কারণেই হয়তো স্ট্যাণ্ডের চাইতে এ+ ভাল
একবার এক রিক্সাওয়ালা বলেছিলেন, "আফা দেশ তো চালায় আল্লাহ।"
তাই আমাদের দেশের কথা একমাত্র আল্লাই বলতে পারবেন। মনোবিজ্ঞানীরা তো কোন ছার!!!
মজার তো......।
ধন্যবাদ তায়েফ। অনেকদিন পর আপনাকে দেখলাম।
অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইলো।
ভালু লেগেছে। ছবিপোস্টের জন্য ধইন্যা।
আচ্ছা আজকের ধইন্যা দিয়া তরকারী রান্ধুম।
খেলা দেখতে দারুন লাগে। জোশ লাগে। আপনারে ধইন্যা। পোষ্ট ভালু লাগছে।
পোষ্ট ভালু লাগার জন্য আপ্নারেও ধইন্যা।
জাপানের নানান দিক নিয়ে আরো কিছু লেখবার অনুরোধ থাকলো আপু।
আপনি শিক্ষাকতায় আছেন আপু? অভিনন্দন! আমার সবচে' প্রিয় প্রফেশন এটি...
কিছু জাপানিজ শব্দ জানলাম। গামবারে গামবারে...বেশ হলো। সময় মতো কাজে লাগাবোনি
অনেক ভালো লাগলো পোষ্টটা। ভালো থাকবেন
ধন্যবাদ বাতিঘর।জাপানের বিভিন্ন দিক নিয়ে লিখতে আমি চেষ্টা করবো।
তবে জীবনেও আমি শিক্ষক হতে চাইনি। তার উপর খাটাশ টাইপের বাচ্চাদের তো নয়ই। দশচক্রে 'ভগবান নাকি কখনো কখনো ভূত হয়ে যান,' তেম্নি অবস্থাদৃষ্টে আমার মত এই মূর্খও একজন শিক্ষক!!!!!!!!:
:
:
:
জীবনে আপনার প্রিয় পেশাটি বেছে নিন আর হোন আদর্শ শিক্ষক। এই শুভকামনাই রইল।
লজ্জার ইমো দিলাম, আর আসলো কিসের ইমো----- কি মূর্খ আমি!!!
জীবনে আপনার প্রিয় পেশাটি বেছে নিন আর হোন আদর্শ শিক্ষক। এই শুভকামনাই রইল।
তানবীরা দাঁত বের করে হাসছে কেন? কিছুই বুঝলাম না।
কোন মিসটেকটা ভুল করলাম, খুলে কও বোনডি/ভাইডি......
লাফালাফি ঝাপাঝাপি ভালো জিনিস ।
তাই নাকি বিমা........।?
ইয়ে মানে শাপলা তুমি বোধহয় উদরাজীভাইয়ের সাহাবউদ্দিন গুলনাহারনামা পড়ো নাই
খেলাধূলার অভিজ্ঞতা নিয়ে তোমার সাথে ব্যাপক মিল পাচ্ছি
আমার এক পায়ের অ্যাঙ্কেল কমজোরি, ছোটবেলায় দৌড়ানো ছিলো বিভীষিকার মতো। এক খাণ্ডারনী হেডমিস্ট্রেস বাৎসরিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আগে একমাস ধরে প্র্যাকটিস করাতেন। হিটফিটের বালাই ছিলো না, সবাইকেই নির্ধারিত সব কিছুতে নাম লেখাতে বাধ্য করা হতো। উফ কী বীভৎস! আমার সবচেয়ে খারাপ অবস্থা হতো তিনপায়ে দৌড় নামের এক ইভেন্টে, পাশাপাশি দুজনের চারটা পায়ের মধ্যে মাঝের দুটা বেঁধে দৌড়াতে হতো। তবে স্মৃতিশক্তি যাচাই, উঠো-বসো মার্কা খেলায় থালাবাটি ম্যালা পাইছি
তুমি তো তবু দাবায় ওয়াকওভার পেয়েছো। ভার্সিটিতে জুডো ও কারাতে ইভেন্টে আমি থাকতাম একমাত্র প্রতিযোগী। আমার পাষাণী বান্ধবীরা কেউ নাম লেখাতে রাজী না হ্ওয়ায় পুরস্কার থেকে বঞ্চিত হতাম
চাকরি করতে গিয়ে জেলা ক্রীড়া সংস্থা আর জেলা মহিলা ক্লাবের বাঁধা ডিউটিতে খেলতে হতো। পিলো পাসিংয়ে পয়লা চান্সে বালিশ আঁকড়ে ধরে বসে থাকতাম প্রথমে আউট হওয়ার জন্য। আধাঘন্টা রোদে পুড়ে ফোর্থ হওয়ার যন্ত্রণা কে ভোগ করে! একবার বাস্কেট বল (দশহাত দূরের বাস্কেটে বল ফেলতে হবে
) খেলায় টপ স্কোরার হওয়ার মুহূর্তে মনে পড়লো সেকেন্ড পজিশনে বসপত্নী আছে। তাড়াতাড়ি ডিসকোয়ালিফাইড হওয়ার ব্যবস্থা নিলাম
। আরেক জায়গায় কাবাডি খেলতে গিয়ে একজনকে সিভিল সার্জনের বউ মনে করে ল্যাং মেরে পরে দেখি উনার সোয়ামী আসলে সিনিয়র সহকর্মী, যার হাতে আমার একটা সার্টিফিকেট ধরা
। সুঁইসূতা দৌড়ে সেকেন্ড হয়ে পরে শুনি ক্লাবের ট্রেজারার হিসাবে খাতির করে আমাকে সূতা পরানো সুঁই দেয়া হয়েছিলো 
প্রথম মন্তব্যের জবাব, না পড়িনি। দ্রুত পরে নেব।
আর দুই নম্বরের লেখাগুলো তো দারুণস্য দারুণ। বন্ধু লিখে ফেল না তোমার সেই মজার ঘটনাগুলো..।প্লীজ প্লীজ প্লীজ।
মন্তব্য করুন